০৮:৫৯ পি.এম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় স্টেডিয়ামে আগামী শুক্রবার শুরু হতে যাচ্ছে জাতীয় সামার অ্যাথলেটিকসের ১৮তম আসর। এবারের আসরটি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কনিষ্ঠ পুত্র বিশিষ্ট ক্রীড়াসংগঠক মরহুম আরাফাত রহমান কোকোর নামে নামকরণ করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উদ্বোধন করবেন ‘কোকো ১৮তম জাতীয় সামার অ্যাথলেটিকস প্রতিযোগিতা-২০২৬’। তিন দিনব্যাপী এই প্রতিযোগিতায় দেশের ৩৭ জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা, সাতটি সামরিক ও বেসামরিক বাহিনী, ১০টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, দুটি শারীরিক শিক্ষা কলেজ, বিকেএসপি, ডাক বিভাগসহ মোট ৫৭ সংস্থা অংশগ্রহণ করবে, যেখানে ৫৬৫ অ্যাথলেট পদকের জন্য প্রতিযোগিতা করবেন। এদের মধ্যে ৪৩ জন পুরুষ এবং ১৩৪ জন নারী অ্যাথলেট রয়েছেন।
প্রতিযোগিতায় পুরুষ ও নারী দুই গ্রুপে মোট ৪০টি ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হবে। পুরুষদের জন্য ২২টি এবং নারীদের জন্য ১৮টি ইভেন্ট নির্ধারণ করা হয়েছে। রানিং ইভেন্টের ফলাফল ও টাইমিং নির্ধারণের জন্য ইলেকট্রনিক ফটোফিনিশিং মেশিনের ব্যবস্থা থাকবে। সেরা পারফর্ম করা অ্যাথলেটদের জন্য অর্থ পুরস্কারও দেওয়া হবে। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ভবনে অ্যাথলেটিকস ফেডারেশন আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে।
ফেডারেশন সভাপতি আব্দুল্লাহ্ জাবের জানিয়েছেন, ‘দেশের অ্যাথলেটিক্সের উন্নয়নে আমরা বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি, যার মধ্যে প্রথমটি হচ্ছে এবারের কোকো ১৮তম সামার অ্যাথলেটিক্স আয়োজন। এছাড়া, আমরা অ্যাথলেটিক্সের জন্য একটি স্থায়ী ভেন্যু নির্মাণের কাজও করছি।’
অ্যাথলেটিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আলী ইমাম তপন বলেন, ‘কোকো ১৮তম জাতীয় সামার অ্যাথলেটিকস শেষে আমরা দীর্ঘমেয়াদি ক্যাম্প আয়োজনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেব। আসন্ন এসএ গেমসে আমাদের লক্ষ্য ১০টি পদক জয়ের, যার মধ্যে দুটি স্বর্ণপদক আশা করছি।’ এবারের প্রতিযোগিতার টাইটেল স্পন্সর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এবং পাওয়ার্ড বাই আনোয়ার ইস্পাত।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুশিয়ারা নদীর দুই তীরে দুই দেশ অবস্থিত, কিন্তু উৎসবের আনন্দে যেন সীমান্তের কোনো অস্তিত্ব নেই। সিলেটের জকিগঞ্জে শারদীয় দুর্গোৎসবের মূর্তি বিসর্জন সম্পন্ন হয়েছে, যেখানে বাংলাদেশ ও ভারতের মানুষের মিলন, ধর্মীয় সম্প্রীতি এবং সৌহার্দ্যের পরিবেশ লক্ষ্য করা গেছে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিজয়া দশমীতে জকিগঞ্জ পৌর এলাকার কাস্টমঘাটে কুশিয়ারা নদীতে মূর্তি বিসর্জনকে কেন্দ্র করে দুই দেশের নদীতীরে হাজারো মানুষ জড়ো হন। ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনি এবং ভক্তদের উচ্ছ্বাসে সীমান্তবর্তী জনপদ মুখরিত হয়ে ওঠে।
বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ থেকে শোভাযাত্রা নিয়ে পূজার্থীরা কাস্টমঘাটে আসেন। তাঁরা শেষবারের মতো তেল-সিঁদুর, ধান-দূর্বা এবং মিষ্টি দিয়ে দুর্গতিনাশিনী দেবী দুর্গাকে বিদায় জানান। মণ্ডপে মণ্ডপে সিঁদুর খেলা, মন্ত্রপাঠ এবং নানা আনুষ্ঠানিকতা চলতে থাকে। দেবীকে বিদায় জানানোর মুহূর্তে ভক্তদের মধ্যে আনন্দের পাশাপাশি বিষাদের ছায়া দেখা যায়।
মূর্তি বিসর্জন উপলক্ষে বাংলাদেশের জকিগঞ্জের কাস্টমঘাট এবং ভারতের করিমগঞ্জের কাস্টমঘাট-সংলগ্ন অখণ্ড মণ্ডলী মন্দির এলাকায় একটি অনন্য মিলনমেলা সৃষ্টি হয়। কুশিয়ারা নদীর এপার-ওপারে দাঁড়িয়ে দুই দেশের মানুষ একসঙ্গে বিসর্জনের আয়োজন উপভোগ করেন। ঢাকঢোল, কাঁসর, করতাল, মন্দিরা, বাঁশি ও শঙ্খের ধ্বনিতে নদীর দুই তীর মুখর হয়ে ওঠে।
স্থানীয়দের মতে, কুশিয়ারা নদীর দুই তীরে মূর্তি বিসর্জনকে ঘিরে বাংলাদেশ ও ভারতের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের ঐতিহ্য দীর্ঘকাল ধরে চলে আসছে। ভৌগোলিক সীমারেখা দুই দেশকে আলাদা করলেও উৎসবের আনন্দ, মানবিক বন্ধন এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা এই অঞ্চলের মানুষকে একত্রিত করে। ফলে মূর্তি বিসর্জন কেবল ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং দুই দেশের মানুষের মিলন ও সম্প্রীতির উপলক্ষ হয়ে ওঠে।
বিজয়া দশমীতে পূজার্থীদের শুভেচ্ছা জানাতে বিসর্জন ঘাটে রাজনৈতিক নেতা, জনপ্রতিনিধি, উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, পুলিশ, সাংবাদিক এবং সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। প্রতিমা বিসর্জন নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করার জন্য পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা, ডিবি পুলিশ, বিজিবি, আনসার সদস্য এবং ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল সতর্ক অবস্থানে ছিল। ভারতের করিমগঞ্জেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়।
মূর্তি বিসর্জন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপজেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের আহ্বায়ক সঞ্জিত চক্রবর্তী পান্না এবং উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি হীরালাল বিশ্বাস সভাপতিত্ব করেন। উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা বিনয় ভূষণ দাস এবং পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সেক্রেটারি সুরঞ্জিত কুমার রায় যৌথভাবে অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জকিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুজিত কুমার চন্দ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জকিগঞ্জ চৌকি আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ইব্রাহিম তরফদার এবং জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রাজ্জাক।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বক্তব্য দেন জকিগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সহসভাপতি ইকবাল আহমদ তাপাদার, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও জকিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি শফিকুর রহমান, জকিগঞ্জ সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাসান আহমদ, পৌর বিএনপির সভাপতি মাসুক আহমদ এবং সাধারণ সম্পাদক শিব্বির আহমদ রনি।
এছাড়া বক্তব্য দেন সিলেট জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সদস্য সত্যজিৎ দত্ত পুরকায়স্থ, জকিগঞ্জ উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সহসভাপতি নিহার রায় এবং উপজেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের যুগ্ম আহ্বায়ক তাপস বিশ্বাস।
বক্তব্যে বিএনপি নেতারা তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, ‘তারেক রহমানের সরকার বারবার দরকার।’ তাঁরা জানান, প্রতিটি পূজামণ্ডপে চালের বরাদ্দ আগের তুলনায় ১০০ কেজি বাড়িয়ে ৬০০ কেজি করা হয়েছে। পূজার সময় শতভাগ নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের অনুদান ৪ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ কোটি টাকা করার বিষয়টিও তাঁরা উল্লেখ করেন। বক্তারা এসব উদ্যোগকে নতুন ইতিহাস হিসেবে অভিহিত করেন।
বক্তারা আরও বলেন, গত কয়েক বছরের তুলনায় ২০২৬ সালে দুর্গাপূজার আয়োজন কোনো ঝামেলা ছাড়াই সম্পন্ন হয়েছে। তাঁরা জকিগঞ্জের দীর্ঘদিনের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রশংসা করে শান্তিপূর্ণভাবে মূর্তি বিসর্জন সম্পন্ন হওয়ায় প্রশাসনসহ সর্বস্তরের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
এ বছর সিলেট জেলার মধ্যে সর্বোচ্চ ৯৫টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব উদ্যাপিত হয়েছে জকিগঞ্জ উপজেলায়। কুশিয়ারা নদীর দুই তীরে বাংলাদেশ ও ভারতের মানুষের অংশগ্রহণে মূর্তি বিসর্জনের এ আয়োজন আবারও তুলে ধরেছে সীমান্তের দুই পাশের মানুষের দীর্ঘদিনের সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের চিত্র।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশের আবহাওয়ায় পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে, যখন দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বিদায় নিয়েছে। গ্রামাঞ্চলের কিছু স্থানে ভোরে হালকা কুয়াশা দেখা যাচ্ছে, এবং রাতের শেষ ভাগ ও সকালে বাতাসে শীতলতার অনুভূতি হচ্ছে। উত্তরের অঞ্চলে তাপমাত্রা কমতে শুরু করেছে। তবে আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এবারের শীতের তীব্রতা তুলনামূলকভাবে কম হতে পারে এবং শীতের স্থায়িত্বও স্বাভাবিকের তুলনায় কম হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আবহাওয়াবিদ মো. তরিফুল নেওয়াজ কবিরের মতে, নভেম্বরের প্রথম দিকে উত্তরাঞ্চলের কিছু জেলায় তাপমাত্রা ১৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসতে পারে। নভেম্বরের শেষ দিকে উত্তরাঞ্চলের কিছু স্থানে শৈত্যপ্রবাহের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। অন্যদিকে, ঢাকায় শীতের অনুভূতি ডিসেম্বর থেকে বাড়তে পারে। এ সময়ে রাজধানীর তাপমাত্রা ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নামার সম্ভাবনা রয়েছে, এমন তথ্যও তিনি জানিয়েছেন।
কেন বাড়ছে শীতের অনুভূতি?
আবহাওয়াবিদদের মতে, দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বিদায় নেওয়ার পর বাতাসের গতিপ্রকৃতিতে পরিবর্তন ঘটে। বর্তমানে উত্তর দিক থেকে বাতাস প্রবাহিত হওয়ায় দেশের উত্তরাঞ্চলে শীতের অনুভূতি তুলনামূলকভাবে বেশি হচ্ছে।
আবহাওয়াবিদ মো. তরিফুল নেওয়াজ কবির জানাচ্ছেন, আগামী কয়েক মাসে উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে। উত্তরের বাতাসের প্রবাহ বাড়লে শীতের অনুভূতি বৃদ্ধি পেতে পারে। ইতিমধ্যে পঞ্চগড়সহ উত্তরাঞ্চলের কিছু এলাকায় এর প্রভাব অনুভূত হচ্ছে।
সূর্যের অবস্থান পরিবর্তনের কারণে দিনের তাপমাত্রার অনুভূতিতে পরিবর্তন আসে। বর্ষাকালে সূর্যকিরণ তুলনামূলকভাবে খাড়াভাবে পড়ে, কিন্তু এই সময়ে তা আরও তির্যকভাবে পড়ে। ফলে ধীরে ধীরে দিনের তাপের অনুভূতি কমে যেতে পারে এবং রাতের শীতলতা বেশি অনুভূত হতে পারে।
ভোরে কুয়াশা দেখা যাচ্ছে, তবে এর মানে এই নয় যে শীত জেঁকে বসেছে। মৌসুমি বায়ুর প্রভাব কমার সঙ্গে সঙ্গে গ্রামাঞ্চলের মাঠঘাট, ফসলের জমি ও জলাশয়ের আশপাশে ভোরের দিকে হালকা কুয়াশা দেখা যেতে পারে। রাতে ভূমির কাছাকাছি বাতাস ঠাণ্ডা হয়ে গেলে এবং বাতাসে পর্যাপ্ত জলীয় বাষ্প থাকলে কুয়াশা তৈরি হয়। একই সঙ্গে ঘাস ও গাছের পাতায় শিশির জমতে পারে।
কিন্তু কুয়াশা দেখা দিলেই তীব্র শীত শুরু হয়েছে, এমনটি নয়। এ সময় সকালে শীতলতা অনুভূত হলেও দুপুরে রোদের কারণে গরম লাগতে পারে। রাতের তাপমাত্রা ধারাবাহিকভাবে কমতে থাকলে এবং ঠাণ্ডা বাতাসের প্রবাহ বাড়লে শীতের অনুভূতি আরও স্পষ্ট হতে পারে। মৌসুমি বায়ু বিদায় নিলেও বৃষ্টির সম্ভাবনা পুরোপুরি শেষ হয়ে যায় না। বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ সৃষ্টি হলে কিংবা বায়ুমণ্ডলের পরিস্থিতিতে পরিবর্তন এলে দেশের কিছু অঞ্চলে বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে।
রাজধানী ঢাকায় শীতের অনুভূতি উত্তরাঞ্চলের তুলনায় দেরিতে বাড়তে পারে। আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবিরের মতে, ডিসেম্বর থেকে ঢাকায় শীতের প্রভাব স্পষ্ট হতে পারে। এ সময় তাপমাত্রা ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নামার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে এটি সম্ভাব্য পূর্বাভাস, নিশ্চিত তাপমাত্রা নয়। প্রকৃত তাপমাত্রা নির্ভর করবে বাতাসের দিক ও গতি, আকাশের অবস্থা এবং অন্যান্য আবহাওয়াগত পরিস্থিতির ওপর।
ঢাকার ঘনবসতি ও নগরায়ণের কারণে শহরের তাপমাত্রা আশপাশের খোলা এলাকার তুলনায় ভিন্ন হতে পারে। ফলে উত্তরাঞ্চলে শীতের অনুভূতি বাড়লেও রাজধানীতে একই সময়ে সমান মাত্রায় ঠাণ্ডা নাও পড়তে পারে।
শীতে বৃষ্টি বাড়বে কি?
উষ্ণ শীত হলেই বৃষ্টি বাড়বে বা কমবে—এমন সরাসরি সম্পর্ক নেই। শীতকালে বৃষ্টির সম্ভাবনা নির্ভর করে বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন স্তরের পরিস্থিতি, বাতাসের প্রবাহ এবং আর্দ্রতার ওপর।
আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবিরের ব্যাখ্যায়, ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল থেকে আসা আবহাওয়াব্যবস্থা ও বাতাসের প্রভাবে দেশে শীতকালে বৃষ্টি হতে পারে। এ ধরনের ব্যবস্থা মেঘ নিয়ে এলে বৃষ্টির পরিস্থিতি তৈরি হয়। অন্যদিকে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার মৌসুমি পূর্বাভাসে অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর সময়ে দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন অংশে বৃষ্টিপাতের ধরনে ভিন্নতার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। তবে এ আঞ্চলিক পূর্বাভাস থেকে বাংলাদেশের কোনো নির্দিষ্ট জেলায় কবে বৃষ্টি হবে, তা বলা যায় না।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দশমী আসলে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানানোর সময়। চার দিনের উৎসব শেষে আনন্দের সঙ্গে বিষাদের সুরও মিশে থাকে। সিঁদুর দিয়ে দেবীকে বরণ করে মিষ্টিমুখ করিয়ে বিদায় জানানো—এই প্রথায় প্রতিবছরই অংশগ্রহণ করেন কলকাতার অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক। এবারের আয়োজনেও তিনি ব্যতিক্রম ছিলেন না। ভবানীপুরের ঐতিহ্যবাহী মল্লিকবাড়ির দুর্গাপূজায় পরিবারের সঙ্গে সিঁদুর খেলায় মেতে উঠেছেন তিনি।
মল্লিকবাড়ির দুর্গাপূজা মানেই পারিবারিক ঐতিহ্য ও সাবেকিয়ানা। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা এই আয়োজনের নিয়ম মেনে দেবীকে বরণ করে বিদায় জানান পরিবারের সদস্যরা। দশমীতে দেবীবরণের পর বাড়ির নারীরা একে অপরকে সিঁদুর পরিয়ে উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নেন। প্রতিবছরের মতো এবারও সেই আয়োজনে অংশগ্রহণ করেন কোয়েল।
এ বছর দশমীর সাজে লাল পাড়ের সাদা শাড়ি ও লাল ব্লাউজ বেছে নিয়েছেন অভিনেত্রী। মাথায় খোঁপা, সঙ্গে ছিমছাম সোনার গয়না—সব মিলিয়ে তিনি সাবেকি সাজে ধরা দিয়েছেন। সিঁদুর খেলায় পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নিতে দেখা যায় তাকে।
তবে উৎসবের শেষ দিনে মন খারাপও কোয়েলকে ছুঁয়ে যায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে বিজয়ার শুভেচ্ছা জানিয়ে অভিনেত্রী বলেন, “আজ যদিও মন খারাপের পালা। কিন্তু নিজেদের সান্ত্বনা দিয়ে বলব, আসছে বছর আবার হবে! শুভ বিজয়ার প্রীতি ও শুভেচ্ছা। সবাই ভালো ও আনন্দে থাকবেন। অন্যদেরও আনন্দে রাখবেন।”
পূজার প্রথম দিন থেকেই মল্লিকবাড়িতে ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন কোয়েল। প্রতিদিনই পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে নিয়ম মেনে পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অষ্টমীর সকালে অঞ্জলি দিতে দেখা গিয়েছিল তাকে। পূজার বিভিন্ন কাজে অংশগ্রহণের পাশাপাশি পরিবারের সঙ্গে সময় কাটিয়েছেন তিনি। স্বামী নিসপাল সিং রানে এবং দুই সন্তান কবীর ও কাব্যও তার সঙ্গে ছিলেন। উপস্থিত ছিলেন অভিনেতা রঞ্জিত মল্লিক ও তার স্ত্রীও।
দশমীতেও দেখা গেছে সেই পরিচিত পারিবারিক আবহ। ঢাকের বাদ্যের মধ্যে দেবীকে সিঁদুর, পান-সুপারি ও মিষ্টি দিয়ে বরণ করেন পরিবারের সদস্যরা। এরপর নারীরা একে অপরের কপাল ও সিঁথিতে সিঁদুর ছুঁইয়ে দেন। আনন্দের পাশাপাশি দেবীকে বিদায় জানানোর আবেগও তাদের চোখেমুখে ধরা পড়ে।
কোয়েলের কাছে দুর্গাপূজা কেবল একটি উৎসব নয়, বরং শিকড়ের টানও। অভিনয়ের ব্যস্ততা যতই থাকুক, পূজার দিনগুলো পরিবারের সঙ্গে কাটানো তার কাছে সবসময় বিশেষ। অঞ্জলি থেকে দেবীবরণ—মল্লিকবাড়ির নানা আচার-অনুষ্ঠানে পরিবারের ছোট-বড় সবার উপস্থিতি এই আয়োজনকে আরো আপন করে তোলে।
এদিকে, নবমীর সন্ধ্যায় মল্লিকবাড়ির পূজায় গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে দুর্গাপ্রতিমা দর্শনের পাশাপাশি কোয়েলসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গেও তিনি দেখা করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ