বুধবার, ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৬:২৫ পি.এম
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ক্রমবর্ধমান সামরিক চাপের প্রেক্ষাপটে চীন ইরানের পাশে থাকার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। বেইজিংয়ে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর চীন জানায়, তারা ইরানের "ন্যায্য স্বার্থ সুরক্ষায়" সহায়তা দিতে প্রস্তুত।
বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত এই উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি একত্রিত হয়ে আলোচনা করেন। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে চীনের এই বার্তা ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
ওয়াং ই উল্লেখ করেন, সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং আন্তর্জাতিক নিয়মনীতি মেনে চলার ক্ষেত্রে চীন ইরানের পাশে থাকবে। তিনি মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন এবং চলমান সংঘাত সমাধানে চীন তাদের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে বলে জানান।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি চীনের কূটনৈতিক সমর্থন ও বন্ধুত্বের জন্য ধন্যবাদ জানান এবং মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে চীনা ভূমিকা প্রত্যাশা করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, চলতি সপ্তাহে চীনা উপ-প্রধানমন্ত্রী হি লিফেংয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি, যা ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করার উদ্দেশ্যে অনুষ্ঠিত হবে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) হাউস ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস কমিটিকে বেসেন্ট বলেন, "ইরান যাতে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যেতে না পারে, সে বিষয়ে চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।" তিনি উল্লেখ করেন, বৈঠকে সেই আলোচনা অব্যাহত থাকবে।
বেসেন্ট আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে তিনটি ব্যাংকের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিন পিংয়ের ওয়াশিংটন সফর এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের আগে এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে।
একটি সূত্র জানিয়েছে, আলোচনার সম্ভাব্য বিষয়গুলোর মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) থাকতে পারে। তবে বৈঠকের বিস্তারিত আলোচনা সূচি সম্পর্কে বেসেন্ট কিছু জানাননি।
এর আগে, বেসেন্ট ইরানের বিরুদ্ধে ‘অর্থনৈতিক ডি-ডে’ (নির্ণায়ক আঘাত) ঘোষণার কথা বলেছিলেন এবং তেহরানকে অর্থনৈতিকভাবে কোণঠাসা করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছিলেন।
এদিকে, চীন ইরানের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক অংশীদার। দেশটি ইরানের উৎপাদিত তেলের বড় অংশ ক্রয় করে এবং কূটনৈতিক ক্ষেত্রে তেহরানের গুরুত্বপূর্ণ সমর্থক হিসেবে কাজ করে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আশির দশকে 'রাম তেরি গঙ্গা মৈলী' সিনেমার মাধ্যমে রাতারাতি তারকা বনে যাওয়া বলিউড অভিনেত্রী মন্দাকিনী অবশেষে আন্ডারওয়ার্ল্ড ডন দাউদ ইব্রাহিমের সঙ্গে তার আলোচিত ছবি ও সম্পর্ক নিয়ে কথা বলেছেন। শারজাহর ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দাউদ ইব্রাহিমের পাশে বসে থাকার যে ছবি তৎকালীন সময়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি করেছিল, তা নিয়ে এত বছর পর সত্যতা প্রকাশ করেছেন এই জ্যেষ্ঠ অভিনেত্রী।
সংবাদ সংস্থা এএনআই (ANI)-কে দেওয়া একটি এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে মন্দাকিনী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, দাউদ ইব্রাহিম তাকে কোনো ম্যাচ দেখার জন্য আমন্ত্রণ জানাননি।
সাক্ষাৎকারে মন্দাকিনী বলেন, "মানুষ যা খুশি লিখতে বা বলতে পারে, তার ওপর আমাদের কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকে না। একজন শিল্পীকে হাজার হাজার মানুষের সাথে মিশতে হয় এবং আমাদের কাছে সবাই সমান। সেখানে অনেক মানুষ একসাথে উপস্থিত ছিলেন। আমরা একটি শোয়ের কাজে দুবাই গিয়েছিলাম এবং সেখান থেকেই ম্যাচ দেখতে স্টেডিয়ামে যাই। দাউদ আমাকে আমন্ত্রণ জানাননি।"
তিনি আরও যোগ করেন, "সেই সময়ে বিষয়টি যে এত বড় বিতর্ক তৈরি করবে তা আমি বুঝতে পারিনি। তবে ওই বিতর্কটি আমার অভিনয় ক্যারিয়ারের অপূরণীয় ক্ষতি করেছে। পরবর্তীতে আমি বুঝতে পারি যে এসব বিষয় সামলানোর জন্য পেশাদার টিমের প্রয়োজন হয়। আমি সব জায়গাতেই এই গুঞ্জনের প্রতিবাদ করেছিলাম।"
রাজ কাপুর পরিচালিত 'রাম তেরি গঙ্গা মৈলী' (১৯৮৫) দিয়ে বলিউডে পা রাখা মন্দাকিনী ক্যারিয়ারে ৭৫টিরও বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। অনিল কাপুর, মিথুন চক্রবর্তী ও গোবিন্দার মতো তারকাদের সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করলেও দাউদ ইব্রাহিমের সঙ্গে ওই ছবির বিতর্ক তার ক্যারিয়ারে একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা দেয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের মহাপরিচালক পদে সাংবাদিক ও কথাসাহিত্যিক এহসান মাহমুদ নিয়োগ পেয়েছেন। এই তথ্য বুধবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর আইন, ২০২৬-এর ধারা ১২(২) অনুযায়ী এহসান মাহমুদকে এই পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি যোগদানের তারিখ থেকে পরবর্তী এক বছরের জন্য এই দায়িত্ব পালন করবেন। এই নিয়োগের একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো, তাকে অন্য যেকোনো পেশা, ব্যবসা অথবা সরকারি, আধা-সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক সম্পূর্ণভাবে ত্যাগ করতে হবে। উপসচিব মো. গোলাম রব্বানীর স্বাক্ষরিত আদেশে জানানো হয়েছে, জনস্বার্থে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
নবনিযুক্ত মহাপরিচালক এহসান মাহমুদ তার নতুন দায়িত্ব গ্রহণের পর বলেন, "বাংলাদেশের ফ্যাসিবাদবিরোধী গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ইতিহাসে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান এক অবিস্মরণীয় ঘটনা।" তিনি আরও বলেন, "এর গৌরবময় স্মৃতি সংরক্ষণ, সংগ্রামের প্রকৃত ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা এবং জুলাইয়ের শহীদ ও যোদ্ধাদের আত্মত্যাগের স্মারক হিসেবে এই জাদুঘর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।"
তিনি জানান, গণ-অভ্যুত্থানের পর এই প্রতিষ্ঠানটি ঘিরে দেশের মানুষের মধ্যে নতুন আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, "গণতন্ত্র, সমঅধিকার ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার যে শিক্ষা জুলাই থেকে পাওয়া গেছে, তা সামনে রেখেই আমি কাজ করতে চাই।" তিনি আশা প্রকাশ করেন, সবার সম্মিলিত সংযোগ ও সক্রিয়তায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণ, চর্চা ও গবেষণার পাশাপাশি এই জাদুঘরকে একটি জাতীয় সাংস্কৃতিক বিদ্যাপীঠে রূপ দেওয়ার জন্য কাজ করবেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ পবিত্র মক্কা নগরী এবং পবিত্র মসজিদুল হারামের নিরাপত্তা ও পবিত্রতা বিঘ্নিত করার যেকোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। আজ বুধবার এক বিবৃতিতে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সভাপতি শাইখুল হাদিস মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক এবং মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী এই নিন্দা ও প্রতিবাদ প্রকাশ করেন।
নেতৃদ্বয় উল্লেখ করেন, পবিত্র মক্কা- মদিনা মুসলমানদের হৃদয়ের স্পন্দন এবং সমগ্র বিশ্বের মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত সম্মানিত ও পবিত্র স্থান। তারা বলেন, মক্কানগরীর নিরাপত্তা ও পবিত্রতার প্রতি হুমকি সৃষ্টি করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। হামলা ও সহিংসতার মাধ্যমে পবিত্র ভূমিতে আতঙ্ক সৃষ্টি করা ইসলামের শান্তি ও নিরাপত্তার আদর্শের পরিপন্থী।
হুথিদের পক্ষ থেকে পবিত্র মক্কানগরী লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা মুসলিম উম্মাহর জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। নেতৃবৃন্দ এ ধরনের কর্মকা- অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানান। জমিয়ত নেতৃবৃন্দ সউদী আরবের পবিত্র ভূমি, মক্কা- মদিনা এবং মুসলমানদের পবিত্র স্থানগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান। তারা মুসলিম বিশ্বের ঐক্য ও সংযম বজায় রেখে পবিত্র স্থানগুলোর নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় সম্মিলিত ভূমিকা পালনের জন্যও আহ্বান জানান। নেতৃবৃন্দ বলেন, পবিত্র মক্কা-মদিনার নিরাপত্তা রক্ষায় কোনো ধরনের হুমকি বা আগ্রাসন মেনে নেওয়া যায় না। আল্লাহ তাআলা পবিত্র ভূমি এবং সমগ্র মুসলিম উম্মাহকে সব ধরনের বিপদ-আপদ ও ফিতনা থেকে হেফাজত করুন এবং বিশ্বে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা করুন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ