১০:৫৯ এম
ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য প্রিন্স হ্যারি ও তার স্ত্রী মেগান মার্কেল চার বছর পর আবারও যুক্তরাজ্যে সফরে যাচ্ছেন। আগামী মাসে তারা দুই সন্তানকে সাথে নিয়ে যুক্তরাজ্য সফর করবেন।
এই সফরটি তাদের জন্য একটি বিশেষ ঘটনা হবে, কারণ তারা প্রথমবারের মতো রাজপরিবারের একটি সরকারি বাসভবনে থাকার সুযোগ পাচ্ছেন। তাই রাজপরিবারের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের দূরত্ব কমতে পারে, এমন আলোচনা আরও নতুন রূপ পেয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, হ্যারি ও মেগানের দুই সন্তানও সঙ্গে থাকবে, যারা হলেন সাত বছর বয়সী প্রিন্স আর্চি ও পাঁচ বছর বয়সী প্রিন্সেস লিলিবেট।
আরও পড়ুন: স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ফ্যাসিস্ট ও গুপ্ত মিলে বিএনপির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করবে: জহির উদ্দিন স্বপন
২০২২ সালের পর এই সফর হবে তাদের প্রথম পারিবারিক যুক্তরাজ্য সফর। ওই বছর তারা প্রয়াত রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের প্লাটিনাম জুবিলির অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, আগেই হ্যারি ও মেগানকে রাজপ্রাসাদের এস্টেটের একটি অফিসিয়াল বাসভবনে থাকার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। কিন্তু তারা এত দিন ওই প্রস্তাব গ্রহণ করেননি। এবারই প্রথম তারা সেই আমন্ত্রণ মেনে নিয়েছেন। সফরের সময় তারা কিছুদিন রাজপরিবারের সরকারি বাসভবনে অবস্থান করবেন, বাকী সময় তারা একটি ব্যক্তিগত বাসভবনে কাটাবেন।
২০২০ সালে প্রিন্স হ্যারি ও মেগান রাজপরিবারের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। এরপর তারা যুক্তরাজ্য ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় বসবাস শুরু করেন। তাদের উদ্দেশ্য ছিল রাজপরিবারের বাইরে স্বাধীনভাবে জীবনযাপন করা। এই সিদ্ধান্তের পরে রাজপরিবারের সাথে তাদের সম্পর্কের অবনতি হয়েছে। পরে বিভিন্ন টেলিভিশন সাক্ষাৎকার এবং হ্যারির আত্মজীবনীতে এই দম্পতি অভিযোগ করেন, ব্রিটিশ ট্যাবলয়েড গণমাধ্যমের অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ, পরিবারের ভেতরের জটিল সম্পর্ক এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বর্ণবাদের অভিজ্ঞতা তাদের এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে।
রাজপরিবার থেকে সরে দাঁড়ানোর পর, হ্যারি যদিও কয়েকবার যুক্তরাজ্যে গেছেন, তবে পুরো পরিবারকে নিয়ে সফর করেননি। ২০২২ সালে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের শেষকৃত্যে তিনি ও মেগান একসাথে উপস্থিত ছিলেন। এরপর ২০২৩ সালে রাজা তৃতীয় চার্লসের অভিষিক্ত অনুষ্ঠানে তিনি একাই উপস্থিত হন। গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে প্রায় ১৯ মাস পর বাবা রাজা তৃতীয় চার্লসের সাথে ব্যক্তিগতভাবে দেখা করেছিলেন হ্যারি। তখন তারা ক্ল্যারেন্স হাউসে একসাথে চা পান করেছিলেন। সে সময় রাজা চার্লস ক্যানসারের চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। ওই বৈঠকের পর অনেকেই ধারণা করেছিলেন, বাবা-ছেলের দীর্ঘদিনের দূরত্ব কমতে শুরু করেছে। তবে হ্যারির বড় ভাই প্রিন্স উইলিয়ামের সম্পর্কে পরিস্থিতি এখনও আগে মতো স্বাভাবিক হয়নি। সবশেষ জানুয়ারিতে, হ্যারি একটি মামলার শুনানিতে অংশ নিতে লন্ডনে যান। তিনি এবং একাধিক ব্রিটিশ সংবাদপত্র 'ডেইলি মেইল'-এর প্রকাশকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। তাদের অভিযোগ ছিল, অবৈধভাবে ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ ও ফোনে আড়ি পাতা হয়েছে।
রাজপরিবারের দায়িত্ব ছাড়ার পর যুক্তরাজ্য সরকার করদাতাদের অর্থে হ্যারির জন্য নিরাপত্তা সুবিধা তুলে নিয়েছে। গত বছর বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে, হ্যারি বলেছিলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে যুক্তরাজ্যে ফিরে যাওয়ার মতো পরিবেশ তিনি দেখছেন না। আগামী সফরে হ্যারি ও তার পরিবারের নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত করা হবে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। তবে তারা যখন রাজপরিবারের সরকারি বাসভবনে থাকবেন, তখন সেখানে বিদ্যমান নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় থাকবেন।
আরও পড়ুন: স্ত্রীকে সুনামিতে হারিয়ে ১৫ বছর ধরে সাগরে ডুব দিচ্ছেন স্বামী
এই জুলাইয়ের সফরে হ্যারি ২০২৭ সালের ইনভিকটাস গেমসের সাথে সংশ্লিষ্ট একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। আগামী বছর ইংল্যান্ডের বার্মিংহামে এই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। হারির এই উদ্যোগটি দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আহত ও অসুস্থ হয়ে পড়া সামরিক সদস্যদের জন্য এক দশকেরও বেশি আগে চালু করা হয়। এ ছাড়াও, ইংল্যান্ডের মিডল্যান্ডস অঞ্চলে তার সমর্থিত বেশ কিছু সামাজিক উদ্যোগের কর্মসূচিতেও অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন। সফর শুরু হবে লন্ডনে ইনভিকটাস গেমসের সাথে সংশ্লিষ্ট অনুষ্ঠানের মাধ্যমে। সে অনুষ্ঠানে মেগানও তাঁর সঙ্গে থাকবেন। তবে ধারণা করা হচ্ছে, তাদের দুই সন্তান কোনো প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে অংশ নেবে না। পরিবারের ব্যক্তিগত সফরসূচি এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন