ঢাকা শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কয়রার মানসিক ভারসাম্যহীন আমজাদ ১০ দিন ধরে নিখোঁজ, সন্ধান চান সন্তানরা


কয়রার মানসিক ভারসাম্যহীন আমজাদ ১০ দিন ধরে নিখোঁজ, সন্ধান চান সন্তানরা

খুলনার কয়রা উপজেলার শিমলারআইট খেজুরডাঙ্গা গ্রামের বয়োবৃদ্ধ ও মানসিক ভারসাম্যহীন আমজাদ হোসেন মোল্লা ১০ দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন, কারণ সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজ করেও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। তার সন্তানরা বাবাকে ফিরে পেতে সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন।

পরিবারের সূত্রে জানা যায়, শিমলারআইট খেজুরডাঙ্গা গ্রামের মৃত রুহুল আমিন মোল্লার ছেলে আমজাদ হোসেন মোল্লা দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। তিনি খুব অল্প কথা বলেন। গত ২৫ সেপ্টেম্বর, তিনি বাড়ি থেকে অন্তাবুনিয়া বাজারে যাওয়ার কথা বলে বের হন। এরপর থেকে তিনি আর বাড়িতে ফিরে আসেননি। আত্মীয়-স্বজনসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। নিখোঁজের সময় আমজাদ হোসেনের পরনে ছিল একটি ফতুয়া ও লুঙ্গি। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, বয়সের ভারে তিনি শারীরিকভাবে দুর্বল।

নিখোঁজ আমজাদ হোসেনের ছেলে জাকারিয়া বলেন, “আমার বাবা মানসিকভাবে অসুস্থ এবং খুব বেশি কথা বলতে পারেন না। ১০ দিন ধরে তার কোনো সন্ধান না পাওয়ায় আমরা খুব দুশ্চিন্তায় আছি। যদি কোনো সহৃদয় ব্যক্তি আমার বাবাকে কোথাও দেখতে পান বা তার সন্ধান পান, তাহলে দয়া করে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন।” তিনি আরও জানান, কেউ আমজাদ হোসেনের সন্ধান পেলে ০১৯৫২৩৪১৩৬৪ নম্বরে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। বাবাকে ফিরে পাওয়ার আশায় পরিবারের সদস্যরা এখন পথ চেয়ে আছেন। একজন অসহায় বয়োবৃদ্ধ মানুষের সন্ধানে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছে পরিবার।

আরও পড়ুন: সকাল ৯টায়ও তালাবদ্ধ চিকিৎসকের কক্ষ, রোগীরা চরম ভোগান্তিতে

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাগেরহাটে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাড়িতে হামলার অভিযোগ, আহত ৩

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৫১ পি.এম


বাগেরহাটে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাড়িতে হামলার অভিযোগ, আহত ৩

বাগেরহাটের মোল্লাহাট এলাকায় একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘবদ্ধভাবে হামলা, ভাঙচুর এবং স্বর্ণালঙ্কারসহ নগদ টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে একদল যুবকের বিরুদ্ধে। হামলার ফলে একই পরিবারের তিনজন সদস্য আহত হয়েছেন। আহতদের চিকিৎসার জন্য মোল্লাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। রোববার (৪ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার চরকুলিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন চরকুলিয়া গ্রামের মোঃ আমজাদুল হক (৫০), তার স্ত্রী শাহানাজ পারভীন (৪০) এবং তাদের ১৪ বছর বয়সী ছেলে আশরাফুল শেখ। জানা গেছে, আশরাফুল চরকুলিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং তার বিদ্যালয়ের রোল নম্বর-১। তিনি দৃষ্টি প্রতিবন্ধী। চিকিৎসাধীন অবস্থায় আমজাদুল হক অভিযোগ করেন যে, তিনি একটি বৈদ্যুতিক পাওয়ার প্ল্যান্টে চাকরি করেন। তার বড় ছেলে পুলিশে কর্মরত এবং মেঝ ছেলে রাজমিস্ত্রির কাজ করেন। ঘটনার সময় বাড়ির অদূরে কয়েকজন যুবক আড্ডা দিচ্ছিল। তার ছেলে আরাফাতুল শেখ ওই যুবকদের দিকে ঢিল ছুড়েছে- এমন অভিযোগ তুলে প্রায় ১৫ থেকে ২০ জন যুবক তাদের বাড়িতে হামলা চালায়।

আমজাদুল হক দাবি করেন, হামলাকারীরা তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের মারধর করে। এ সময় তার স্ত্রীর পরনের কাপড় ছিঁড়ে যায় এবং দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ছেলে আশরাফুলকেও মারধর করে আহত করা হয়। হামলাকারীরা বাড়ির বেড়া ও ঘরের ভেতরে ভাঙচুর চালায় বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলার সময় ঘর থেকে নগদ ৪৫ হাজার টাকা এবং তার স্ত্রীর গলায় থাকা প্রায় এক ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন নিয়ে যায় হামলাকারীরা। ঘটনার পরপরই বিষয়টি মোল্লাহাট থানায় জানানো হয়েছে এবং এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানান আমজাদুল হক। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। স্থানীয় গ্রামপুলিশ টুটুল শিকদার জানান, হামলার ঘটনার পর স্থানীয়রা আমাকে ওই বাড়িতে পাঠায়। পরে হাসপাতালে গিয়ে আহতদের দেখে আসছি। বিষয়টি মিমাংসার কথা রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিশ্ব শিক্ষক দিবসে যশোরের অভয়নগরে র‌্যালি ও আলোচনা সভা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৫২ পি.এম


বিশ্ব শিক্ষক দিবসে যশোরের অভয়নগরে র‌্যালি ও আলোচনা সভা

বিশ্ব শিক্ষক দিবস-২০২৬ উপলক্ষ্যে যশোরের অভয়নগর উপজেলায় একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি এবং আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। সোমবার (৫ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পরিষদের মিলনায়তনে আলোচনা সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

সভাপতিত্বের দায়িত্ব পালন করেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ সালাউদ্দীন দিপু। সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ সাহা, নওয়াপাড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি এস এম মুজিবর রহমান, সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) আশরাফ হোসেন প্রিন্স, কলেজ শিক্ষক সমিতির উপদেষ্টা খায়রুল বাসার, সাধারণ সম্পাদক নূর জালাল, মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা, সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদ, প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি শেখ আব্দুল গফ্ফারসহ সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, সাংবাদিক এবং শিক্ষকবৃন্দ।

এর আগে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দাকোপে সরকারি জায়গা দখলের ঘটনা বেড়ে গেছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৫৩ পি.এম


দাকোপে সরকারি জায়গা দখলের ঘটনা বেড়ে গেছে

খুলনার দাকোপে সরকারি জায়গা দখলের ঘটনা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। দখলকৃত জায়গায় বসত বাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন ধরনের পাকা স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে। অতীতে সরকারের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে জায়গা ছেড়ে যাওয়া দখলদাররা আবারও অবৈধ দখল প্রক্রিয়ায় জড়িয়ে পড়েছে। অভিযোগ উঠেছে যে, রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার কারণে দখলদাররা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৩১, ৩২ ও ৩৩ নং পোল্ডার নিয়ে গঠিত তিনটি পৃথক দ্বীপের উপর দাড়িয়ে রয়েছে দাকোপ উপজেলা। চারপাশে নদী বেষ্টিত এই উপজেলাটি পাউবোর নির্মিত বেড়ীবাঁধের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়। এই বাঁধগুলোকে ঘিরে উপজেলার প্রাণকেন্দ্র চালনা বাজার, বাজুয়া বাজার, বটবুনিয়া, কালীনগর, মোজামনগর, নলিয়ান, জয়নাগর, বানীশান্তা, বুড়িরডাবুর, হোগলা বুনিয়া, পোদ্দারগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় ছোট বড় বাজার গড়ে উঠেছে। সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা যায়, পেরিফেরীভুক্ত জায়গাসহ অধিকাংশ বাজারগুলো পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গা অবৈধভাবে দখল করে স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করে গড়ে উঠেছে। স্থায়ী বাজারের বাইরে, উপজেলায় যত্রতত্র বেড়ীবাঁধের দু’পাশ দখল করে বসতভিটা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ নানা ধরনের স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। বিগত সরকারের সময় পাউবোর ৩২ ও ৩৩ নং পোল্ডারে বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে নতুন করে টেকসই বাঁধ নির্মাণ করা হয়। তখন সেখানে থাকা দখলদারদের পুনর্বাসনে মোটা অংকের অর্থ ক্ষতিপূরণ দিয়ে তাদের উচ্ছেদ করা হয়। কিন্তু কাজ শেষে রাস্তা হস্তান্তরের সাথে সাথে একই প্রক্রিয়ায় বেড়ীবাঁধের দু’পাশ ফের দখলে নিয়ে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করা হয়।

অধিকাংশ বাজারে নির্মিত স্থাপনার বারান্দা তৈরিতে ফুটপথ দখল করা হয়েছে। ফলে জনসাধারণের চলাচলের রাস্তাটিও সংকুচিত হয়ে হাটা চলায় বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। অনেকেই আবার সরকারি জায়গার পজেশন দখল করে বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় পরিচালিত অভিযানে কিছু জায়গা দখলমুক্ত হয়। কিন্তু দলীয় সরকার আসার সাথে সাথে শুরু হয় অবৈধ দখলের মহাউৎসব। সম্প্রতি বাজুয়া ও লাউডোপ ইউনিয়নে দেখা যায় সরকারি জায়গা দখল করে পাকা ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। অনেক জায়গায় নির্মাণ কাজ অব্যাহত রয়েছে। জানা গেছে বাজুয়া খুটাখালী লাউডোপ এলাকায় লক্ষ লক্ষ টাকার বিনিময়ে সরকারি জায়গা পজেশন হিসেবে বিক্রি করা হয়েছে। একই অবস্থা উপজেলার অন্যান্য ইউনিয়নে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, যখন যে দল ক্ষমতায় থাকে, সেই দলের ছত্রছায়ায় রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় চলে এই দখল বাণিজ্য। বর্তমানে ক্ষমতাসীন দলের ছত্রছায়ায় দখলদাররা অনেকটা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে, এমন অভিযোগ এলাকাবাসীর। প্রশাসনের চোখের সামনে এমন দখল প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকলেও অজ্ঞাত কারণে তারা নির্বিকার। ব্যবসায়ী হাফিজুর রহমান জানান, কয়েক বছর আগে ভবিষ্যতে সরকারি জায়গা দখল করবেনা মর্মে স্ট্যাম্পে লিখিত অঙ্গিকারনামা দিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে ফের সেই জায়গা দখল করা হচ্ছে। তিনি বলেন, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরে অভিযোগ দিয়েও কোন প্রতিকার হয়না। তারা কেবল লোক দেখানো নোটিশ দিয়ে দায়িত্ব শেষ করে। অথচ সুযোগ ছিল ওই সকল বাজারের পেরিফেরীর জায়গা এবং সরকারের অন্যান্য দপ্তরের সম্পত্তি একসঙ্গে বন্দোবস্ত বা লীজ প্রক্রিয়ার আওতায় এনে বছরে লক্ষ লক্ষ টাকা রাজস্ব আদায়ের।

এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড খুলনা পওর বিভাগ-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ রাশিদুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অবৈধ দখলদারদের বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আর দাকোপ উপজেলার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি মোঃ সেবগাতুল্যাহ বলেন, আমি জানার পর কিছু স্থাপনা নির্মাণ সরিয়ে দিয়েছি। আর পাকা স্থাপনাগুলোর বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া ইউনিয়ন ভূমি সহকারীদের দখলের বিরুদ্ধে কঠোর হওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কয়রার ২০ সরকারি বিদ্যালয়ে মুসলিম শিক্ষক নেই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৫৩ পি.এম


কয়রার ২০ সরকারি বিদ্যালয়ে মুসলিম শিক্ষক নেই

খুলনার কয়রা উপজেলার ২০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘ সময় ধরে মুসলিম শিক্ষক নেই। সুন্দরবন সংলগ্ন এই বিদ্যালয়গুলোতে মুসলিম শিক্ষার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হলেও ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা বিষয়টি অমুসলিম শিক্ষকরা পড়াচ্ছেন। আরবি ভাষা, সূরা ও কেরাতের যথাযথ জ্ঞান না থাকায় অনেক ক্ষেত্রে বইয়ের বাংলা অর্থ পড়িয়েই দায়িত্ব শেষ করতে হচ্ছে। ফলে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা সঠিকভাবে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, এমন অভিযোগ করেছেন অভিভাবকেরা।

বর্তমানে বাবুরাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১০৮ জন শিক্ষার্থী রয়েছে, যাদের সবাই মুসলিম। বিদ্যালয়ে পাঁচজন শিক্ষক কর্মরত আছেন, কিন্তু তারা সবাই সনাতন ধর্মাবলম্বী। দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যালয়ে মুসলিম শিক্ষক না থাকায় ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা অমুসলিম শিক্ষকদের দ্বারা পড়ানো হচ্ছে। একই অবস্থা দেখা যাচ্ছে গড়িয়াবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, যেখানে মোট শিক্ষার্থী ১৪৩ জন, এর মধ্যে ৮৭ জন মুসলিম। এখানে ছয়জন শিক্ষক রয়েছেন, কিন্তু তাদের কেউই মুসলিম নয়। ফলে মুসলিম শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে নানা সীমাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। দক্ষিণ বেদকাশী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিস্থিতি আরও পুরোনো; স্থানীয়দের দাবি, প্রায় ১৯ বছর ধরে এখানে কোনো মুসলিম শিক্ষক নেই। এই তিনটি বিদ্যালয় ছাড়াও উপজেলার মোট ২০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একই চিত্র বিরাজমান।

উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, যেসব বিদ্যালয়ে মুসলিম শিক্ষক নেই সেগুলো হলো হাতিয়ারডাঙ্গা প্রাথমিক বিদ্যালয়, বাঁশখালী প্রাথমিক বিদ্যালয়, হড্ডা ডিএম প্রাথমিক বিদ্যালয়, উত্তর মহেশ্বরীপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়, হড্ডা প্রাথমিক বিদ্যালয়, বাবুরাবাদ প্রাথমিক বিদ্যালয়, হরিয়ারপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়, বানিয়াখালি সুন্দরবন প্রাথমিক বিদ্যালয়, তালবাড়িয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়, দক্ষিণ ভাগবা প্রাথমিক বিদ্যালয়, আংটিহারা প্রাথমিক বিদ্যালয়, দক্ষিণ বেদকাশী প্রাথমিক বিদ্যালয়, গাংরকি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পশ্চিম হড্ডা প্রাথমিক বিদ্যালয়, গড়িয়াবাড়ী প্রাথমিক বিদ্যালয়, বাউলিয়াঘাটা প্রাথমিক বিদ্যালয়, ঠাকুরের চর প্রাথমিক বিদ্যালয়, দক্ষিণ হাতিয়ারডাঙ্গা প্রাথমিক বিদ্যালয়, দক্ষিণ হড্ডা পল্লী উন্নয়ন প্রাথমিক বিদ্যালয় ও হাতিয়ারডাঙ্গা পূর্বচক প্রাথমিক বিদ্যালয়।

এসব বিদ্যালয়ের বেশিরভাগে চার থেকে ছয়জন শিক্ষক কর্মরত থাকলেও একজন মুসলিম শিক্ষকও নেই। ফলে মুসলিম শিক্ষার্থীদের ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা পড়ানোর দায়িত্ব অমুসলিম শিক্ষকদের ওপরই পড়ছে।

অভিভাবকরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে একই পরিস্থিতি চলমান থাকায় অনেকেই তাদের সন্তানদের অন্য বিদ্যালয়ে ভর্তি করাচ্ছেন। এতে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী উপস্থিতিতেও প্রভাব পড়ছে। গড়িয়াবাড়ী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অভিভাবক মোঃ সাহেব আলী সানা বলেন, "শিক্ষকরা সনাতন ধর্মাবলম্বী হওয়ায় তাদের পক্ষে আরবি সূরা ও কেরাত শুদ্ধভাবে শেখানো সম্ভব হচ্ছে না। এতে কোমলমতি শিশুদের বুনিয়াদি ধর্মীয় শিক্ষা অপূর্ণ থেকে যাচ্ছে।" গড়িয়াবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিজন বিহারী বর্মন জানান, ভৌগোলিক দূরত্বের কারণে নতুন শিক্ষকরা এখানে পোস্টিং পেলেও দ্রুত বদলি হয়ে চলে যান। তবে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং আশা করছেন দ্রুতই সমস্যার সমাধান হবে। কয়রা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার তপন কুমার কর্মকার জানিয়েছেন, সরকারি শিক্ষক নিয়োগের নীতিমালায় হিন্দু বা মুসলিম আলাদা করে পদায়নের নিয়ম নেই, যার ফলে এই জটিলতা তৈরি হয়েছে। তবে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ আব্দুল্লাহ আল বাকী বলেন, "বিষয়টি আমি জানতে পেরেছি। অধিক গুরুত্ব দিয়ে বিধি মোতাবেক এই সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করা হবে।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৪
মাগরিব ০৫:২১
ইশা ০৬:৩৩
সূর্যোদয় : ০৬:০৩ সূর্যাস্ত : ০৫:২১
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%