আমিনুল ইসলাম রিয়াদ সন্দ্বীপ চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
০৮:১৭ পি.এম
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সন্দ্বীপ উপজেলা শাখার উদ্যোগে ২৮ অক্টোবরের শহীদদের স্মরণে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ ২৮ অক্টোবর বিকেল ৪টায় উপজেলা কার্যালয়ে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সন্দ্বীপ উপজেলা আমীর মাওলানা সিরাজুল ইসলাম ফিরোজ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উপজেলা সেক্রেটারি মাওলানা আবু তাহের।
সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা আমীর মাওলানা সিরাজুল ইসলাম ফিরোজ বলেন, ২৮ অক্টোবর বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি বেদনাবিধুর ও স্মরণীয় দিন। এ দিনে সংঘটিত নৃশংসতা ও সহিংসতার ঘটনা জাতির বিবেককে নাড়া দেয়। যারা ন্যায় ও আদর্শ প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়ে জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাঁদের আত্মত্যাগ জাতি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।
তিনি আরও বলেন, শহীদদের আত্মত্যাগ থেকে শিক্ষা নিয়ে ন্যায়বিচার, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, মানবিক মর্যাদা ও শান্তিপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। রাজনৈতিক মতপার্থক্য যেন কোনোভাবেই সহিংসতা ও প্রতিহিংসার কারণ না হয়। একটি ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক বাংলাদেশ গঠনে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহনশীলতা ও দায়িত্বশীল রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলা জরুরি।
তিনি শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাঁদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে দেশ ও জাতির কল্যাণ, শান্তি, সমৃদ্ধি এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সবাইকে আন্তরিকভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সন্দ্বীপ উপজেলা নায়েবে আমীর মাওলানা এ এম এম রফিকুল মাওলা, উপজেলা সাবেক আমীর মাওলানা সিরাজুল মাওলা, উপজেলা সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা এ এস এম হালিম উল্যাহ, উপজেলা তথ্য ও প্রচার সম্পাদক মোহাম্মদ শাহেদ খাঁন,বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যান ফেডারেশন সন্দ্বীপ উপজেলা মাওলানা শাহাদাৎ হোসাইন কালাপানিয়া ইউনিয়ন সভাপতি সোলাইমান চৌধুরী, পৌরসভা সভাপতি আব্দুল ওয়াদুদ কাউকাব, গাছুয়া ইউনিয়ন সভাপতি মুহাম্মদ মাকছুদুর রহমান এবং মাইটভাঙ্গা ইউনিয়ন আমীর মাওলানা মোশাররফ হোসাইনসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
আলোচনা সভা শেষে ২৮ অক্টোবরের শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন বাংলাদেশ মুফাস্সিরিন পরিষদ সন্দ্বীপ উপজেলা শাখার সহসভাপতি মাওলানা খবিরুল ইসলাম।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে পাওনা টাকা চাওয়ার প্রেক্ষিতে এক ব্যবসায়ীকে মারধর, হত্যার হুমকি দেওয়া এবং তাঁর পকেট থেকে আড়াই লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জেলা যুবদলের এক নেতার বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মো. রুবেল হোসেন (৪১) থানায় মামলা করেছেন, যেখানে জেলা যুবদলের সদস্য আল আমিন বিশ্বাসকে প্রধান আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং ২০ থেকে ২৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।
অভিযুক্ত যুবদল নেতা আল আমিন বিশ্বাস মারধরের ঘটনা স্বীকার করলেও, টাকা ছিনতাই ও বিবস্ত্র করার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, প্রায় ছয় মাস আগে আল আমিন বিশ্বাস রুবেল হোসেনের শোরুম থেকে ৬ হাজার টাকা নগদ দিয়ে বাকিতে একটি এলইডি টেলিভিশন কিনেছিলেন। এ জন্য তাঁর কাছে আরও ২ হাজার ৫০০ টাকা পাওনা ছিল। বাকি টাকা চাইলে আল আমিন নানা অজুহাত দিতে শুরু করেন।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১৬ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টায় গোমস্তাপুর ইউনিয়নের বাজারপাড়া বাজারের সিনেমা হলসংলগ্ন মশিউর রহমানের ডেকোরেটরের দোকানে পাওনা টাকা পরিশোধের কথা বলে রুবেলকে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর আগে থেকেই অবস্থান করা ব্যক্তিরা তাঁকে গালিগালাজ করতে শুরু করেন।
একপর্যায়ে আল আমিন বিশ্বাস, তাঁর ভাই মো. মোমিন হোসেন এবং মো. নুরুল ইসলামসহ ২০ থেকে ২৫ জন লাঠি ও লোহার রড দিয়ে রুবেলকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
রুবেল দাবি করেছেন, হামলাকারীদের আঘাতে তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়। একপর্যায়ে মাটিতে পড়ে গেলে হত্যার উদ্দেশ্যে তাঁর গলা চেপে ধরা হয় এবং এ সময় পকেটে থাকা নগদ আড়াই লাখ টাকা নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় আহত রুবেলকে গোমস্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে তিনি চিকিৎসা নেন।
ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজে রুবেলকে কয়েকজন মিলে মারধর করতে দেখা যায়। ফুটেজে আল আমিন বিশ্বাসের উপস্থিতিও দেখা গেছে। এক পর্যায়ে মাটিতে পড়ে থাকা রুবেলের টি-শার্ট খুলে নেওয়ার দৃশ্যও ফুটেজে ধরা পড়েছে। ভুক্তভোগী অভিযোগ করেছেন যে আল আমিন উপস্থিত ব্যক্তিদের মারধরের নির্দেশ দিতে দেখা গেছে।
আরেকটি দৃশ্যে রুবেলের বাড়িতে বোমা ফাটানোর হুমকি দিতে শোনা যায় বলে দাবি করেছেন তিনি।
রুবেল হোসেন বলেন, ‘হামলার পর আমি ও আমার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। তাঁর ভাই আমার বাড়িতে বোমা ফাটিয়ে দেওয়ার প্রকাশ্য হুমকি দিয়েছেন। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘৫ আগস্টের পর আরও তিনজনকে তাঁর লোকজন দিয়ে একইভাবে মারধর করা হয়েছে। তাঁরা ভয়ে মুখ খুলছেন না, এমনকি আইনের আশ্রয়ও নিতে পারছেন না। আমার মতো আর কেউ যেন এমন হামলার শিকার না হন, সে জন্য দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি করছি।’
অভিযোগের বিষয়ে জেলা যুবদলের সদস্য আল আমিন বিশ্বাস বলেন, ‘টেলিভিশন কেনার সুবাদে রুবেল আমার কাছে আড়াই হাজার টাকা পেতেন। ওই টাকা নিয়ে ১৬ অক্টোবর বিকেল চারটার দিকে হেলিপ্যাড এলাকায় (হাটখোলা বাজার) কথা-কাটাকাটি হয়। পরে সন্ধ্যায় গোমস্তাপুর সিনেমা হলের সামনে তাঁর আপন চাচাতো ভাইয়ের দোকানে টাকা দেওয়ার বিষয়ে মীমাংসার জন্য বসি। কিন্তু সেখানেও রুবেল উচ্চবাচ্য করেন। তখন আমার লোকজন তাঁকে মারধর করেছে। তবে টাকা ছিনতাই ও বিবস্ত্র করার ঘটনা সত্য নয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘তাঁর আপন চাচাতো ভাইয়ের কাছে আমি আগে থেকেই সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা পেতাম। সেই টাকা তাঁর ভাইয়ের কাছ থেকে নিতে বলেছিলাম। কিন্তু তাঁর ভাই তাঁকে টাকা দেননি, সেটা আমার জানা ছিল না। রুবেল টাকা পাবেন, এটা ঠিক। কিন্তু তিনি আমাকে যখন-তখন অসম্মানজনক কথা বলেছেন। সে কারণেই আমার লোকজন তাঁকে মারধর করেছে।’
এদিকে গোমস্তাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাজমুল হক জানান, মারধরের ঘটনায় ২৬ অক্টোবর থানায় মামলা রেকর্ড হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
এমএইচ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রায় ২০০ যাত্রী বিলাসবহুল প্রমোদতরিতে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেছিলেন, বিশ্বভ্রমণের স্বপ্ন নিয়ে। সমুদ্রের জীবনযাপনের আশায় কেউ ৪ লাখ ৪০ হাজার ডলার পর্যন্ত ব্যয় করেছেন, আবার কেউ বিক্রি করেছেন নিজেদের সব সম্পদ। কিন্তু ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় তাদের স্বপ্নে হঠাৎ ছেদ পড়েছে। বর্তমানে কম্বোডিয়ায় আটকা পড়েছেন এসব যাত্রী।
ভিলা ভি রেসিডেন্সেস, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রমোদতরি পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান, হঠাৎ তাদের কার্যক্রম স্থগিত করেছে। যাত্রীদেরকে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে জাহাজ ছেড়ে যেতে বলা হয়েছে। ফলে অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি ও দূর থেকে কাজ করা কর্মীদের নতুন করে থাকার জায়গা খুঁজতে হচ্ছে, নিজেদের দেশ থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে।
গত মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ভিলা ভি রেসিডেন্সেস কর্তৃপক্ষ জানায়, ইরান যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় তাদের কার্যক্রম কম্বোডিয়ায় স্থগিত করা হয়েছে।
কোম্পানির তথ্যমতে, এশিয়ার কিছু অঞ্চলে প্রতি কেবিনের মাসিক জ্বালানি ব্যয় ১ হাজার ৮০০ ডলার থেকে বেড়ে ৬ হাজার থেকে ৮ হাজার ডলারে পৌঁছেছে। এই পরিস্থিতিতে তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম আর্থিকভাবে টেকসই রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।
কম্বোডিয়ার প্রিয়াহ সিহানুক প্রদেশের উপগভর্নর লং দিমাঞ্চে জানিয়েছেন, যাত্রীদের জাহাজ থেকে নামার জন্য মাত্র সাত ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়েছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বাহামার পতাকাবাহী জাহাজটি ২৩ অক্টোবর থাইল্যান্ড থেকে ২০৩ জন যাত্রী ও ১৫৬ জন ক্রু নিয়ে কম্বোডিয়ায় পৌঁছায়। সেখান থেকে ভিয়েতনামের উদ্দেশে যাত্রা করার কথা ছিল জাহাজটির।
লং দিমাঞ্চে বলেন, ‘হঠাৎ জাহাজ থেকে নেমে যাওয়ার নির্দেশের কারণে অনেক অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি ও দূর থেকে কাজ করা মানুষ নিজ দেশ থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে আবাসনহীন হয়ে পড়েছেন।’
কিছু যাত্রী কম্বোডিয়া ছেড়ে বিমানে অন্যত্র চলে গেছেন। অন্যরা পরবর্তী করণীয় ঠিক করতে সিহানুকভিলের বিভিন্ন হোটেলে অবস্থান করছেন।
২০০ মিটার দীর্ঘ জাহাজটির ৩১ অক্টোবর জ্বালানি নিয়ে বন্দর ছাড়ার কথা ছিল। তবে যাত্রীদের নিয়ে এর পরবর্তী কার্যক্রম কী হবে, তা এখনো অনিশ্চিত।
‘আমাদের স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে’
জাহাজটির দুই যাত্রী ল্যানেট ক্যানেন ও জোহান বোদিন স্বামী-স্ত্রী। তারা বিবিসিকে জানান, মঙ্গলবার সকাল ৬টায় তাদের বলা হয়, দুপুর ২টার মধ্যে জাহাজ ছেড়ে যেতে হবে।
এই দম্পতি আরও জানান, প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক সংকট সম্পর্কে যাত্রীরা আগে থেকেই কিছুটা জানতেন। তবে কোনো বিনিয়োগকারী এসে শেষ পর্যন্ত তাদের সমুদ্রযাত্রা বাঁচাবেন, সেই আশা তারা ছাড়েননি।
তারা বলেন, ‘যদিও এমন কিছু ঘটতে পারে, তার ইঙ্গিত ছিল, তবু বাস্তবে যখন তা ঘটল, আমরা বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। আমরা ভেঙে পড়েছিলাম। মনে হচ্ছিল, আমাদের স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে।’
তারা আরও বলেন, ‘একে অপরকে সান্ত্বনা দিতে যাত্রীরা অনেককে জড়িয়ে ধরেছেন, কেঁদেছেন এবং কী ঘটেছে, তা মেনে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।’ তবে আকস্মিকভাবে যাত্রা থেমে গেলেও জাহাজে কাটানো সময়কে সার্থক বলে মনে করেন তারা।
বিবিসিকে এই দম্পতি বলেন, ‘ওডিসিতে কাটানো আমাদের দুই বছর দারুণ ছিল। রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা, বিভিন্ন জায়গায় ভ্রমণ এবং পথে তৈরি হওয়া বন্ধুত্বগুলো আমরা উপভোগ করেছি।’ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্য কোনো দেশে যাওয়ার আগে তারা কিছুদিন কম্বোডিয়ায় থাকার পরিকল্পনা করেছেন।
আরেক যাত্রী হলি হেনেসি জানিয়েছেন, জাহাজটি আবারও যাত্রা শুরু করবে, এমন আশায় তিনি কম্বোডিতে থেকে যেতে চান। বিবিসিকে তিনি বলেন, ‘তারা যতক্ষণ না বলছে যে সব শেষ, একেবারেই শেষ, ততক্ষণ আমি হাল ছাড়ছি না।’
কেবিনের দাম ছিল সর্বোচ্চ ৪ লাখ ৪০ হাজার ডলার।
ভিলা ভি ওডিসি ২০২৪ সালের অক্টোবরে উত্তর আয়ারল্যান্ডের বেলফাস্ট থেকে বিশ্বভ্রমণে যাত্রা শুরু করে। সাড়ে তিন বছর ধরে চলার পরিকল্পনা করা এই ভ্রমণে প্রায় ১৫০টি দেশ ঘোরার কথা ছিল। যাত্রীরা জাহাজের কেবিন কিনে অথবা ভাড়া নিয়ে সেটিকে নিজেদের স্থায়ী আবাস হিসেবে ব্যবহার করতে পারতেন।
বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, জাহাজে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য কেবিনের দাম ছিল ১ লাখ ২০ হাজার থেকে ৪ লাখ ৪০ হাজার ডলার। আর ভাড়ার কেবিনের মাসিক খরচ শুরু হয়েছিল ৩ হাজার ৫০০ ডলার থেকে। জাহাজটিতে ছিল রেস্তোরাঁ, বার, সুইমিং পুল, বিনোদনের বিভিন্ন ব্যবস্থা এবং পিকলবল খেলার কোর্ট।
তবে যাত্রা শুরুর পর থেকেই নানা সমস্যায় পড়তে হয় প্রতিষ্ঠানটিকে। মেরামতের কাজের কারণে বেলফাস্ট থেকে যাত্রা শুরু করতে চার মাস দেরি হয়েছিল। এ ছাড়া জাহাজটির সর্বোচ্চ ৬৫০ জন যাত্রী ধারণক্ষমতা থাকলেও কখনোই সেই সংখ্যক যাত্রী ওঠেননি।
ক্রুজবিষয়ক ব্লগার ও যাত্রী র্যান্ডি ক্যাসিংহাম জানিয়েছেন, জাহাজটিতে সর্বোচ্চ প্রায় ৩৫০ জন বাসিন্দা ছিলেন। যাত্রীদের জাহাজ থেকে নেমে যেতে বলার পর তাদের যথাযথ সহায়তা দিতে প্রতিষ্ঠানটি ব্যর্থ হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বেড়েছে জ্বালানি ব্যয়।
ভিলা ভি রেসিডেন্সেস জানিয়েছে, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি তাদের ভ্রমণ কার্যক্রম আর্থিকভাবে টিকিয়ে রাখার প্রচেষ্টাকে বড় ধরনের চাপে ফেলেছে। জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য প্রতিষ্ঠানটি আগেই ভ্রমণসূচির গতি কমিয়েছিল এবং বিভিন্ন বন্দরে অবস্থানের সময় বাড়িয়েছিল। কিন্তু তাতেও প্রয়োজনীয় ব্যয় সাশ্রয় করা সম্ভব হয়নি।
প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, ‘এত বড় অঙ্কের ব্যয়বৃদ্ধি সরাসরি বাসিন্দাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়। ফলে আয় ও ব্যয়ের মধ্যে তৈরি হওয়া ঘাটতি বর্তমান পরিচালনব্যবস্থাকে অসহনীয় আর্থিক চাপে ফেলেছে।’
আগামী ৬০ দিন আর্থিক কাঠামো পুনর্গঠন এবং নতুন বিনিয়োগ সংগ্রহের কাজে ব্যয় করার পরিকল্পনা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে এ প্রচেষ্টা সফল হবে, এমন নিশ্চয়তা দিতে পারেনি তারা। যাত্রীদের জাহাজ থেকে নামার প্রক্রিয়া সমন্বয় এবং অস্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা খুঁজে পেতেও সহায়তা করার কথা জানিয়েছে কোম্পানিটি।
সমুদ্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের স্বপ্নে নিজেদের সঞ্চয় বিনিয়োগ করা যাত্রীদের জন্য এ সিদ্ধান্ত আবাসন, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ ভ্রমণ পরিকল্পনা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। তারপরও কেউ কেউ আশা করছেন, একদিন আবারও যাত্রা শুরু করবে ওডিসি।
হলি হেনেসির ভাষায়, সমুদ্রে স্বাধীনভাবে জীবন কাটানোর অভিজ্ঞতার পর সাধারণ জীবনে ফিরে যাওয়া কঠিন হবে। তবে তিনি বলেন, ‘কম্বোডিয়ায় সময় কাটানোও খুব খারাপ কিছু নয়।’
তথ্যসূত্র: বিবিসি ও এএফপি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যশোর, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬ : ইনানীর টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহত একই পরিবারের চার সদস্যকে যশোরের মণিরামপুরে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
আজ বুধবার বিকেলে জানাজা শেষে তাদের পাশাপাশি চারটি কবরে সমাহিত করা হয়।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন মণিরামপুরের মোহনপুর গ্রামের নাহিদুর রহমান তুহিন (৪১), তার স্ত্রী আফসানা তানজি (৩৬) এবং তাদের দুই মেয়ে রুজাইনা ইনায়া (৭) ও সুনাইনা ইহানা (৩)।
গত ১৯ অক্টোবর সকালে রিসোর্টে আগুন লাগার ফলে একসঙ্গে চারজনের মৃত্যু ঘটে। আজ সকাল সাতটার দিকে তাদের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়।
শেষবারের মতো তাদের দেখতে বাড়িতে শত শত মানুষ ভিড় করেন। বিকেল তিনটায় স্থানীয় বাঁধাঘাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জানাজার আয়োজন করা হয়।
তুহিন ঢাকার শ্যামলীতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান গ্র্যান্ড পাওয়ার লিমিটেডের কর্মকর্তা ছিলেন। চাকরির কারণে তিনি পরিবারসহ মিরপুরে বসবাস করতেন। স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে কক্সবাজার বেড়াতে গিয়ে তিনি ওই রিসোর্টে উঠেছিলেন।
তুহিনের চাচাতো ভাই খালিদ হোসেন জানান, আগুনে মরদেহ এতটাই বিকৃত হয়ে যায় যে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য ঢাকায় ডিএনএ নমুনা দেন তুহিনের বাবা মতিয়ার রহমান। আট দিন পর সোমবার ডিএনএ প্রতিবেদন পাওয়া যায়।
মঙ্গলবার দুপুরে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গ থেকে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এদিকে ছোট ছেলে, পুত্রবধূ ও দুই নাতনিকে হারিয়ে মতিয়ার রহমান বর্তমানে নির্বাক হয়ে পড়েছেন। দশ বছর আগে তিনি স্ত্রীকে হারিয়েছিলেন। বর্তমানে তিনি গ্রামের বাড়িতে একা থাকেন।
তুহিনের মামা খায়রুল আলম বলেন, এই আকস্মিক মৃত্যুতে মতিয়ার রহমান মানসিক ও শারীরিকভাবে ভেঙে পড়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ