১০:৫৩ পি.এম
খুলনার কয়রা উপজেলার ২০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘ সময় ধরে মুসলিম শিক্ষক নেই। সুন্দরবন সংলগ্ন এই বিদ্যালয়গুলোতে মুসলিম শিক্ষার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হলেও ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা বিষয়টি অমুসলিম শিক্ষকরা পড়াচ্ছেন। আরবি ভাষা, সূরা ও কেরাতের যথাযথ জ্ঞান না থাকায় অনেক ক্ষেত্রে বইয়ের বাংলা অর্থ পড়িয়েই দায়িত্ব শেষ করতে হচ্ছে। ফলে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা সঠিকভাবে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, এমন অভিযোগ করেছেন অভিভাবকেরা।
বর্তমানে বাবুরাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১০৮ জন শিক্ষার্থী রয়েছে, যাদের সবাই মুসলিম। বিদ্যালয়ে পাঁচজন শিক্ষক কর্মরত আছেন, কিন্তু তারা সবাই সনাতন ধর্মাবলম্বী। দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যালয়ে মুসলিম শিক্ষক না থাকায় ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা অমুসলিম শিক্ষকদের দ্বারা পড়ানো হচ্ছে। একই অবস্থা দেখা যাচ্ছে গড়িয়াবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, যেখানে মোট শিক্ষার্থী ১৪৩ জন, এর মধ্যে ৮৭ জন মুসলিম। এখানে ছয়জন শিক্ষক রয়েছেন, কিন্তু তাদের কেউই মুসলিম নয়। ফলে মুসলিম শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে নানা সীমাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। দক্ষিণ বেদকাশী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিস্থিতি আরও পুরোনো; স্থানীয়দের দাবি, প্রায় ১৯ বছর ধরে এখানে কোনো মুসলিম শিক্ষক নেই। এই তিনটি বিদ্যালয় ছাড়াও উপজেলার মোট ২০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একই চিত্র বিরাজমান।
উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, যেসব বিদ্যালয়ে মুসলিম শিক্ষক নেই সেগুলো হলো হাতিয়ারডাঙ্গা প্রাথমিক বিদ্যালয়, বাঁশখালী প্রাথমিক বিদ্যালয়, হড্ডা ডিএম প্রাথমিক বিদ্যালয়, উত্তর মহেশ্বরীপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়, হড্ডা প্রাথমিক বিদ্যালয়, বাবুরাবাদ প্রাথমিক বিদ্যালয়, হরিয়ারপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়, বানিয়াখালি সুন্দরবন প্রাথমিক বিদ্যালয়, তালবাড়িয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়, দক্ষিণ ভাগবা প্রাথমিক বিদ্যালয়, আংটিহারা প্রাথমিক বিদ্যালয়, দক্ষিণ বেদকাশী প্রাথমিক বিদ্যালয়, গাংরকি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পশ্চিম হড্ডা প্রাথমিক বিদ্যালয়, গড়িয়াবাড়ী প্রাথমিক বিদ্যালয়, বাউলিয়াঘাটা প্রাথমিক বিদ্যালয়, ঠাকুরের চর প্রাথমিক বিদ্যালয়, দক্ষিণ হাতিয়ারডাঙ্গা প্রাথমিক বিদ্যালয়, দক্ষিণ হড্ডা পল্লী উন্নয়ন প্রাথমিক বিদ্যালয় ও হাতিয়ারডাঙ্গা পূর্বচক প্রাথমিক বিদ্যালয়।
আরও পড়ুন: হবিগঞ্জে চা বাগানের শ্রমিকদের মজুরি দাবিতে কর্মবিরতি, সচিবালয় ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি
এসব বিদ্যালয়ের বেশিরভাগে চার থেকে ছয়জন শিক্ষক কর্মরত থাকলেও একজন মুসলিম শিক্ষকও নেই। ফলে মুসলিম শিক্ষার্থীদের ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা পড়ানোর দায়িত্ব অমুসলিম শিক্ষকদের ওপরই পড়ছে।
অভিভাবকরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে একই পরিস্থিতি চলমান থাকায় অনেকেই তাদের সন্তানদের অন্য বিদ্যালয়ে ভর্তি করাচ্ছেন। এতে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী উপস্থিতিতেও প্রভাব পড়ছে। গড়িয়াবাড়ী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অভিভাবক মোঃ সাহেব আলী সানা বলেন, "শিক্ষকরা সনাতন ধর্মাবলম্বী হওয়ায় তাদের পক্ষে আরবি সূরা ও কেরাত শুদ্ধভাবে শেখানো সম্ভব হচ্ছে না। এতে কোমলমতি শিশুদের বুনিয়াদি ধর্মীয় শিক্ষা অপূর্ণ থেকে যাচ্ছে।" গড়িয়াবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিজন বিহারী বর্মন জানান, ভৌগোলিক দূরত্বের কারণে নতুন শিক্ষকরা এখানে পোস্টিং পেলেও দ্রুত বদলি হয়ে চলে যান। তবে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং আশা করছেন দ্রুতই সমস্যার সমাধান হবে। কয়রা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার তপন কুমার কর্মকার জানিয়েছেন, সরকারি শিক্ষক নিয়োগের নীতিমালায় হিন্দু বা মুসলিম আলাদা করে পদায়নের নিয়ম নেই, যার ফলে এই জটিলতা তৈরি হয়েছে। তবে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ আব্দুল্লাহ আল বাকী বলেন, "বিষয়টি আমি জানতে পেরেছি। অধিক গুরুত্ব দিয়ে বিধি মোতাবেক এই সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করা হবে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন