জাকির হোসেন পাটোয়ারী রাজবাড়ী প্রতিনিধি
বৃহস্পতিবার, ১৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং
০৭:৩২ পি.এম
রাজবাড়ীতে এক ঘটনার মধ্যে বাস এবং মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে এক যুবকের মৃত্যু ঘটেছে। তার নাম পলাশ প্রামানিক, বয়স ২৫ বছর। তিনি রাজবাড়ী সদর উপজেলার বাগমারা গ্রামের আরজু প্রামানিকের ছেলে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে সাড়ে ৩টার সময় রাজবাড়ী-বালিয়াকান্দি সড়কের রাজবাড়ী সদর উপজেলার মাটিপাড়া ব্রীজের কাছে এই দুঘর্টনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এলাকার মাটিপাড়া ব্রীজে বাস-মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এই সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই মোটরসাইকেল আরোহী পলাশ প্রামানিকের মৃত্যু হয়। এরপর পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে এবং ঘাতক বাসটি পালিয়ে যায়।
রাজবাড়ী সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ এ বিষয়ে জানিয়েছেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছে। তিনি এছাড়া জানায়, ঘাতক বাসটি আটক করতে চেষ্টা চলছে এবং পরবর্তী আইনী পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১৩ আগস্ট, ২০২৬: উত্তর আমেরিকার অন্যতম বৃহৎ ফ্যাশন সোর্সিং ট্রেড ফেয়ার ‘সোর্সিং অ্যাট ম্যাজিক ২০২৬’-এ বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। এটি নিজেদের উৎপাদন সক্ষমতা ও পণ্যের বৈচিত্র্য তুলে ধরেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নেভাদা অঙ্গরাজ্যের লাসভেগাস ট্রেড সেন্টারে ১০ থেকে ১২ আগস্ট অনুষ্ঠিত এ প্রদর্শনীটি বৈশ্বিক ক্রেতা এবং তৈরি পোশাক খাতের শিল্প-সংশ্লিষ্টদের জন্য ব্যাপক আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল বাংলাদেশ।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) আর্থিক সহযোগিতা এবং লস অ্যাঞ্জেলেসে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের সার্বিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে আয়োজিত কনক্রিট প্রদর্শনীতে দেশের শীর্ষস্থানীয় ২০টি তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল প্রতিষ্ঠান ২১টি বুথ নিয়ে অংশগ্রহণ করেছে।
বিশ্বব্যাপী পোশাক প্রস্ততকারক, টেক্সটাইল ও ফ্যাব্রিক সরবরাহকারী, ক্রেতা, আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড এবং ডিজাইনারদের মধ্যে সংযোগ স্থাপনের স্বীকৃত প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ‘সোর্সিং অ্যাট ম্যাজিক’ পরিচিত। মার্কিন বাজারে প্রবেশ এবং বৈশ্বিক সোর্সিং নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের জন্য মেলাটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
এবারের আয়োজনে বাংলাদেশ, চীন, ভিয়েতনাম ও যুক্তরাষ্ট্রসহ ২৪টি দেশের প্রদর্শকরা অংশগ্রহণ করেন। মেলায় প্রায় ৮০০টির বেশি স্টল স্থাপন করা হয়। তিন দিনব্যাপী আয়োজনে ৭০টি দেশের প্রায় সাড়ে আট হাজার দর্শনার্থী উপস্থিত ছিলেন, যাদের মধ্যে ৭৩ শতাংশের বেশি উচ্চপর্যায়ের ক্রেতা ও খাতসংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারক।
বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো বিশ্ববাজারে নিজেদের ক্রমবর্ধমান সক্ষমতা ও প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা তুলে ধরছেন। বিশেষ করে নিটওয়্যার, ওভেন পোশাক, ক্যাজুয়াল পোশাক, কটন শার্ট, প্রিমিয়াম ডেনিম, বিশেষায়িত ওয়াশড পণ্য এবং উচ্চমূল্যের ফরমাল পোশাক প্রদর্শনের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্যাভিলিয়ন প্রশংসা অর্জন করেছে।
মেলার চলাকালে বাংলাদেশি রপ্তানিকারকরা আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সঙ্গে বিপুলসংখ্যক ব্যবসায়িক বৈঠক ও বাণিজ্যিক আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন। এভাবে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ব্যবসায়িক অনুসন্ধান পেয়েছেন এবং নতুন রপ্তানি আদেশ পাওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, বিশ্বব্যাপী ফ্যাশন খাতের পরিবর্তনশীল চাহিদার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে বাংলাদেশ প্রস্তুত। এ মেলায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে সেটি আরও স্পষ্ট হয়েছে।
তারা মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের দৃশ্যমানতা বৃদ্ধি, রপ্তানি বাজারের বহুমুখীকরণ এবং একটি নির্ভরযোগ্য সোর্সিং গন্তব্য হিসেবে দেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে এ অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে ফের পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটে চলেছে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাতে রাশিয়ার হামলায় ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় ওদেসা এলাকায় একটি যাত্রীবাহী ট্রেনে আঘাত হেনে আগুন ধরে যায়। এতে অন্তত দুজন নিহত হন। একই সময়ে কিয়েভ দাবি করেছে, রাশিয়ার গভীরে একটি তেল শোধনাগারে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।
ইউক্রেনের স্টেট ইমার্জেন্সি সার্ভিস জানায়, ওদেসা অঞ্চলের বেরেজিভকা জেলায় রুশ হামলায় একটি যাত্রীবাহী ট্রেন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ট্রেনের ইঞ্জিনে আগুন ধরে যায় এবং পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। ওই সময় ট্রেনটিতে ৩৪০ জন যাত্রী ছিলেন।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বলেন, ট্রেনটিতে জেটচালিত একটি ড্রোন দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। তার দাবি, হামলাকারীরা জানত যে এটি সম্পূর্ণ বেসামরিক একটি লক্ষ্য।
জেলেনস্কি আরো বলেন, ইউরোপে যুদ্ধ বন্ধে যদি বিশ্ব সত্যিই আন্তরিক হয়, তাহলে ইউক্রেনের জন্য আরও বিমান প্রতিরক্ষা সহায়তা প্রয়োজন এবং রাশিয়ার ওপর আরও চাপ দরকার।
এদিকে, ওদেসা অঞ্চলের ইজমাইল জেলার প্রশাসন জানিয়েছে, রাতভর রুশ হামলায় বন্দর অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সেখানে আগুন ধরে গেছে। হামলায় ইজমাইল শহরের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বিদ্যুৎ সরবরাহও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। স্থানীয় বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। বেসরকারি বিদ্যুৎ কোম্পানি ডিটেইক বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরুদ্ধারে কাজ করছে।
ইউক্রেনের বিমানবাহিনী দাবি করেছে, রাতভর রাশিয়া ১৩৩টি ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। এর মধ্যে ১১১টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে ইউক্রেনীয় বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।
অন্যদিকে, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা ইজমাইল বন্দরে ইউক্রেনীয় সশস্ত্র বাহিনীর একটি অস্থায়ী অবস্থানে এবং সামরিক সরঞ্জাম খালাস ও সংরক্ষণে ব্যবহৃত বন্দর অবকাঠামোতে হামলা চালিয়েছে। পাশাপাশি দানিয়ুব নদীর তীরে অবস্থিত রেনি বন্দরে ইউক্রেনীয় নৌবাহিনীর একটি কমান্ড পোস্টে হামলার দাবি করেছে মস্কো।
রাশিয়ায় ইউক্রেনের ড্রোন হামলার প্রসঙ্গে, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, রাতভর দেশটির ১৭টি অঞ্চলের পাশাপাশি কৃষ্ণসাগর, আজভ সাগর ও ক্রিমিয়ার আকাশে মোট ৩৬২টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করেছে রুশ বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।
এদিকে, রাশিয়ার বাশকোর্তোস্তান অঞ্চলের প্রধান রাদিয় খাবিরভ জানিয়েছেন, চিশমিনস্কি জেলায় একটি লজিস্টিকস কেন্দ্রে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় দুজন আহত হয়েছেন। এর আগে তিনি জানিয়েছিলেন, ভূপাতিত একটি ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ সালাভাত শহরের একটি শিল্প এলাকায় পড়ে আগুন ধরে গেছে।
রাশিয়ার বৃহত্তম অনলাইন মার্কেটপ্লেস ওয়াইল্ডবেরিজও জানিয়েছে, তাদের একটি স্থাপনায় থাকা শিল্প এলাকায় আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। নিরাপত্তার স্বার্থে সেখানে আগাম লোকজন সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে ওই স্থাপনায় কোনো পণ্য সংরক্ষণ করা ছিল না বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
পরে ইউক্রেনের জেনারেল স্টাফ নিশ্চিত করে যে, তারা বাশকোর্তোস্তানের গাজপ্রম নেফতেখিম সালাভাত তেল শোধনাগারকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি, হামলায় শোধনাগারটি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং পরে সেখানে আগুন ধরে যায়। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১৩ আগস্ট, ২০২৬ : রাজশাহী বিভাগের সমস্ত জেলা ও মহানগর নেতাদের সঙ্গে বৈঠক সম্পন্ন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গুলশানে চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।
তিনি আরও বলেন, ‘রাজশাহী বিভাগ, জেলা ও মহানগরের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সংগঠনগত দিকগুলো নিয়ে দলের চেয়ারম্যান বৈঠক করেছেন। এটি একটি ধারাবাহিক বৈঠক।’
বৈঠকে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনুসহ রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন জেলার নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সৌদি আরব, তুরস্ক এবং পাকিস্তান যৌথভাবে একটি বিশাল সামরিক জোট গঠন করছে। গত শুক্রবার, তিন দেশের নেতারা ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ স্বাক্ষর করেছেন।
এই চুক্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তিন দেশের যেকোনো একটি দেশের ওপর যদি সশস্ত্র হামলা হয়, তাহলে সেটিকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে ধরা হবে। পাশাপাশি, তিন দেশ সম্মিলিত প্রতিরোধক্ষমতা শক্তিশালী করার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্য ও এর পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর ক্ষেত্রে ইসরায়েলের সামরিক সক্ষমতার বিস্তার ও ইরানের আঞ্চলিক প্রভাব সম্পর্কে উদ্বেগ বাড়তে থাকায়, এই চুক্তিটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
সামরিক শক্তির দিক থেকে সৌদি আরব, তুরস্ক এবং পাকিস্তান একত্রিত হলে এটি নিঃসন্দেহে একটি শক্তিশালী সামরিক জোট। সৌদি আরব পৃথিবীর অন্যতম প্রধান তেল রফতানিকারক, তুরস্কের রয়েছে ন্যাটোর দ্বিতীয় বৃহত্তম সামরিক বাহিনী এবং পাকিস্তান হলো একমাত্র পারমাণবিক অস্ত্রধারী মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ।
২০২৬ সালের গ্লোবাল ফায়ারপাওয়ার সূচকের অনুযায়ী, তিন দেশের সম্মিলিত সামরিক সক্ষমতা স্থল, আকাশ এবং নৌ—তিন ক্ষেত্রেই উল্লেখযোগ্য।
তিন দেশের সক্রিয় সামরিক সদস্যের সংখ্যা প্রায় ১৪ লাখ। এর মধ্যে পাকিস্তানের সক্রিয় সেনাসদস্য প্রায় ৬ লাখ ৬০ হাজার, তুর্কির রয়েছে প্রায় ৪ লাখ ৮১ হাজার এবং সৌদি আরবের প্রায় ২ লাখ ৪৭ হাজার।
সক্রিয় সেনাবাহিনীর সাথে সাথে, তিন দেশের রিজার্ভ ও আধাসামরিক বাহিনীও রয়েছে। ফলে প্রয়োজনের সময়ে সম্মিলিত জনবল বৃদ্ধি করা সম্ভব। এই জনশক্তি তিন দেশের সামরিক জোটের একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি। পাকিস্তান বিশেষ করে দীর্ঘদিনের সামরিক অভিজ্ঞতা ও বড় পেশাদার সেনাবাহিনীর কারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
আকাশপথে তিন দেশ মিলে একটি বড় শক্তি তৈরি করছে। তাদের সম্মিলিত সামরিক উড়োজাহাজের সংখ্যা প্রায় ৩ হাজার ৪১৫টি। এর মধ্যে যুদ্ধবিমান, হেলিকপ্টার, পরিবহন বিমান ও প্রশিক্ষণ বিমান রয়েছে।
পাকিস্তানের হাতে রয়েছে প্রায় ১ হাজার ৩৯৭টি সামরিক বিমান, তুরস্কের রয়েছে ১ হাজার ১০১টি এবং সৌদি আরবের প্রায় ৯১৭টি। তুরস্কের সামরিক বিমানশক্তির সাথে যুক্ত হয়েছে দ্রুত বিকাশমান ড্রোন ও প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি। পাকিস্তানের রয়েছে যুদ্ধবিমান পরিচালনা ও আকাশ প্রতিরক্ষায় দীর্ঘ সামরিক অভিজ্ঞতা। সৌদি আরবের বিমানবাহিনী দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি উন্নত যুদ্ধবিমান ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম ব্যবহার করছে।
ফলস্বরূপ, তিন দেশের বিমান সক্ষমতা শুধুমাত্র সংখ্যার দিক থেকেই বৃহৎ নয়; প্রযুক্তিগত এবং যুদ্ধে সক্ষমতার দিক থেকেও বৈচিত্র্য রয়েছে।
স্থলবাহিনীর ক্ষেত্রেও তিন দেশের সম্মিলিত শক্তি উল্লেখযোগ্য। তাদের হাতে রয়েছে প্রায় ৬ হাজার ৪৬টি ট্যাংক এবং ১ লাখ ৭৯ হাজারের বেশি সাঁজোয়া যান। এর সাথে রয়েছে হাজার হাজার আর্টিলারি ব্যবস্থা এবং একাধিক রকেট লঞ্চার ব্যবস্থা।
ট্যাংকের সংখ্যায় পাকিস্তান এগিয়ে। দেশটির হাতে রয়েছে প্রায় ২ হাজার ৬৭৭টি ট্যাংক, তুরস্কের রয়েছে ২ হাজার ২৮৪টি এবং সৌদি আরবের ১ হাজার ৮৫টি। স্থলযুদ্ধে পাকিস্তানের বিশাল সেনাবাহিনী ও যুদ্ধ-অভিজ্ঞতা, তুরস্কের নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্প ও সৌদি আরবের বিপুল অর্থনৈতিক সক্ষমতা একে অপরের পরিপূরক হতে পারে।
নৌসক্ষমতার দিক থেকেও তিন দেশের সম্মিলিত শক্তি উল্লেখযোগ্য। তাদের কাছে রয়েছে প্রায় ৩৪৪টি নৌযান, এর মধ্যে ৩৩টি ফ্রিগেট, ২৪টি করভেট এবং ২২টি সাবমেরিন রয়েছে।
তুরস্কের নৌবাহিনী তিন দেশের মধ্যে সবচেয়ে বড় হওয়ায়, সমুদ্রভিত্তিক সামরিক অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। অন্যদিকে, পাকিস্তানের নৌবাহিনী আরব সাগরকেন্দ্রিক নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ এবং সৌদি আরবের অবস্থান পারস্য উপসাগর ও লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ জলপথের কাছে।
অর্থনৈতিক সক্ষমতার দিক থেকেও তিন দেশ শক্তি প্রকাশ করছে। ২০২৬ সালে, তাদের সম্মিলিত প্রতিরক্ষা বাজেট প্রায় ১২৪ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যয় করছে সৌদি আরব, প্রায় ৬৩ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার।
এই চুক্তি বিষয়টি এমন যে, এটি শুধু সামরিক সহযোগিতা নয়, বরং তুরস্ক ও পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা শিল্পের জন্যও বড় অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে। মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের সাবেক কর্মকর্তা ডেভিড দেস রোশেসের মতে, সৌদি আরবের জন্য অস্ত্র সরবরাহের উৎস বৈচিত্র্যময় করা খুব জরুরি।
এই চুক্তি শুধু সামরিক নয়, বরং প্রতিরক্ষা শিল্প এবং অস্ত্রবাণিজ্যের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তার সাথে যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও এই জোট গুরুত্বপূর্ণ, কারণ পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে সামরিক সহায়তা পায় এবং সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সরঞ্জামের বৃহত্তম ক্রেতাদের মধ্যে একটি।
চুক্তির ভাষা এবং রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় দীর্ঘমেয়াদি সমন্বয়ের প্রয়োজন হবে। সদ্য স্বাক্ষরিত চুক্তিটি অন্তত মধ্যপ্রাচ্য ও মুসলিম বিশ্বের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় একটি নতুন শক্তিশালী সামরিক কাঠামোর জন্ম দিতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ