০৩:৩০ পি.এম
ইরানের ভূমিকা ছাড়া লেবাননে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়, বলেছেন দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্দ বাকের কালিবাফ। রবিবার স্থানীয় সময় (৫ জুলাই) লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর জ্যেষ্ঠ সদস্য মুহাম্মদ ফনিশের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এই কথা বলেন।
কালিবাফ মন্তব্য করেন যে, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক আগ্রাসনের ফলে লেবাননসহ বৃহত্তর পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলে সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছিল। এমন অবস্থায় এই অঞ্চলে শান্তি ইরানের মাধ্যমেই অর্জন সম্ভব বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও জানান, গত মাসে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকে হিজবুল্লাহসহ ওই অঞ্চলের ইরানের মিত্র প্রতিরোধ শক্তিগুলোর বিরুদ্ধে আগ্রাসন বন্ধের বিষয়ে স্পষ্ট শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। তেহরান লেবাননের ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা এবং সার্বভৌমত্বের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে আহ্বান জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন: ৬০ হাজার কোটি টাকায় কুমিল্লা–ঢাকা নতুন রেলপথ নির্মাণের পরিকল্পনা
এ সময় বৈঠকে স্পিকার ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলার সময় তেহরানের সমর্থনে ইসরায়েলি সরকারের বিরুদ্ধে হিজবুল্লাহর সাহসী লড়াইয়ের প্রশংসা করেন। তিনি এ লড়াইকে ‘ইতিহাসের একটি সন্ধিক্ষণ’ হিসেবে উল্লিখিত করেন, যা প্রতিরোধ গোষ্ঠী এবং ইরানের মধ্যে ‘অটুট বন্ধনকে তুলে ধরেছে।’
জুনের মাঝামাঝি সময়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ১৪ দফার একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করে। এই সমঝোতা স্মারকে বলা হয়েছে, লেবাননসহ সব রণাঙ্গণে শত্রুতা স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হবে, ৩০ দিনের মধ্যে ইরানের ওপর থেকে নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার করা হবে এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক চলাচল পুনর্বহারের আহ্বান জানানো হচ্ছে।
এই সমঝোতা স্মারকের আওতায় উভয় পক্ষ একটি পূর্ণাঙ্গ চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে ৬০ দিনের আলোচনা প্রক্রিয়ায় প্রবেশ করছে। লেবাননের কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, মার্চ মাসের শুরুর দিকে ইসরায়েল লেবাননে সর্বশেষ দফা হামলা শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ৪,৩০০ জন নিহত এবং ১২,৫০০ জন আহত হয়েছেন।
ইরানি কর্মকর্তারা বলছেন, তেহরান সক্রিয়ভাবে লেবানন যুদ্ধের অবসান এবং দেশটির সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা রক্ষার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এটি ওয়াশিংটনের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের অন্যতম প্রধান বিষয়।
আরও পড়ুন: দীর্ঘদিনের ক্ষমতার অবসান, সার্বিয়ার নির্বাচনে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে জয়
হিজবুল্লাহর কেন্দ্রীয় সদস্য মুহাম্মদ ফনিশ বৈঠকে বলেন, হিজবুল্লাহ নিজেদের ইরানের ইসলামি বিপ্লবের একটি অংশ মনে করে। তিনি জানান, লেবাননের এই গোষ্ঠী এবং ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের মধ্যে সম্পর্ক সর্বদা ভ্রাতৃত্বপূর্ণ এবং ধর্মীয় ও বৈপ্লবিক বন্ধনের ওপর প্রতিষ্ঠিত।
তিনি আরও বলেন, ইরানের হস্তক্ষেপই লেবাননের সাম্প্রতিক যুদ্ধ থামাতে বাধ্য করেছিল। ফনিশ মন্তব্য করেন, তারা বিশ্বাস করেন যে তেহরানের হস্তক্ষেপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সমঝোতার শর্তাবলী মানতে বাধ্য হয়েছে এবং এই মাধ্যমেই যুদ্ধের চূড়ান্ত সমাপ্তিও অর্জন করা যাবে।
সূত্র: ডন, ফার্স নিউজ এজেন্সি।
আরও পড়ুন: ৩৬ জেলায় ১০১ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করেছে ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন