প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা কর্মসূচি থেকে বিদেশি প্রতারকদের বাদ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, ‘আমেরিকান চাকরিগুলো অবশ্যই আমেরিকান কর্মীদের জন্যই হওয়া উচিত, বিদেশি প্রতারকদের জন্য নয়।’
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এদের নিয়োগের জন্য এইচ-১বি ও পার্ম ভিসা ক্যাটাগরির আওতায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে দক্ষ পেশাজীবীদের নিয়োগ দেয়। তবে, ভিসা কর্মসূচির অপব্যবহার, জালিয়াতি, অদক্ষ পেশাজীবীদের নিয়োগ, এমনকি বিদেশি পেশাজীবীদের বেতন কেটে রাখার অভিযোগে মার্কিন শ্রম বিভাগ তদন্তে নেমেছে।
শ্রম বিভাগের ইন্সপেক্টর জেনারেল অ্যান্থনি ডি’এসপোসিটো জানান, বিদেশি কর্মী ভিসা কর্মসূচির অপব্যবহার এবং সন্দেহভাজন মানবপাচারের বিষয়ে একটি বড় আকারের অনুসন্ধান শুরু করেছে তার কার্যালয়।
তিনি বলেন, ‘আমরা সম্ভাব্যভাবে আমাদের প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিদেশি শ্রম জালিয়াতির বিরুদ্ধে সবচেয়ে আগ্রাসী পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছি।’
ডি’এসপোসিটো জানিয়েছেন, হুইসেলব্লোয়ারদের দেওয়া গোপন তথ্য তদন্তকারীদের ‘কগনিজ্যান্ট’-এর মতো কিছু বড় বড় কম্পানির দিকে নির্দেশ করেছে।
তিনি আরও বলেন, তার দল প্রতিটি সূত্রের শেষ পর্যন্ত পৌঁছাতে কাজ করবে। তদন্ত চলাকালে প্রেসিডেন্ট এবং ভাইস প্রেসিডেন্টের জালিয়াতি বিরোধী টাস্ক ফোর্সের সঙ্গে তারা সমন্বয় করে কাজ করবে।
এদিকে, শ্রম বিভাগের একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তারা এমন ব্যাবসায়িক কারসাজি খুঁজে পেয়েছে যেখানে নিয়োগকর্তা এবং শ্রম দালালরা ভুয়া আবেদন জমা দিয়েছিল এবং অবৈধভাবে মজুরি থেকে টাকা কেটে বিদেশি কর্মীদের শোষণ করছিল।
বিবৃতিতে এও উল্লেখ করা হয়েছে, এই অপব্যবহারগুলো শ্রম বিভাগের কর্মসূচির সততা ও উদ্দেশ্যকে নষ্ট করছে। আর এই কর্মসূচিগুলো তৈরি করা হয়েছে প্রকৃত শ্রম ঘাটতি পূরণ করার জন্য, আমেরিকানদের চাকরির বিনিময়ে অসাধুচক্রের পকেট ভারি করার জন্য নয়।
গত বুধবার মিলওয়াকিতে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানান, ‘শ্রম বিভাগ ইতিমধ্যেই সমন জারি করা শুরু করেছে এবং ভিসা ব্যবস্থার অপব্যবহারকারী বিদেশি প্রতারকদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের একটি এইচ-ওয়ানবি ভিসা প্রোগ্রাম রয়েছে। এই প্রোগ্রামটি একটি মেধাবী প্রযুক্তিবিদ, বিজ্ঞানী বা চিকিৎসকের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করার একটি বৈধ পথ। কিন্তু এখন বেশিরভাগ ক্ষেত্রে, বড় করপোরেশন এবং বিদেশি প্রতারকেরা এই প্রোগ্রামটি ব্যবহার করে আমেরিকান কর্মীদের মজুরি কমাচ্ছে।’
ভ্যান্স জালিয়াতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে বলেন, ‘আমরা বলছি, আর নয়। আমরাও নিশ্চিত করছি যাতে প্রতারকরা এই ভিসা প্রোগ্রামগুলোর সুযোগ নিতে না পারে।’
তিনি বলেন, ‘আপনি যদি এই ভিসা প্রোগ্রামের অন্যায় সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করেন, তবে আপনাকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।’
জেডি ভ্যান্স আরো যোগ করেন, ‘এখানে একটি সহজ নীতি রয়েছে: আমেরিকান চাকরিগুলো আমেরিকান কর্মীদেরই পাওয়া উচিত, বিদেশি প্রতারকদের নয়। আর শ্রম বিভাগ তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর লড়াই করছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন