ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

স্ত্রীকে সুনামিতে হারিয়ে ১৫ বছর ধরে সাগরে ডুব দিচ্ছেন স্বামী


স্ত্রীকে সুনামিতে হারিয়ে ১৫ বছর ধরে সাগরে ডুব দিচ্ছেন স্বামী

২০১১ সালে জাপানের উত্তর-পূর্ব উপকূলে ভয়াবহ সুনামির ফলে নিখোঁজ হয়ে যান স্ত্রী ইউকো। ১৫ বছর পেরিয়ে গেলেও স্ত্রীকে হারানোর দুঃখ ভুলতে পারেননি ইয়াসুও তাকামাতসু। স্ত্রীর কোনো খোঁজ না পেয়ে, তিনি এখনো মাসে দুইবার সাগরে ডুব দেন। তাঁর বিশ্বাস, সমুদ্রের গভীরে হয়তো স্ত্রীর সঙ্গে দেখা হবে।

প্রতি মাসে দুইবার, ইয়াসুও একটি ছোট মাছ ধরার নৌকায় চড়ে উপকূল থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে সাগরে যান। জাপানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় মিয়াগি প্রিফেকচারের ওনাগাওয়া বন্দর থেকে শুরু হয় তাঁর এই যাত্রা। মুখে ডাইভিং মাস্ক, সঙ্গে এয়ার ট্যাংক ও ওজনের বেল্ট নিয়ে ঠান্ডা পানিতে ঝাঁপ দেন তিনি।

১৩ বছরেরও বেশি সময় ধরে একই নিয়মে ডুব দিয়ে চলেছেন ইয়াসুও। প্রতিবারই ফিরে যান সেই সমুদ্রে, যে সমুদ্র তাঁর কাছ থেকে কেড়ে নিয়েছে জীবনের সবচেয়ে প্রিয় মানুষটিকে।

আরও পড়ুন: আসামে ১১০০ ঘরবাড়ি উচ্ছেদ, ১০ মসজিদ ধ্বংসের ঘটনায় ওলামা অ্যালায়েন্সের নিন্দা

যে সুনামি কেড়ে নিয়েছিল স্ত্রীকে

২০১১ সালে জাপানের উত্তর-পূর্ব উপকূলে শক্তিশালী সুনামি আঘাত হানে। ভয়াবহ ওই প্রাকৃতিক দুর্যোগে উপকূলীয় বিস্তীর্ণ এলাকা ধ্বংস হয়ে যায়। বিশাল ঢেউ উপকূল থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার ভেতরে প্রবেশ করে।

সেদিন সকালে স্ত্রী ইউকোকে তাঁর কর্মস্থলে নামিয়ে দিয়েছিলেন ইয়াসুও। ইউকো একটি ব্যাংকে কাজ করতেন। গাড়িতে যাওয়ার সময় দুজনের মধ্যে রাতের খাবারে কী খাওয়া হবে, তা নিয়েও কথা হয়েছিল। প্রতিদিনের মতোই ছিল তাদের সেই সংক্ষিপ্ত যাত্রা। কিন্তু কেউ জানতেন না, সেটিই হতে যাচ্ছে তাদের একসঙ্গে কাটানো শেষ মুহূর্তগুলোর একটি।

সুনামির সতর্কসংকেত বেজে উঠলে ইউকো ও তাঁর ১২ সহকর্মী ব্যাংক ভবনের ছাদে আশ্রয় নেন। সেখান থেকে স্বামীকে একটি বার্তা পাঠান তিনি।

আরও পড়ুন: তেহরানে ‘কারাবন্দি ট্রাম্প’, লেখা-এই দৃশ্য না দেখা অপরাধ

বার্তায় লেখা ছিল, ‘তুমি কি নিরাপদ আছো? আমি বাড়ি যেতে চাই।’

স্ত্রীর বার্তা পেয়ে ইয়াসুও ভেবেছিলেন, ইউকো নিশ্চয়ই নিরাপদে আছেন। কিন্তু পরদিন বেঁচে যাওয়া মানুষদের আশ্রয় দেওয়া একটি পৌর হাসপাতালে গিয়ে তিনি স্ত্রীকে খুঁজে পাননি।

পরে তাঁকে জানানো হয়, সুনামির পানিতে ভেসে গেছেন ইউকো।

সেই মুহূর্তের স্মৃতিচারণা করে ইয়াসুও বলেন, ‘আমাকে বলা হয়েছিল যে সুনামি তাকে ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। এরপর আমি আর উঠে দাঁড়াতে পারছিলাম না। আমার সমস্ত শক্তি যেন ভেসে গিয়েছিল।’

আরও পড়ুন: আসামের মাটিতে মজলুমের অশ্রু: ইতিহাসের সত্য ও বর্তমান নিপীড়ন

সুনামির পানি নেমে যাওয়ার পরের দিনগুলো ও সপ্তাহগুলোতে জাপানের উপকূল থেকে হাজার হাজার লাশ উদ্ধার করা হয়। তবে ইউকোর মতো অনেক মানুষ নিখোঁজই থেকে যান। তাদের অনেকেরই আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

দুই বছর অপেক্ষার পর নিজেই নামলেন সমুদ্রে।

স্ত্রী নিখোঁজ হওয়ার পর প্রায় দুই বছর ধরে ইয়াসুও দেখেছেন, জাপানের উপকূলরক্ষী বাহিনীর ডুবুরিরা সাগরে নিখোঁজদের দেহাবশেষ ও তাদের ব্যক্তিগত জিনিসপত্র খুঁজে বেড়াচ্ছেন। কিন্তু ইউকোর কোনো খোঁজ মেলেনি।

একসময় নিজেই ডুবুরি হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন ইয়াসুও। শিখতে শুরু করেন পানির নিচে ডুব দেওয়ার কৌশল। তাঁর মনে হয়েছিল, সমুদ্রের গভীরে অনুসন্ধান চালিয়ে গেলে হয়তো একদিন স্ত্রীর দেখা পাবেন।

আরও পড়ুন: নেতানিয়াহুর ইরানে হামলার পরিকল্পনা আটকে দেন ট্রাম্প

ইয়াসুও বলেন, ‘আমি ডুব দিতে শিখলাম। আমার মনে হতো, যত দিন আমি ডুব দেওয়া চালিয়ে যাব, একদিন তার সঙ্গে আমার দেখা হবে।’

এরপর থেকে থেমে থাকেননি তিনি। এখন পর্যন্ত ৭৬০টিরও বেশি ডুব সম্পন্ন করেছেন। তাঁর সর্বশেষ ডুবটি ছিল ৭৬৩তম।

কবরের বদলে সমুদ্রেই স্ত্রীকে খুঁজে ফেরেন।

জাপানে মৃত প্রিয়জনদের স্মরণ করার নানা ধর্মীয় ও সামাজিক রীতি রয়েছে। বৌদ্ধ ঐতিহ্যে মৃতদের শান্তি ও মঙ্গল কামনায় প্রার্থনা, নৈবেদ্য নিবেদন এবং কবর বা বেদির পাশে শ্রদ্ধা জানানোর মতো আচার প্রচলিত।

আরও পড়ুন: ইসরাইলের অস্তিত্বের প্রশ্নে বিভক্ত দুই শিবির, নেতানিয়াহুর জোট ও বিরোধী দলের লড়াই

কিন্তু ইউকোর দেহাবশেষ কখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। ফলে অন্যদের মতো কোনো কবরে গিয়ে স্ত্রীর প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর সুযোগও পাননি ইয়াসুও।

স্ত্রীকে খুঁজতে শুরু করা তাঁর সমুদ্রযাত্রা ধীরে ধীরে অন্য এক অর্থ ধারণ করেছে। এখন এটি শুধু অনুসন্ধান নয়, বরং প্রিয় মানুষটির সঙ্গে সংযোগ অনুভব করার ব্যক্তিগত এক রীতিতে পরিণত হয়েছে।

ইয়াসুও বলেন, ‘বারবার ডুব দেওয়ার পর আমার মনে হতে লাগল যে সে হয়তো আশপাশেই আছে। এটা কবরে গিয়ে স্মরণ করার চেয়ে একটু আলাদা, কারণ সে কবরে নেই। বরং মনে হয়, যেন আমি তার সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছি।’

তার কাছে সমুদ্রের প্রতিটি ডুব তাই স্ত্রীকে স্মরণ করার একটি বিশেষ মুহূর্ত।

আরও পড়ুন: চীন ‘গ্রে জোন’ কৌশল ব্যবহার করে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখছে

ধ্বংসস্তূপ দেখলে আজও কান্না পান তার

বছরের পর বছর সমুদ্রের গভীরে ডুব দিতে গিয়ে ইয়াসুও দেখেছেন সুনামির রেখে যাওয়া ধ্বংসযজ্ঞের চিহ্ন। পানির নিচে ছড়িয়ে থাকা ধ্বংসস্তূপ তাকে বারবার মনে করিয়ে দেয়, কী ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছিল তার স্ত্রীকে।

তিনি বলেন, ‘যখন আমি ধ্বংসস্তূপগুলোর দিকে তাকাই, তখন ভাবি, এইসবের মধ্য দিয়ে তার পক্ষে উপরে উঠে আসা সম্ভব ছিল না। আর যখন আমি এটা ভাবি, তখন আমার সত্যিই কান্না চলে আসে।’

স্ত্রীকে হারানোর দুঃখ এখনো তাকে তাড়া করে বেড়ায়। এত বছর পরও সেই ক্ষত পুরোপুরি মুছে যায়নি।

তবে ইয়াসুও সমুদ্রকে ঘৃণা করেন না। বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তিনি উপলব্ধি করেছেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। যে সমুদ্র তার স্ত্রীর জীবন কেড়ে নিয়েছে, সেই সমুদ্রই আবার তার জীবনের দীর্ঘদিনের সঙ্গী।

সমুদ্র সম্পর্কে নিজের অনুভূতি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি এটাকে ঠিক ঘৃণা করি না বা সেরকম কিছু না। তখন সুনামি হয়েছিল, আর সমুদ্র উত্তাল ছিল। কিন্তু অন্যদিকে, অনেক দারুণ জিনিস দেখা যায়। আর দৃশ্যও খুব সুন্দর।’

পানির নিচে ধ্বংসস্তূপের মাঝেও গড়ে উঠেছে নতুন জীবন।

জাপানের প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলের তোহোকু অঞ্চলে ভূমিকম্প ও সুনামি নতুন কোনো ঘটনা নয়। এই অঞ্চলের মানুষের জীবন, সংস্কৃতি ও বিশ্বাসের সঙ্গে প্রকৃতির শক্তির সম্পর্ক গভীরভাবে জড়িয়ে আছে।

উপকূলজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ধ্বংসাবশেষ মানুষকে বারবার মনে করিয়ে দেয়, প্রকৃতির বিশাল শক্তির সামনে মানুষ কতটা অসহায়। একই সঙ্গে প্রকৃতির সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে বেঁচে থাকার কথাও মনে করিয়ে দেয় এসব স্মৃতি।

সমুদ্রের তলদেশে ডুব দিতে গিয়ে ইয়াসুও এখন ধ্বংসের পাশাপাশি নতুন জীবনের চিহ্নও দেখতে পান।

সেখানে রয়েছে আধভাঙা গাড়ি ও বিভিন্ন ধরনের ধ্বংসাবশেষ। সময়ের সঙ্গে এসবের কিছু কৃত্রিম প্রবালপ্রাচীরের মতো পরিবেশ তৈরি করেছে। সেখানে মাছ আসে, আশ্রয় নেয় এবং ডিম পাড়ে।

প্রকৃতির এই পরিবর্তনকে এখন ভিন্নভাবে দেখেন ইয়াসুও। তার কাছে সমুদ্রের তলদেশ শুধু অতীতের ধ্বংসের স্মারক নয়, বরং জীবন ও পরিবর্তনের ধারাবাহিকতারও প্রতীক।

প্রায় ৫০ মিটার গভীরে ডুব দেওয়ার সময় তিনি এমন এক জলজ ভূদৃশ্যের ওপর দিয়ে সাঁতার কাটেন, যেখানে ধ্বংসের চিহ্নের পাশাপাশি নতুন জীবনের উপস্থিতিও রয়েছে।

পানির নিচের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘পানির নিচে নানা ধরনের গঠন রয়েছে। কিছু কিছু পাহাড়ের মতো, আর আপনি সেগুলোর ওপর দিয়ে ভেসে থেকে ওপর থেকে নিচের দিকে তাকাতে পারেন। তাই এটা সত্যিই কিছুটা ওড়ার মতো অনুভূতি দেয়।’

স্ত্রীর সঙ্গে দেখা হলে কী বলতেন ইউকো?

ইয়াসুওর জীবন সমুদ্রকে ঘিরেই গড়ে উঠেছে। ইউকোর সঙ্গে পরিচয়ের অনেক আগে থেকেই তিনি এই উপকূলের পাশে বড় হয়েছেন। সমুদ্রের পানিতে সাঁতার কাটা ও মাছ ধরা শিখেছেন ছোটবেলায়। তার স্মৃতির বড় একটি অংশজুড়ে রয়েছে এই জলরাশি।

এখনো সমুদ্রে যাওয়া-আসার পথে তাকে হাসিখুশি ও বন্ধুত্বপূর্ণ দেখা যায়। স্ত্রীর কথা বলতে গিয়ে তার কণ্ঠে কখনো কখনো ফুটে ওঠে রসিকতার সুর।

যদি কোনো দিন ইউকোর সঙ্গে আবার দেখা হয়, তাহলে কী হতে পারে—এমন ভাবনা নিয়ে ইয়াসুও বলেন, ‘আমাদের দেখা হলে, আমার মনে হয় অবাক হয়ে সে-ই হয়তো আমাকে প্রথমে বলত, “তোমার বয়স হয়ে গেছে।”’

কথাটির মধ্যে যেমন রয়েছে দীর্ঘদিনের বিচ্ছেদের বেদনা, তেমনি রয়েছে দুজনের সম্পর্কের উষ্ণ স্মৃতি।

তবে সমুদ্রের গভীরে ডুব দেওয়ার সময়টি ইয়াসুওর জন্য আত্মোপলব্ধিরও সময়। সেখানে তিনি একদিকে স্ত্রীর স্মৃতি খুঁজে ফেরেন, অন্যদিকে প্রকৃতির পরিবর্তন ও জীবনের অনিবার্য বাস্তবতা নিয়ে ভাবেন।

১৫ বছর পরও থামেনি অপেক্ষা

স্ত্রী ইউকোকে হারানোর ১৫ বছর পরও ইয়াসুওর শোক তার জীবনের অংশ হয়ে রয়েছে। সমুদ্রের সঙ্গে তার সম্পর্কও রয়ে গেছে আগের মতোই গভীর।

এখন পর্যন্ত তার ৭৬৩টি ডুব দেওয়া হয়েছে। প্রতিবারই তিনি ফিরে যান সেই জায়গায়, যেখানে স্ত্রীর স্মৃতি আর সমুদ্রের বিশালতা একাকার হয়ে আছে।

হয়তো কোনো দিন ইউকোর সঙ্গে আর দেখা হবে না। তবু ইয়াসুওর কাছে সমুদ্রে ডুব দেওয়া মানে কেবল নিখোঁজ স্ত্রীকে খুঁজে ফেরা নয়; বরং তাকে মনে রাখা, তার সঙ্গে সম্পর্কটিকে বাঁচিয়ে রাখা এবং হারানোর শোক নিয়েই সামনে এগিয়ে চলা।

তাই আবারো সাগরে ফিরবেন ইয়াসুও। প্রিয় মানুষটির সান্নিধ্য অনুভব করার আশায়, সেই একই গভীর নীল পানির নিচে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সিংড়ায় ২৪ কোটি টাকা ব্যয়ে রাস্তার নির্মাণকাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সিংড়া থেকে ফিরে আলিফ হোসেন

বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:৫৯ পি.এম


সিংড়ায় ২৪ কোটি টাকা ব্যয়ে রাস্তার নির্মাণকাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে
নাটোরের সিংড়া উপজেলায় প্রায় ২৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন চৌগ্রাম-কালীগঞ্জ সড়কের নির্মাণ
 কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে।স্থানীয় এলজিইডি কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে যথাযথ মান বজায় রাখেই নির্মাণ কাজ চলছে। কাদা ও মাটিমিশ্রিত খোয়া ব্যবহারের অভিযোগ সম্পুর্ণ বানোয়াট ও ভিত্তিহীন।
অন্যদিকে রাস্তা নির্মাণে বেইজ ও সাব-বেইজ স্তরে নির্ধারিত মানের উপকরণ ব্যবহার এবং যথাযথভাবে কমপ্যাকশন করা হয়েছে।চৌগ্রাম-কালীগঞ্জ রাস্তায় ব্যবহৃত খোয়ার প্রকৃত মান এবং নির্মাণকাজের অনিয়ম নিয়ে যে অভিযোগ উঙ্খাপন করা হয়েছে তা সত্যি নয়।একটি গোষ্ঠী অবৈধ সুবিধা আদায়ে ব্যর্থ হয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন ও নির্মাণ কাজ বিলম্বিত করতে অসৎ উদ্দেশ্য অপপ্রচার শুরু করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাস্তার নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হলে পুরো এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা ও আর্থসামাজিক চিত্র বদলে যাবে। জেলা ও উপজেলা সদরে সহজ হবে যাতায়াত ব্যবস্থা।
এদিকে এই রাস্তা নির্মাণ কাজ ঘিরে এলাকাবাসীর মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার সৃস্টি হয়েছে, বিরাজ করছে উৎসবের আবহ। এই রাস্তা নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হলে সুফল পাবেন এই রাস্তায় যাতায়াত করা কয়েকটি এলাকার মানুষ,পথচারী ও যানবাহন চালকগণ। সহজ হবে জেলা ও উপজেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা। এই রাস্তায় চলাচল করা স্থানীয়দের জন্য ছিলো নিত্য ভোগান্তি।বৃষ্টির দিনে রাস্তার বিভিন্ন স্থানে পানি কাঁদা জমায় হেঁটে যাওয় ছিলো দুর্বিষহ। তবে রাস্তার নির্মাণ কাজ করায় অবশেষে সেই দুর্দিন কাটিয়ে সুদিন ফিরছে এলাকায় বইছে স্বস্তির হাওয়া।
অপরদিকে এই রাস্তার নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হলে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিবে এলাকাবাসীর জন্য। নিরাপদ ও আরামদায়ক যাতায়াতের সুযোগ সৃষ্টি হবে সেই আশায় কৃষক, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের মুখে এখন আনন্দের হাসি। স্থানীয় রিক্সাভ্যান চালক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, তিনি প্রতিদিন বিভিন্ন রাস্তায় ভ্যান চালান। এই রাস্তায় অনেক কষ্ট করতে হতো। রাস্তা নির্মাণ কাজ শুরু হওয়ায় এখন সুদিন ফিরেছে, চলাচল অনেক সহজ হয়েছে।”অটোরিকশা চালক কাবিল জানান, “আগে এই রাস্তায় যাতায়াতে সময় ও ব্যাটারির চার্জ খরচ বেড়ে যেত। রাস্তা নির্মাণ সম্পন্ন হলে যাত্রীদের আরাম, আমাদেরও স্বস্তি।”স্থানীয়রা মনে করছেন, এই রাস্তা এই অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন প্রাণ সঞ্চার করবে। কৃষিপণ্য দ্রুত বাজারজাতকরণ, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার এবং সাধারণ মানুষের কর্মজীবনে আসবে নতুন গতি ও স্বাচ্ছন্দ্য।
স্থানীয়রা বলছে, একটি গোষ্ঠী অবৈধ সুবিধা আদায়ে ব্যর্থ হয়ে রাস্তার কাজ বিলম্বিত এবং ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুন্ন করতে উদ্দেশ্যেপ্রণোদিত ও পরিকল্পিতভাবে গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে মিথ্যা তথ্য দিয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি এসব গায়েবী অভিযোগের গুরুত্ব না দিয়ে দ্রুত রাস্তার নির্মাণ কাজ সম্পন্ন  করা হোক। এই রাস্তা নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হলে নাগরিক সেবার মান বৃদ্ধি পাবে,একইসঙ্গে এলাকার আর্থসামাজিক উন্নয়নে বড় ভুমিকা রাখবে,সহজ হবে জেলা-উপজেলা সদরের সঙ্গে কয়েকটি এলাকার মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থা।
এদিকে এখানো রাস্তার কাজ সম্পন্ন হয়নি, ঠিকাদারকে এখানো কোনো বিল দেয়া হয়নি, এলজিইডি এখানো রাস্তা বুঝে নেয়নি,তাহলে এখানোই অনিয়মের প্রশ্ন আসছে কেন ? রাস্তার নির্মাণ কাজ সম্পন্ন না হতেই কাজ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ তোলা কতটা যৌক্তিক।
স্থানীয় বাসিন্দা আবুল হোসেন, আব্দুর রহিম,আলী হোসেনসহ অনেকে বলেন,রাস্তা নির্মাণ কাজ বিলম্বিত করতে একটি গোষ্ঠী শুরু থেকেই অহেতুক গায়েবী অভিযোগ উঙ্খাপন করে আসছে।তারা বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে বিটুমিন,পাথর তেল এবং শ্রমিকের মজুরি বেশী এমনিতেই ঠিকাদারগণ বিপাকে রয়েছে।এমতাবস্থায় বার বার খন্ডিত অভিযোগ উঙ্খাপন করে রাস্তার নির্মাণ কাজ বিলম্বিত ও প্রশ্নবিদ্ধ করা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। তারা এসব অভিযোগ আমলে না নিয়ে দ্রুত রাস্তর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করার দাবি করেছেন।
এবিষয়ে সিংড়া উপজেলা প্রকৌশলী খলিলুর রহমান বলেন,রাস্তার নির্মাণ কাজে অনিয়মের কোনো সুযোগ নাই।তিনি বলেন,নিয়মিত রাস্তার নির্মাণ কাজ তদারকি করা হচ্ছে,তিনি নিজেও তদারকি করছেন। এবিষয়ে উপ-সহকারী প্রকৌশলী বিপ্লব আলী বলেন,রাস্তা নির্মাণ কাজের শুরু থেকেই নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে,এখানে অনিয়মের কোনো সুযোগ নাই।#

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাষ্ট্রপতি কোকো উদ্বোধন করবেন ১৮তম জাতীয় সামার অ্যাথলেটিকস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:৫৯ পি.এম


রাষ্ট্রপতি কোকো উদ্বোধন করবেন ১৮তম জাতীয় সামার অ্যাথলেটিকস

জাতীয় স্টেডিয়ামে আগামী শুক্রবার শুরু হতে যাচ্ছে জাতীয় সামার অ্যাথলেটিকসের ১৮তম আসর। এবারের আসরটি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কনিষ্ঠ পুত্র বিশিষ্ট ক্রীড়াসংগঠক মরহুম আরাফাত রহমান কোকোর নামে নামকরণ করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উদ্বোধন করবেন ‘কোকো ১৮তম জাতীয় সামার অ্যাথলেটিকস প্রতিযোগিতা-২০২৬’। তিন দিনব্যাপী এই প্রতিযোগিতায় দেশের ৩৭ জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা, সাতটি সামরিক ও বেসামরিক বাহিনী, ১০টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, দুটি শারীরিক শিক্ষা কলেজ, বিকেএসপি, ডাক বিভাগসহ মোট ৫৭ সংস্থা অংশগ্রহণ করবে, যেখানে ৫৬৫ অ্যাথলেট পদকের জন্য প্রতিযোগিতা করবেন। এদের মধ্যে ৪৩ জন পুরুষ এবং ১৩৪ জন নারী অ্যাথলেট রয়েছেন।

প্রতিযোগিতায় পুরুষ ও নারী দুই গ্রুপে মোট ৪০টি ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হবে। পুরুষদের জন্য ২২টি এবং নারীদের জন্য ১৮টি ইভেন্ট নির্ধারণ করা হয়েছে। রানিং ইভেন্টের ফলাফল ও টাইমিং নির্ধারণের জন্য ইলেকট্রনিক ফটোফিনিশিং মেশিনের ব্যবস্থা থাকবে। সেরা পারফর্ম করা অ্যাথলেটদের জন্য অর্থ পুরস্কারও দেওয়া হবে। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ভবনে অ্যাথলেটিকস ফেডারেশন আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে।

ফেডারেশন সভাপতি আব্দুল্লাহ্ জাবের জানিয়েছেন, ‘দেশের অ্যাথলেটিক্সের উন্নয়নে আমরা বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি, যার মধ্যে প্রথমটি হচ্ছে এবারের কোকো ১৮তম সামার অ্যাথলেটিক্স আয়োজন। এছাড়া, আমরা অ্যাথলেটিক্সের জন্য একটি স্থায়ী ভেন্যু নির্মাণের কাজও করছি।’

অ্যাথলেটিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আলী ইমাম তপন বলেন, ‘কোকো ১৮তম জাতীয় সামার অ্যাথলেটিকস শেষে আমরা দীর্ঘমেয়াদি ক্যাম্প আয়োজনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেব। আসন্ন এসএ গেমসে আমাদের লক্ষ্য ১০টি পদক জয়ের, যার মধ্যে দুটি স্বর্ণপদক আশা করছি।’ এবারের প্রতিযোগিতার টাইটেল স্পন্সর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এবং পাওয়ার্ড বাই আনোয়ার ইস্পাত।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুশিয়ারার দুই তীরে বাংলাদেশ-ভারতের সম্প্রীতির মিলনমেলা, জকিগঞ্জে দুর্গামূর্তি বিসর্জন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:০০ পি.এম


কুশিয়ারার দুই তীরে বাংলাদেশ-ভারতের সম্প্রীতির মিলনমেলা, জকিগঞ্জে দুর্গামূর্তি বিসর্জন

কুশিয়ারা নদীর দুই তীরে দুই দেশ অবস্থিত, কিন্তু উৎসবের আনন্দে যেন সীমান্তের কোনো অস্তিত্ব নেই। সিলেটের জকিগঞ্জে শারদীয় দুর্গোৎসবের মূর্তি বিসর্জন সম্পন্ন হয়েছে, যেখানে বাংলাদেশ ও ভারতের মানুষের মিলন, ধর্মীয় সম্প্রীতি এবং সৌহার্দ্যের পরিবেশ লক্ষ্য করা গেছে।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিজয়া দশমীতে জকিগঞ্জ পৌর এলাকার কাস্টমঘাটে কুশিয়ারা নদীতে মূর্তি বিসর্জনকে কেন্দ্র করে দুই দেশের নদীতীরে হাজারো মানুষ জড়ো হন। ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনি এবং ভক্তদের উচ্ছ্বাসে সীমান্তবর্তী জনপদ মুখরিত হয়ে ওঠে।

বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ থেকে শোভাযাত্রা নিয়ে পূজার্থীরা কাস্টমঘাটে আসেন। তাঁরা শেষবারের মতো তেল-সিঁদুর, ধান-দূর্বা এবং মিষ্টি দিয়ে দুর্গতিনাশিনী দেবী দুর্গাকে বিদায় জানান। মণ্ডপে মণ্ডপে সিঁদুর খেলা, মন্ত্রপাঠ এবং নানা আনুষ্ঠানিকতা চলতে থাকে। দেবীকে বিদায় জানানোর মুহূর্তে ভক্তদের মধ্যে আনন্দের পাশাপাশি বিষাদের ছায়া দেখা যায়।

মূর্তি বিসর্জন উপলক্ষে বাংলাদেশের জকিগঞ্জের কাস্টমঘাট এবং ভারতের করিমগঞ্জের কাস্টমঘাট-সংলগ্ন অখণ্ড মণ্ডলী মন্দির এলাকায় একটি অনন্য মিলনমেলা সৃষ্টি হয়। কুশিয়ারা নদীর এপার-ওপারে দাঁড়িয়ে দুই দেশের মানুষ একসঙ্গে বিসর্জনের আয়োজন উপভোগ করেন। ঢাকঢোল, কাঁসর, করতাল, মন্দিরা, বাঁশি ও শঙ্খের ধ্বনিতে নদীর দুই তীর মুখর হয়ে ওঠে।

স্থানীয়দের মতে, কুশিয়ারা নদীর দুই তীরে মূর্তি বিসর্জনকে ঘিরে বাংলাদেশ ও ভারতের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের ঐতিহ্য দীর্ঘকাল ধরে চলে আসছে। ভৌগোলিক সীমারেখা দুই দেশকে আলাদা করলেও উৎসবের আনন্দ, মানবিক বন্ধন এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা এই অঞ্চলের মানুষকে একত্রিত করে। ফলে মূর্তি বিসর্জন কেবল ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং দুই দেশের মানুষের মিলন ও সম্প্রীতির উপলক্ষ হয়ে ওঠে।

বিজয়া দশমীতে পূজার্থীদের শুভেচ্ছা জানাতে বিসর্জন ঘাটে রাজনৈতিক নেতা, জনপ্রতিনিধি, উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, পুলিশ, সাংবাদিক এবং সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। প্রতিমা বিসর্জন নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করার জন্য পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা, ডিবি পুলিশ, বিজিবি, আনসার সদস্য এবং ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল সতর্ক অবস্থানে ছিল। ভারতের করিমগঞ্জেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়।

মূর্তি বিসর্জন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপজেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের আহ্বায়ক সঞ্জিত চক্রবর্তী পান্না এবং উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি হীরালাল বিশ্বাস সভাপতিত্ব করেন। উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা বিনয় ভূষণ দাস এবং পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সেক্রেটারি সুরঞ্জিত কুমার রায় যৌথভাবে অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জকিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুজিত কুমার চন্দ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জকিগঞ্জ চৌকি আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ইব্রাহিম তরফদার এবং জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রাজ্জাক।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বক্তব্য দেন জকিগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সহসভাপতি ইকবাল আহমদ তাপাদার, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও জকিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি শফিকুর রহমান, জকিগঞ্জ সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাসান আহমদ, পৌর বিএনপির সভাপতি মাসুক আহমদ এবং সাধারণ সম্পাদক শিব্বির আহমদ রনি।

এছাড়া বক্তব্য দেন সিলেট জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সদস্য সত্যজিৎ দত্ত পুরকায়স্থ, জকিগঞ্জ উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সহসভাপতি নিহার রায় এবং উপজেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের যুগ্ম আহ্বায়ক তাপস বিশ্বাস।

বক্তব্যে বিএনপি নেতারা তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, ‘তারেক রহমানের সরকার বারবার দরকার।’ তাঁরা জানান, প্রতিটি পূজামণ্ডপে চালের বরাদ্দ আগের তুলনায় ১০০ কেজি বাড়িয়ে ৬০০ কেজি করা হয়েছে। পূজার সময় শতভাগ নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের অনুদান ৪ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ কোটি টাকা করার বিষয়টিও তাঁরা উল্লেখ করেন। বক্তারা এসব উদ্যোগকে নতুন ইতিহাস হিসেবে অভিহিত করেন।

বক্তারা আরও বলেন, গত কয়েক বছরের তুলনায় ২০২৬ সালে দুর্গাপূজার আয়োজন কোনো ঝামেলা ছাড়াই সম্পন্ন হয়েছে। তাঁরা জকিগঞ্জের দীর্ঘদিনের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রশংসা করে শান্তিপূর্ণভাবে মূর্তি বিসর্জন সম্পন্ন হওয়ায় প্রশাসনসহ সর্বস্তরের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

এ বছর সিলেট জেলার মধ্যে সর্বোচ্চ ৯৫টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব উদ্‌যাপিত হয়েছে জকিগঞ্জ উপজেলায়। কুশিয়ারা নদীর দুই তীরে বাংলাদেশ ও ভারতের মানুষের অংশগ্রহণে মূর্তি বিসর্জনের এ আয়োজন আবারও তুলে ধরেছে সীমান্তের দুই পাশের মানুষের দীর্ঘদিনের সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের চিত্র।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এবার শীত কেমন হবে? জানাল আবহাওয়া অধিদপ্তর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:০১ পি.এম


এবার শীত কেমন হবে? জানাল আবহাওয়া অধিদপ্তর

দেশের আবহাওয়ায় পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে, যখন দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বিদায় নিয়েছে। গ্রামাঞ্চলের কিছু স্থানে ভোরে হালকা কুয়াশা দেখা যাচ্ছে, এবং রাতের শেষ ভাগ ও সকালে বাতাসে শীতলতার অনুভূতি হচ্ছে। উত্তরের অঞ্চলে তাপমাত্রা কমতে শুরু করেছে। তবে আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এবারের শীতের তীব্রতা তুলনামূলকভাবে কম হতে পারে এবং শীতের স্থায়িত্বও স্বাভাবিকের তুলনায় কম হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আবহাওয়াবিদ মো. তরিফুল নেওয়াজ কবিরের মতে, নভেম্বরের প্রথম দিকে উত্তরাঞ্চলের কিছু জেলায় তাপমাত্রা ১৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসতে পারে। নভেম্বরের শেষ দিকে উত্তরাঞ্চলের কিছু স্থানে শৈত্যপ্রবাহের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। অন্যদিকে, ঢাকায় শীতের অনুভূতি ডিসেম্বর থেকে বাড়তে পারে। এ সময়ে রাজধানীর তাপমাত্রা ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নামার সম্ভাবনা রয়েছে, এমন তথ্যও তিনি জানিয়েছেন।

কেন বাড়ছে শীতের অনুভূতি?

আবহাওয়াবিদদের মতে, দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বিদায় নেওয়ার পর বাতাসের গতিপ্রকৃতিতে পরিবর্তন ঘটে। বর্তমানে উত্তর দিক থেকে বাতাস প্রবাহিত হওয়ায় দেশের উত্তরাঞ্চলে শীতের অনুভূতি তুলনামূলকভাবে বেশি হচ্ছে।

আবহাওয়াবিদ মো. তরিফুল নেওয়াজ কবির জানাচ্ছেন, আগামী কয়েক মাসে উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে। উত্তরের বাতাসের প্রবাহ বাড়লে শীতের অনুভূতি বৃদ্ধি পেতে পারে। ইতিমধ্যে পঞ্চগড়সহ উত্তরাঞ্চলের কিছু এলাকায় এর প্রভাব অনুভূত হচ্ছে।

সূর্যের অবস্থান পরিবর্তনের কারণে দিনের তাপমাত্রার অনুভূতিতে পরিবর্তন আসে। বর্ষাকালে সূর্যকিরণ তুলনামূলকভাবে খাড়াভাবে পড়ে, কিন্তু এই সময়ে তা আরও তির্যকভাবে পড়ে। ফলে ধীরে ধীরে দিনের তাপের অনুভূতি কমে যেতে পারে এবং রাতের শীতলতা বেশি অনুভূত হতে পারে।

ভোরে কুয়াশা দেখা যাচ্ছে, তবে এর মানে এই নয় যে শীত জেঁকে বসেছে। মৌসুমি বায়ুর প্রভাব কমার সঙ্গে সঙ্গে গ্রামাঞ্চলের মাঠঘাট, ফসলের জমি ও জলাশয়ের আশপাশে ভোরের দিকে হালকা কুয়াশা দেখা যেতে পারে। রাতে ভূমির কাছাকাছি বাতাস ঠাণ্ডা হয়ে গেলে এবং বাতাসে পর্যাপ্ত জলীয় বাষ্প থাকলে কুয়াশা তৈরি হয়। একই সঙ্গে ঘাস ও গাছের পাতায় শিশির জমতে পারে।

কিন্তু কুয়াশা দেখা দিলেই তীব্র শীত শুরু হয়েছে, এমনটি নয়। এ সময় সকালে শীতলতা অনুভূত হলেও দুপুরে রোদের কারণে গরম লাগতে পারে। রাতের তাপমাত্রা ধারাবাহিকভাবে কমতে থাকলে এবং ঠাণ্ডা বাতাসের প্রবাহ বাড়লে শীতের অনুভূতি আরও স্পষ্ট হতে পারে। মৌসুমি বায়ু বিদায় নিলেও বৃষ্টির সম্ভাবনা পুরোপুরি শেষ হয়ে যায় না। বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ সৃষ্টি হলে কিংবা বায়ুমণ্ডলের পরিস্থিতিতে পরিবর্তন এলে দেশের কিছু অঞ্চলে বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে।

রাজধানী ঢাকায় শীতের অনুভূতি উত্তরাঞ্চলের তুলনায় দেরিতে বাড়তে পারে। আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবিরের মতে, ডিসেম্বর থেকে ঢাকায় শীতের প্রভাব স্পষ্ট হতে পারে। এ সময় তাপমাত্রা ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নামার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে এটি সম্ভাব্য পূর্বাভাস, নিশ্চিত তাপমাত্রা নয়। প্রকৃত তাপমাত্রা নির্ভর করবে বাতাসের দিক ও গতি, আকাশের অবস্থা এবং অন্যান্য আবহাওয়াগত পরিস্থিতির ওপর।

ঢাকার ঘনবসতি ও নগরায়ণের কারণে শহরের তাপমাত্রা আশপাশের খোলা এলাকার তুলনায় ভিন্ন হতে পারে। ফলে উত্তরাঞ্চলে শীতের অনুভূতি বাড়লেও রাজধানীতে একই সময়ে সমান মাত্রায় ঠাণ্ডা নাও পড়তে পারে।

শীতে বৃষ্টি বাড়বে কি?

উষ্ণ শীত হলেই বৃষ্টি বাড়বে বা কমবে—এমন সরাসরি সম্পর্ক নেই। শীতকালে বৃষ্টির সম্ভাবনা নির্ভর করে বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন স্তরের পরিস্থিতি, বাতাসের প্রবাহ এবং আর্দ্রতার ওপর।

আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবিরের ব্যাখ্যায়, ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল থেকে আসা আবহাওয়াব্যবস্থা ও বাতাসের প্রভাবে দেশে শীতকালে বৃষ্টি হতে পারে। এ ধরনের ব্যবস্থা মেঘ নিয়ে এলে বৃষ্টির পরিস্থিতি তৈরি হয়। অন্যদিকে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার মৌসুমি পূর্বাভাসে অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর সময়ে দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন অংশে বৃষ্টিপাতের ধরনে ভিন্নতার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। তবে এ আঞ্চলিক পূর্বাভাস থেকে বাংলাদেশের কোনো নির্দিষ্ট জেলায় কবে বৃষ্টি হবে, তা বলা যায় না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৮
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%