ঢাকা শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বাগলী রঙ্গারচরা নদীতে নাব্যতা সংকট,খননের দাবীতে শ্রমিক ও ব্যবসায়িদের মানববন্ধন অনুষ্ঠিত।


বাগলী রঙ্গারচরা নদীতে নাব্যতা সংকট,খননের দাবীতে শ্রমিক ও ব্যবসায়িদের মানববন্ধন অনুষ্ঠিত।
 
 
 
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী বাগলী শুল্ক স্টেশনের একমাত্র রঙ্গারচরা নদীতে নাব্যতা সংকটে তীব্র আকার ধারণ করেছে। ফলে আশপাশের কয়েকটি উপজেলার হাজারো শ্রমিক খুবই কষ্টে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানববেতর জীবন যাপন করছেন। দ্রুত খননের দাবীতে মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করেছে শ্রমিক ও ব্যবসায়িরা।
 
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে আনলোড সমবায় সমিতির আয়োজনে বাগলী শুল্ক স্টেশন এলসি পয়েন্টে মানববন্ধন কমসূচী পালিত হয়েছে।
 
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন,
বাগলী রঙ্গারচড়া শুল্ক স্টেশনের বিকল্প সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় নদী পথেই তাদের বাণিজ্যিক যাতায়াত ব‍্যবস্থাই একমাত্র ভরসা। বছরের বর্ষা মওসুমের প্রায় তিন মাস কোনো রকমে শ্রমিকরা বালু-পাথর ও কয়লা নিয়ে নদীতে চলাচল করতে পারে। শুকনা মওসুমে বাকি নয় মাস কর্মসংস্থান না থাকায় কর্মহীন জীবন যাপন করতে হচ্ছে লাখো শ্রমিক ও এলসি ব্যবসায়িদের।
 
তাই কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে বাগলী রঙ্গারচরা হতে পাটনাই নদী পযর্ন্ত প্রায় ৮ কিলোমিটার নদী জরুরি ভিত্তিতে খননের দাবি জানিয়েছেন শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা।
 
একাধিক ব‍্যবসায়ী জানান, বাগলী শুল্ক স্টেশন থেকে পণ্য পাঠাতে না পেরে শত কোটি টাকার লোকসানের মুখে তারা। প্রায় দেড় যুগ ধরে শুষ্ক মৌসুমে পাটলাই নদীতে নৌ-জট দেখা দিলেও এ সমস্যা সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছেন না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। পাটলাই নদীর নৌ-জট নিরসনের স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে পাটলাই এবং রঙ্গারচরা নদীতে পরিকল্পিত গভীর খননের দাবি জানান নৌ-শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা। পাশাপাশি ভারত থেকে ঢলের পানির সাথে ভেসে আসা রাবিস রঙ্গারচরা নদী ভরাট হয়ে যাওয়ায় স্থানীয় শ্রমিক ও ব্যবসায়িদের নিজ অর্থায়নে খননের উদ্যোগ নিলে বিজিবি সদস্যরা তাতে বাঁধা প্রদান করে। যে কারণে দীর্ঘদিন ধরেই নাব্যতা সংকটে রয়েছে রঙ্গারচরা নদী। উপজেলার বড়চড়া, বাগলী, চারাগাঁও শুল্ক স্টেশন দিয়ে ভারত থেকে আমদানিকৃত চুনাপাথর, কয়লা উপজেলার রঙ্গারচর-পাটলাই নদী দিয়ে ভৈরব, নারায়ণগঞ্জ,নরসিংদি,ঢাকা,চট্টগ্রাম, খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যান ব্যবসায়ীরা। সড়কপথে যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় নদী পথে এসব পণ্য পরিবহন সহজ উপায় হিসাবে নৌ-পথ ব্যবহার করেন ব্যবসায়ীরা। বর্ষায় স্বাভাবিক থাকলেও শুকনায় একদিকে যেমন নদীর পানি কমে যায়, অন্যদিকে ভারতের পাহাড় থেকে নেমে আসা পলিতে বছর বছর ভরাট হয় নদীর তলদেশ। এতে নাব্যতা সংকট সৃষ্টি হয়। এই কারণে নৌ-জট সৃষ্টি হওয়ায় বিপাকে পড়ে কয়লা ও চুনাপাথর বোঝাই নৌকা ও বাল্কহেড। নৌ-জটের কারণে দিনের পর দিন আটকে থাকায় লোকসানের মুখে পড়েন নৌ-শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা।
 
বাগলী শুল্ক স্টেশন এলাকার ব্যবসায়ী বিএনপি নেতা শাহাদাত হোসেন বলেন, বাগলী রঙ্গারচর নদীর তলদেশ একেবারে ভরাট হয়ে গেছে। নদীটি খনন করলে সরকার প্রতিবছর হাজার কোটি টাকা রাজস্ব পাবে এবং শ্রমিকদের সারা বছরের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
 
বাগলী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ব্যবসায়ী নুরুজ্জামান জানান,রঙ্গাছড়া হতে পাটলাই নদী পযর্ন্ত প্রায় সাড়ে ৭ কিলোমিটার খনন করলে আমাদের শ্রমিকরা সারা বছর কাজ করতে পারবে এবং পাটলাই নৌজটের সমস্যার স্থায়ী নিরসন হবে।
 
বাগলী সমিতির কোষাদক্ষ ব্যবসায়ী হাজী মোঃ আব্দুল আলীম বলেন,পণ্য পরিবহনে সড়ক পথে যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় উপজেলার তিনটি শুল্ক স্টেশন বড়চড়া, চারাগাঁও,বাগলী দিয়ে আমদানিকৃত কয়লা, চুনাপাথর রঙ্গারচর নদী ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণে লোকসানের মুখে পাটলাই নদী দিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যান ব্যবসায়ীরা। গত এক দশক সময় ধরে পাটলাই নদীতে নৌজট সমস্যায় ভুগছেন ব্যবসায়ীরা। প্রতি বছর এই শুল্ক স্টেশন হতে সরকারকে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব দিলেও নৌজট নিরসনে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যাচ্ছে না স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ। গভীরভাবে নদী খননের দাবি জানানো হলেও উপেক্ষিত থাকছে দাবিটি।
 
বাগলী শুল্ক স্টেশনের সভাপতি মো.কামাল হোসেন বলেন,পাটলাই নৌজট নিরসনের স্থায়ী সমাধান হচ্ছে রঙ্গারচরা-পাটলাই নদী খনন। ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের আওতায় নদী খনন করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আমরা একাধিকবার দাবি জানিয়েছি। আশা করবো ব্যবসায়ীদের কথা চিন্তা করে নদী খননে সরকার খুব দ্রুত উদ্যোগ নেবেন।
 
তাহিরপুর কয়লা আমদানিকারক গ্রুপ সমিতির সভাপতি সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ খসরুল আলম বলেন,বাগলী রঙ্গারচরা নদী নাব্যতা সংকটের কারণে বছরের প্রায় ৪/৫ মাস শ্রমিকরা নদীতে কাজ করতে পারে। বাকি ৬/৭ মাস কর্মসংস্থান না থাকায় শ্রমিকরা পরিবার পরিজন নিয়ে মানব বেতর জীবন যাপন করছে। রঙ্গারচরা হতে পাটলাই নদী পযর্ন্ত মাত্র ৭ কিঃমি নদী দ্রুত খননের জন্য সুনামগঞ্জ ১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুলের ডিও লেটার দেওয়া হয়েছে। সরকারও হাজার কোটি টাকা রাজস্ব পাবে। শ্রমিক ও ব্যবসায়িদের দীর্ঘদিনের দাবী বাস্তবায়ন করতে স্থল বন্দর কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি।
 
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী ভারপ্রাপ্ত মো.এমদাদুল হক বলেন, এ খনন কাজের দায়িত্ব বিআইডব্লিউটিএর। তারপরও আমাদের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।
 
সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) তাপস শীল বলেন,কিছুদিন আগে আমি বড়ছড়া,চারাগাও ও বাগলী শুল্ক স্টেশনে সরেজমিন গিয়েছিলাম। রাস্তাঘাটের বেহাল অবস্থা। বাগলী রঙ্গারচরা নদীর নাব্যতা সংকটের স্থায়ী সমাধান হলো
ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে গভীর ভাবে খনন করা গেলে শ্রমিকদের সারা বছরের কর্মসংস্থান হবে।
 
এছাড়াও মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন, বাগলী আমদানিকারক সমিতির সহ সভাপতি হামিদুল ইসলাম,সহ-সাধারণ সম্পাদক হাবিবনুর সিদ্দিকী,আনলোড শ্রমিক সমিতির সভাপতি তাহের আলী, শ্রমিক নেতা চান মিয়া,ব্যবসায়ি আনোয়ার হোসেন,আশ্রব আলী,করিম মিয়া,ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজশাহী বিভাগীয় বইমেলার উদ্বোধন করলেন, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মাসুদ রানা রাব্বানী, রাজশাহী

বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:২১ পি.এম


রাজশাহী বিভাগীয় বইমেলার উদ্বোধন করলেন, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী

শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করতে ছোটবেলা থেকেই বই পড়া, নিয়মিত খেলাধুলা ও সংস্কৃতিচর্চায় উদ্বুদ্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। 

তিনি বলেছেন, আগামী দিনের মেধাবী, দক্ষ ও সৃজনশীল মানবসম্পদ গড়ে তুলতে এসব চর্চার কোনো বিকল্প নেই।

বৃহস্পতিবার বিকালে রাজশাহী নগরীর কালেক্টরেট মাঠে নয় দিনব্যাপী রাজশাহী বিভাগীয় বইমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষাব্যবস্থার মান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, একসময় পরীক্ষার খাতায় না লিখলেও শতকরা ৯৮ ভাগ শিক্ষার্থীকে পাস করানো হয়েছে। শিক্ষাব্যবস্থার এমন দুরবস্থার কারণে বর্তমানে অনেক তরুণের প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি থাকলেও প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও দক্ষতার ঘাটতি রয়েছে।

তিনি বলেন, যথাযথ শিক্ষা ও দক্ষতার অভাব দেশে বেকারত্ব বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। বেকারত্ব ও হতাশাকে কাজে লাগিয়ে দেশজুড়ে মাদকের ভয়াবহ বিস্তার ঘটানো হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

শিক্ষার মানোন্নয়নে সরকারের অঙ্গীকার তুলে ধরে নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, শিক্ষাব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনতে জাতীয় বাজেটের প্রায় এক-চতুর্থাংশ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত করতে মেধাবী শিক্ষক নিয়োগ এবং তাঁদের বেতন-ভাতা বাড়ানোর পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাজশাহীর ভারপ্রাপ্ত বিভাগীয় কমিশনার মোঃ রেজাউল আলম সরকার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী-৩ (পবা) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী-৫ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম এবং সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইয়াসমিন বেগমসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও রাজশাহীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

উদ্বোধনী আলোচনা শেষে মেলা প্রাঙ্গণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

আয়োজকেরা জানান, রাজশাহী কালেক্টরেট মাঠে শুরু হওয়া বিভাগীয় বইমেলা চলবে আগামী ৬ নভেম্বর পর্যন্ত। প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মেলা সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। বইপ্রেমী ও সব বয়সী দর্শনার্থী মেলায় অংশ নিতে পারবেন।#

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে পুলিশ বাহিনী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে; স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মাসুদ রানা রাব্বানী, রাজশাহী

বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:২৫ পি.এম


ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে পুলিশ বাহিনী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে; স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে জনগণকে স্বস্তি দেওয়া এবং দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা বর্তমান সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
 
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির ঐতিহাসিক প্যারেড গ্রাউন্ডে ২৭তম শিক্ষানবিশ সার্জেন্ট এবং ৪৩তম ক্যাডেট সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই-২০০৬ ব্যাচের) ছয় মাস মেয়াদি মৌলিক প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। 
 
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় পুলিশের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মতো পুলিশ বাহিনীও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেই ভঙ্গুর অবস্থা থেকে ক্রমে উত্তরণ ঘটিয়ে পুলিশ বর্তমান পর্যায়ে এসেছে।
 
নবীন পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, পুলিশের পোশাক, পরিচয় ও কাঁধে অর্পিত দায়িত্ব শুধু চাকরির পরিচয় নয়, এটি জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ন্যায়বিচারের পথ সুগম করা এবং রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার অঙ্গীকার। পুলিশের প্রতিটি সিদ্ধান্ত নাগরিকের জীবন, পরিবারের নিরাপত্তা ও সমাজের শান্তিকে প্রভাবিত করতে পারে। তাই দায়িত্ব পালনে দায়িত্বশীলতা, সিদ্ধান্ত গ্রহণে আইনের অনুসরণ এবং আচরণে মানবিকতা বজায় রাখতে হবে।
 
তিনি বলেন, পুলিশের কাছে জনগণের প্রত্যাশা অনেক। সেবাপ্রত্যাশী সব শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রতি আন্তরিক হতে হবে। ভয়ভীতি ও পক্ষপাতিত্ব উপেক্ষা করে মানুষকে আইনি সেবা ও সুরক্ষা দিতে হবে। জনগণের পাশে থেকে সেবা প্রদানের মাধ্যমে আস্থা অর্জন করে পুলিশকে প্রকৃত অর্থেই জনগণের পুলিশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।
 
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমানে অপরাধের ধরন দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। প্রচলিত অপরাধের পাশাপাশি সাইবার অপরাধ, অনলাইন প্রতারণা, আর্থিক জালিয়াতি, মাদক-সংক্রান্ত অপরাধ, মানবপাচার ও সংঘবদ্ধ অপরাধ মোকাবিলায় পুলিশকে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, তথ্য বিশ্লেষণ, বৈজ্ঞানিক তদন্ত, অপরাধের ধরন সম্পর্কে হালনাগাদ জ্ঞান এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো প্রয়োজন।
 
তিনি বলেন, পুলিশি সেবা তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দিতে ফরেনসিক পরীক্ষা, ডিএনএ পরীক্ষা, ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার, বিট পুলিশিং, নারী, শিশু, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধীবান্ধব সার্ভিস ডেস্ক এবং জাতীয় জরুরি সেবাসহ বিভিন্ন কার্যক্রম চালু রয়েছে। সাইবার জগতে সংঘটিত অপরাধ মোকাবিলায় স্বতন্ত্র সাইবার পুলিশ ইউনিটও প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। অপরাধ মোকাবিলা ও আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে পুলিশকে সংবিধান ও প্রচলিত আইনের বিধান অনুসরণ করতে হবে।
 
নবীন পুলিশ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি নিরপরাধ মানুষের অধিকার সুরক্ষিত রাখতে হবে। তদন্ত ও আইন প্রয়োগের প্রতিটি পর্যায়ে নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে হবে। পুলিশের লক্ষ্য শুধু অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়া নয়, বরং এমন পরিবেশ গড়ে তোলা, যেখানে অপরাধের ঝুঁকি কমে আসবে এবং মানুষ নিরাপদে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারবে।#
 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজধানীর কুড়িল বিশ্বরোডের আবাসিক হোটেলকে ঘিরে মাদক ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মো. রাজিব তালুকদার

বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৪৯ পি.এম


রাজধানীর কুড়িল বিশ্বরোডের আবাসিক হোটেলকে ঘিরে মাদক ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ

রাজধানীর ব্যস্ততম এলাকা কুড়িল বিশ্বরোডের একটি আবাসিক হোটেলকে ঘিরে মাদক ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে কুড়িল বিশ্বরোডের ৯৫/ক নম্বর ভবনে, পূবালী ব্যাংকের তৃতীয় তলায় অবস্থিত ‘হোটেল পূর্বাচল’-এ আবাসিক হোটেলের আড়ালে এসব কর্মকাণ্ড চলছে।

অভিযোগ রয়েছে, হোটেলটির ব্যবস্থাপক রবিউলের নেতৃত্বে বিভিন্ন এলাকা থেকে নারীদের এনে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়ানোর পাশাপাশি মাদক সরবরাহ ও সেবনের সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয়দের দাবি, আবাসিক হোটেলের সাইনবোর্ড ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে এসব কর্মকাণ্ড পরিচালিত হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর নজরদারি দেখা যাচ্ছে না। এতে হোটেলটিতে অবস্থানকারী সাধারণ অতিথি ও আশপাশের বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে তথ্য জানতে হোটেল পূর্বাচলের ব্যবস্থাপক রবিউলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমরা থানায় মাসোয়ারা দিই। যা কিছু জানার থানার ওসির কাছে জানেন।”

তবে হোটেল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য জানা যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই এবং হোটেলটিতে কোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, মাদকবিরোধী অভিযান এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হয়ে থাকে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।উল্লেখ্য বিষয় একাধিকবার ও সোশ্যাল মিডিয়া এবং বিভিন্ন পত্রিকার নিউজ সত্ত্বেও কোন প্রকারে বন্ধ হয়নি এই দেহ ব্যবসা ও মাদক ব্যবসা। আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে ম্যানেজার রবিউল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাকেরগঞ্জে গণধর্ষণের অভিযোগ নিতে ওসির অস্বীকৃতি! উল্টো ভিকটিমকে ৭ বছরের জেলের ভয়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বাকেরগঞ্জ প্রতিনিধি

বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৫১ পি.এম


বাকেরগঞ্জে গণধর্ষণের অভিযোগ নিতে ওসির অস্বীকৃতি! উল্টো ভিকটিমকে ৭ বছরের জেলের ভয়

বিয়েতে মেহেদীর রং শুকাতে না শুকাতেই ১৬-১৭ দিনের মাথায় বরিশালের বাকেরগঞ্জে এক নববধূকে (১৭) গণধর্ষণের লোমহর্ষক অভিযোগ উঠেছে। বিচার চাইতে থানায় গিয়ে দ্বিতীয়বার দুর্ব্যবহারের শিকার হলেন ওই গৃহবধূ- এবার পুলিশের কাছে। থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আদিল হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা না নিয়ে উল্টো ভিকটিমকে ভয়-ভীতি দেখানোর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পাদ্রীশিবপুর ইউনিয়নের আড়াইবেকী এলাকার ওই গৃহবধূকে গত ১৯ অক্টোবর রাতে তারই সৎ ভাসুর মোঃ ইমরান প্যাদা (৩৮) ও প্রতিবেশী চাচা শ্বশুড় রাকিব প্যাদা (২৬) কৌশলে নির্জন স্থানে নিয়ে গণধর্ষণ করে। ঘটনার পর তিনি গত ২৩ অক্টোবর বরিশাল জেলা লিগ্যাল এইড অফিসারের (সিনিয়র সহকারী জজ) কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

জেলা লিগ্যাল এইড অফিস ভিকটিমকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ বাকেরগঞ্জ থানায় ওসির কাছে পাঠান। ভিকটিম কাগজসহ ওসি আদিলের সঙ্গে দেখা করলে তিনি মামলা গ্রহণ না করে উল্টো তাকেই (ভিকটিমকে) জেলের ভয় দেখান বলে ভিকটিমের অভিযোগ।

ধর্ষণের শিকার নববধূ ভিকটিম জানান, তার সৎ ভাসুর ইমরান প্যাদা তাকে নতুন পোশাক কিনে দেয়ার কথা বলে বাজারে নিয়ে যায়। ওইদিন বাজার থেকে রাতে বাড়ীতে ফেরার পথে তার ভাসুর ও চাচা শ্বশুড় রাকিব প্যাদা তাকে গণধর্ষণ করে।
এ ঘটনায় তিনি ২৩ অক্টোবর বরিশাল লিগাল এইড অফিসের নির্দেশে থানায় মামলা দায়ের করতে গেলে ওসি আদিল হোসেন তাদেরকে বলেন, "আপনার কোনো প্রমাণ নেই। জামাসহ গোসল করার কারণে প্রমাণ লোপাট হয়ে গেছে। ধর্ষণের ঘটনা প্রমাণ করতে না পারলে আপনারই (ভিকটিমের) সাত বছরের সাজা হবে।" এমনকি ধর্ষকদের একজন ইমরান প্যাদা তার দুলাভাই সেতো এমনিতেই শালীর অর্ধেক ভাগ বলেও ওসি তার সাথে মশকরা করেন বলেও জানান।

এদিকে এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ছাড়াও খোদ ভিকটিমের স্বামী জীবন প্যাদা, শ্বশুড় সুলতান প্যাদা ও শ্বাশুড়ী ফাতেমা বেগমও ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ধর্ষকদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবী জানিয়েছেন। ভিকটিম সম্পর্কে অভিযুক্ত ইমরান প্যাদার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী ও আপন শ্যালিকা হওয়ায় ঘটনাটি এলাকায় আরও বেশি হৃদয়বিদারক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এ বিষয়ে বাকেরগঞ্জ থানার ওসি আদিল হোসেন বলেন, গত দুই এক দিন আগে ভিকটিম তার স্বামী ও শ্বশুর-শ্বশুড়ীকে নিয়ে থানায় এসেছিল। ধর্ষণের কোন আলামত দেখাতে পারিনি। তবে তাদেরকে লিখিত অভিযোগ দেয়ার কথা বললে তারা কিছুক্ষণ পরে জানাবে বলে চলে যায়।

পাদ্রীশিবপুর ইউনিয়নের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মাসুদ হাসান নববধূকে গণধর্ষণের ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, একজন অসহায় নারী যখন বিচারের শেষ আশ্রয়স্থল হিসেবে থানায় যায়, তখন থানার ওসি যদি তাকে সুরক্ষা না দিয়ে ভয় দেখান, তাহলে রাষ্ট্রের প্রতি মানুষের আস্থা কোথায় থাকবে? একজন ধর্ষণের শিকার নারীকে থানায় ডেকে এভাবে ভয় দেখানো শুধু অমানবিকই নয়, চরম পৈশাচিকতা ও ক্ষমতার অপব্যবহার।

এই ঘটনায় বাকেরগঞ্জের সচেতন নাগরিক সমাজ ও মানবাধিকার কর্মীরা তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে ওসি আদিল হোসেনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত, প্রত্যাহার এবং ভিকটিমের মামলা দ্রুত গ্রহণ করে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। ভিকটিম বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

পুলিশ সুপার এ জেড এম মোস্তাফিজুর রহমান জানান, গণধর্ষণের ঘটনায় ওসির মামলা না নেয়ার কোনো সুযোগ নেই। তিনি যদি মামলা না নিয়ে ধর্ষিতাকে উল্টো ভয় দেখিয়ে থাকেন তদন্ত করে ওসির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও তিনি জানান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৪
মাগরিব ০৫:২১
ইশা ০৬:৩৩
সূর্যোদয় : ০৬:০৩ সূর্যাস্ত : ০৫:২১
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%