কবির হোসেন, আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
১০:০৮ এম
মাদকমুক্ত সমাজ গঠন এবং তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলায় উদ্বুদ্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গার বিশিষ্ট সমাজসেবক ও বানা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলাম সিরাজ। তিনি বলেছেন, যুবসমাজকে মাদকের পথ পরিহার করে খেলাধুলার মাধ্যমে যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) রাত ৯টায় উপজেলার বানা এম এ মজিদ স্কুল মাঠে বেলবানা যুবসমাজের আয়োজনে ৮ দলীয় নাইট শর্টপিচ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলাম সিরাজ বলেন, বানা ইউনিয়নকে মাদকমুক্ত সমাজ হিসেবে গড়ে তোলাই তাঁর অন্যতম লক্ষ্য। এ জন্য লেখাপড়ার পাশাপাশি তরুণদের খেলাধুলায় মনোযোগী হতে হবে। ক্রিকেট, ফুটবলসহ বিভিন্ন খেলাধুলায় সম্পৃক্ত থাকলে তরুণেরা সুস্থ ও সুন্দর পরিবেশে বেড়ে ওঠার সুযোগ পাবে।
তিনি আরও বলেন, তাঁর ছোট ভাই সালিমুর রহমান সালিমসহ স্থানীয় কয়েকজন তরুণ যখন এ ধরনের ক্রিকেট টুর্নামেন্ট আয়োজনের উদ্যোগের কথা জানান, তখন তিনি অত্যন্ত আনন্দিত হন। তরুণদের মাদক থেকে দূরে রাখা এবং খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করে তোলাই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। বানা ইউনিয়নের যুবসমাজ খেলাধুলায় এগিয়ে এলে তিনি সব সময় সার্বিক সহযোগিতা নিয়ে পাশে থাকবেন। ভবিষ্যতেও ক্রিকেট, ফুটবলসহ বিভিন্ন ক্রীড়া আয়োজনের পাশে থাকার আশ্বাস দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে ৮ দলীয় নাইট শর্টপিচ ক্রিকেট টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেন আলফাডাঙ্গা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী অ্যাডভোকেট হেমায়েত হোসেন।
অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন বিশিষ্ট সমাজসেবক ও আটক বানা বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক লিয়াকত বিশ্বাস। সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন বেলবানা এলাকার সাবেক ক্রিকেটার ও পারভেজ সুপার ক্রিকেট একাদশের টিম ওনার সালিমুর রহমান সালিম।
আট দলের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ টুর্নামেন্টকে ঘিরে স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়। খেলাধুলার এমন আয়োজনকে স্বাগত জানান স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
একসময় যে মঞ্চে পবিত্র কোরআনের হাফেজদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছিল, অনুষ্ঠিত হয়েছিল ইসলামিক আলোচনা, ওয়াজ ও দোয়া মাহফিল—সেই একই স্থানে এখন চলছে যাত্রাগানের আয়োজন। আর গভীর রাত পর্যন্ত মাইকের উচ্চ শব্দে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন আশপাশের বাসিন্দারা। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে দেখা দিয়েছে ক্ষোভ ও উদ্বেগ।
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ১০ নম্বর ছাতিয়াইন ইউনিয়নের ছাতিয়াইন বাজার মুক্তমঞ্চ, যা স্থানীয়ভাবে কাঠবাজার নামে পরিচিত, সেই স্থানটি ঘিরেই তৈরি হয়েছে এই আলোচনা।
স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২ নভেম্বর এই স্থানে পবিত্র কোরআনের হাফেজদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়েও সেখানে বিভিন্ন ইসলামিক আয়োজন, ওয়াজ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। ধর্মীয় ও সামাজিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে স্থানটি স্থানীয় মানুষের কাছে একটি বিশেষ মর্যাদা অর্জন করেছিল।
তবে বর্তমানে একই স্থানে তিন দিনব্যাপী যাত্রাগানের আয়োজনকে কেন্দ্র করে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে গভীর রাত পর্যন্ত উচ্চ শব্দে গান প্রচার করায় সাধারণ মানুষের ঘুম, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
রাতের গভীরে মাইকের উচ্চ শব্দে অনেকের ঘুম ভেঙে যাচ্ছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন, বিনোদনের আয়োজন করতে গিয়ে সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত ও সামাজিক শান্তি বিঘ্নিত করার অধিকার কারও রয়েছে কি না? এ ধরনের আয়োজনের জন্য যথাযথ অনুমতি নেওয়া হয়েছে কি না এবং অনুমতি থাকলেও শব্দের মাত্রা ও সময়সীমা যথাযথভাবে মানা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
ছাতিয়াইন বাজারে বিভিন্ন সময়ে আলেম-ওলামা ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের আগমন ঘটেছে। স্থানীয়দের একটি অংশ মনে করছেন, এলাকার ধর্মীয় ও সামাজিক ঐতিহ্য বিবেচনায় রেখে যেকোনো আয়োজনের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলতা ও শালীনতা বজায় রাখা জরুরি।
এদিকে ছাতিয়াইনে যুবসমাজকে মাদক ও বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলা, মানবিক সহায়তা এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডের আয়োজন করা হচ্ছে। এমন উদ্যোগের পাশাপাশি গভীর রাত পর্যন্ত উচ্চ শব্দে যাত্রাগানের আয়োজন কতটা ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন সচেতন মহল।
প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
ছাতিয়াইনে পুলিশ ফাঁড়ি থাকা সত্ত্বেও গভীর রাত পর্যন্ত উচ্চ শব্দে অনুষ্ঠান চলার বিষয়ে দৃশ্যমান পদক্ষেপ না থাকার অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। তাঁদের দাবি, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
আমরা কোনো সাংস্কৃতিক আয়োজনের বিরোধিতা করছি না। তবে সংস্কৃতি ও বিনোদনের নামে সাধারণ মানুষের ঘুম, স্বস্তি এবং সামাজিক পরিবেশ নষ্ট হোক—এটি কাম্য নয়।
স্থানীয় প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, আয়োজনটির অনুমতি, শব্দের মাত্রা এবং সময়সীমা যাচাই করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শেষ কথা: যে মঞ্চে একদিন পবিত্র কোরআনের হাফেজদের সম্মানিত করা হয়েছিল, সেই মঞ্চে আজকের আয়োজন নিয়ে মানুষের মনে যে প্রশ্ন ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তা উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। ধর্মীয় মূল্যবোধ, সামাজিক শালীনতা এবং মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রার প্রতি সম্মান রেখেই সব আয়োজন পরিচালিত হওয়া উচিত।
বিনোদন হোক, কিন্তু মানুষের ঘুম ও শান্তি কেড়ে নিয়ে নয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
খাগড়াছড়ি পৌর শহরের মহাজন পাড়ায় পার্কিং করে রাখা একটি বিআরটিসি বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (৭ নভেম্বর) ভোরে আগুন লাগার সময় বাসটির ভেতরে ঘুমিয়ে ছিলেন চালক। তাঁর চিৎকারে আশপাশের লোকজনের নজরে আসে ঘটনাটি।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ভোর আনুমানিক ৪টা ২৫ মিনিটে বাসটিতে আগুন দেখতে পান চালক। পরে তাঁর চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে এর আগেই বাসটির ভেতরের অংশ পুড়ে যায়।
খাগড়াছড়ি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ কায় কিসলু বলেন, বাসটিতে দুর্বৃত্তরা আগুন দিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার কারণ ও জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশ তদন্ত করছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাসটিতে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ এবং এতে কারা জড়িত, তা তদন্ত শেষে জানা যাবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাতাসে ক্ষতিকর ধূলিকণার ঘনত্ব বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে আজ ঢাকা শহর বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত বাতাসের শহরের তালিকায় চতুর্থ স্থানে অবস্থান করছে, যেখানে স্কোর ১৯৬ এবং এটি ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
শনিবার (৭ নভেম্বর) সকাল ৯টার দিকে আন্তর্জাতিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী ঢাকার বায়ুর মান সূচক বা একিউআই স্কোর ১৯৬, যা বাতাসের মানকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে নির্দেশ করে। এই মেগাসিটি বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় চতুর্থ স্থান অধিকার করেছে।
এই একই সময়ে দূষিত শহরের তালিকার শীর্ষে রয়েছে ভারতের রাজধানী দিল্লি, যার স্কোর ৫২৯। দ্বিতীয় স্থানে পাকিস্তানের লাহোর শহর রয়েছে, যার স্কোর ২৭৫। এই দুটি শহরের স্কোর অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর বলে বিবেচিত।
দূষিত শহরের তালিকায় তৃতীয় ও পঞ্চম অবস্থানে যথাক্রমে ভারতের কলকাতা এবং আফগানিস্তানের কাবুল রয়েছে, যাদের স্কোর যথাক্রমে ২৩৬ ও ১৬৮। এই শহরগুলোর স্কোরও খুবই অস্বাস্থ্যকর এবং সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য ক্ষতিকর।
দূষিত বাতাসের শীর্ষ দশে থাকা অন্যান্য শহরের বাতাসের মানের স্কোর ৯৯ থেকে ৫২৯-এর মধ্যে পরিবর্তিত হচ্ছে।
বায়ুমানের আন্তর্জাতিক সূচক অনুযায়ী, একিউআই স্কোর শূন্য থেকে ৫০ হলে সেটি ‘ভালো’ হিসেবে গণ্য হয়। ৫১ থেকে ১০০ স্কোরকে ‘মাঝারি’ এবং ১০১ থেকে ১৫০ স্কোরকে সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে ধরা হয়। এছাড়া, ১৫১ থেকে ২০০ স্কোর হলে সেটি সাধারণভাবে ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত হয়।
একিউআই স্কোর ২০১ থেকে ৩০০-এর মধ্যে হলে সেটিকে ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ এবং ৩০১ থেকে ৪০০-এর মধ্যে পৌঁছালে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এই পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের ঘরের ভেতরে থাকার এবং অন্যান্যদের বাইরের কার্যক্রম সীমিত রাখার পরামর্শ দেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দীর্ঘ অপেক্ষার পর এবং দুইবার সফর স্থগিত হওয়ার পর, অবশেষে বাংলাদেশ-ভারতের সাদা বলের সিরিজটি আলোর মুখ দেখার পথে। আগামী বছরের শুরুতে বাংলাদেশ সফরে আসার সম্ভাবনা রয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট দলের। জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে ছয় ম্যাচের সাদা বলের সিরিজ খেলতে ভারতীয় দলের বাংলাদেশে আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
শুক্রবার এই আশাব্যঞ্জক খবরটি প্রকাশ করেছে ইন্ডিয়া টুডে। ভারতীয় গণমাধ্যম নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে জানায়, দুদেশের বোর্ডের মধ্যে এ বিষয়ে আলোচনা ইতিবাচক অগ্রগতি অর্জন করেছে।
এখন অনেকটা পরিষ্কার যে, দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা ভারতীয় দলের বাংলাদেশ সফর অবশেষে বাস্তবায়নের পথে। পূর্বনির্ধারিত এই সফরে ভারত তিনটি করে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে।
এদিকে, দুই দেশের বোর্ডের সম্মতি থাকলেও, ভারতীয় দলের বাংলাদেশ সফরটি সেদেশের সরকারের অনুমোদনের ওপর নির্ভর করছে। আগামী ৩ থেকে ৯ জানুয়ারি নিজেদের মাঠে ভারতের তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলার সূচি রয়েছে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। এরপর ২১ জানুয়ারি থেকে শুরু হবে ভারত-অস্ট্রেলিয়া সিরিজ।
ভারত যদি বাংলাদেশ সফরে আসার পরিকল্পনা করে, তাহলে জিম্বাবুয়ে সিরিজের সূচিতে পরিবর্তন আনতে হবে তাদের।
শেষবার বাংলাদেশ সফরে ভারত এসেছিল ২০২২ সালে। সেবার তারা দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ ছাড়াও তিনটি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছিল। সাদা বলের সিরিজে বাংলাদেশ ২-১ ব্যবধানে জয়লাভ করেছিল। এবারও বাংলাদেশ দল সেই সফলতার পুনরাবৃত্তি করতে চাইবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ