মুরাদ মিয়া,তাহিরপুর,সুনামগঞ্জ
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৯:১৬ পি.এম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তিনি বলেছেন, আগামী দিনের মেধাবী, দক্ষ ও সৃজনশীল মানবসম্পদ গড়ে তুলতে এসব চর্চার কোনো বিকল্প নেই।
বৃহস্পতিবার বিকালে রাজশাহী নগরীর কালেক্টরেট মাঠে নয় দিনব্যাপী রাজশাহী বিভাগীয় বইমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষাব্যবস্থার মান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, একসময় পরীক্ষার খাতায় না লিখলেও শতকরা ৯৮ ভাগ শিক্ষার্থীকে পাস করানো হয়েছে। শিক্ষাব্যবস্থার এমন দুরবস্থার কারণে বর্তমানে অনেক তরুণের প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি থাকলেও প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও দক্ষতার ঘাটতি রয়েছে।
তিনি বলেন, যথাযথ শিক্ষা ও দক্ষতার অভাব দেশে বেকারত্ব বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। বেকারত্ব ও হতাশাকে কাজে লাগিয়ে দেশজুড়ে মাদকের ভয়াবহ বিস্তার ঘটানো হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শিক্ষার মানোন্নয়নে সরকারের অঙ্গীকার তুলে ধরে নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, শিক্ষাব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনতে জাতীয় বাজেটের প্রায় এক-চতুর্থাংশ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত করতে মেধাবী শিক্ষক নিয়োগ এবং তাঁদের বেতন-ভাতা বাড়ানোর পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাজশাহীর ভারপ্রাপ্ত বিভাগীয় কমিশনার মোঃ রেজাউল আলম সরকার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী-৩ (পবা) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী-৫ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম এবং সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইয়াসমিন বেগমসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও রাজশাহীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
উদ্বোধনী আলোচনা শেষে মেলা প্রাঙ্গণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
আয়োজকেরা জানান, রাজশাহী কালেক্টরেট মাঠে শুরু হওয়া বিভাগীয় বইমেলা চলবে আগামী ৬ নভেম্বর পর্যন্ত। প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মেলা সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। বইপ্রেমী ও সব বয়সী দর্শনার্থী মেলায় অংশ নিতে পারবেন।#
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর ব্যস্ততম এলাকা কুড়িল বিশ্বরোডের একটি আবাসিক হোটেলকে ঘিরে মাদক ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে কুড়িল বিশ্বরোডের ৯৫/ক নম্বর ভবনে, পূবালী ব্যাংকের তৃতীয় তলায় অবস্থিত ‘হোটেল পূর্বাচল’-এ আবাসিক হোটেলের আড়ালে এসব কর্মকাণ্ড চলছে।
অভিযোগ রয়েছে, হোটেলটির ব্যবস্থাপক রবিউলের নেতৃত্বে বিভিন্ন এলাকা থেকে নারীদের এনে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়ানোর পাশাপাশি মাদক সরবরাহ ও সেবনের সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়দের দাবি, আবাসিক হোটেলের সাইনবোর্ড ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে এসব কর্মকাণ্ড পরিচালিত হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর নজরদারি দেখা যাচ্ছে না। এতে হোটেলটিতে অবস্থানকারী সাধারণ অতিথি ও আশপাশের বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে তথ্য জানতে হোটেল পূর্বাচলের ব্যবস্থাপক রবিউলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমরা থানায় মাসোয়ারা দিই। যা কিছু জানার থানার ওসির কাছে জানেন।”
তবে হোটেল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য জানা যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই এবং হোটেলটিতে কোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, মাদকবিরোধী অভিযান এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হয়ে থাকে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।উল্লেখ্য বিষয় একাধিকবার ও সোশ্যাল মিডিয়া এবং বিভিন্ন পত্রিকার নিউজ সত্ত্বেও কোন প্রকারে বন্ধ হয়নি এই দেহ ব্যবসা ও মাদক ব্যবসা। আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে ম্যানেজার রবিউল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিয়েতে মেহেদীর রং শুকাতে না শুকাতেই ১৬-১৭ দিনের মাথায় বরিশালের বাকেরগঞ্জে এক নববধূকে (১৭) গণধর্ষণের লোমহর্ষক অভিযোগ উঠেছে। বিচার চাইতে থানায় গিয়ে দ্বিতীয়বার দুর্ব্যবহারের শিকার হলেন ওই গৃহবধূ- এবার পুলিশের কাছে। থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আদিল হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা না নিয়ে উল্টো ভিকটিমকে ভয়-ভীতি দেখানোর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পাদ্রীশিবপুর ইউনিয়নের আড়াইবেকী এলাকার ওই গৃহবধূকে গত ১৯ অক্টোবর রাতে তারই সৎ ভাসুর মোঃ ইমরান প্যাদা (৩৮) ও প্রতিবেশী চাচা শ্বশুড় রাকিব প্যাদা (২৬) কৌশলে নির্জন স্থানে নিয়ে গণধর্ষণ করে। ঘটনার পর তিনি গত ২৩ অক্টোবর বরিশাল জেলা লিগ্যাল এইড অফিসারের (সিনিয়র সহকারী জজ) কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
জেলা লিগ্যাল এইড অফিস ভিকটিমকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ বাকেরগঞ্জ থানায় ওসির কাছে পাঠান। ভিকটিম কাগজসহ ওসি আদিলের সঙ্গে দেখা করলে তিনি মামলা গ্রহণ না করে উল্টো তাকেই (ভিকটিমকে) জেলের ভয় দেখান বলে ভিকটিমের অভিযোগ।
ধর্ষণের শিকার নববধূ ভিকটিম জানান, তার সৎ ভাসুর ইমরান প্যাদা তাকে নতুন পোশাক কিনে দেয়ার কথা বলে বাজারে নিয়ে যায়। ওইদিন বাজার থেকে রাতে বাড়ীতে ফেরার পথে তার ভাসুর ও চাচা শ্বশুড় রাকিব প্যাদা তাকে গণধর্ষণ করে।
এ ঘটনায় তিনি ২৩ অক্টোবর বরিশাল লিগাল এইড অফিসের নির্দেশে থানায় মামলা দায়ের করতে গেলে ওসি আদিল হোসেন তাদেরকে বলেন, "আপনার কোনো প্রমাণ নেই। জামাসহ গোসল করার কারণে প্রমাণ লোপাট হয়ে গেছে। ধর্ষণের ঘটনা প্রমাণ করতে না পারলে আপনারই (ভিকটিমের) সাত বছরের সাজা হবে।" এমনকি ধর্ষকদের একজন ইমরান প্যাদা তার দুলাভাই সেতো এমনিতেই শালীর অর্ধেক ভাগ বলেও ওসি তার সাথে মশকরা করেন বলেও জানান।
এদিকে এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ছাড়াও খোদ ভিকটিমের স্বামী জীবন প্যাদা, শ্বশুড় সুলতান প্যাদা ও শ্বাশুড়ী ফাতেমা বেগমও ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ধর্ষকদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবী জানিয়েছেন। ভিকটিম সম্পর্কে অভিযুক্ত ইমরান প্যাদার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী ও আপন শ্যালিকা হওয়ায় ঘটনাটি এলাকায় আরও বেশি হৃদয়বিদারক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এ বিষয়ে বাকেরগঞ্জ থানার ওসি আদিল হোসেন বলেন, গত দুই এক দিন আগে ভিকটিম তার স্বামী ও শ্বশুর-শ্বশুড়ীকে নিয়ে থানায় এসেছিল। ধর্ষণের কোন আলামত দেখাতে পারিনি। তবে তাদেরকে লিখিত অভিযোগ দেয়ার কথা বললে তারা কিছুক্ষণ পরে জানাবে বলে চলে যায়।
পাদ্রীশিবপুর ইউনিয়নের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মাসুদ হাসান নববধূকে গণধর্ষণের ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, একজন অসহায় নারী যখন বিচারের শেষ আশ্রয়স্থল হিসেবে থানায় যায়, তখন থানার ওসি যদি তাকে সুরক্ষা না দিয়ে ভয় দেখান, তাহলে রাষ্ট্রের প্রতি মানুষের আস্থা কোথায় থাকবে? একজন ধর্ষণের শিকার নারীকে থানায় ডেকে এভাবে ভয় দেখানো শুধু অমানবিকই নয়, চরম পৈশাচিকতা ও ক্ষমতার অপব্যবহার।
এই ঘটনায় বাকেরগঞ্জের সচেতন নাগরিক সমাজ ও মানবাধিকার কর্মীরা তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে ওসি আদিল হোসেনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত, প্রত্যাহার এবং ভিকটিমের মামলা দ্রুত গ্রহণ করে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। ভিকটিম বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
পুলিশ সুপার এ জেড এম মোস্তাফিজুর রহমান জানান, গণধর্ষণের ঘটনায় ওসির মামলা না নেয়ার কোনো সুযোগ নেই। তিনি যদি মামলা না নিয়ে ধর্ষিতাকে উল্টো ভয় দেখিয়ে থাকেন তদন্ত করে ওসির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও তিনি জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ