ঢাকা শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

খেলোয়াড়দের জন্য হাইড্রেশন ব্রেক অব্যাহত রাখতে চায় ফিফা


খেলোয়াড়দের জন্য হাইড্রেশন ব্রেক অব্যাহত রাখতে চায় ফিফা

বিশ্বকাপের ম্যাচের মাঝে একটি হাইড্রেশন ব্রেক বা পানি পানের বিরতি দেওয়া হয়েছে। এআই দ্বারা বানানো একটি প্রতীকী ছবির সঙ্গে প্রকাশ করা হয়েছে খবরটি। ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপে হাইড্রেশন ব্রেকের জন্য প্রতি অর্ধে তিন মিনিট সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এই বিরতি থেকে বিপুল অর্থ রোজগার করেছে। সেইসাথে, ২০৩০ ও ২০৩৪ সালের বিশ্বকাপেও এই বিরতি রাখা নিয়ে ফিফার চিন্তা ভাবনা চলছে—এমনটি রিপোর্ট করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ।

বিশ্বকাপ ম্যাচের মাঝপথে তিন মিনিটের নির্ধারিত বিরতি মূলত ফুটবলারদের পানি পান করার এবং শরীর ঠান্ডা রাখার উপায় হিসেবে গন্য হয়েছে। তবে, এটি ফিফার জন্য একটি উল্লেখযোগ্য বাণিজ্যিক সুযোগও সৃষ্টি করেছে।

ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২০৩০ ও ২০৩৪ বিশ্বকাপের সম্প্রচারস্বত্বের নতুন চুক্তিতে প্রতি অর্ধে বাধ্যতামূলক ভাবে তিন মিনিটের বিরতিকে অন্তর্ভুক্ত করার কথা ভাবছে ফিফা। এই কারণে, ভবিষ্যতে বিশ্বকাপের ম্যাচের মাঝপথে নির্ধারিত সময়ের জন্য খেলা থামতে দেখা যাবে।

আরও পড়ুন: সার্বিয়ান টেনিস খেলোয়াড় স্তেফান মিলিচেভিচকে ২৪ বছরের নিষেধাজ্ঞা

২০২৬ সালের বিশ্বকাপে ফিফা প্রতিটি ম্যাচের দুটি অর্ধে তিন মিনিটের হাইড্রেশন ব্রেক বাধ্যতামূলক করেছে। এটি আবহাওয়া বা তাপমাত্রার উপর নির্ভর না করে প্রত্যেক অর্ধে একটি বিরতি দেওয়ার নিয়ম সৃষ্টি হয়েছে। ফিফার বক্তব্য, খেলোয়াড়দের স্বাস্থ্য এবং সুস্থতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

তবে, এই বিরতি সম্প্রচারকদের জন্য একটি সম্পূর্ণ নতুন বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপের সম্প্রচারস্বত্ব প্রাপ্ত ফক্স স্পোর্টস এই বিরতির সময়ে বিজ্ঞাপন দেখিয়ে ব্যাপক অর্থ আয় করেছে, এমনটাই বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, শুধুমাত্র এই তিন মিনিটের বিরতিতে ফক্সের বিজ্ঞাপন আয় প্রায় ২৫ কোটি ডলার (৩ হাজার ৮৫ কোটি ৩১ লাখ টাকা) হতে পারে। ম্যাচের গুরুত্ব অনুযায়ী ৩০ সেকেন্ডের বিজ্ঞাপনের দাম ২ লাখ (২ কোটি ৪৬ লাখ টাকা) থেকে ৭ লাখ ৫০ হাজার ডলার (৯ কোটি ২৫ লাখ টাকা) পর্যন্ত হতে পারে।

অতএব, খেলোয়াড়দের জন্য স্বস্তির মাধ্যম হিসেবে শুরু হওয়া এই বিরতি এখন সম্প্রচার ব্যবসার জন্য একটি মূল্যবান বিজ্ঞাপনের সময় হয়ে উঠেছে।

আরও পড়ুন: ত্রিদেশীয় সিরিজে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বাংলাদেশের সম্ভাব্য একাদশ ঘোষণা

২০২৬ বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর ফিফার প্রধান বৈশ্বিক ফুটবল উন্নয়ন কর্মকর্তা আর্সেন ওয়েঙ্গার জানিয়েছিলেন যে, হাইড্রেশন ব্রেকের কারণে ম্যাচের ফল বা খেলার প্রবাহে উল্লেখযোগ্য কোনো প্রভাব পড়েনি।

তবে, ভবিষ্যতে এই ব্যবস্থা থাকবে কি না, সেটির সিদ্ধান্ত এখনও নেওয়া হয়নি। বর্তমান প্রতিবেদনে ইঙ্গিত মিলছে যে বাণিজ্যিক দিকটি ফিফার চিন্তাভাবনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। সম্প্রচারস্বত্বের নতুন চুক্তির শর্ত হিসেবে হাইড্রেশন ব্রেক অন্তর্ভুক্ত করা হলে সম্প্রচারকারীরা আগে থেকেই নির্দিষ্ট বিজ্ঞাপনের জন্য সময় নির্ধারণ করতে পারবে।

২০৩০ ও ২০৩৪ বিশ্বকাপের সম্প্রচারস্বত্ব নিয়ে এরই মধ্যে বড় প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সম্প্রচারস্বত্বের বাজারে নেটফ্লিক্স, ডিজনি এবং ইউটিউব আগ্রহ প্রকাশ করেছে। আমাজন এবং অ্যাপলও সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে আলোচনা করা হচ্ছে।

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিটি বিশ্বকাপের জন্য সম্প্রচারস্বত্ব ক্রয়ের জন্য প্রতিষ্ঠানগুলো ১৫০ কোটি ডলার (১৮ হাজার ৫১১ কোটি ৮৯ লাখ টাকা) থেকে ২০০ কোটি ডলার (২৪ হাজার ৬৮২ কোটি ৫২ লাখ টাকা) পর্যন্ত বাজেট নির্ধারণ করেছে।

আরও পড়ুন: অনেক শিক্ষার্থীর প্রাণের বিনিময়ে নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি - মো. তমিজ উদ্দিন এমপি

ফিফা এবার যুক্তরাষ্ট্রের ইংরেজি এবং স্প্যানিশ ভাষার সম্প্রচারস্বত্ব একসঙ্গে বিক্রির বিষয়টিও ভাবছে। এতে স্বাভাবিকভাবেই সম্প্রচারস্বত্বের দাম আরো বাড়তে পারে।

অর্থাৎ, বিশ্বকাপ এখন কেবল মাঠের লড়াই নয়; বরং এটি সম্প্রচার, বিজ্ঞাপন এবং বিপুল অর্থেরও খেলার জায়গা। সেই বাণিজ্যিক সমীকরণে ম্যাচের মাঝের তিন মিনিটের হাইড্রেশন ব্রেক যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, ২০২৬ বিশ্বকাপের অভিজ্ঞতা সত্যিই সেটির প্রমাণ দেয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে মৌলভীবাজারে ‘মাইন্ড ম্যারাথন’ কুইজ প্রতিযোগিতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:৪৩ পি.এম


শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে মৌলভীবাজারে ‘মাইন্ড ম্যারাথন’ কুইজ প্রতিযোগিতা

মৌলভীবাজারে ‘মাইন্ড ম্যারাথন কুইজ প্রতিযোগিতা-সিজন ০৩’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

জাতীয় শিশুকিশোর সংগঠন ফুলকুঁড়ি আসরের ৫২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এই আয়োজন করা হয়।

এটিতে শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবইয়ের গণ্ডি পেরিয়ে জ্ঞানচর্চায় আগ্রহ বৃদ্ধি করার চেষ্টা করা হয়।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে মৌলভীবাজার শহরের শাহ মোস্তফা একাডেমি, বাজার মডেল স্কুল ও হাফিজা খাতুন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পৃথকভাবে এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

এতে পঞ্চম, ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির কয়েক শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেয়।

এই প্রতিযোগিতায় সাধারণ জ্ঞান, বিজ্ঞান, ইতিহাস, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন রাখা হয়।

মুখস্থনির্ভর জ্ঞানের পরিবর্তে জানার আগ্রহ, দ্রুত চিন্তা করার সক্ষমতা এবং যুক্তিভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের দক্ষতা বাড়ানোর উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

আয়োজকেরা জানান, শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবইয়ের সীমাবদ্ধতা ছাড়িয়ে জ্ঞান অর্জনে উৎসাহিত করা ও তাদের মেধা ও সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটানোই এই আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।

এছাড়াও, শিশু-কিশোরদের আত্মবিশ্বাসী, সচেতন ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে এ ধরনের আয়োজন নিয়মিত করা হবে।

ফুলকুঁড়ি আসর মৌলভীবাজার শহর শাখার পরিচালক রেদোয়ান মাহবুব তাহমিদ বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের শুধু ভালো ফলাফলের জন্য নয়, বরং জ্ঞান, যুক্তিবোধ ও দেশ-সমাজ সম্পর্কে সচেতন করে গড়ে তোলাই আমাদের মূল লক্ষ্য।'

তিনি আরও বলেন, ‘মাইন্ড ম্যারাথনের মতো আয়োজন শিক্ষার্থীদের জানার আগ্রহ বাড়ানোর পাশাপাশি তাদের সুস্থ প্রতিযোগিতার মানসিকতা তৈরি করবে।'

অন্যদিকে, ‘মাইন্ড ম্যারাথন কুইজ প্রতিযোগিতা-সিজন ০৩’ এই ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজন করা হয়েছে, যা প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের পুরস্কার প্রদান করবে।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ ধরনের জ্ঞানভিত্তিক প্রতিযোগিতা শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি দেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিষয়ে জানার আগ্রহ বাড়াবে।

এটি শিশু-কিশোরদের মধ্যে নেতৃত্বের গুণাবলি এবং ইতিবাচক প্রতিযোগিতার মনোভাব বিকাশেও সাহায্য করবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গোলান মালভূমিতে ইসরাইলের দখলদারিত্বকে কলম্বিয়ার স্বীকৃতির তীব্র নিন্দা সিরিয়ার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:৪৪ পি.এম


গোলান মালভূমিতে ইসরাইলের দখলদারিত্বকে কলম্বিয়ার স্বীকৃতির তীব্র নিন্দা সিরিয়ার

সিরিয়া কলম্বিয়ার স্বীকৃতির তীব্র নিন্দা জানিয়েছে, যা অধিকারিত সিরীয় গোলান মালভূমির ওপর ইসরাইলের সার্বভৌমত্বের দাবির সাথে সম্পর্কিত। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, কলম্বিয়ার এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘের প্রস্তাবের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

আজ মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি বিবৃতিতে কলম্বিয়ার অবস্থানকে ‘দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান ও নিন্দা’ করার একটি আহ্বান জানিয়েছে। তারা একই সঙ্গে পুনর্ব্যক্ত করেছে যে, গোলান মালভূমি সিরিয়ার ভূখণ্ডের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, গোলান মালভূমির ওপর সিরিয়ার অধিকার নিয়ে আন্তর্জাতিক সমর্থন ক্রমেই বাড়ছে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ‘দ্য সিরিয়ান গোলান’ শিরোনামের একটি প্রস্তাবের পক্ষে যে ভোট দেওয়া হয়েছে, তা ২০২৪ সালের ৯৭ থেকে বেড়ে ২০২৫ সালে ১২৩ হয়েছে।

দামেস্কের দাবি, এই বৃদ্ধিটি গোলান মালভূমি পুনরুদ্ধারের বিষয়ে সিরিয়ার অধিকারের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অব্যাহত সমর্থনেরই প্রতিফলন।

এছাড়া, সৌদি আরবও কলম্বিয়ার এই সিদ্ধান্তের জন্য নিন্দা জানিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, অধিকৃত সিরীয় গোলান মালভূমির ওপর ইসরায়েলের সার্বভৌমত্বকে কলম্বিয়ার স্বীকৃতি ‘আন্তর্জাতিক আইন ও সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক বৈধতার প্রস্তাবগুলোর পরিপন্থী’।

সৌদির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে, এটি ১৯৮১ সালের জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ৪৯৭ নম্বর প্রস্তাব লঙ্ঘন। ওই প্রস্তাবে বলা হয়েছিল যে, সিরিয়ার গোলান মালভূমিতে ইসরায়েলের আইন ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা প্রয়োগ ‘অকার্যকর এবং আইনগত কোনো প্রভাব নেই’।

সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, ‘সৌদি আরব জোর দিয়ে বলছে, এ ধরনের অবস্থান শান্তি প্রতিষ্ঠায় কোনো অবদান রাখে না। বরং এগুলো অধিকৃত সিরীয় গোলান নিয়ে প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক অবস্থান থেকে বিচ্যুতি।’

১৯৬৭ সালের ছয় দিনের যুদ্ধে, ইসরাইল সিরিয়ার কাছ থেকে গোলান মালভূমির অধিকাংশ দখল করে নেয়। পরে ১৯৮১ সালে অঞ্চলটি নিজেদের ভূখণ্ডের সাথে একীভূত করার ঘোষণা দেয়। তবে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অধিকাংশই এই পদক্ষেপকে স্বীকৃতি দেয়নি।

গত সোমবার (১০ আগস্ট) কলম্বিয়া ইসরাইলের গোলান মালভূমির ওপর সার্বভৌমত্বের দাবিকে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা দেয়। এর আগে ২০১৯ সালে, তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইসরাইলের এই দাবিকে স্বীকৃতি দিয়েছিল। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্রই এতদিন একমাত্র দেশ ছিল, যা আনুষ্ঠানিকভাবে এই দাবি স্বীকার করেছিল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জুলাই মাসে ২০২ কোটি ৬৩ লাখ টাকার চোরাচালানি পণ্য জব্দ করেছে বিজিবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:৪৬ পি.এম


জুলাই মাসে ২০২ কোটি ৬৩ লাখ টাকার চোরাচালানি পণ্য জব্দ করেছে বিজিবি

ঢাকা, ১১ আগস্ট, ২০২৬ : দেশের বিভিন্ন স্থানে সীমান্ত এলাকাসহ অভিযান চালিয়ে গত জুলাই মাসে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ২০২ কোটি ৬৩ লাখ ৪৯ হাজার টাকা মূল্যের চোরাচালানি পণ্য জব্দ করেছে।

বিজিবি আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, জব্দ করা পণ্যের মধ্যে ৪ দশমিক ২৫৪ কেজি স্বর্ণ, ২১৬টি হীরার নাকফুল, ৭ দশমিক ৯৩০ কেজি রূপা, ১৩ হাজার ৬৩টি শাড়ি, ২ হাজার ৭১০টি থ্রি-পিস, শার্টের কাপড়, কম্বল ও বেডকভার, ৮ হাজার ৮৮৬টি তৈরি পোশাক, ২ হাজার ৪১৬ মিটার কাপড়, ১৫ হাজার ৫২৭টি কৃত্রিম গহনা এবং ৩ লাখ ২ হাজার ৩৯৪টি প্রসাধনসামগ্রী অন্তর্ভুক্ত।

এছাড়া, এর মধ্যে রয়েছে ৮ লাখ ৬৪ হাজার ৩৫৬টি আতশবাজি, ১ হাজার ৭৫১ ঘনফুট কাঠ, ২ লাখ ২১ হাজার ৯০ কেজি কয়লা, ৬ হাজার ৪৪৬ কেজি চা পাতা, ৬২৪টি মোবাইল ফোন, ৪ হাজার ৩৬০টি মোবাইল ডিসপ্লে এবং ৩৬ হাজার ১৭০টি মোবাইল ফোনের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, অভিযানে মোট ২০ হাজার চিকিৎসা সরঞ্জাম, ৭১ হাজার ৪০০টি রেজর ব্লেড, ৩ হাজার ৭০০ জোড়া চশমা, ৪৭ হাজার ৭৭৬ কেজি জিরা, ৪২ হাজার ৯৩১ কেজি রসুন, ১৩ হাজার ৩২৯ কেজি চিনি, ১২ হাজার ৪৮৬ কেজি সার, ১৭ হাজার ৪৭৯ কেজি কারেন্ট জাল, ৩৬৭ লিটার ভোজ্যতেল/ডিজেল/অকটেন/পেট্রোল/মবিল, ১ হাজার ৮১৮ প্যাকেট কীটনাশক, ৬ লাখ ৯৪ হাজার ১৭টি ওষুধ, ১ দশমিক ০৭০ কেজি সাপের বিষ এবং ৯টি পাথর জব্দ করা হয়েছে।

চোরাচালানে ব্যবহৃত ১২টি ট্রাক/কাভার্ডভ্যান, ৮টি পিকআপ, ৩টি প্রাইভেটকার, ৬টি ট্রলি, ৫৫টি সিএনজিচালিত যান/ইজিবাইক/অটোরিকশা, ৫৯টি মোটরসাইকেল, ৪৭টি সাইকেল/ভ্যান এবং ১২৭টি নৌযানও বিজিবি জব্দ করেছে।

অভিযান চলাকালীন ৯টি দেশীয়/বিদেশি পিস্তল, একটি রাইফেল, ৫টি ম্যাগাজিন, ৬০ রাউন্ড গুলি এবং অন্যান্য ৭টি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

জুলাই মাসে বিপুল পরিমাণের মাদকদ্রব্যও জব্দ হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ২১ লাখ ১০ হাজার ২৫৮টি ইয়াবা ট্যাবলেট, ২ কেজি ক্রিস্টাল মেথ বা আইস, ৭১ গ্রাম হেরোইন, ১ হাজার ২৪৩ বোতল ফেনসিডিল, ৬ হাজার ৫২৬ বোতল বিদেশি মদ, ১ হাজার ৬৩৯ দশমিক ৫ লিটার দেশীয় মদ, ৭৫৪ ক্যান বিয়ার, ১ হাজার ৮০৬ কেজি গাঁজা, ২ লাখ ৫৮ হাজার ৩৮৬টি মাদকদ্রব্যের ট্যাবলেট/ইনজেকশন, বিভিন্ন ধরনের ১৬ হাজার ৫৮০ বোতল নেশাজাতীয় সিরাপ এবং ১৮ হাজার ৬৮২টি বিভিন্ন ধরনের ওষুধ/ট্যাবলেট।

এছাড়া, ১ লাখ ১৯ হাজার ১৪১ প্যাকেট বিড়ি ও সিগারেটও জব্দ করা হয়েছে।

অভিযানে ইয়াবা ও অন্যান্য মাদকসহ বিভিন্ন ধরনের চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৯১ জন সন্দেহভাজন চোরাকারবারিকে আটক করা হয়েছে।

এছাড়া, অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করার সময় ৩১ বাংলাদেশি, ৩ ভারতীয় এবং ৮১ মিয়ানমারের নাগরিকও আটক হয়েছেন।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভারতীয় নারীকে বাংলাদেশি আখ্যা দিয়ে পুশইন, আদালতের দ্বারস্থ পরিবার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:৪৭ পি.এম


ভারতীয় নারীকে বাংলাদেশি আখ্যা দিয়ে পুশইন, আদালতের দ্বারস্থ পরিবার

সংসারে আর্থিক সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনতে পশ্চিমবঙ্গ থেকে স্বামীর হাত ধরে মুম্বাইয়ে গিয়েছিলেন ৪০ বছর বয়সী এক গৃহবধূ। স্বামী ও এক সন্তান নিয়ে অনেক বছর ভালোই চলছিল তাদের সংসার। কিন্তু হঠাৎ করেই তাকে বাংলাদেশি তকমা দিয়ে দেশছাড়া করা হয়েছে। সীমান্ত পেরিয়ে সেই গৃহবধূ এখন বাংলাদেশে অবস্থান করছেন। ইতিমধ্যেই ভারতে ফেরত চাওয়ার জন্য কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে গৃহবধূর পরিবার এবং মানবাধিকার কমিশন।

উত্তর ২৪ পরগনার স্বরূপনগর ব্লকের গোবিন্দপুর পঞ্চায়েতে গোবিন্দপুর পূর্বপাড়া গ্রামের বাসিন্দা সাইদা ফকির। তার স্বামী ৪৫ বছর বয়সী জুম্মান ফকির, যিনি দীর্ঘ ২০ বছর ধরে মুম্বাইয়ে গাড়ির পরিচ্ছন্নকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। অন্যদিকে, সাইদা পরিচারিকার কাজ করতেন। চলতি বছরের ১৯ জুলাই সাইদা ফকির বাজার করার জন্য বের হন। সেই সময় মুম্বাই পুলিশ তাকে আটক করে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর মুম্বাইয়ের একটি হোল্ডিং সেন্টারে রাখা হয়। ঘটনার খবর পেয়েই মহারাষ্ট্রের চেম্বার থানায় যায় তার স্বামী ও পরিবারের সদস্যরা। সাইদার জন্মের সনদ, স্কুলের সনদ, বাবা-মায়ের প্রমাণপত্র, জমির দলিলসহ সমস্ত প্রয়োজনীয় তথ্য তদন্তকারীদের সামনে তুলে ধরেন তারা। ঘটনার তিনদিন পর, ২৩ এপ্রিল সাইদা ফকিরের পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন যে মুম্বাই পুলিশ আসাম সীমান্ত দিয়ে তাকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দিয়েছে।

বাংলাদেশ থেকেই সাইদা পরিবারকে জানান, সাতক্ষীরায় পৌঁছানোর পরে চাষের জমি ও কাদার মধ্যে দিয়ে তিনি কয়েক কিলোমিটার পথ হাঁটার পর প্রধান সড়কে আসেন। সেখানে স্থানীয় লোকজন তাকে দেখে সহায়তা করেন। সাতক্ষীরার এক পরিবার সাইদাকে আশ্রয় দেয় এবং খাবার ও পোশাক দেয়। তিনি এই সময়ে বলেন, তিনি ফের ভারতে ফিরতে চান, বিশেষ করে তার ১২ বছরের স্কুলছাত্র পুত্র সন্তানের সাথে দেখা করতে চান।

মঙ্গলবার সাইদার স্বামী জুম্মান ফকির দাবি করেন, তিনি এবং তার স্ত্রী জন্মগতভাবে ভারতের বাসিন্দা। ২০ বছর ধরে মুম্বাইয়ে রয়েছেন সাইদা ফকির, সেখানে পরিচারিকার কাজ করে জীবনযাপন করেন। প্রথমে তাকে বাংলাদেশি তকমা দিয়ে হোল্ডিং সেন্টারে রাখা হয় এবং পরে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। জুম্মানের প্রশ্ন, একজন ভারতীয় নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও সাইদার নথিপত্র না দেখেই তাকে বাংলাদেশি সন্দেহ করে সীমান্ত দিয়ে পুশইন করেছে মুম্বাই পুলিশ।

প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়ে পরিবারের সদস্যরা বলেন, তারা তাদের পরিবারের সদস্যকে ফিরিয়ে পেতে চান এবং প্রশাসন যেন দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করে। ইতিমধ্যে প্রশাসনিক একাধিক দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

এদিকে, সাইদাকে ভারতে ফিরিয়ে আনতে কলকাতা হাইকোর্টে আবেদন জানিয়েছেন তার চাচা। তাদের দাবি, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় সাইদার নাম রয়েছে। এ ক্ষেত্রে, তাকে দেশে ফিরিয়ে আনাটাই তাদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

‘পরিযায়ী শ্রমিক ঐক্য মঞ্চ’ নামে একটি সংগঠন এই বিষয়ে ভারতের কেন্দ্রীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে কূটনৈতিক হস্তক্ষেপের জন্য আবেদন করেছে। সাইদার প্রকৃত নাগরিকত্ব যাচাই করে তাকে ফিরিয়ে আনার অনুরোধ জানিয়ে গত ৮ আগস্ট পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয় তারা।

সংগঠনটির সচিব আসিফ ফারুখ জানিয়েছেন, ভারতে বসবাসের উপযুক্ত নথি, প্যান কার্ড, আধার কার্ড, ভোটার কার্ডসহ একাধিক নথিপত্র তার পক্ষে পাঠানো হয়েছে। বাংলার মানবাধিকার সুরক্ষা মঞ্চ (মাসুম) আলাদা করে কলকাতা হাইকোর্টে একটি অভিযোগ দায়ের করেছে। তাদের দাবি, ভারতীয় নথি থাকা সত্ত্বেও সাইদাকে অনৈতিকভাবে বাংলাদেশি আখ্যায়িত করে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩১
ইশা ০৬:৪২
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩১
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%