১০:১২ এম
একসময় যে মঞ্চে পবিত্র কোরআনের হাফেজদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছিল, অনুষ্ঠিত হয়েছিল ইসলামিক আলোচনা, ওয়াজ ও দোয়া মাহফিল—সেই একই স্থানে এখন চলছে যাত্রাগানের আয়োজন। আর গভীর রাত পর্যন্ত মাইকের উচ্চ শব্দে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন আশপাশের বাসিন্দারা। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে দেখা দিয়েছে ক্ষোভ ও উদ্বেগ।
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ১০ নম্বর ছাতিয়াইন ইউনিয়নের ছাতিয়াইন বাজার মুক্তমঞ্চ, যা স্থানীয়ভাবে কাঠবাজার নামে পরিচিত, সেই স্থানটি ঘিরেই তৈরি হয়েছে এই আলোচনা।
স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২ নভেম্বর এই স্থানে পবিত্র কোরআনের হাফেজদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়েও সেখানে বিভিন্ন ইসলামিক আয়োজন, ওয়াজ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। ধর্মীয় ও সামাজিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে স্থানটি স্থানীয় মানুষের কাছে একটি বিশেষ মর্যাদা অর্জন করেছিল।
আরও পড়ুন: রমজানপুরকে মডেল ইউনিয়ন গড়ার প্রত্যয় নিয়ে নির্বাচনী মাঠে শহিদুল ইসলাম হাওলাদার
তবে বর্তমানে একই স্থানে তিন দিনব্যাপী যাত্রাগানের আয়োজনকে কেন্দ্র করে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে গভীর রাত পর্যন্ত উচ্চ শব্দে গান প্রচার করায় সাধারণ মানুষের ঘুম, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
রাতের গভীরে মাইকের উচ্চ শব্দে অনেকের ঘুম ভেঙে যাচ্ছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন, বিনোদনের আয়োজন করতে গিয়ে সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত ও সামাজিক শান্তি বিঘ্নিত করার অধিকার কারও রয়েছে কি না? এ ধরনের আয়োজনের জন্য যথাযথ অনুমতি নেওয়া হয়েছে কি না এবং অনুমতি থাকলেও শব্দের মাত্রা ও সময়সীমা যথাযথভাবে মানা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
ছাতিয়াইন বাজারে বিভিন্ন সময়ে আলেম-ওলামা ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের আগমন ঘটেছে। স্থানীয়দের একটি অংশ মনে করছেন, এলাকার ধর্মীয় ও সামাজিক ঐতিহ্য বিবেচনায় রেখে যেকোনো আয়োজনের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলতা ও শালীনতা বজায় রাখা জরুরি।
এদিকে ছাতিয়াইনে যুবসমাজকে মাদক ও বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলা, মানবিক সহায়তা এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডের আয়োজন করা হচ্ছে। এমন উদ্যোগের পাশাপাশি গভীর রাত পর্যন্ত উচ্চ শব্দে যাত্রাগানের আয়োজন কতটা ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন সচেতন মহল।
আরও পড়ুন: পূর্বধলায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত
প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
ছাতিয়াইনে পুলিশ ফাঁড়ি থাকা সত্ত্বেও গভীর রাত পর্যন্ত উচ্চ শব্দে অনুষ্ঠান চলার বিষয়ে দৃশ্যমান পদক্ষেপ না থাকার অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। তাঁদের দাবি, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
আমরা কোনো সাংস্কৃতিক আয়োজনের বিরোধিতা করছি না। তবে সংস্কৃতি ও বিনোদনের নামে সাধারণ মানুষের ঘুম, স্বস্তি এবং সামাজিক পরিবেশ নষ্ট হোক—এটি কাম্য নয়।
স্থানীয় প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, আয়োজনটির অনুমতি, শব্দের মাত্রা এবং সময়সীমা যাচাই করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: গোমস্তাপুরে ৫ ইউনিয়নে বিএনপির চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা
শেষ কথা: যে মঞ্চে একদিন পবিত্র কোরআনের হাফেজদের সম্মানিত করা হয়েছিল, সেই মঞ্চে আজকের আয়োজন নিয়ে মানুষের মনে যে প্রশ্ন ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তা উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। ধর্মীয় মূল্যবোধ, সামাজিক শালীনতা এবং মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রার প্রতি সম্মান রেখেই সব আয়োজন পরিচালিত হওয়া উচিত।
বিনোদন হোক, কিন্তু মানুষের ঘুম ও শান্তি কেড়ে নিয়ে নয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন