প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সিরিয়া কলম্বিয়ার স্বীকৃতির তীব্র নিন্দা জানিয়েছে, যা অধিকারিত সিরীয় গোলান মালভূমির ওপর ইসরাইলের সার্বভৌমত্বের দাবির সাথে সম্পর্কিত। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, কলম্বিয়ার এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘের প্রস্তাবের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
আজ মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি বিবৃতিতে কলম্বিয়ার অবস্থানকে ‘দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান ও নিন্দা’ করার একটি আহ্বান জানিয়েছে। তারা একই সঙ্গে পুনর্ব্যক্ত করেছে যে, গোলান মালভূমি সিরিয়ার ভূখণ্ডের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, গোলান মালভূমির ওপর সিরিয়ার অধিকার নিয়ে আন্তর্জাতিক সমর্থন ক্রমেই বাড়ছে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ‘দ্য সিরিয়ান গোলান’ শিরোনামের একটি প্রস্তাবের পক্ষে যে ভোট দেওয়া হয়েছে, তা ২০২৪ সালের ৯৭ থেকে বেড়ে ২০২৫ সালে ১২৩ হয়েছে।
দামেস্কের দাবি, এই বৃদ্ধিটি গোলান মালভূমি পুনরুদ্ধারের বিষয়ে সিরিয়ার অধিকারের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অব্যাহত সমর্থনেরই প্রতিফলন।
এছাড়া, সৌদি আরবও কলম্বিয়ার এই সিদ্ধান্তের জন্য নিন্দা জানিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, অধিকৃত সিরীয় গোলান মালভূমির ওপর ইসরায়েলের সার্বভৌমত্বকে কলম্বিয়ার স্বীকৃতি ‘আন্তর্জাতিক আইন ও সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক বৈধতার প্রস্তাবগুলোর পরিপন্থী’।
সৌদির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে, এটি ১৯৮১ সালের জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ৪৯৭ নম্বর প্রস্তাব লঙ্ঘন। ওই প্রস্তাবে বলা হয়েছিল যে, সিরিয়ার গোলান মালভূমিতে ইসরায়েলের আইন ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা প্রয়োগ ‘অকার্যকর এবং আইনগত কোনো প্রভাব নেই’।
সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, ‘সৌদি আরব জোর দিয়ে বলছে, এ ধরনের অবস্থান শান্তি প্রতিষ্ঠায় কোনো অবদান রাখে না। বরং এগুলো অধিকৃত সিরীয় গোলান নিয়ে প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক অবস্থান থেকে বিচ্যুতি।’
১৯৬৭ সালের ছয় দিনের যুদ্ধে, ইসরাইল সিরিয়ার কাছ থেকে গোলান মালভূমির অধিকাংশ দখল করে নেয়। পরে ১৯৮১ সালে অঞ্চলটি নিজেদের ভূখণ্ডের সাথে একীভূত করার ঘোষণা দেয়। তবে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অধিকাংশই এই পদক্ষেপকে স্বীকৃতি দেয়নি।
গত সোমবার (১০ আগস্ট) কলম্বিয়া ইসরাইলের গোলান মালভূমির ওপর সার্বভৌমত্বের দাবিকে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা দেয়। এর আগে ২০১৯ সালে, তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইসরাইলের এই দাবিকে স্বীকৃতি দিয়েছিল। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্রই এতদিন একমাত্র দেশ ছিল, যা আনুষ্ঠানিকভাবে এই দাবি স্বীকার করেছিল।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন