বৃহস্পতিবার, ৫ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:৪৭ এম
পুলিশ গ্রেফতার করেছে আওয়ামী লীগের চৌগাছা উপজেলার ধুলিয়ানী ইউনিয়নের সভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম, যিনি শফি মেম্বার নামেও পরিচিত।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাতে চৌগাছার কাবিলপুর বাজার থেকে তাকে আটক করা হয়। আজ (বুধবার) আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
শফিকুল ইসলাম কাবিলপুর গ্রামের সোনাই মণ্ডলের পুত্র। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে মাদক সংক্রান্ত একাধিক মামলা রয়েছে, যার মধ্যে মোট ১৮টি মামলা অন্তর্ভুক্ত।
মাদক কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই রয়েছে শফিকুলের বিরুদ্ধে। ২০১৭ সালের ২৪ মে যশোর প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে তৎকালীন পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান জেলার ১৪ জন শীর্ষ মাদক কারবারিকে ধরিয়ে দিতে পুরস্কার ঘোষণা করেন। ওই তালিকার চার নম্বরে শফিকুল ইসলামের নাম ছিল। তাকে ধরিয়ে দিলে ২৫ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দেয় পুলিশ।
পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার হলে শফিকুল বিদেশে চলে যান বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়। পরে দেশে ফিরে তিনি আওয়ামী রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন। ২০১৭ সালের ২৮ মে চৌগাছার ধুলিয়ানী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে তাকে সভাপতি ঘোষণা করা হয়।
স্থানীয়দের দাবি, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরও চৌগাছায় আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ ও সাংগঠনিক কার্যক্রম বজায় রাখতে শফিকুলের সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে। ভারত সীমান্তবর্তী এলাকায় তার বাড়ি হওয়ায়, তিনি ভারতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে স্থানীয় নেতাকর্মীদের যোগাযোগ রক্ষায় সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিশেষ করে, আগামী ডিসেম্বরকে কেন্দ্র করে ভারতে অবস্থানরত নেতাদের বিভিন্ন বার্তা স্থানীয় নেতাকর্মীদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কাজে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। তবে, এসব অভিযোগের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য প্রদান করেনি।
চৌগাছা থানার ওসি কাজী বাবুল হোসেন শফিকুলের গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, তার বিরুদ্ধে ডজনের বেশি মাদক মামলা রয়েছে। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শরীরে এনার্জি বৃদ্ধি করার উদ্দেশ্যে অনেক মানুষ এনার্জি ড্রিঙ্কস গ্রহণ করে থাকেন। তবে, এই ধরনের ড্রিঙ্কস শরীরের এনার্জি বাড়ানোর পরিবর্তে গুরুতর বিপদের সৃষ্টি করতে পারে।
গবেষণায় দেখা গেছে, ক্যাফেইন ও অন্যান্য উত্তেজক উপাদান সমৃদ্ধ পানীয় এবং সাপ্লিমেন্টের সঙ্গে হৃদযন্ত্রের মারাত্মক সমস্যা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) দ্বারা প্রকাশিত রিপোর্টের বিশ্লেষণের মাধ্যমে এই তথ্য উঠে এসেছে।
এছাড়া, উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই ধরনের পণ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত হৃদরোগের রিপোর্টের প্রায় ৪৫ শতাংশই ১৮ থেকে ৩৪ বছর বয়সীদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে। এই বয়সে শরীরের সক্ষমতা নিয়ে আত্মবিশ্বাস সবচেয়ে বেশি থাকে, অথচ এই বয়সের মধ্যে উদ্বেগজনক প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
গবেষণায় কী দেখা গেল?
যুক্তরাষ্ট্রের হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের (এএইচএ) ২০২৬ সালের সম্মেলনে আলোচনা করার জন্য উপস্থাপিত গবেষণায় ২০১৭ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে এফডিএর নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্যভাণ্ডারে জমা পড়া ২৮ হাজার ৩৪৫টি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার রিপোর্ট পর্যালোচনা করা হয়। এর মধ্যে ৮৫৪টি রিপোর্ট ছিল এনার্জি ড্রিঙ্কস এবং ক্যাফেইন ও অন্যান্য উত্তেজক উপাদানযুক্ত খাদ্য-পরিপূরক সম্পর্কিত। বাকি ২৭ হাজার ৪৯১টি রিপোর্টে এই ধরনের উপাদান উপস্থিত ছিল না।
বিশ্লেষণের ফলাফল অনুযায়ী, ক্যাফেইন ও উত্তেজক উপাদানযুক্ত পণ্যের ক্ষেত্রে কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের হার প্রায় এগারো গুণ বেশি। হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা প্রায় সাড়ে চার গুণ বেড়ে যায়। অস্বাভাবিক হৃদ্স্পন্দন বা ভেন্ট্রিকুলার অ্যারিদমিয়া এবং বুক ধড়ফড়ের হারও প্রায় চার গুণ বেশি দেখা যায়। এছাড়া, হৃদ্স্পন্দন বেড়ে যাওয়ার ঘটনা প্রায় তিন গুণ বৃদ্ধি পায়, বুকে ব্যথা ও অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যায়।
ক্যাফেইনে কি বিপদ বাড়ে?
ক্যাফেইন শরীরকে সাময়িকভাবে চনমনে করে, ঘুমের ভাব কাটায় এবং সতর্কতা বৃদ্ধি করে। কিন্তু অতিরিক্ত মাত্রায় এই উপাদান শরীরে প্রবেশ করলে হৃদ্স্পন্দন ও রক্তচাপের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এনার্জি ড্রিঙ্কসের ক্ষেত্রে সমস্যা আরও জটিল হয়ে ওঠে। কারণ, এতে অনেক সময় উচ্চমাত্রায় ক্যাফেইনের পাশাপাশি একাধিক উত্তেজক উপাদান মেশানো থাকে।
চিকিৎসকদের মতে, এনার্জি ড্রিঙ্কস শুধুমাত্র শরীরের এনার্জি বা সতর্কতা বাড়ায় না, বরং হৃদ্যন্ত্রের উপরও প্রভাব ফেলতে পারে। এতে থাকা অতিরিক্ত ক্যাফেইন এবং অন্যান্য উত্তেজক উপাদান হৃদ্যন্ত্রের বৈদ্যুতিক কার্যকলাপকে বিঘ্নিত করতে পারে। এর ফলে অনিয়মিত হৃদ্স্পন্দনের আশঙ্কা অনেকটাই বৃদ্ধি পায়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দরুদ শরিফ পাঠের মাধ্যমে প্রিয়নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের একটি বিশেষ উপায়। এটি কেবল একটি জিকির নয়; বরং আল্লাহর নির্দেশ পালন, নবীজির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন এবং অসংখ্য সওয়াব অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল। একজন মুমিন যত বেশি দরুদ পাঠ করেন, তত বেশি তিনি নবীজির প্রতি নিজের ভালোবাসা ও আনুগত্য প্রকাশ করেন। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা স্বয়ং নবীজির ওপর দরুদ পাঠের নির্দেশ দিয়েছেন। হাদিসেও দরুদ পাঠের অসংখ্য ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। বিশেষ কিছু সময়ে দরুদ পাঠের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। তাই কখন, কীভাবে এবং কোন কোন সময়ে দরুদ শরিফ পড়া উত্তম, তা প্রত্যেক মুসলমানের জানা প্রয়োজন।
দরুদ শরিফের অর্থ ও তাৎপর্য
ফারসি ভাষার ‘দরুদ’ শব্দের অর্থ শুভকামনা, কল্যাণ ও রহমত প্রার্থনা। ইসলামি পরিভাষায় মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি আল্লাহর রহমত, মর্যাদা ও শান্তি কামনা করাকে দরুদ বলা হয়। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন—
إِنَّ اللَّهَ وَمَلَائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى النَّبِيِّ ۚ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا صَلُّوا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوا تَسْلِيمًا
এই আয়াতের মাধ্যমে বোঝা যায়, নবীজির ওপর দরুদ পাঠ করা মুমিনদের জন্য আল্লাহর বিশেষ নির্দেশ। আল্লাহর পক্ষ থেকে নবীর (সা.) প্রতি সালাতের অর্থ তার প্রশংসা ও রহমত দান, ফেরেশতাদের পক্ষ থেকে তা রহমতের দোয়া এবং মুমিনদের পক্ষ থেকে তা দরুদ ও সালাম পাঠ।
দোয়া করার ক্ষেত্রে দরুদ পাঠের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। হজরত ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন—
إِنَّ الدُّعَاءَ مَوْقُوفٌ بَيْنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ لَا يَصْعَدُ مِنْهُ شَيْءٌ حَتَّى تُصَلِّيَ عَلَى نَبِيِّكَ
‘নিশ্চয়ই দোয়া আসমান ও জমিনের মাঝখানে আটকে থাকে। যতক্ষণ না তুমি তোমার নবীর (সা.) ওপর দরুদ পাঠ কর, ততক্ষণ তা ওপরে ওঠে না।’ (তিরমিজি ৪৮৬)
অতএব, দোয়ার শুরুতে আল্লাহর প্রশংসা ও নবীজির ওপর দরুদ পাঠ করা এবং শেষে দরুদ পাঠের মাধ্যমে দোয়া শেষ করা উত্তম।
দরুদ শরিফ পাঠের বিশেষ ফজিলত
দরুদ পাঠের মাধ্যমে একজন মুমিন আল্লাহর রহমত, গুনাহ মাফ এবং মর্যাদা বৃদ্ধির মতো অসংখ্য কল্যাণ লাভ করতে পারেন। হাদিসে এর কয়েকটি বিশেষ ফজিলত তুলে ধরা হয়েছে—
১. একবার দরুদ শরিফে আল্লাহর পক্ষ থেকে দশটি রহমত
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
مَنْ صَلَّى عَلَيَّ صَلَاةً صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ بِهَا عَشْرًا
‘যে ব্যক্তি আমার ওপর একবার দরুদ পাঠ করে, আল্লাহ তার ওপর দশবার রহমত বর্ষণ করেন।’ (মুসলিম ৪০৮)
অর্থাৎ, একজন মুমিন একবার দরুদ পাঠ করলেও আল্লাহর পক্ষ থেকে দশগুণ রহমত লাভের সৌভাগ্য অর্জন করেন। এটি দরুদ পাঠের অন্যতম বড় ফজিলত।
২. কিয়ামতের দিন নবীজির (সা.) নৈকট্য লাভ
দরুদ পাঠের আরেকটি বিশেষ পুরস্কার হলো কিয়ামতের দিন রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নৈকট্য লাভ করা। তিনি বলেছেন—
إِنَّ أَوْلَى النَّاسِ بِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَكْثَرُهُمْ عَلَيَّ صَلَاةً
‘কিয়ামতের দিন আমার সবচেয়ে নিকটবর্তী হবে সেই ব্যক্তি, যে আমার ওপর সবচেয়ে বেশি দরুদ পাঠ করেছে।’ (তিরমিজি ৪৮৪)
তাহলে জীবনের প্রতিটি দিনে বেশি বেশি দরুদ পাঠের অভ্যাস গড়ে তোলা প্রত্যেক মুমিনের জন্য অত্যন্ত কল্যাণকর।
৩. নবীজির (সা.) নাম শুনে দরুদ শরিফ না পড়া দুর্ভাগ্যের কারণ
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নাম উচ্চারিত হলে তার ওপর দরুদ পাঠ করা উচিত। এ বিষয়ে তিনি কঠোর সতর্কবাণী দিয়েছেন। তিনি বলেন—
الْبَخِيلُ مَنْ ذُكِرْتُ عِنْدَهُ فَلَمْ يُصَلِّ عَلَيَّ
‘কৃপণ সেই ব্যক্তি, যার সামনে আমার নাম উচ্চারণ করা হলো, অথচ সে আমার ওপর দরুদ পাঠ করল না।’ (তিরমিজি ৩৫৪৬)
এ হাদিস থেকে বোঝা যায়, নবীজির (সা.) নাম শুনলে দরুদ পাঠের অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত। এটি তার প্রতি ভালোবাসা ও সম্মান প্রকাশের অন্যতম মাধ্যম।
তাহলে কোন কোন সময়ে দরুদ শরিফ পাঠ করবেন?
দরুদ শরিফ পাঠের জন্য নির্দিষ্ট কোনো সময়ের বাধ্যবাধকতা নেই। পবিত্রতা বজায় রেখে দিন-রাতের যে কোনো সময় দরুদ শরিফ পাঠ করা যায়। তবে কুরআন ও হাদিসে কিছু বিশেষ সময় ও অবস্থায় দরুদ পাঠের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সেগুলো হলো—
১. নামাজের শেষ বৈঠকে
নামাজের শেষ বৈঠকে তাশাহহুদের পর দরুদে ইবরাহিম পাঠ করা হয়। এটি নামাজের গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত আমল। দরুদে ইবরাহিমের শুরু—
اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَىٰ مُحَمَّدٍ وَعَلَىٰ آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَىٰ إِبْرَاهِيمَ وَعَلَىٰ آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ
‘হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মদ (সা.) ও তার পরিবারের ওপর রহমত বর্ষণ করুন, যেমন আপনি ইবরাহিম (আ.) ও তার পরিবারের ওপর রহমত বর্ষণ করেছেন। নিশ্চয়ই আপনি প্রশংসিত ও মহিমান্বিত। (বুখারি ৩৩৭০, মুসলিম ৪০৬)
২. নবীজি (সা.)-এর নাম শুনলে
কোনো আলোচনায়, ওয়াজে, মাহফিলে কিংবা অন্য কোনো মাধ্যমে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নাম উচ্চারিত হলে তার ওপর দরুদ শরিফ পাঠ করা উচিত। এটি নবীজির (সা.) প্রতি ভালোবাসা ও সম্মান প্রদর্শনের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
৩. দোয়া করার আগে ও পরে
দোয়া করার শুরুতে আল্লাহর প্রশংসা ও নবীজির (সা.) ওপর দরুদ শরিফ পাঠ করা এবং শেষে দরুদ শরিফ পাঠ করা উত্তম। এতে দোয়ার আদব রক্ষা হয় এবং দোয়া কবুলের আশা করা যায়।
৪. আজানের পর
আজান শেষ হলে প্রথমে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর দরুদ শরিফ পাঠ করতে হবে। এরপর তার জন্য আল্লাহর কাছে ওয়াসিলার মর্যাদা প্রার্থনা করতে হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
إِذَا سَمِعْتُمُ الْمُؤَذِّنَ فَقُولُوا مِثْلَ مَا يَقُولُ ثُمَّ صَلُّوا عَلَيَّ
‘তোমরা যখন মুয়াজ্জিনের আজান শুনবে, তখন সে যা বলে তোমরাও তা বলবে। এরপর আমার ওপর দরুদ শরিফ পাঠ করবে।’ (মুসলিম ৩৮৪)
৫. জুমার দিন ও জুমার রাতে
শুক্রবার দরুদ পাঠের বিশেষ ফজিলত রয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
إِنَّ مِنْ أَفْضَلِ أَيَّامِكُمْ يَوْمَ الْجُمُعَةِ، فَأَكْثِرُوا عَلَيَّ مِنَ الصَّلَاةِ فِيهِ
‘তোমাদের দিনগুলোর মধ্যে সর্বোত্তম দিন হলো জুমার দিন। সুতরাং এ দিনে তোমরা আমার ওপর বেশি বেশি দরুদ শরিফ পাঠ কর।’ (আবু দাউদ ১০৪৭)
তাহলে জুমার দিন ও আগের রাত থেকে বেশি বেশি দরুদ শরিফ পাঠের অভ্যাস করা উচিত।
৬. কোনো মজলিস বা বৈঠক শেষ করার সময়
কোনো বৈঠক, আলোচনা কিংবা মজলিস শেষে দরুদ শরিফ পাঠ করা উত্তম। মজলিসে আল্লাহর জিকির ও রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর দরুদ পাঠের গুরুত্ব রয়েছে। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কোনো দল যে মজলিসে বসে আল্লাহকে স্মরণ করে না এবং নবীজির ওপর দরুদ শরিফ পাঠ করে না, তারা সেই মজলিসের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।’ (তিরমিজি ৩৩৮০)
৭. মসজিদে প্রবেশের সময়
মসজিদে প্রবেশের সময় সাধারণ জিকির ও দোয়ার পাশাপাশি নবীজির (সা.) ওপর দরুদ শরিফ পাঠ করা যায়।
৮. মদিনায় রওজা জিয়ারতের সময়
মদিনায় মসজিদে নববিতে প্রবেশের সময়ও রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর দরুদ শরিফ পাঠ করা। বিশেষ করে মদিনা মুনাওয়ারায় মসজিদে নববিতে প্রবেশ করলে এবং তার রওজা জিয়ারত করার সময়ও রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি সালাম ও দরুদ শরিফ পেশ করা উচিত।
এটি তার প্রতি ভালোবাসা ও সম্মান প্রকাশের সুন্দর মাধ্যম।
৮. বিপদ-আপদ ও দুশ্চিন্তার সময়
বিপদ-আপদ, দুশ্চিন্তা ও সংকটের সময় আল্লাহর কাছে দোয়া করার পাশাপাশি দরুদ শরিফ পাঠ করা যায়। দরুদ শরিফ পাঠ নিজেই একটি ফজিলতপূর্ণ ইবাদত। তাই বিপদের সময়ও বেশি বেশি দরুদ শরিফ পাঠের অভ্যাস রাখা উচিত।
৯. বই, চিঠি ও লেখালেখির সময়
ইসলামি বই, প্রবন্ধ, চিঠি কিংবা অন্য কোনো লেখায় রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নাম উল্লেখ করলে তার নামের সঙ্গে ‘সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ লেখা বা বলা উচিত। এটি নবীজির প্রতি সম্মান প্রকাশের একটি সুন্দর প্রচলিত রীতি।
দরুদ শরিফ এমন একটি বরকতময় আমল, যার মাধ্যমে একজন মুমিন আল্লাহর রহমত লাভ করতে পারেন এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি নিজের ভালোবাসা প্রকাশ করতে পারেন। একবার দরুদ শরিফ পাঠে আল্লাহর পক্ষ থেকে দশবার রহমত লাভ, কিয়ামতের দিন নবীজির নৈকট্য অর্জনসহ অসংখ্য ফজিলতের কথা হাদিসে বর্ণিত হয়েছে।
অতএব, শুধু বিশেষ দিন কিংবা বিশেষ সময়ে নয়, বরং জীবনে প্রতিটি দিন ও রাতে দরুদ শরিফ পাঠের অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত। কাজের ফাঁকে, অবসর সময়ে, নামাজের পর এবং বিশেষ করে জুমার দিনে বেশি বেশি দরুদ পাঠ করা যেতে পারে।
মনে রাখতে হবে, নবীজির (সা.) প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ কেবল মুখের দাবির বিষয় নয়, বরং তার প্রতি দরুদ শরিফ পাঠ করা, তার সুন্নাহ অনুসরণ করা এবং তার আদর্শে জীবন গড়ার মধ্য দিয়েই সেই ভালোবাসার প্রকৃত প্রকাশ ঘটে। তাই আসুন, জীবনের প্রতিটি দিনের আমলনামাকে দরুদ শরিফের সৌন্দর্যে সমৃদ্ধ করি। আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে দরুদ শরিফের আমল করার তৌফিক দান করুন। আমিন।
লেখক: ইসলামিক স্কলার, মুফাচ্ছিরে কুরআন ও পীর সাহেব, শাজুলিয়া দরবার শরিফ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশে সৌরবিদ্যুতের ব্যাপক প্রসারের জন্য সরকারি নীতি সহায়তা ও প্রণোদনার পাশাপাশি সহজ শর্তে অর্থায়নের ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। পরিবেশবান্ধব এই খাতাটিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য কর ও শুল্ক সুবিধা, কম সুদে ঋণ, বেসরকারি মূলধন আকর্ষণ এবং কার্বন ক্রেডিট থেকে আয় নিশ্চিত করার বিভিন্ন কৌশল বিবেচনা করা হচ্ছে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে দুই দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ সোলার এক্সপো ২০২৬’-এর সমাপনী দিনের সেমিনারে বিদ্যুৎ সচিব মিরানা মাহরুখ এসব কথা বলেন। আলোচনায় তিনি উল্লেখ করেন, সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণের পথে যেসব বাধা রয়েছে, সরকার তা দূর করতে অত্যন্ত আন্তরিক। সেমিনারে বিশেষজ্ঞদের দেওয়া বিভিন্ন প্রস্তাব ও সুপারিশ গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করে শিগগিরই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে এই খাতে কাঙ্ক্ষিত সফলতা আনতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
‘বাংলাদেশের সোলার বিপ্লবের জন্য নীতি, জনশক্তি ও মূলধন’ শীর্ষক প্রতিপাদ্য নিয়ে চার পর্বের বিশেষায়িত এই সেমিনারটি বিদ্যুৎ বিভাগ ও ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (ইডকল) যৌথভাবে আয়োজন করে। আলোচনা চলাকালে জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশল (২০২৬-২০৩০) সফলভাবে বাস্তবায়ন, মানসম্মত সরঞ্জাম ব্যবহার এবং আমদানিতে শুল্ক ছাড় অব্যাহত রাখার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো প্রাধান্য পায়।
সরকারি ভবনের ছাদে সৌর প্যানেল বসানোর জন্য বেসরকারি বিনিয়োগ উৎসাহিত করার ওপর গুরুত্ব দেন আলোচকরা। এজন্য দীর্ঘমেয়াদে অর্থ পরিশোধের নিশ্চয়তা এবং ভবনগুলোর কাঠামোগত শক্তি পরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হয়। অন্যদিকে, শিল্পকারখানায় সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়াতে মানসম্মত ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম, নেট মিটারিং সুবিধা এবং বিক্রয়োত্তর সেবা শক্তিশালী করার আহ্বান জানান বিশেষজ্ঞরা।
প্রকল্পগুলোতে অর্থায়নের পথ সুগম করতে কম সুদে ঋণ, গ্রিন বন্ড চালু, স্থানীয় ও বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং জামানতের কঠোর শর্ত শিথিল করার প্রস্তাব দেন বক্তারা। এছাড়া বৈদেশিক মুদ্রার দর ওঠানামাজনিত ঝুঁকি সামলাতে একটি জাতীয় হেজিং ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়টিও উঠে আসে।
এর আগে গত ৩ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুই দিনব্যাপী এ প্রদর্শনীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এই আয়োজনে দেশি-বিদেশি ৮০টিরও বেশি প্রতিষ্ঠান সৌর প্যানেল, ইনভার্টার, উন্নত ব্যাটারি ও সেচ প্রযুক্তির মতো নানা উদ্ভাবন প্রদর্শন করে। উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের ধারণা, এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে দেশে নতুন বিনিয়োগের দুয়ার উন্মোচিত হবে, যা জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দীর্ঘমেয়াদে দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিরাপত্তাকে আরও শক্তিশালী করবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গাজীপুরে পোশাক শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে চলমান আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে দুর্বৃত্তদের হামলায় নিহত পোশাক শ্রমিক তৌফিক হোসেনের পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
বুধবার (৪ নভেম্বর) বিকাল সাড়ে ৪টায় গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কোচাশহর ইউনিয়নের ছয়ঘরিয়া এলাকায় নিহত তৌফিকের বাড়িতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দা ইয়াসমিন সুলতানা উপস্থিত হন। সেখানে তিনি নিহতের স্ত্রী সেতু মনি ও ভাই হারুন উর রশিদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে এক লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা তুলে দেন।
পরে মুঠোফোনে ভিডিও কলের মাধ্যমে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী নিহতের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি নিহতের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং সবসময় তাদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন। সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাসও প্রদান করেন তিনি। এ ছাড়া, এ ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার কথা জানান শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তামশিদ ইরাম খান, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আব্দুর রহিম, উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা এনামুল হক, কোচাশহর ইউপি চেয়ারম্যান জহুরুল হক জাহিদ এবং ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফরিদুল ইসলাম প্রমুখ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ