০৩:৩৩ পি.এম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আমাদের দেশের যত্ন আমাদেরকেই নিতে হবে এবং আমাদের দেশকে আমাদেরই গড়ে তুলতে হবে। সুতরাং, সবাই যদি মিলে চেষ্টা করি এবং সচেতন হই, তাহলে আমরা পরিবেশকে সুন্দর করতে পারবো। যদি আমাদের পরিবেশটা সুন্দর হয়, তাহলে ভবিষ্যতের বংশধররা একটি সুন্দর ও স্বাস্থ্যকর জায়গায় থাকতে পারবে।
সোমবার (১৩ জুলাই) সকালে, বৃষ্টিমুখর আবহাওয়ার মধ্যে বরিশালের গৌরনদীর সরিকল-বাটাজোর খালের পাশে বৃক্ষরোপণের একটি অনুষ্ঠানে আড়াই হাজার গাছের চারা রোপণে অংশগ্রহণ শেষে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তিনি এসময় বলেন, আপনারা জনগণ এই দেশের মালিক। সুতরাং, এই দেশের জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে ঘরের যত্ন আমাদের সবারই নিতে হবে।
আরও পড়ুন: ঢামেকে অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘটে মরদেহ পরিবহনে বিপাকে স্বজনরা, রোগীরাও ভোগান্তিতে
বক্তব্য চলাকালে, সামনের খালে ভাসতে থাকা প্লাস্টিকের বোতল দেখিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সব জায়গায় ময়লা-আবর্জনা ফেললে খাল-বিল সব বন্ধ হয়ে যাবে। আর খাল-বিল যদি সচল থাকে ও পানি প্রবাহিত হয়, তাহলে এলাকার মানুষের উপকার হবে।
অর্থাৎ, যদি সারা দেশের খাল-বিল ঠিকঠাক থাকে, তাহলে বন্যার সময় ক্ষতি কম হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। রাস্তা দিয়ে আসার সময় তিনি দেখলেন, যেখানে যেখানে বাজার আছে, সেখানকার আশপাশে বিভিন্ন ধরনের কাগজ, পলিথিন ও প্লাস্টিকের ব্যাগ এবং বোতল ফেলা হয়ে পরিবেশকে নষ্ট করা হচ্ছে। তিনি বললেন, পরিবেশ যদি নষ্ট হয়, তাহলে ক্ষতি আমাদেরই হবে। ঢাকা শহরে গাড়ির ধোঁয়া ও ময়লার কারণে মানুষের শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, কিন্তু গ্রামে আসলে কিছুটা ভালো লাগে এবং বুক ভরে শ্বাস নেওয়া যায়। তবে যদি আবর্জনা দিয়ে সব জায়গা ভরে যায়, তাহলে গোটা দেশের পরিবেশ নষ্ট হবে।
তখন ছোট-বড় সব মানুষের ক্ষতি হবে, শ্বাস নিতে কষ্ট হবে, এবং বিভিন্ন অসুখ-বিসুখ হবে। প্রধানমন্ত্রী মিডিয়ার ভাই-বোনদের মাধ্যমে দেশের সমগ্র মানুষকে অনুরোধ করেন—আসুন, আমরা চেষ্টা করি যেখানে-সেখানে আবর্জনা না ফেলতে। আমাদের ব্যবহার্য যেকোনো জিনিসের ব্যবহার শেষ হলে, অর্থাৎ পানি খেয়ে বোতল কিংবা প্যাকেট ফেলে দিতে হলে সেটি নির্দিষ্ট স্থানে ফেলতে হবে। পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে, এবং পরিবেশ নষ্ট হলে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি, আমাদের সন্তানেরা পরবর্তীতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, যদি আমরা নিজেদের ঘরকে পরিষ্কার না রাখি, এবং নিজ দেশের যত্ন না নিই, তাহলে বাইরের দেশ থেকে কেউ এসে আমাদের ঠিক করে দেবে না।
তিনি বলেন, আমাদের দেশকে সুন্দর করতে হলে সকলকে চেষ্টা করতে হবে। একটি ঘর যদি ৪/৫ জন মানুষ অপরিষ্কার রাখে, তবে একজন মানুষের জন্য তা পরিষ্কার রাখা অসম্ভব। দেশের ক্ষেত্রেও একইভাবে। তিনি সকলকে আহ্বান জানান, আসুন, আজ থেকে আমরা চেষ্টা করি যত্রতত্র ময়লা ফেলবো না। প্রয়োজন হলে একটি নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলতেও হবে। এই প্রতিজ্ঞা ও চেষ্টা আমাদের করতে হবে।
আরও পড়ুন: কুড়িগ্রামে দুই কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে চার খাদ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকের মামলা
এসময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনসহ প্রশাসনের কর্মকর্তাগণ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন