১০:৪২ পি.এম
বিশ্বকাপের ম্যাচের মাঝে একটি হাইড্রেশন ব্রেক বা পানি পানের বিরতি দেওয়া হয়েছে। এআই দ্বারা বানানো একটি প্রতীকী ছবির সঙ্গে প্রকাশ করা হয়েছে খবরটি। ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপে হাইড্রেশন ব্রেকের জন্য প্রতি অর্ধে তিন মিনিট সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এই বিরতি থেকে বিপুল অর্থ রোজগার করেছে। সেইসাথে, ২০৩০ ও ২০৩৪ সালের বিশ্বকাপেও এই বিরতি রাখা নিয়ে ফিফার চিন্তা ভাবনা চলছে—এমনটি রিপোর্ট করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ।
বিশ্বকাপ ম্যাচের মাঝপথে তিন মিনিটের নির্ধারিত বিরতি মূলত ফুটবলারদের পানি পান করার এবং শরীর ঠান্ডা রাখার উপায় হিসেবে গন্য হয়েছে। তবে, এটি ফিফার জন্য একটি উল্লেখযোগ্য বাণিজ্যিক সুযোগও সৃষ্টি করেছে।
ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২০৩০ ও ২০৩৪ বিশ্বকাপের সম্প্রচারস্বত্বের নতুন চুক্তিতে প্রতি অর্ধে বাধ্যতামূলক ভাবে তিন মিনিটের বিরতিকে অন্তর্ভুক্ত করার কথা ভাবছে ফিফা। এই কারণে, ভবিষ্যতে বিশ্বকাপের ম্যাচের মাঝপথে নির্ধারিত সময়ের জন্য খেলা থামতে দেখা যাবে।
আরও পড়ুন: সার্বিয়ান টেনিস খেলোয়াড় স্তেফান মিলিচেভিচকে ২৪ বছরের নিষেধাজ্ঞা
২০২৬ সালের বিশ্বকাপে ফিফা প্রতিটি ম্যাচের দুটি অর্ধে তিন মিনিটের হাইড্রেশন ব্রেক বাধ্যতামূলক করেছে। এটি আবহাওয়া বা তাপমাত্রার উপর নির্ভর না করে প্রত্যেক অর্ধে একটি বিরতি দেওয়ার নিয়ম সৃষ্টি হয়েছে। ফিফার বক্তব্য, খেলোয়াড়দের স্বাস্থ্য এবং সুস্থতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
তবে, এই বিরতি সম্প্রচারকদের জন্য একটি সম্পূর্ণ নতুন বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপের সম্প্রচারস্বত্ব প্রাপ্ত ফক্স স্পোর্টস এই বিরতির সময়ে বিজ্ঞাপন দেখিয়ে ব্যাপক অর্থ আয় করেছে, এমনটাই বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, শুধুমাত্র এই তিন মিনিটের বিরতিতে ফক্সের বিজ্ঞাপন আয় প্রায় ২৫ কোটি ডলার (৩ হাজার ৮৫ কোটি ৩১ লাখ টাকা) হতে পারে। ম্যাচের গুরুত্ব অনুযায়ী ৩০ সেকেন্ডের বিজ্ঞাপনের দাম ২ লাখ (২ কোটি ৪৬ লাখ টাকা) থেকে ৭ লাখ ৫০ হাজার ডলার (৯ কোটি ২৫ লাখ টাকা) পর্যন্ত হতে পারে।
অতএব, খেলোয়াড়দের জন্য স্বস্তির মাধ্যম হিসেবে শুরু হওয়া এই বিরতি এখন সম্প্রচার ব্যবসার জন্য একটি মূল্যবান বিজ্ঞাপনের সময় হয়ে উঠেছে।
আরও পড়ুন: ত্রিদেশীয় সিরিজে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বাংলাদেশের সম্ভাব্য একাদশ ঘোষণা
২০২৬ বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর ফিফার প্রধান বৈশ্বিক ফুটবল উন্নয়ন কর্মকর্তা আর্সেন ওয়েঙ্গার জানিয়েছিলেন যে, হাইড্রেশন ব্রেকের কারণে ম্যাচের ফল বা খেলার প্রবাহে উল্লেখযোগ্য কোনো প্রভাব পড়েনি।
তবে, ভবিষ্যতে এই ব্যবস্থা থাকবে কি না, সেটির সিদ্ধান্ত এখনও নেওয়া হয়নি। বর্তমান প্রতিবেদনে ইঙ্গিত মিলছে যে বাণিজ্যিক দিকটি ফিফার চিন্তাভাবনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। সম্প্রচারস্বত্বের নতুন চুক্তির শর্ত হিসেবে হাইড্রেশন ব্রেক অন্তর্ভুক্ত করা হলে সম্প্রচারকারীরা আগে থেকেই নির্দিষ্ট বিজ্ঞাপনের জন্য সময় নির্ধারণ করতে পারবে।
২০৩০ ও ২০৩৪ বিশ্বকাপের সম্প্রচারস্বত্ব নিয়ে এরই মধ্যে বড় প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সম্প্রচারস্বত্বের বাজারে নেটফ্লিক্স, ডিজনি এবং ইউটিউব আগ্রহ প্রকাশ করেছে। আমাজন এবং অ্যাপলও সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে আলোচনা করা হচ্ছে।
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিটি বিশ্বকাপের জন্য সম্প্রচারস্বত্ব ক্রয়ের জন্য প্রতিষ্ঠানগুলো ১৫০ কোটি ডলার (১৮ হাজার ৫১১ কোটি ৮৯ লাখ টাকা) থেকে ২০০ কোটি ডলার (২৪ হাজার ৬৮২ কোটি ৫২ লাখ টাকা) পর্যন্ত বাজেট নির্ধারণ করেছে।
আরও পড়ুন: অনেক শিক্ষার্থীর প্রাণের বিনিময়ে নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি - মো. তমিজ উদ্দিন এমপি
ফিফা এবার যুক্তরাষ্ট্রের ইংরেজি এবং স্প্যানিশ ভাষার সম্প্রচারস্বত্ব একসঙ্গে বিক্রির বিষয়টিও ভাবছে। এতে স্বাভাবিকভাবেই সম্প্রচারস্বত্বের দাম আরো বাড়তে পারে।
অর্থাৎ, বিশ্বকাপ এখন কেবল মাঠের লড়াই নয়; বরং এটি সম্প্রচার, বিজ্ঞাপন এবং বিপুল অর্থেরও খেলার জায়গা। সেই বাণিজ্যিক সমীকরণে ম্যাচের মাঝের তিন মিনিটের হাইড্রেশন ব্রেক যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, ২০২৬ বিশ্বকাপের অভিজ্ঞতা সত্যিই সেটির প্রমাণ দেয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন