প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বিপুল উৎসাহ এবং উদ্দীপনা আরও আনন্দ ঘন পরিবেশের মধ্য দিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শ্রী শ্রী জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা র্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রথযাত্রাকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার দুপুরের পর থেকে কয়েক হাজার ভক্ত পুণ্যার্থী শহরের মধ্যপাড়া রাধা মাধব মন্দির থেকে ইস্কনের আয়োজনে র্যালিটি বের হয়। পরে, শহরের প্রধান-প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে শহরের কেন্দ্রীয় মন্দির আনন্দ বিহারী বাড়িতে এসে শেষ হয়।
আগামী এক সপ্তাহ আনন্দময়ী কালীবাড়িতে অবস্থান শেষে আবারো উল্টো রথের মাধ্যমে মধ্যপাড়া ইসকন মন্দিরে গিয়ে সপ্তাহব্যাপী রথযাত্রা অনুষ্ঠানটি শেষ হবে।
এদিকে, শহরের কালভৈরব মন্দির থেকে বিকেল ৪টার দিকে অপর একটি রথযাত্রা র্যালি বের হয়। র্যালিটি শহরের প্রধান-প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে আবারো কালভৈরব মন্দিরে গিয়ে শেষ হয়।
শহরের দক্ষিণাকালী বাড়ি মন্দিরের প্রধান পুরোহিত শ্রী অচিন্ত্য চক্রবর্তী জানান, হিন্দু শ্রাস্ত্র ব্রহ্মাণ্ডপুরাণ অনুযায়ী, ভগবান শ্রীকৃষ্ণ তাঁর প্রিয় ভক্ত রাজা ইন্দ্রদ্যন্মুর সম্মুখে আবির্ভূত হন। এসময় ভারতের পুরীর সমুদ্রতটে ভেসে আসা একটি কাষ্ঠখণ্ড দিয়ে তাঁর মূর্তি নির্মাণের আদেশ দেন। মূর্তিনির্মাণের জন্য রাজা একজন উপযুক্ত কাষ্ঠশিল্পীর সন্ধান করতে থাকেন। তখন এক রহস্যময় বৃদ্ধ ব্রাহ্মণ কাষ্ঠশিল্পী রাজার সামনে এসে উপস্থিত হন এবং মূর্তি নির্মাণের জন্য কয়েকদিন সময় চেয়ে নেন। মূর্তি নির্মাণের পূর্বে সেই কাষ্ঠশিল্পী রাজাকে জানিয়েছিলেন, ‘কেউ যেন তার কাজে বাধা না দেন।' বন্ধ দরজার আড়ালে শুরু হয় কাজ। রাজা ও রানিসহ সবাই নির্মাণকাজের ব্যাপারে অত্যন্ত আগ্রহী হয়ে ওঠেন। তারা প্রতিদিন বন্ধ দরজার কাছে যাওয়া শুরু করেন এবং শুনতে পেতেন ভেতর থেকে খোদাইয়ের আওয়াজ ভেসে আসছে। পরে ৬-৭ দিন অতিবাহিত হওয়ার পর রাজা যখন বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলেন, এমন সময় আওয়াজ বন্ধ হয়ে যায়। অত্যুৎসাহী রানি কৌতুহল সংবরণ করতে না পেরে দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করেন। দেখেন মূর্তি তখনও অর্ধসমাপ্ত এবং কাষ্ঠশিল্পী অন্তর্ধিত। এই রহস্যময় কাষ্ঠশিল্পী ছিলেন দেবশিল্পী বিশ্বকর্মা। মূর্তির হস্তপদ নির্মিত হয়নি বলে রাজা বিমর্ষ হয়ে পড়েন। কাজে বাঁধাদানের জন্য অনুতাপ করতে থাকেন। তখন দেবর্ষি নারদ তাঁর সম্মুখে আবির্ভূত হন। নারদ রাজাকে সান্ত্বনা দিয়ে বলেন, এই অর্ধসমাপ্ত মূর্তি পরমেশ্বরের এক স্বীকৃত স্বরূপ এবং এই অসম্পূর্ণ রূপেই পূজা শুরু করতে বলেন তিনি। এরপর থেকে বর্তমান যে রূপ এ রূপেই পুজিত হন জগন্নাথ দেব।
এদিকে, পুরোহিত অচিন্ত্য চক্রবর্তী আর জানান, গর্ভগৃহ মন্দির থেকে সনাতন শাস্ত্র অনুযায়ী জগন্নাথদেব বলরাম ও শুভদ্রা দেবী মাসির বাড়ি রাজা ইন্দ্রদ্যুম্নের পত্নী গুন্ডিচার বাড়ির মন্দিরে যান। সেখানে এক সপ্তাহ অবস্থান করবেন। পরে আবারো শ্রী শ্রী জগন্নাথ দেব, বলরাম, শুভদ্রা দেবী নিজের গৃহ মন্দিরে ফিরে যাবেন। এর মধ্যদিয়ে ভক্তদের জন্য রেখে যাবেন আশীর্বাদ।
সনাতন হিন্দু সম্প্রদায়ের বিশ্বাস অনুযায়ী রথের দড়িতে স্পর্শ করলে জানা-অজানা পাপ -তাপ রোগ শোক থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। সেই বিশ্বাস থেকে সম্প্রদায়ের প্রতিটি ভক্ত রথের দড়ি টেনে জগন্নাথ দেব, বলরাম, শুভদ্রা দেবীকে মাসির বাড়িতে নিয়ে আসেন। পাশাপাশি উল্টো রথের মাধ্যমে আবার গৃহে নিয়ে যাবেন।
ইসকন মন্দিরের অন্যতম ভক্ত রাকেশ দাস জানান, এই রথযাত্রায় অংশ করলে, জন্ম জন্মান্তরের সকল পাপ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। প্রভু জগন্নাথ অত্যন্ত কৃপাময় দয়ালু। তিনি ভক্তের মনোবাসনা পূর্ণ করে থাকেন। উল্টো রথের মধ্য দিয়ে শেষ হবে সপ্তাহ দিনব্যাপী রথযাত্রা উৎসব।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন