বৃহস্পতিবার, ২৫শে জুন, ২০২৬ ইং
১০:১৪ পি.এম
দেশের অর্থনীতি সচল ও গতিশীল রাখতে কোটিপতিদের তোষণ বন্ধ করে প্রান্তিক মানুষের হাতে সরাসরি অর্থ পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সাবেক উপদেষ্টা ও হবিগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ড. রেজা কিবরিয়া। তিনি বলেছেন, দেশের কোনো কোটিপতি বা ধনী মানুষকে অতিরিক্ত হাজার টাকা দিলে তা অর্থনীতিতে কোনো ইতিবাচক প্রভাব ফেলে না।
কিন্তু একজন গরিব মানুষকে মাত্র ১০০ টাকা দিলেও তিনি সঙ্গে সঙ্গে তা বাজারে খরচ করেন। এটি মূলত অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিকে সচল রাখে। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকারের সভাপতিত্বে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
বিজ্ঞাপন ৪৫ বছরের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এই অর্থনীতিবিদ দেশের বর্তমান ভঙ্গুর ব্যাংকিং ব্যবস্থা, ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক বৈষম্য এবং অনুৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ নিয়ে সংসদে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে ড. রেজা কিবরিয়া অর্থনীতিতে আয়ের সুষম বণ্টনের (ইনকাম ডিস্ট্রিবিউশন) বাস্তবমুখী গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ধনী ব্যক্তিদের অতিরিক্ত এক বা দুই হাজার টাকা দিলে তারা হয়তো তা খরচই করবেন না। টাকা ব্যাংকে বা আলমারিতে জমা পড়ে থাকবে।
কিন্তু প্রান্তিক বা গরিব মানুষের তাৎক্ষণিক খরচের প্রবণতা গ্রামীণ অর্থনীতি ও অভ্যন্তরীণ বাজারকে গতিশীল রাখে।
সুতরাং, অর্থনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর হাতে সরাসরি অর্থ পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা উচিত।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মাদারীপুর-৩ আসনের সরকারি দলের সদস্য আনিসুর রহমান সংসদ সদস্যদের জন্য যে অফিস আছে, সেখানে জুলাই আন্দোলনের শহীদ পরিবার এবং গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের একজন করে যোগ্য সদস্যকে চাকরি দেওয়ার প্রস্তাব করেছেন।
তিনি এই প্রস্তাবটি বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে দেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।
আনিসুর রহমান বাজেটে জুলাই আন্দোলনের শহীদ ও আহতদের কল্যাণে উদ্যোগ নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি ধন্যবাদ জানান। এ ছাড়াও, গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের পুনর্বাসন ও কল্যাণে বিশেষ বরাদ্দ বিবেচনা করার আহ্বান জানান।
তিনি এ বিষয়ে বলেন, "আমরা উপজেলা পরিষদে যে অফিস পেয়েছি, সেই অফিসে জুলাই শহীদ পরিবার ও গুম হওয়া পরিবারের যেকোনো একজন যোগ্য সদস্যকে যদি আমরা কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারি, তাহলে তারা উপকৃত হবে।"
বিরোধী দলের সমালোচনার জবাবে চট্টগ্রাম-৭ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেন, "বড় প্রকল্পের কথা উঠলেই বিরোধীরা বাজেট বড় হয়ে যাচ্ছে বলে আপত্তি করেন; কিন্তু নিজের এলাকার জন্য আবার রাস্তা, ব্রিজ ও অবকাঠামো চান।"
বাজেটকে সাহসী আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, "সরকার মানবসম্পদ উন্নয়নকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।" শিক্ষা ও স্বাস্থ্যকে আলাদা করে না দেখে এগুলোকে একসঙ্গে মানবসম্পদ উন্নয়ন হিসেবে দেখার আহ্বান জানান তিনি। কারিগরি শিক্ষায় বড় বরাদ্দের জন্য অর্থমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান হুম্মাম।
তিনি আরও বলেন, "বিশেষজ্ঞদের মতে নদী থেকে তোলা বালুর ৬০ থেকে ৭০ শতাংশই অবৈধভাবে উত্তোলন হয়।" অবৈধ বালু উত্তোলন এখন মাফিয়া সেক্টর হয়ে গেছে। এই সেক্টরের কারণে তার এলাকায় যুবদল নেতা মাসুদ চৌধুরী হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বাজেট ৬ দশমিক ২ শতাংশ বাড়ানোর বিষয়টি যথেষ্ট নয় বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, "পুলিশকে আরও প্রশিক্ষিত ও সজ্জিত করতে হবে।"
ঢাকা-৫ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য কামাল হোসেন বাজেটকে বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ঘাটতি বাজেট বলে মন্তব্য করেন। এই বাজেটকে জনবান্ধব না বলে দলবান্ধব বললেও অত্যুক্তি হবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন। অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে রাষ্ট্র কাঠামোর সংস্কার প্রয়োজন বলে জানান।
তিনি বড় অর্থনীতির দেশগুলোর মন্ত্রণালয়ের সংখ্যা তুলে ধরে বলেন, "বাংলাদেশের মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সংখ্যা অনেক বেশি।" পরিচালন ব্যয় কমিয়ে উন্নয়ন ব্যয় বাড়াতে হবে, এ বিষয়ে ভাবতে হবে।
এছাড়া, সিটি করপোরেশনে নির্বাচিত প্রতিনিধির বদলে প্রশাসক বসানোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, "মানুষ নিয়মিত কর দিলেও সেবা পাচ্ছে না।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
টানা ৮ মাস ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিতির কারণে সরকার রাজারবাগ পুলিশ টেলিকমের ডিআইজি বিপ্লব বিজয় তালুকদারকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে।
গতকাল বুধবার (২৪ জুন) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত একটি প্রজ্ঞাপনে এই আদেশ জারি হয়।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টি জানিয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, রাজারবাগ পুলিশ টেলিকমের (সংযুক্ত) ডিআইজি বিপ্লব বিজয় তালুকদার গত বছরের ৬ অক্টোবর থেকে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। তার এই কর্মকাণ্ড সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধি অনুযায়ী যথাক্রমে ‘অসদাচরণ’ ও ‘পলায়ন’ শাস্তিযোগ্য অপরাধের আওতায় পড়ে।
এ কারণে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, বিপ্লব বিজয় তালুকদারকে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার যে তারিখ থেকে বরখাস্ত করা হলো সেই তারিখ থেকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো।
বিপ্লব বিজয় তালুকদার ২০০১ সালে ২০তম বিসিএসের মাধ্যমে সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশে যোগদান করেছিলেন। ২০২৩ সালে তিনি ডিআইজি পদে পদোন্নতি পেয়েছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রামে সংঘবদ্ধ চক্রের ৫ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ, যারা চুরি ও ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত। গ্রেফতারের সময় তাদের কাছ থেকে ১৫৭টি মোবাইল ফোন, ৫টি ল্যাপটপ, নগদ টাকা এবং মোবাইল ফোনের আইএমইআই পরিবর্তনের জন্য ব্যবহৃত বিশেষ মেশিন ও সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে জাহাঙ্গীর মনি (৫২), সোহেল উদ্দিন ওরফে পার্টি সোহেল (৩৫), আবু সাঈদ (৩৪), মো. শামীম (২৪) এবং সাইফুল ইসলাম (১৯)।
বৃহস্পতিবার নগরীর দামপাড়া পুলিশ লাইন্সে অনুষ্ঠিত মিডিয়া সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন সিএমপির উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) মো. হাবিবুর রহমান প্রাং।
কোতোয়ালী থানার ওসি আবু জায়েদ মোহাম্মদ নাজমুন নূর বলেন, প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে প্রথমে হালিশহর থানা এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে জাহাঙ্গীর মনিকে। পরে তার দেওয়া তথ্যের মাধ্যমে নন্দনকানন আবাসিক এলাকার একটি বহুতল ভবনের নিচতলায় অভিযান চালিয়ে মূলহোতা মুহাম্মদ সোহেল উদ্দিন ওরফে পার্টি সোহেল এবং তার চার সহযোগীকে গ্রেফতার করা হয়।
এই অভিযানে উদ্ধার করা হয় ২৪টি আইফোন, ১৩৩টি অন্যান্য ব্র্যান্ডের মোবাইল, ৫টি ল্যাপটপ, ২০১টি মোবাইল সিম কার্ড, ৪৪৫টি মোবাইলের কেসিং, মাইক্রোস্কোপ, মাল্টিপ্লাগ, বিভিন্ন চার্জার এবং আইএমইআই পরিবর্তনের মেশিন সহ ১ লাখ ১ হাজার ৫০০ টাকা।
তিনি আরও জানান, আসামিরা বিভিন্ন চোর ও ছিনতাইকারী চক্রের কাছ থেকে কম মূল্যে চোরাই মোবাইল সংগ্রহ করে। এরপর উন্নত ডিজিটাল ডিভাইস ও সফটওয়্যার ব্যবহার করে ফোনের আইএমইআই নম্বর ও কেসিং পরিবর্তন করে সাধারণ মানুষের কাছে বিক্রি করতো, ফলে অপরাধের শিকার ব্যক্তিরা তাদের ফোন সহজে ট্র্যাক করতে পারতেন না। গ্রেফতার আসামিরা প্রত্যেকেই পেশাদার অপরাধী। তাদের মধ্যে মূলহোতা পার্টি সোহেলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় চুরি ও ছিনতাইয়ের মোট ৮টি মামলা রয়েছে, এবং জাহাঙ্গীর মনির বিরুদ্ধে রয়েছে ৪টি মামলা। এছাড়া সহযোগী আবু সাঈদের বিরুদ্ধে গাজীপুরের বাসন থানায় একটি হত্যা মামলা রয়েছে। গ্রেফতার আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়েছে। চোর চক্রের বাকি সদস্যদের ধরার জন্য পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান ওসি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার প্রশাসনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) তিন বিচারক। এই আইনি পদক্ষেপ তারা গত বছর নিজেদের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞাকে চ্যালেঞ্জ করার জন্য নিয়েছেন। বিচারকদের দাবি করেছে, ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপিত সেসব নিষেধাজ্ঞা বেআইনি। গত বুধবার নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের একটি ফেডারেল আদালতে মামলাটি রুজু করেন কানাডার বিচারক কিম্বারলি প্রোস্ট, উগান্ডার বিচারক সলোমি বালুঙ্গি বোসা এবং বেনিনের বিচারক রেইন অ্যাডিলেড সোফি আলাপিনি-গানসু। তারা বলেন, বিচারকদের শাস্তি দেওয়া এবং তাদের ওপর চাপ প্রয়োগের উদ্দেশ্যেই এসব নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল। গত বছর আইসিসির একাধিক বিচারকের ওপর নজিরবিহীনভাবে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ট্রাম্প প্রশাসন। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি এবং আফগানিস্তানে মার্কিন সেনাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ তদন্তে একটি মামলার অনুমোদন দেওয়ার পর ওই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। নিষেধাজ্ঞার ফলে বিচারকদের যুক্তরাষ্ট্রে থাকা সম্পত্তি ও সম্পদ জব্দ বা অবরুদ্ধ করা হয়। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের সঙ্গে আর্থিক লেনদেন, অর্থ, পণ্য বা সেবা প্রদানসহ যেকোনও ধরনের ব্যবসায়িক সম্পর্ক স্থাপন থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়। ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত আইসিসির সদস্য রাষ্ট্রগুলোতে সংঘটিত গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং যুদ্ধাপরাধের বিচার করার আন্তর্জাতিক এখতিয়ার রয়েছে। এছাড়া জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ কোনও ইস্যু আদালতের কাছে পাঠালে আইসিসি সে বিষয়ে বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে। বর্তমানে আইসিসির ১২৫টি সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে সংঘটিত যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার বিচার করার ক্ষমতা রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া ও ইসরায়েলসহ কয়েকটি দেশ আদালতের কর্তৃত্ব স্বীকার করে না। মামলার নথিতে বলা হয়, “বিচারকদের আর্থিক ও ব্যক্তিগত স্বার্থকে লক্ষ্যবস্তু করে তাদের এবং আইসিসির বেঞ্চে থাকা সহকর্মীদের ওপর বিচারবহির্ভূত চাপ সৃষ্টি করার জন্য পরিকল্পিতভাবে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো, পূর্ববর্তী বিচারিক সিদ্ধান্তের জন্য তাদের শাস্তি দেওয়া এবং আইন ও তথ্যের ভিত্তিতে রায় দেওয়ার পরিবর্তে ব্যক্তিগত স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে বাধ্য করা।” সূত্র: আল-জাজিরা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ