০৭:২৫ পি.এম
প্রধান উপদেষ্টার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেছেন, বর্তমান সময়ে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অনেক চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে সহযোগিতা ও গঠনমূলক কর্মসম্পর্ক গড়ে তুলতে চায়।
তিনি আজ ঢাকায় আয়োজিত ‘রোডম্যাপ ফর ট্রেড, গ্রোথ অ্যান্ড ইকোনমিক ডিপ্লোম্যাসি ২০২৬’ শীর্ষক সম্মেলনের একটি প্যানেল আলোচনায় অংশ নিয়ে এ কথা বলেন।
হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আমরা ভারতের সঙ্গে সহযোগিতা চাই, তবে সেটি অবশ্যই পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে হতে হবে। ভারতের সঙ্গে আমাদের একটি ভালো কর্মসম্পর্ক থাকা উচিত।’
আরও পড়ুন: পূজামণ্ডপে মুসলমানদের উপস্থিতি সম্প্রীতির উজ্জ্বল উদাহরণ: খাদ্যমন্ত্রী
আলোচনায় আরও বক্তব্য দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং প্রধান উপদেষ্টার শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদি আমিন। পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম অধিবেশনটি সঞ্চালনা করেন।
হুমায়ুন কবির বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে কর্মসম্পর্ক বজায় রাখা এবং তা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া কূটনীতির একটি মৌলিক নীতি এবং সরকার ভারতের সঙ্গে সম্পৃক্ততা জোরদারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
সাম্প্রতিক কূটনৈতিক যোগাযোগের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বাংলাদেশ দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের সফর অব্যাহত থাকবে বলে প্রত্যাশা করে, এবং একটি দৃশ্যমান ও কার্যকর কর্মসম্পর্ক গড়ে তুলতে আগ্রহী।
তিনি বলেন, ‘আমরা সেটি করতে চাই। তবে এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ থাকতে হবে।’
আরও পড়ুন: ভারতের পথে যুব মহিলা লীগ নেত্রী সুলতানা বেগম আটক
উপদেষ্টা স্বীকার করেন যে, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার গত ১৫ বছরে সৃষ্ট একটি ‘বিরাট ঘাটতি’পূর্ণ সম্পর্ক উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে।
তিনি বলেন, ‘সম্পর্কটি ছিল একমুখী এবং তা বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থ বিবেচনায় গড়ে ওঠেনি।’
তবে এসব চ্যালেঞ্জের মধ্যেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সম্প্রতি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের ভারত সফরের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ওই সফরে তিনিও অংশ নিয়েছিলেন এবং দুই দেশের নেতৃত্বের মধ্যে ইতিবাচক মনোভাব ও সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার আগ্রহ লক্ষ্য করেছেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা এটি করতে পারি এবং এটি অর্জন করা সম্ভব। অবশ্যই কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে।’
আরও পড়ুন: সৌদি আরবে তেলক্ষেত্রে ড্রোন হামলা প্রতিহত, দুই বিদেশির মৃত্যু
হুমায়ুন কবির ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রসঙ্গও উত্থাপন করেন। তিনি অভিযোগ করেন, দেশত্যাগের পর শেখ হাসিনা বিদেশে অবস্থান করে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছেন।
তিনি বলেন, বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করতে হবে এবং উভয় পক্ষকে একসঙ্গে কাজ করার পথ খুঁজে বের করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ‘অতএব, সম্পর্ক পুনর্গঠনের প্রক্রিয়ায় এ বাস্তবতাটি উপলব্ধি করতে হবে যে, আজকের বাংলাদেশের রাজনীতিতে শেখ হাসিনার আর কোনো অস্তিত্ব নেই।’
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) যৌথভাবে এ সম্মেলনের আয়োজন করে। জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা, কূটনীতিক, উন্নয়ন সহযোগী এবং বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেন। সম্মেলনে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রী আজ খুলনা ও বাগেরহাট সফরে, অংশ নেবেন সরকারি কর্মসূচিতে
সম্মেলনে তিনটি বিষয়ভিত্তিক অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। এসব অধিবেশনে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ নীতি, অর্থায়ন ও বিনিয়োগ সংগ্রহ, এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সৃজনশীল শিল্প ও ক্রীড়াসহ উদীয়মান প্রবৃদ্ধি খাত নিয়ে আলোচনা করা হয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, বৈশ্বিক রূপান্তর, ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তার এ সময়ে সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর লক্ষ্য ছিল অর্থনৈতিক কূটনীতি শক্তিশালী করা, নীতিগত সমন্বয় বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে অংশীদারিত্ব আরও গভীর করা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন