বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০৮:৪৩ পি.এম
অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড়ধসে দেশের সাত জেলায় অন্তত ৫৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৪০ জন। বন্যা ও জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ১২ লাখ ১৬ হাজার ৮০৫ জনে পৌঁছেছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে ৫২ হাজার ৪৯৩টি পরিবার। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলায়।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকাল ৩টা পর্যন্ত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
বন্যাকবলিত জেলাগুলো হলো— খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ। এসব জেলার ৫৭টি উপজেলা এবং ৮টি পৌরসভা বন্যা ও অতিবৃষ্টির প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য অফিসার মাহবুবুর রহমান তুহিন জানিয়েছেন, মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে কক্সবাজারে। জেলাটিতে ৩২ জন মারা গেছেন। নিহতদের মধ্যে ১৯ জন স্থানীয় বাসিন্দা এবং ১৩ জন রোহিঙ্গা। চট্টগ্রামে ১৫ জন, বান্দরবানে সাত জন, রাঙামাটিতে তিন জন এবং মৌলভীবাজারে একজনের মৃত্যু হয়েছে।
আহত ৪০ জনের মধ্যে কক্সবাজারে ২৫ জন, চট্টগ্রামে ১২ জন, বান্দরবানে দুই জন এবং খাগড়াছড়িতে একজন রয়েছেন। কক্সবাজারে এখনও একজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য সাত জেলায় মোট ৮৭টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন ৮৪৯ জন। চট্টগ্রামে ১১টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৩৯৫ জন, বান্দরবানে ৬৭টি কেন্দ্রে ১৫০ জন, মৌলভীবাজারে ছয়টি কেন্দ্রে ২৪৯ জন এবং রাঙামাটির একটি কেন্দ্রে ৫৫ জন আশ্রয় নিয়েছেন। তবে খাগড়াছড়িতে কোনও আশ্রয়কেন্দ্রে মানুষ অবস্থান করছেন না বলে সরকারি হিসাবে দেখানো হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগে ১৬টি উপজেলায় আংশিক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ও মৃত্যুর হার উদ্বেগজনক।
দুর্গত মানুষদের সহায়তার জন্য ৮৭টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে, যেখানে বর্তমানে ৮৪৯ জন গৃহহীন মানুষ অবস্থান করছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারের পক্ষ থেকে দুর্গত সাতটি জেলাসহ সারা দেশে এ পর্যন্ত ৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা নগদ অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া ৯ হাজার ৫০ মেট্রিক টন চাল এবং ৪ হাজার ২০০ বান্ডিল ঢেউ টিনসহ গৃহ নির্মাণ মঞ্জুরি হিসেবে ১ কোটি ২৬ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
একই সাথে খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলায় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকেও বিশেষ আর্থিক সহায়তা (প্রতি জেলায় ২০ লাখ টাকা করে) দেওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রিপরিষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সচিবালয়ের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। ছবি : পিএমও
সরকার পূর্বের নিয়ম অনুসারে প্রতি বছর ১ নভেম্বর জাতীয় যুব দিবস উদযাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এছাড়া প্রতি বছর ১২ আগস্ট আন্তর্জাতিক যুব দিবস আলাদাভাবে পালিত হবে।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে বাংলাদেশের সচিবালয়ের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে এ প্রস্তাবের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রিসভার ১৩তম বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, পূর্বে প্রতি বছর ১ নভেম্বর জাতীয় যুব দিবস এবং ১২ আগস্ট আন্তর্জাতিক যুব দিবস উদযাপন করা হয়ে থাকে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে। কিন্তু সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের এক বৈঠকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক যুব দিবস একত্রে ১২ আগস্ট উদযাপনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছিল। এর ফলে ২০২৫ সালে প্রথমবারের মতো দু’টি দিবস একই দিনে পালিত হয়।
তবে বর্ষাকালে একসঙ্গে দুই দিবস উদযাপন করা কারণে যুব র্যালি, যুব সমাবেশ ও যুবমেলার মতো বিভিন্ন কর্মসূচি সফলভাবে আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। এর ফলে যুব উদ্যোক্তারা তাদের উৎপাদিত পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রয়ের ক্ষেত্রে নানা সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয় তুলে ধরা হয়েছে, জাতীয় যুব দিবস ছাড়া অন্য সময়ে যুবমেলার আয়োজন করলে কাঙ্ক্ষিত জনসম্পৃক্ততা ও বাণিজ্যিক সাফল্য অর্জন সম্ভব হয় না। অন্যদিকে জাতীয় যুব দিবস সরকারি অর্থায়নে উদযাপিত হলেও আন্তর্জাতিক যুব দিবস সাধারণত সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সহযোগিতায় পালন করা হয়।
এসব বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে, মন্ত্রিসভা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক যুব দিবস একত্রে ১২ আগস্ট উদযাপনের পরিবর্তে পৃথকভাবে ১২ আগস্ট আন্তর্জাতিক যুব দিবস এবং ১ নভেম্বর জাতীয় যুব দিবস উদযাপনের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, ‘জুলাই শহীদ দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেছেন।
তিনি বলেছেন, জুলাই বিপ্লবে শহীদদের আত্মত্যাগের মাধ্যমে দেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া পুনরায় শুরু হয়েছে। দীর্ঘ ১৫ বছরের দুঃশাসনের অবসান ঘটিয়ে ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবে আবু সাঈদসহ অসংখ্য শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে এ পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে। আলোচনা সভার শুরুতে শহীদ আবু সাঈদসহ জুলাই আন্দোলনে সকল শহীদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এরপর তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় মোনেজাত ও বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, তাদের এই ত্যাগ আমাদের বাঁচার অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছে এবং আমাদের মুক্তি দিয়েছে। আমরা একটি স্বৈরাচারী শাসনের কবল থেকে মুক্তি পেয়েছি। জুলাই আন্দোলনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেছেন, ‘আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাত একদিনে ঘটে না; দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ থেকেই আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। জুলাই আন্দোলনের পটভূমি তৈরি হয়েছিল ২০০৯ সাল থেকে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দীর্ঘ ১৫ বছরের সংগ্রাম ও আন্দোলনের মধ্য দিয়ে জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। এই দীর্ঘ সময়ে অসংখ্য নেতাকর্মী নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তৎকালীন সরকার ১৫ বছর ধরে ব্যাপক অনিয়ম, অন্যায় ও অবিচার চালিয়েছে। তাদের আচরণ ছিল অত্যন্ত হিংস্র।’
সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, তৎকালীন সরকার সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অবর্ণনীয় নির্যাতন চালিয়েছে, তাকে চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করেছে এবং কারাবন্দি করে হয়রানি করেছে। সাধারণ মানুষ স্বৈরাচারী সরকারের দুঃশাসনে অতিষ্ঠ হয়ে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের এই বিপ্লবে অংশ নিতে পাঠিয়েছেন। আবু সাঈদের মতো তরুণ বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে বলেছে ‘গুলি কর’। এটিই ছিল বীরত্বের এক অনন্য নিদর্শন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন, জুলাই বিপ্লবের শহীদদের পরিবার এবং আন্দোলনে আহত যোদ্ধাদের সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা ও পুনর্বাসনে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সব ধরনের সহায়তা প্রদান করবে। আলোচনা সভায় স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী সভাপতিত্ব করেন। এ সভায় বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব আহসানুল আজিজ, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব খোরশেদ আলম, যুগ্মসচিব ড. মুস্তাফিজুর রহমান, কমিউনিটি ক্লিনিক ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলুল্লাহ প্রমুখ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের সমন্বিত উপবৃত্তি কর্মসূচির স্কিম পরিচালকের পরিচয় দিয়ে প্রতারকচক্রের বিরুদ্ধে উপবৃত্তির ওটিপি ও পাসওয়ার্ড হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
এ ধরনের প্রতারণা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য উপজেলা অথবা থানা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকার অনুরোধ করেছে ট্রাস্ট কর্তৃপক্ষ।
প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের সমন্বিত উপবৃত্তি কর্মসূচি কার্যালয় থেকে জারিকৃত এক সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের সমন্বিত উপবৃত্তি কর্মসূচির স্কিম পরিচালকের ভুয়া পরিচয় দিয়ে প্রতারকচক্র বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে ফোন করে ওটিপি এবং পাসওয়ার্ডসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চাচ্ছে বলে অভিযোগ এসেছে।
এ রকম সন্দেহজনক ফোনের বিপরীতে কোনো ধরনের তথ্য বা ওটিপি প্রদান করা থেকে বিরত থাকতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে অনুরোধ করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী কখনো উপজেলা বা থানা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কিংবা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানের কাছ থেকে কোনো ধরনের ওটিপি অথবা পাসওয়ার্ড জানতে চেয়ে যোগাযোগ করেন না।
এতে বলা হয়েছে যে, কোনো প্রকার ওটিপি, পাসওয়ার্ড এবং উপবৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক তথ্য অন্য কারো কাছে হস্তান্তর না করার জন্য সকল উপজেলা ও থানা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিপুল উৎসাহ এবং উদ্দীপনা আরও আনন্দ ঘন পরিবেশের মধ্য দিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শ্রী শ্রী জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা র্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রথযাত্রাকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার দুপুরের পর থেকে কয়েক হাজার ভক্ত পুণ্যার্থী শহরের মধ্যপাড়া রাধা মাধব মন্দির থেকে ইস্কনের আয়োজনে র্যালিটি বের হয়। পরে, শহরের প্রধান-প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে শহরের কেন্দ্রীয় মন্দির আনন্দ বিহারী বাড়িতে এসে শেষ হয়।
আগামী এক সপ্তাহ আনন্দময়ী কালীবাড়িতে অবস্থান শেষে আবারো উল্টো রথের মাধ্যমে মধ্যপাড়া ইসকন মন্দিরে গিয়ে সপ্তাহব্যাপী রথযাত্রা অনুষ্ঠানটি শেষ হবে।
এদিকে, শহরের কালভৈরব মন্দির থেকে বিকেল ৪টার দিকে অপর একটি রথযাত্রা র্যালি বের হয়। র্যালিটি শহরের প্রধান-প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে আবারো কালভৈরব মন্দিরে গিয়ে শেষ হয়।
শহরের দক্ষিণাকালী বাড়ি মন্দিরের প্রধান পুরোহিত শ্রী অচিন্ত্য চক্রবর্তী জানান, হিন্দু শ্রাস্ত্র ব্রহ্মাণ্ডপুরাণ অনুযায়ী, ভগবান শ্রীকৃষ্ণ তাঁর প্রিয় ভক্ত রাজা ইন্দ্রদ্যন্মুর সম্মুখে আবির্ভূত হন। এসময় ভারতের পুরীর সমুদ্রতটে ভেসে আসা একটি কাষ্ঠখণ্ড দিয়ে তাঁর মূর্তি নির্মাণের আদেশ দেন। মূর্তিনির্মাণের জন্য রাজা একজন উপযুক্ত কাষ্ঠশিল্পীর সন্ধান করতে থাকেন। তখন এক রহস্যময় বৃদ্ধ ব্রাহ্মণ কাষ্ঠশিল্পী রাজার সামনে এসে উপস্থিত হন এবং মূর্তি নির্মাণের জন্য কয়েকদিন সময় চেয়ে নেন। মূর্তি নির্মাণের পূর্বে সেই কাষ্ঠশিল্পী রাজাকে জানিয়েছিলেন, ‘কেউ যেন তার কাজে বাধা না দেন।' বন্ধ দরজার আড়ালে শুরু হয় কাজ। রাজা ও রানিসহ সবাই নির্মাণকাজের ব্যাপারে অত্যন্ত আগ্রহী হয়ে ওঠেন। তারা প্রতিদিন বন্ধ দরজার কাছে যাওয়া শুরু করেন এবং শুনতে পেতেন ভেতর থেকে খোদাইয়ের আওয়াজ ভেসে আসছে। পরে ৬-৭ দিন অতিবাহিত হওয়ার পর রাজা যখন বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলেন, এমন সময় আওয়াজ বন্ধ হয়ে যায়। অত্যুৎসাহী রানি কৌতুহল সংবরণ করতে না পেরে দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করেন। দেখেন মূর্তি তখনও অর্ধসমাপ্ত এবং কাষ্ঠশিল্পী অন্তর্ধিত। এই রহস্যময় কাষ্ঠশিল্পী ছিলেন দেবশিল্পী বিশ্বকর্মা। মূর্তির হস্তপদ নির্মিত হয়নি বলে রাজা বিমর্ষ হয়ে পড়েন। কাজে বাঁধাদানের জন্য অনুতাপ করতে থাকেন। তখন দেবর্ষি নারদ তাঁর সম্মুখে আবির্ভূত হন। নারদ রাজাকে সান্ত্বনা দিয়ে বলেন, এই অর্ধসমাপ্ত মূর্তি পরমেশ্বরের এক স্বীকৃত স্বরূপ এবং এই অসম্পূর্ণ রূপেই পূজা শুরু করতে বলেন তিনি। এরপর থেকে বর্তমান যে রূপ এ রূপেই পুজিত হন জগন্নাথ দেব।
এদিকে, পুরোহিত অচিন্ত্য চক্রবর্তী আর জানান, গর্ভগৃহ মন্দির থেকে সনাতন শাস্ত্র অনুযায়ী জগন্নাথদেব বলরাম ও শুভদ্রা দেবী মাসির বাড়ি রাজা ইন্দ্রদ্যুম্নের পত্নী গুন্ডিচার বাড়ির মন্দিরে যান। সেখানে এক সপ্তাহ অবস্থান করবেন। পরে আবারো শ্রী শ্রী জগন্নাথ দেব, বলরাম, শুভদ্রা দেবী নিজের গৃহ মন্দিরে ফিরে যাবেন। এর মধ্যদিয়ে ভক্তদের জন্য রেখে যাবেন আশীর্বাদ।
সনাতন হিন্দু সম্প্রদায়ের বিশ্বাস অনুযায়ী রথের দড়িতে স্পর্শ করলে জানা-অজানা পাপ -তাপ রোগ শোক থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। সেই বিশ্বাস থেকে সম্প্রদায়ের প্রতিটি ভক্ত রথের দড়ি টেনে জগন্নাথ দেব, বলরাম, শুভদ্রা দেবীকে মাসির বাড়িতে নিয়ে আসেন। পাশাপাশি উল্টো রথের মাধ্যমে আবার গৃহে নিয়ে যাবেন।
ইসকন মন্দিরের অন্যতম ভক্ত রাকেশ দাস জানান, এই রথযাত্রায় অংশ করলে, জন্ম জন্মান্তরের সকল পাপ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। প্রভু জগন্নাথ অত্যন্ত কৃপাময় দয়ালু। তিনি ভক্তের মনোবাসনা পূর্ণ করে থাকেন। উল্টো রথের মধ্য দিয়ে শেষ হবে সপ্তাহ দিনব্যাপী রথযাত্রা উৎসব।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ