০৭:৪৯ এম
মা এবং ছেলে, দুইজনেই এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছেন। সংসারের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি, মা বই ও খাতার সঙ্গে রাতজেগে পড়াশোনা করেছেন। অন্যদিকে, ছেলে মায়ের কাছ থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে পড়াশোনা চালিয়ে গেছে। অবশেষে ফল প্রকাশের সময় এসে গেল এবং মা-ছেলে দুজনেরই প্রাপ্তি হলো জিপিএ-৫। রাজশাহীর এই মা-ছেলের সাফল্য আপাতত তাদের পরিবারকে আনন্দের মধ্যে ভাসিয়ে রেখেছে।
রাজশাহী নগরের রাজপাড়ার থানা এলাকার বাসিন্দা মোছা. সাদিয়া বেগম। বিয়ের পর প্রায় ১৯ বছর আগে তার পড়াশোনা থেমে গিয়েছিল। সংসার এবং পারিবারিক দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে, তিনি প্রায় ১৭ বছর পড়াশোনা থেকে দূরে ছিলেন।
কিন্তু সাদিয়া কখনো তার পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ হারাননি। শেষ পর্যন্ত আবার বই হাতে তুলে নিয়ে নতুনভাবে পড়াশোনা শুরু করেন। দুই ছেলে পড়াশোনার প্রতি আগ্রহী থাকায় সাদিয়া তার শিক্ষাজীবনও চালিয়ে যান।
আরও পড়ুন: ইনানীতে ৪২ ঘণ্টা ধরে জ্বলছে আগুন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি
প্রায় দুই বছর আগে, সাদিয়া তার ছেলে তানভীরের সঙ্গে এসএসসি পরীক্ষা দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। পরিবারের সম্মতিতে তিনি প্রস্তুতি শুরু করেন। সংসারের কাজের ফাঁকে পড়াশোনা করে গেছেন। মাঝে মাঝে ছেলের পাশে বসে রাতজেগে পড়াশোনা করতে হয়েছে।
চলতি বছরের এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সাদিয়া বেগম তার পরিশ্রমের ফল পাচ্ছেন। তিনি জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন। রাজপাড়া আদর্শ মহিলা টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজ থেকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছেন।
একই সময়ে, তার ছেলে তানভীর আহমেদ এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে। রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে পরীক্ষা দিয়ে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে। একই বছরের মধ্যে মা-ছেলের জিপিএ-৫ পাওয়ার ঘটনা পরিবারে আনন্দের ঢেউ সৃষ্টি করেছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) বিকেলে রাজশাহী নগরের রাজপাড়া থানার বসিলা এলাকায় তাদের বাড়িতে গেলে দেখা যায়, মা-ছেলে এবং পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আনন্দের একটি পরিবেশ বিরাজ করছে। ফল প্রকাশের পর থেকেই পরিচিতজনরা তাদের অভিনন্দন জানাচ্ছেন।
আরও পড়ুন: ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে ৯ ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা প্রত্যাহার, নতুন কর্মকর্তাদের নিয়োগ
নিজের সাফল্যের অনুভূতি ব্যক্ত করে সাদিয়া বেগম বলেন, "পড়াশোনার প্রতি সবসময় যেনো ঝোঁক ছিল। তবে বিয়ের পর নানা কারণে পড়ালেখা চালিয়ে যেতে পারিনি। কিন্তু কখনো হাত ছাড়িনি। ঐ সিদ্ধান্তের জন্য, চলতি বছর ছেলের সঙ্গে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করি।"
তানভীর আহমেদ বলেন, "মা সবসময় পড়ালেখার খোঁজ-খবর রাখতেন। পাশাপাশি তিনি নিজেও পড়াশোনা করতেন। রাতে জেগে পাশে বসে থেকেও পড়াশোনা করেছেন।"
আর তিনি বলেন, "নিজের এই সাফল্য বাবামাকে উৎসর্গ করেছি। ভবিষ্যতে ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন দেখছি। দেশের মানুষের কাছে দোয়া চাইছি, রাজশাহীর এই কৃতি শিক্ষার্থী।
আরও পড়ুন: নওগাঁয় ভাড়া বাসায় জাল টাকার কারবার, ডিবির হাতে গ্রেপ্তার জব্বার
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন