প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দেশব্যাপী আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল পুনঃখননের কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবে সরকার, এমনটাই জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি উল্লেখ করেন, এ কর্মসূচির মাধ্যমে সেচব্যবস্থা পুনরুদ্ধার হবে এবং কৃষি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পাওয়া সম্ভব হবে।
সোমবার (৬ জুলাই) রাজধানীর সেন্টার অন ইন্টিগ্রেটেড রুরাল ডেভেলপমেন্ট ফর এশিয়া অ্যান্ড দ্য প্যাসিফিক (সিরডাপ) মিলনায়তনে সিরডাপের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও দ্বিতীয় বিশ্ব পল্লী উন্নয়ন দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই তথ্য দেন।
মন্ত্রী বলেন, উন্নয়ন প্রক্রিয়া অন্তর্ভুক্তিমূলক, ন্যায়সঙ্গত ও পল্লীকেন্দ্রিক হওয়া উচিত। শহর যদি এগিয়ে যায়, তবে গ্রাম পিছিয়ে থাকলে প্রকৃত সমৃদ্ধি অর্জন সম্ভব নয়। বর্তমান সরকার পল্লী উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে।
তিনি আরো জানতে পারেন, ক্ষুদ্র কৃষকদের জন্য ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সম্পূর্ণ মওকুফ করা হয়েছে। এর ফলে ১২ লাখের বেশি কৃষক উপকৃত হয়েছেন। পাশাপাশি ‘ফার্মার কার্ড’-এর মাধ্যমে কৃষকরা সহজেই ভর্তুকিপ্রাপ্ত কৃষি উপকরণ, ঋণ, বীমা ও বাজারসুবিধা পাবেন। সাধারণ নিম্নআয়ের নারীপ্রধান পরিবারগুলোর জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির মাধ্যমে মাসিক আর্থিক সহায়তাও দেওয়া হচ্ছে।
মির্জা ফখরুল আরো বলেন, আনসার-ভিডিপিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে কাজে লাগিয়ে গ্রামগুলোকে প্রশাসন, অবকাঠামো ও জনসেবার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে। সরকার শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে গ্রামীণ জনগণের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করছে।
অনুষ্ঠানে তিনি উল্লেখ করেন, সিরডাপের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও দ্বিতীয় বিশ্ব পল্লী উন্নয়ন দিবসের এবারের আয়োজন বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ প্রথমবারের মতো এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনাররা এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছেন।
তিনি জানান, ১৯৭৯ সালে বাংলাদেশসহ এ অঞ্চলের কয়েকটি দেশ এবং জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)-এর উদ্যোগে সিরডাপ প্রতিষ্ঠিত হয়।
প্রতিষ্ঠার স্মরণে প্রতিবছর ৬ জুলাই বিশ্ব পল্লী উন্নয়ন দিবস পালন করা হয়। বর্তমানে বাংলাদেশ সিরডাপ গভর্নিং কাউন্সিলের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছে এবং দিবসটির জাতিসংঘের স্বীকৃতি অর্জনের উদ্যোগেও অগ্রণী ভূমিকা রাখছে।
মন্ত্রী বলেন, প্রায় পাঁচ দশক ধরে সিরডাপ আঞ্চলিক সংহতি, দারিদ্র্য হ্রাস এবং সদস্য দেশগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। সংস্থাটি এ পর্যন্ত ২১৫টি গবেষণা কর্মসূচি, ৩৫০টি সক্ষমতা উন্নয়ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করেছে এবং আট হাজারের বেশি সরকারি কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। ডিজিটাল নেটওয়ার্ক ও বিভিন্ন প্রকাশনার মাধ্যমে সিরডাপ বর্তমানে ১ লাখ ২০ হাজারের বেশি অংশীজনের কাছে পৌঁছেছে এবং নীতিনির্ধারণ ও বাস্তবায়নের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করেছে।
তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন, ডিজিটাল রূপান্তর, খাদ্য নিরাপত্তা ও যুব বেকারত্বের মতো নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য সিরডাপ জলবায়ু-সহনশীল কৃষি ও গ্রামীণ উদ্যোক্তা উন্নয়নে কাজ করছে। পাশাপাশি আরো ৪০টি এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশকে সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা এবং প্যাসিফিক আইল্যান্ডস ডেভেলপমেন্ট ফোরামের (পিআইডিএফ) সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে সংস্থাটি আঞ্চলিক কার্যক্রম সম্প্রসারণ করছে।
স্বাগতিক দেশ হিসেবে বাংলাদেশ সিরডাপের কার্যক্রমে সহযোগিতা করাকে একটি দায়িত্ব ও গৌরব— উভয় হিসেবেই বিবেচনা করে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়নের ক্ষেত্রে বিশ্বের সামনে একটি অনুকরণীয় উদাহরণ স্থাপন করেছে। বক্তব্যের শেষে তিনি সিরডাপের ৪৭ বছরের সেবামূলক কার্যক্রমের প্রসংসা করেন এবং বিশ্ব পল্লী উন্নয়ন দিবসের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিটিকে স্বাগত জানান।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন