০৫:৩৫ পি.এম
বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী বলেছেন, স্বাধীন ও মুক্ত সাংবাদিকতা ছাড়া দেশ ও গণতন্ত্রের উন্নয়ন সম্ভব নয়। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রকে সাংবাদিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। সাংবাদিকদের সুরক্ষা না থাকলে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সংকুচিত হবে।
শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে কক্সবাজার প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক ইউনিয়ন কক্সবাজারের বার্ষিক সাধারণ সভায় প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সাংবাদিক ইউনিয়ন কক্সবাজারের সভাপতি নুরুল ইসলাম হেলালীর সভাপতিত্বে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
কাদের গনি চৌধুরী বলেন, সাংবাদিকরা অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় এখন স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছেন। তবে চ্যালেঞ্জ শেষ হয়নি। রাজনৈতিক প্রভাব, প্রাতিষ্ঠানিক চাপ ও পেশাগত অনিরাপত্তাসহ নানা কারণে দেশের সাংবাদিকতার পরিবেশ এখনো চ্যালেঞ্জের মুখে। সাংবাদিকদের ওপর অযাচিত হস্তক্ষেপ যেমন গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করে, তেমনি অপসাংবাদিকতা ও পেশাগত দক্ষতার অভাবও বড় সমস্যা।
আরও পড়ুন: ভবিষ্যতে যেন কেউ দেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে না পারে: প্রধানমন্ত্রী
তিনি বলেন, দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা নিশ্চিত করতে শুধু নিরাপত্তা নয়, সাংবাদিকদের ন্যায্য বেতন, কর্মপরিবেশ ও পেশাগত মর্যাদাও নিশ্চিত করতে হবে। অধিকাংশ গণমাধ্যম ওয়েজবোর্ড অনুযায়ী বেতন দেয় না। অনেক গণমাধ্যমে সাংবাদিকদের বেতন মালিকের গাড়িচালকের বেতনের চেয়েও কম। এসব বন্ধ করতে হবে। সরকারকে আমরা বলেছি, ওয়েজবোর্ড না মানলে গণমাধ্যমের অনুমোদন দেওয়া যাবে না। এটি কার্যকর করা গেলে গণমাধ্যমের ভেতরের অনেক নৈরাজ্য দূর করা সম্ভব হবে।
বিএফইউজের মহাসচিব বলেন, সাংবাদিকতা নিছক চাকরি নয়। দেশে গণতন্ত্র, মানুষের অধিকার, সব ধর্ম-বর্ণ ও গোষ্ঠীর অধিকার রক্ষা এবং বৈষম্য দূর করতে সাংবাদিকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। গণমাধ্যম স্বাধীন ও শক্তিশালী না হলে গণতন্ত্র ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করা যায় না।
সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, স্বাধীন সাংবাদিকতাই সরকারকে একমাত্র সত্য কথা বলতে পারে। অন্যরা হয়তো সত্য আড়াল করে সরকারকে খুশি রাখার চেষ্টা করবে। আমলাতন্ত্র বা দলীয় লোকজন অনেক সময় ভয়ে সত্য কথা বলতে পারবেন না। স্বাধীন সাংবাদিকতা হচ্ছে এমন একটি প্রতিষ্ঠান, যা সরকারকে সত্য কথা বলবে। তবে গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য যাচাই করার সুযোগও সরকারের রয়েছে।
কাদের গনি চৌধুরী বলেন, সাংবাদিকদের জাতির বিবেক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সেই বিবেকের সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র কলম। কলম থামিয়ে দেওয়া মানে শুধু একজন সাংবাদিকের কণ্ঠ রোধ করা নয়, সত্য প্রকাশের পথও সংকুচিত করা। সাংবাদিকের ওপর আঘাত মানে বিবেকের ওপর আঘাত।
আরও পড়ুন: দুর্বৃত্তদের বিষাক্ত স্প্রে প্রয়োগে ঘুমন্ত মসজিদের ইমামের মৃত্যু, এলাকায় শোকের ছায়া
তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকরা দুর্নীতি, অনিয়ম, সন্ত্রাস, অব্যবস্থাপনা ও মানুষের ওপর অন্যায়ের ঘটনা তুলে ধরেন। এসব প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সমস্যা সম্পর্কে জানতে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সহায়তা করে। কিন্তু সত্য প্রকাশের কারণে কোনো সাংবাদিক হামলা, হুমকি বা হয়রানির শিকার হলে এর প্রভাব শুধু তার ওপর পড়ে না, অন্য সাংবাদিকদের মধ্যেও ভয় তৈরি হয়। ধীরে ধীরে এমন পরিবেশ সৃষ্টি হতে পারে, যেখানে সত্য জানলেও অনেকে তা প্রকাশ করতে সাহস করবেন না। কলমকে থামানো যায়, সত্যকে নয়
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন