প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার রহিমপুর ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামে সড়ক কেটে চলাচলে বাধা সৃষ্টি করেছে একটি স্থানীয় পরিবার। গত ১৮ এপ্রিল এই ঘটনা ঘটে। ছবিতে দেখা যাচ্ছে সড়কটির অবস্থা।
দীর্ঘ ৬০ বছরের পুরনো এই গ্রামীণ সড়কটিই ১০০টিরও বেশি পরিবারের সদস্যদের জন্য চলাচলের একমাত্র পথ। সড়কটি কাজে লাগান চা-বাগানের শ্রমিক, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী এবং কৃষকরা।
হঠাৎ করে স্থানীয় একটি পরিবার সড়কজুড়ে বিশাল গর্ত করে চলাচল বন্ধ করে দেয়।
সম্প্রতি, গ্রামে ঘটে যাওয়া এই ঘটনার সবিস্তারে বিবৃত করতে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা খুশেদ মিয়া ও তার ভাই বারিক মিয়া জানিয়েছেন, তারা সড়কটি বন্ধ করে দিয়ে স্থানীয়দের চলাচলে বিড়ম্বনা সৃষ্টি করেছেন।
ভুক্তভোগীরা ঘটনার দুই দিন পর, অর্থাৎ ২০ এপ্রিল থেকে প্রশাসনের কাছে প্রতিকার চেয়ে আবেদন জানান। কিন্তু ইতোমধ্যে প্রায় দুই মাস অতিবাহিত হলেও প্রশাসন থেকে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।
এদিকে, এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে শুরু করেছে। তারা আজ শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে একটি সভা করেছেন। এই সভায় সভাপতিত্ব করেছেন হাফেজ মাওলানা মোস্তাকিম আহমেদ। সভার অন্যান্য বক্তা ছিলেন মাওলানা কাজী ওমর ফারুক, মন্নান মিয়া, জন্নান মিয়া, আব্দুল মিয়া প্রমুখ।
বক্তাদের মধ্যে একজন বলেন, প্রায় ৬০ বছর ধরে রামচন্দ্রপুর গ্রামের লোকেরা এই সড়ক ব্যবহার করছে। দেওরাছড়া চা বাগানের শ্রমিকসহ ১০০টিরও বেশি পরিবারের যাতায়াতে এটি একমাত্র সড়ক। প্রতিবঞ্চিত হচ্ছেন পাঁচ শতাধিক মানুষ।
তাদের দাবি, সড়কটি আগে সরু ছিল, কিন্তু এখন এটি প্রায় ১৬ ফুট প্রশস্ত হয়েছে। বিভিন্ন সময় স্থানীয় সরকার ও জনপ্রতিনিধিদের উদ্যোগে এর সংস্কার ও উন্নয়নও হয়েছে। কিন্তু সম্প্রতি, খুশেদ মিয়া ও বারিক মিয়া সড়কের দুই পাশে গর্ত খুঁড়ে চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছেন।
গ্রামবাসীরা অভিযোগ করেন, বারিক মিয়া সড়কের আশপাশে গর্ত করে সেখানে গোবর ও আবর্জনা ফেলে দিচ্ছেন, যা স্বাস্থ্য সংকটের সৃষ্টি করছে। বর্ষা মৌসুমের কারণে পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে। তারা জানান, এই সড়কের কারণে অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া, শিক্ষার্থীদের স্কুলে যাওয়া এবং মৃতদেহ বহন করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। যদি দ্রুত সমাধান না হয়, তবে এই এলাকায় মানবিক সংকট দেখা দিতে পারে।
বক্তারা সংকট নিরসনে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তারা বলেন, সড়কের প্রকৃত অবস্থা যাচাই করার জন্য সরেজমিন তদন্ত করতে হবে এবং পরে দখল ও প্রতিবন্ধকতাগুলো অপসারণ করতে হবে।
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে একটি লিখিত আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে বলেও সভায় জানানো হয়।
অভিযুক্ত বারিক মিয়া বলেন, ‘আমার দলিলের জায়গায় রাস্তা পড়েছে, তাই আমি কেটেছি। এখানে কার সমস্যা বা কিসের সমস্যা- এটা আমার জানার বিষয় না।’
এ ব্যাপারে রহিমপুর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সিতাংশু কর্মকার মন্তব্য করে বলেন, ‘মানুষের চলাচলের রাস্তা কেটে দেওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। গ্রামবাসীর স্বার্থ রক্ষায় এবং সমস্যার দ্রুত সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান জানান, রাস্তা কাটার বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তের জন্য প্রযোজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। সত্যতা পেলে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন