মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৯:২৫ এম
জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় ভিমরুলের আক্রমণে আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৬৫ বছর বয়সী প্রবীণ ব্যবসায়ী ওবায়দুল হক ফাসাদ সরকারের মৃত্যু ঘটেছে। সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে জামালপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে সিসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এর আগে, সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মাদারগঞ্জ পৌরসভার জোনাইল তরফদার বাড়ি এলাকায় নিজ বাড়িতে ভিমরুলের আক্রমণে তিনি গুরুতর আহত হন। নিহত ওবায়দুল হক ফাসাদ সরকার ওই এলাকার মৃত উমেদ আলী সরকারের পুত্র ছিলেন।
তিনি জোনাইল বাজারে হার্ডওয়ার ও মেশিনারিজের ব্যবসা পরিচালনা করতেন। স্থানীয়ভাবে তিনি চারণ কবি ফাসাদ সরকার নামেও পরিচিত ছিলেন, এবং ‘ছন্দে রাজা’ নামে খ্যাতি অর্জন করেছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকালে ফাসাদ সরকার বাড়ির বারান্দায় বসে ছিলেন। এ সময় একটি ভিমরুল তাকে কামড় দেয়, যা তিনি তাড়িয়ে দেন। এরপর অসংখ্য ভিমরুল এসে তাকে আক্রমণ করে, ফলে তিনি গুরুতর আহত হন।
পরবর্তীতে, তার পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে মাদারগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে পাঠান। এরপর স্বজনরা তাকে জামালপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেন, যেখানে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (সিসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু ঘটে।
নিহতের ভাতিজা এবং উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের আহ্বায়ক হামিদুর রহমান জানিয়েছেন, মঙ্গলবার বিকালে জোনাইল উচ্চবিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তার লাশ দাফন করা হবে।
মাদারগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. নাহিদুজ্জামান বলেন, ভিমরুলের আক্রমণে আহত ওবায়দুলকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।
মাদারগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা স্নেহাশীষ রায় ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ভিমরুলের কামড়ে ওবায়দুল হক নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।
এমএইচ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার জন্য প্রাণঘাতী ইনজেকশন প্রয়োগের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর ক্রিস্টা পাইকের জরুরি চিকিৎসা পেতে বিলম্ব হয়েছে। কারা কর্তৃপক্ষ এবং জরুরি সেবাকর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তির কারণে চিকিৎসাসহায়তা পেতে প্রায় আধা ঘণ্টা সময় লেগেছে। সোমবার প্রকাশিত জরুরি ফোনকলের রেকর্ডিং থেকে এই তথ্য বেরিয়ে এসেছে।
৩০ সেপ্টেম্বর টেনেসি অঙ্গরাজ্যের রিভারবেন্ড কারাগারে ৫০ বছর বয়সী পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার চেষ্টা করা হয়। তাকে পেন্টোবারবিটাল নামের ওষুধের দুটি ডোজ দেওয়া হয়, কিন্তু তিনি মারা যাননি। এরপর কারা কর্তৃপক্ষ অ্যাম্বুলেন্সের জন্য ফোন করে।
রাত ৮টা ৪০ মিনিটে প্রথম ফোনটি করা হয়। ফোনে জানানো হয়, প্রায় এক ঘণ্টা আগে ওষুধ প্রয়োগ করা হলেও বন্দি মারা যাননি এবং অ্যাম্বুলেন্স প্রয়োজন। তবে জরুরি সেবার দায়িত্বে থাকা কর্মী পরিচয় নিশ্চিত করার সংকেত চাইলে ফোনকারী তা দিতে পারেননি। ফলে ঘটনাটি সত্য কি না, তা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়।
রেকর্ডিং অনুযায়ী, রাত ৯টা ৩ মিনিটে জরুরি যোগাযোগ বিভাগের একজন কর্মী জানান, তাদের কাছে ফোনটি ভুয়া বলে তথ্য এসেছে এবং কারাগারে চিকিৎসাসহায়তার প্রয়োজন নেই। চার মিনিট পর এক সেবাকর্মী জানান, কারাগারের ফটকের বাইরে থাকা একজন ব্যক্তি ঘটনাটি সত্য বলে দাবি করছেন এবং দ্রুত ভেতরে যাওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছেন।
পরে কারাগারের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকক্ষ ফোনটির সত্যতা নিশ্চিত করে। রাত ৯টা ১১ মিনিটে জরুরি সেবাকর্মীদের কারাগারে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। অর্থাৎ প্রথম ফোনের প্রায় ৩১ মিনিট পর তারা ভেতরে যাওয়ার ছাড়পত্র পান।
১৯৯৫ সালে সহপাঠী কোলিন স্লেমারকে পিটিয়ে ও ছুরিকাঘাতে হত্যার দায়ে পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। হাসপাতালে নেওয়ার পর একসময় কৃত্রিম শ্বাসযন্ত্রের সাহায্য দিতে হয়। তার আইনজীবীরা তখন বেঁচে থাকার আশা কম বলে জানিয়েছিলেন। পরে পাইক জ্ঞান ফিরে পেয়ে কথা বলতে শুরু করেন এবং সহায়তা নিয়ে হাঁটতেও সক্ষম হন। হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর তাকে আবার নারীদের কারাগারে নেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার চেষ্টা থেকে বেঁচে যাওয়া একমাত্র পরিচিত ব্যক্তি পাইক বলে জানিয়েছে মৃত্যুদণ্ডবিরোধী একটি গবেষণা সংস্থা। তবে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার চেষ্টা কেন ব্যর্থ হয়েছিল, তা টেনেসির সংশোধন বিভাগ এখনো জানায়নি। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, শিরায় ওষুধ দেওয়ার ব্যবস্থায় ত্রুটি হয়ে ওষুধ রক্তপ্রবাহে না গিয়ে শরীরের টিস্যুতে জমে থাকতে পারে।
মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট তা স্থগিত করার শেষ মুহূর্তের আবেদন নাকচ করেছিল। পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে ১৮২০ সালের পর টেনেসিতে তিনিই হতেন মৃত্যুদণ্ড পাওয়া প্রথম নারী। তবে এখন তার পরবর্তী পরিণতি কী হবে, তা স্পষ্ট নয়।
সূত্র: সিবিএস নিউজ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতে মাইকে আজান দেওয়ার অভিযোগে এক মুয়াজ্জিনকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গত শনিবার উত্তর প্রদেশের বিজনোর জেলার নাজিবাবাদে একটি গণশুনানিতে যাওয়ার সময় জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (ডিএম) এবং পুলিশ সুপার (এসপি) আজানের আওয়াজ শুনতে পেয়ে এই নির্দেশ দেন। ঘটনার পরপরই পুলিশ ওই মসজিদের মাইক জব্দ করে এবং দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে এক কনস্টেবলকে সাময়িক বরখাস্ত করে।
এ ঘটনার পর জেলাজুড়ে একটি বিশেষ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। নির্দেশনায় প্রতিটি পুলিশ স্টেশনকে তাদের এলাকার ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোতে থাকা মাইকগুলো নির্ধারিত শব্দসীমা মেনে চলছে কি—তা নিশ্চিত করে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, বিজনোরের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উমেশ প্রতাপ সিং ও পুলিশ সুপার কৃষ্ণ কুমার বিষ্ণোই ‘সমাধান দিবস’-এর একটি শুনানিতে অংশ নিতে মহল্লা মাকবারা এলাকা অতিক্রম করছিলেন। সেই সময় তারা একটি মসজিদ থেকে আজানের আওয়াজ শুনতে পান।
পরবর্তীতে এসআই সৌরভ কুমারের আবেদনের প্রেক্ষিতে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ফাইজানের বিরুদ্ধে একটি এফআইআর দায়ের করা হয়। পাশাপাশি শান্তি ভঙ্গের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করে সাব-ডিভিশনাল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তোলা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কৃষ্ণ গোপাল সিং জানান, শব্দদূষণ নিয়ে সরকার ও আদালতের নির্দেশনাবলী বাস্তবায়নে জেলাজুড়ে অভিযান চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘ধর্মীয় স্থানে নির্ধারিত শব্দসীমার বাইরে লাউডস্পিকার ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হবে না। সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের দেখভালকারীদের নিয়ম মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং নিজ নিজ এলাকায় বিষয়টি নিশ্চিত করতে পুলিশ কর্মকর্তাদেরও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।'
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম কিছুটা কমেছে, যা টানা দাম বৃদ্ধির পর ঘটেছে। সৌদি আরবে হামলার কারণে তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা এবং রাশিয়া থেকে ডিজেল রপ্তানি বৃদ্ধির সম্ভাবনা—এই দুই বিষয় মিলিয়ে বাজারে তেলের দাম ওঠানামা করছে।
এই তথ্যটি কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার রাত গ্রিনিচ মান সময় রাত ১২টায় আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৬১ সেন্ট বা ০.৫৭ শতাংশ কমে ১০৬.০৪ ডলারে পৌঁছেছে। অপরদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ৪৭ সেন্ট বা ০.৫ শতাংশ কমে ৯৩.২৭ ডলারে নেমে এসেছে।
সোমবার, তেলের দাম প্রায় ২ ডলার বেড়ে গিয়েছিল। ওই দিন ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৬.৬৫ ডলারে স্থির হয়েছিল, যা গত ১৫ সেপ্টেম্বরের পর সর্বোচ্চ সমাপনী দর হিসেবে গণ্য হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরবে হামলার কারণে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তেলের দাম বৃদ্ধির চাপ সৃষ্টি করছে। অন্যদিকে, রাশিয়া থেকে ডিজেল রপ্তানি বৃদ্ধির সম্ভাবনা বাজারে সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আশা জোগাচ্ছে। এই সব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে বিশ্ববাজারে তেলের দামে ওঠানামা দেখা যাচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
হুতিদের হামলার কারণে সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে বিধি-নিষেধের ফলে ৬১টি ফ্লাইটে ব্যাঘাত ঘটেছে। এর ফলে ৯ হাজারের বেশি যাত্রী চরম অনিশ্চয়তা ও ভোগান্তির শিকার হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে ফ্লাইট পরিচালনায় বিধি-নিষেধ আরোপের কারণে বিভিন্ন এয়ারলাইনসের ফ্লাইট চলাচল ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই পরিস্থিতির কারণে এখন পর্যন্ত সরাসরি ও ট্রানজিট মিলিয়ে মোট ৬১টি ফ্লাইট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ২২টি সরাসরি ফ্লাইট এবং ৩৯টি ট্রানজিট ফ্লাইট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
সরাসরি ফ্লাইটগুলোর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ৯টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ২টি, সৌদিয়া এয়ারলাইনসে ৪টি এবং রিয়াদ এয়ারওয়েজের ৭টি ফ্লাইট রয়েছে। অন্যদিকে, ট্রানজিট ফ্লাইটগুলোর মধ্যে ইন্ডিগো এয়ারলাইনসের ১৬টি, সালাম এয়ারের ৩টি, ইজিপ্ট এয়ারের ১টি, এমিরেটস এয়ারলাইনসের ৯টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৫টি এবং ফ্লাই দুবাইয়ের ৫টি ফ্লাইট প্রভাবিত হয়েছে।
ফ্লাইট বাতিল ও ব্যাহত হওয়ার কারণে মোট ৯ হাজার ২৬৯ জন বিমানযাত্রী চরম অনিশ্চয়তা ও ভোগান্তির সম্মুখীন হয়েছে। পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসগুলোর ফ্লাইট সময়সূচি পুনর্নির্ধারণের কাজ চলছে বলে জানিয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ