ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

‘আমেরিকার চাকরি বিদেশি প্রতারকদের জন্য নয়’


‘আমেরিকার চাকরি বিদেশি প্রতারকদের জন্য নয়’

 

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা কর্মসূচি থেকে বিদেশি প্রতারকদের বাদ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, ‘আমেরিকান চাকরিগুলো অবশ্যই আমেরিকান কর্মীদের জন্যই হওয়া উচিত, বিদেশি প্রতারকদের জন্য নয়।’

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এদের নিয়োগের জন্য এইচ-১বি ও পার্ম ভিসা ক্যাটাগরির আওতায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে দক্ষ পেশাজীবীদের নিয়োগ দেয়। তবে, ভিসা কর্মসূচির অপব্যবহার, জালিয়াতি, অদক্ষ পেশাজীবীদের নিয়োগ, এমনকি বিদেশি পেশাজীবীদের বেতন কেটে রাখার অভিযোগে মার্কিন শ্রম বিভাগ তদন্তে নেমেছে।

আরও পড়ুন: সরকারকে বিতর্কিত করতেই আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ বক্তব্য কি না, প্রশ্ন রিজভীর

শ্রম বিভাগের ইন্সপেক্টর জেনারেল অ্যান্থনি ডি’এসপোসিটো জানান, বিদেশি কর্মী ভিসা কর্মসূচির অপব্যবহার এবং সন্দেহভাজন মানবপাচারের বিষয়ে একটি বড় আকারের অনুসন্ধান শুরু করেছে তার কার্যালয়।

তিনি বলেন, ‘আমরা সম্ভাব্যভাবে আমাদের প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিদেশি শ্রম জালিয়াতির বিরুদ্ধে সবচেয়ে আগ্রাসী পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছি।’

ডি’এসপোসিটো জানিয়েছেন, হুইসেলব্লোয়ারদের দেওয়া গোপন তথ্য তদন্তকারীদের ‘কগনিজ্যান্ট’-এর মতো কিছু বড় বড় কম্পানির দিকে নির্দেশ করেছে।

তিনি আরও বলেন, তার দল প্রতিটি সূত্রের শেষ পর্যন্ত পৌঁছাতে কাজ করবে। তদন্ত চলাকালে প্রেসিডেন্ট এবং ভাইস প্রেসিডেন্টের জালিয়াতি বিরোধী টাস্ক ফোর্সের সঙ্গে তারা সমন্বয় করে কাজ করবে।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রী জাপানে নিটসু লজিস্টিকস হাব পরিদর্শন করেছেন

এদিকে, শ্রম বিভাগের একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তারা এমন ব্যাবসায়িক কারসাজি খুঁজে পেয়েছে যেখানে নিয়োগকর্তা এবং শ্রম দালালরা ভুয়া আবেদন জমা দিয়েছিল এবং অবৈধভাবে মজুরি থেকে টাকা কেটে বিদেশি কর্মীদের শোষণ করছিল।

বিবৃতিতে এও উল্লেখ করা হয়েছে, এই অপব্যবহারগুলো শ্রম বিভাগের কর্মসূচির সততা ও উদ্দেশ্যকে নষ্ট করছে। আর এই কর্মসূচিগুলো তৈরি করা হয়েছে প্রকৃত শ্রম ঘাটতি পূরণ করার জন্য, আমেরিকানদের চাকরির বিনিময়ে অসাধুচক্রের পকেট ভারি করার জন্য নয়।

গত বুধবার মিলওয়াকিতে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানান, ‘শ্রম বিভাগ ইতিমধ্যেই সমন জারি করা শুরু করেছে এবং ভিসা ব্যবস্থার অপব্যবহারকারী বিদেশি প্রতারকদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের একটি এইচ-ওয়ানবি ভিসা প্রোগ্রাম রয়েছে। এই প্রোগ্রামটি একটি মেধাবী প্রযুক্তিবিদ, বিজ্ঞানী বা চিকিৎসকের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করার একটি বৈধ পথ। কিন্তু এখন বেশিরভাগ ক্ষেত্রে, বড় করপোরেশন এবং বিদেশি প্রতারকেরা এই প্রোগ্রামটি ব্যবহার করে আমেরিকান কর্মীদের মজুরি কমাচ্ছে।’

আরও পড়ুন: জাপানের কিংবদন্তি মাঙ্গা শিল্পী তেৎসুয়া চিবার মৃত্যু

ভ্যান্স জালিয়াতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে বলেন, ‘আমরা বলছি, আর নয়। আমরাও নিশ্চিত করছি যাতে প্রতারকরা এই ভিসা প্রোগ্রামগুলোর সুযোগ নিতে না পারে।’

তিনি বলেন, ‘আপনি যদি এই ভিসা প্রোগ্রামের অন্যায় সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করেন, তবে আপনাকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।’

জেডি ভ্যান্স আরো যোগ করেন, ‘এখানে একটি সহজ নীতি রয়েছে: আমেরিকান চাকরিগুলো আমেরিকান কর্মীদেরই পাওয়া উচিত, বিদেশি প্রতারকদের নয়। আর শ্রম বিভাগ তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর লড়াই করছে।

আরও পড়ুন: শ্রমমন্ত্রী: শ্রমিক প্রতিনিধি পেলে ১ সপ্তাহের মধ্যে নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন হবে

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চট্টগ্রামের বন্যাদুর্গতদের পাশে বিরোধীদলীয় নেতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১০ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১২:৪০ পি.এম


চট্টগ্রামের বন্যাদুর্গতদের পাশে বিরোধীদলীয় নেতা

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে চট্টগ্রাম এবং পার্শ্ববর্তী পাহাড়ি অঞ্চলে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল ৮টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমানযোগে চট্টগ্রামে পৌঁছে তিনি সরাসরি বন্যাকবলিত বাঁশখালী উপজেলার বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি পানিবন্দি ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত হন। পরিদর্শনকালে তিনি দেখেন, অনেক ঘরবাড়ি এখনও পানিতে তলিয়ে রয়েছে এবং অসংখ্য পরিবার চরম দুর্ভোগের মধ্যে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, "এই দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো মানবিক ও নৈতিক দায়িত্ব।" তিনি সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং দেশের সর্বস্তরের মানুষকে নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী বন্যাদুর্গত মানুষের সহায়তায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

পরিদর্শন শেষে জামায়াত আমির ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মাঝে শুকনো খাবার ও আর্থিক সহায়তা বিতরণ করেন এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন।

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের ফলে চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন এলাকায় আকস্মিক বন্যা এবং ভূমিধসের সৃষ্টি হয়েছে। এতে প্রাণহানির পাশাপাশি বহু পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণে জনজীবন মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে উঠেছে।

এ ছাড়াও বিরোধীদলীয় নেতা সাতকানিয়া এবং চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করবেন এবং বন্যা কবলিত মানুষের মাঝে শুকনো খাবারসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করবেন।

জামায়াতের আমিরের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও চট্টগ্রাম অঞ্চল পরিচালক মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, চট্টগ্রাম মহানগরী আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার আমির আনোয়ারুল আলম চৌধুরী এবং চট্টগ্রাম-১৬ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা জহিরুল ইসলাম এমপিসহ মহানগরী ও স্থানীয় বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হাইতিতে আন্তর্জাতিক গ্যাং দমন বাহিনীতে যোগ দিল শ্রীলঙ্কা: জাতিসংঘ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ১০ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১২:৪৩ পি.এম


হাইতিতে আন্তর্জাতিক গ্যাং দমন বাহিনীতে যোগ দিল শ্রীলঙ্কা: জাতিসংঘ

নতুন আন্তর্জাতিক ‘গ্যাং’ দমন বাহিনী (জিএসএফ)-এ শ্রীলঙ্কার একটি দল যোগ দিয়েছে যা হাইতিতে সশস্ত্র গ্যাং দমনে গঠিত হয়েছে বলে জানা যায়। জাতিসংঘ-সমর্থিত এই বাহিনীর এক মুখপাত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এই মুখপাত্র বৃহস্পতিবার এএফপিকে বলেছেন, ‘একটি শ্রীলঙ্কান দল গত রাতে পোর্ট-অ-প্রিন্সে পৌঁছেছে। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে আমরা সদস্যসংখ্যা প্রকাশ করছি না।’

খবরটি বার্তা সংস্থা এএফপি’র থেকে এসেছে। মুখপাত্র জানিয়েছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে আরও সদস্য এই বাহিনীতে যোগ দেবেন। ধাপে ধাপে এই বাহিনীর সদস্যসংখ্যা বাড়িয়ে পরিকল্পনা রয়েছে প্রায় ৫ হাজার ৫০০ জন ইউনিফর্মধারী সদস্য (পুলিশ ও সেনাসদস্য) এবং ৫০ জন বেসামরিক কর্মী নিয়ে গঠনের।

এই বাহিনীর মূল লক্ষ্য হচ্ছে হাইতির জাতীয় পুলিশকে সহায়তা করা এবং দেশের রাজধানী পোর্ট-অ-প্রিন্সসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা সশস্ত্র গ্যাংগুলোকে দমন করা।

এছাড়া, বাহিনীটি কাজ করবে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, দেশে জননিরাপত্তা ফিরিয়ে আনা এবং নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ তৈরি করার জন্যও।

আমেরিকা মহাদেশের সবচেয়ে দরিদ্র দেশগুলোর মধ্যে একটি হাইতি দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সহিংসতায় ভুগছে। দেশটির শক্তিশালী সশস্ত্র গ্যাংগুলো হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট ও অপহরণের মতো অপরাধ চালিয়ে যাচ্ছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান ভলকার টুর্ক গত মাসে জানিয়েছিলেন, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে গ্যাং সহিংসতায় অন্তত ‘২ হাজার ৩০০ জন নিহত এবং ১ হাজার ১০০ জন আহত হয়েছেন। তিনি নতুন এই বাহিনীকে ‘অত্যন্ত জরুরি’ বলে উল্লেখ করেন।

নিরাপত্তাহীনতার কারণে হাইতিতে ২০১৬ সালের পর আর কোনো জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। জাতিসংঘের ২০২৬ সালের হাইতি মানবিক সহায়তা পরিকল্পনার জন্য ৮৮ কোটি ডলার প্রয়োজন হলেও এখন পর্যন্ত এর এক-চতুর্থাংশেরও কম অর্থ পাওয়া গেছে। গত জুনে হাইতি সফরের সময় জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস দেশটির পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, ‘বিশ্ব যেভাবে হাইতির দিকে তাকানো বন্ধ করে দিয়েছে, সেটি অত্যন্ত দুঃখজনক।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাকিস্তানে জোরপূর্বক ধর্মান্তর ও বাল্যবিয়ে বন্ধের আহ্বান ইউরোপীয় পার্লামেন্ট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ১০ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১২:৪৯ পি.এম


পাকিস্তানে জোরপূর্বক ধর্মান্তর ও বাল্যবিয়ে বন্ধের আহ্বান ইউরোপীয় পার্লামেন্ট

পাকিস্তানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অল্পবয়সী মেয়েদের অপহরণ, জোরপূর্বক ধর্মান্তর ও বাল্যবিয়ের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা জানালো ইউরোপীয় পার্লামেন্ট। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) এ প্রসঙ্গে এক প্রস্তাব পেশ করে ইইউ পার্লামেন্ট, তারা পাকিস্তান সরকারের কাছে ধর্মীয় সংখ্যালঘু মেয়েদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন।

ইউরোপীয় পার্লামেন্ট তাদের এক আনুষ্ঠানিক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ১৩ বছর বয়সী পাকিস্তানি খ্রিস্টান কিশোরী মারিয়া শাহবাজের ভয়াবহ ঘটনার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছে। গত বছরের জুলাই মাসে মারিয়াকে অপহরণ করা হয় এবং চলতি বছরের মার্চ মাসে তাকে জোরপূর্বক ইসলামে ধর্মান্তরিত করে তার অপহরণকারীকে বিয়ে দেওয়া হয়।

ইইউ পার্লামেন্টের সদস্যরা মারিয়া শাহবাজের জন্য আইনগত প্রতিনিধিত্ব, পরিবার ও মানসিক সহায়তা নিশ্চিতের দাবি করেছেন। প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, মারিয়া শাহবাজের ঘটনা কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি পাকিস্তানে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে চলমান ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রতীক।

জাতিসংঘের একটি পরিসংখ্যানে উল্লেখ করা হয়, বিয়ের মাধ্যমে জোরপূর্বক ধর্মান্তরের শিকার নারীদের মধ্যে ৭৫ শতাংশ হিন্দু এবং ২৫ শতাংশ খ্রিস্টান; এ নিয়ে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট পাকিস্তানকে তাদের জাতীয় আইনগত কাঠামো সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে, যা ইতোমধ্যে পাকিস্তানের কিছু প্রদেশে কার্যকর রয়েছে। এ ছাড়া অপহৃত বা জোরপূর্বক ধর্মান্তরিত মেয়েদের পরিবারের অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য একটি শক্তিশালী ‘জাতীয় ব্যবস্থা’ তৈরি করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

পার্লামেন্ট সদস্যদের মন্তব্য রয়েছে যে, অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগের যেকোনও অভিযোগের ওপর স্বচ্ছ ও স্বাধীন তদন্ত পরিচালনা করা আবশ্যক। পাশাপাশি কর্তৃপক্ষকে অপরাধীদের বিচারের আওতায় এনে পাকিস্তানের বিচারিক কাঠামোকে শক্তিশালী করার দাবি জানানো হয়েছে, এবং অপহৃত মেয়েদের নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য পদক্ষেপ নিতে হবে।

চলতি বছরের এপ্রিল মাসে ‘হিউম্যান রাইটস ফোকাস পাকিস্তান’ (এইচআরএফপি) মারিয়া শাহবাজের ঘটনার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানায়। সংগঠনটি এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে যে, পাকিস্তানে সংখ্যালঘু, বিশেষ করে খ্রিস্টান ও হিন্দু মেয়েদের অপহরণ ও জোরপূর্বক বিয়ে একটি নিয়মিত ও সুপ্রতিষ্ঠিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। নথিপত্র অনুযায়ী, যখন মারিয়াকে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করা হয়, তখন সে স্বেচ্ছায় ধর্মান্তর ও বিয়ের দাবি করলেও, তার নাবালিকা অবস্থা নিশ্চিত হওয়া সত্ত্বেও আদালত বিয়েটি বজায় রাখে এবং অভিযুক্তকে তার অভিভাবকত্ব প্রদান করে। বর্তমানে মারিয়ার পরিবার এই রায়ের বিরুদ্ধে আইনি আপিল প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শক্তিশালী টাইফুন বাভির আঘাত মোকাবিলায় প্রস্তুত চীন-তাইওয়ান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ১০ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১২:৫১ পি.এম


শক্তিশালী টাইফুন বাভির আঘাত মোকাবিলায় প্রস্তুত চীন-তাইওয়ান

শক্তিশালী টাইফুন বাভির আঘাতের আশঙ্কায় চীন ও তাইওয়ানে ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবেলায় উপকূলীয় এলাকার জেলেরা নিজেদের নৌকা নিয়ে বন্দরে আশ্রয় নিয়েছেন।

এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে বন্যার পানি ঠেকানোর জন্য বালুর বস্তা সংগ্রহের কাজ করছেন। অন্যদিকে, কৃষকেরা দ্রুত তাদের মাঠ থেকে ফসল ঘরে তুলছেন।

আবহাওয়াবিদদের আশঙ্কা রয়েছে, বাভি গত কয়েক বছরের মধ্যে এই অঞ্চলটিতে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড় হতে পারে। বাভি এতদূরের অবস্থানে থাকাকালীন দক্ষিণ চীনে টাইফুন মায়সাকের ধ্বংসযজ্ঞের পর উদ্ধার অভিযান চলছে।

চলতি সপ্তাহের শুরুতে মায়সাকের আঘাতে অন্তত ৩৯ জন লোক নিহত হয়েছেন। এছাড়াও আরও কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন। তাইওয়ানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মাছ ধরার শহর সুয়াওতে শত শত মাছ ধরার নৌকা নিরাপদ আশ্রয় খোঁজার জন্য বন্দরে ভিড় করেছে।

এক মেট্রিক টন ধারণক্ষমতার একটি মাছ ধরার নৌকার অধিনায়ক চেন মিং-হুই বলেছেন, "বাইরে এখন আবহাওয়া শান্ত মনে হলেও পরিস্থিতি খুব দ্রুত বদলে যেতে পারে।" তিনি আরও বলেন, "এখন আকাশ পরিষ্কার দেখে কেউ যেন ভুল না করেন। এ ধরনের টাইফুন খুবই ভয়ংকর হতে পারে। আগের ঝড়ে বহু নৌকা ডুবে যায় এবং পুরো শহর পানিতে তলিয়ে যায়।"

তাইওয়ানের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বাভির প্রভাবে রাজধানী তাইপের উত্তরের পাহাড়ি এলাকায় এক মিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে। সম্ভাব্য উদ্ধার ও ত্রাণকাজের জন্য দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় প্রায় ২৯ হাজার সেনাকে প্রস্তুত রেখেছে। কর্তৃপক্ষের ভাষ্যমতে, ২০২৪ সালের কং-রে টাইফুনের পর এটি তাইওয়ানে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী টাইফুন হতে পারে। কং-রে টাইফুনে তিনজনের মৃত্যু হয়েছিল।

চীনের জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্র জানিয়েছে, বাভির বাতাসের সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় প্রায় ২০০ কিলোমিটার। ঝড়টির বিস্তৃতি সবচেয়ে চওড়া অংশে প্রায় এক হাজার কিলোমিটার, যা প্রায় ফ্রান্সের সমান। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, বাভি উত্তর তাইওয়ানের পাশ দিয়ে অতিক্রম করে শনিবার সন্ধ্যায় চীনের পূর্বাঞ্চলের ফুজিয়ান প্রদেশে আঘাত হানতে পারে।

তাইওয়ানের কেন্দ্রীয় আবহাওয়া প্রশাসনের পূর্বাভাসকারী জেসন চ্যাং বলেছেন, সাম্প্রতিক কয়েক বছরে এত বড় আকারের টাইফুন দেখা যায়নি। তার মতে, আকারের দিক থেকে ১৯৮৭ সালের পর এটি তাইওয়ানে আঘাত হানা সবচেয়ে বড় ঝড় হতে যাচ্ছে। টাইফুনের কারণে তাইওয়ানের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর তাওইয়ান শনিবার দেশটির সব আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে।

বাভির প্রভাব শুধু চীন ও তাইওয়ানেই নয় বরং জাপানেও পড়তে পারে। জাপানের আবহাওয়া সংস্থা ওকিনাওয়ার বাসিন্দাদের শুক্রবার ও শনিবার সর্বাধিক সতর্ক থাকতে নির্দেশনা দিয়েছে। প্রবল বাতাস, ভারি বৃষ্টি, ভূমিধস, বন্যা এবং জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা করা হচ্ছে। জাপান এয়ারলাইনস শুক্রবারের জন্য ৫০টি ফ্লাইট বাতিল করেছে। এতে প্রায় ৭ হাজার ৬০০ যাত্রীর ভ্রমণ পরিকল্পনা ব্যাহত হয়। অল নিপ্পন এয়ারওয়েজও ৩৪টি ফ্লাইট বাতিল করেছে, যাতে প্রায় ১ হাজার ৮০০ যাত্রী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। শনিবারও আরো কিছু ফ্লাইট বাতিল করা হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে চীন, তাইওয়ান ও জাপানে শক্তিশালী ঝড়ের ঝুঁকি বাড়ছে। এ বছর সম্ভাব্য এল নিনোর প্রভাবে সমুদ্রের তাপমাত্রা আরও বেড়ে যেতে পারে। এর ফলস্বরূপ আরো শক্তিশালী এবং ঘন ঘন টাইফুন তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বাণিজ্যিক আবহাওয়া পূর্বাভাস প্রতিষ্ঠান আকুওয়েডারের বিশেষজ্ঞ জেসন নিকোলস বলেছেন, বৃহস্পতিবার থেকে বাভির বাতাসের গতি কিছুটা কমতে পারে। তবে শুক্রবার থেকে সোমবার পর্যন্ত এটি তাইওয়ান ও পূর্ব চীনে বিপজ্জনক অবস্থায় থাকবে। ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঘূর্ণিঝড় গবেষক শিয়াংবো ফেং বলেন, বাভি দীর্ঘ সময় ধরে প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণ পানির ওপর অবস্থান করেছে। সেখান থেকে এটি প্রচুর শক্তি ও আর্দ্রতা সংগ্রহ করেছে। তাই স্থলভাগে আঘাত করলে এর ক্ষয়ক্ষতি অনেক বড় হতে পারে। তিনি আরও দাবি করেছেন, ঝড়টির গতিপথে সামান্য পরিবর্তন হলেও ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেড়ে যেতে পারে।

বাভির জন্য প্রস্তুতি চললেও দক্ষিণ চীনের অনেক এলাকা এখনো টাইফুন মায়সাকের ধ্বংসযজ্ঞ সামাল দিতে ব্যস্ত রয়েছে। মায়সাকের অবশিষ্ট অংশগুলো থেকে চীনের মধ্যাঞ্চলের হুবেই প্রদেশে অন্তত দুটি স্থলভাগের ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হয়েছে। ফলে সেখানে বড় ধরনের বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত গুয়াংসি অঞ্চলের বিভিন্ন শহরে মানুষ নতুন ঝড় আঘাত হানার আগে নিজেদের ঘরবাড়ি ও জীবন স্বাভাবিক করার কাজ করছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, অনেক মানুষ নিজেদের ফ্ল্যাট থেকে বের হতে দ্বিতীয় তলার জানালা দিয়ে উদ্ধারকর্মীদের সহায়তায় নিচে নামছেন। আবার অনেকে কোমরসমান পানিতে নেমে ঘর থেকে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র উদ্ধার করছেন। দুর্গম এলাকায় জরুরি খাদ্য ও ওষুধ পৌঁছে দিতে উদ্ধারকর্মীরা ড্রোন ব্যবহার করছেন।

বেইজিং নিউজের প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, বিনইয়াং কাউন্টির একটি খামারে সারি সারি মৃত শূকর পড়ে রয়েছে। টানা দুই দিন পানির নিচে ডুবে থাকার কারণে প্রাণীগুলোর দেহ ফুলে গিয়ে পচতে শুরু করেছে। চীনের গ্লোবাল টাইমস জানিয়েছে, গুয়াংসি অঞ্চলের গুইগাং চিড়িয়াখানায় বন্যার পানিতে তিনটি সিংহ মারা গেছে। এছাড়া জেব্রা, সজারু, টিয়া এবং র‍্যাকুনসহ প্রায় ১০০টি প্রাণী এখনো নিখোঁজ রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২৩
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৩
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%