০৭:৪৩ পি.এম
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, আওয়ামী লীগের সঙ্গে কথিত ‘আঁতাত’ এবং ক্ষমা করে দেওয়ার অভিযোগকে সরাসরি রাজনৈতিক অপপ্রচার ও অসত্য বলে অভিহিত করেছেন। তিনি চ্যালেঞ্জ করে বলেছেন, আওয়ামী লীগকে ক্ষমা করার বিষয়ে তিনি কোনো ফোরামে কথা বলেননি; বরং যদি কেউ প্রমাণ দিতে পারে, তাহলে তিনি জাতির কাছে ক্ষমা চাইবেন। একই সঙ্গে বিরোধী দলের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দেওয়া বক্তব্যের প্রমাণও দাবি করেছেন তিনি।
শনিবার মৌলভীবাজার সার্কিট হাউস মিলনায়তনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জামায়াত আমির এসব মন্তব্য করেন। প্রধানমন্ত্রীকে ইঙ্গিত করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘বিরোধী দলের প্রতি এভাবে ইঙ্গিত না করে উনি খোলাসা করে বলুন। আমরা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছি—কোথায়, কখন, কার সাথে, কীভাবে আঁতাত হয়েছে তা প্রমাণ করুন। প্রধানমন্ত্রী হয়ে তথ্যপ্রমাণ ছাড়া এভাবে ঢালাও কথা বলা অন্যায়। সাহস থাকলে প্রমাণ উপস্থাপন করে আমাদের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করুন।’
সীমান্ত দিয়ে টাকা ও অস্ত্র আসার অভিযোগের প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, সরকার যদি দায়িত্বে থাকা অবস্থায় সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অস্ত্র, টাকা কিংবা মাদক প্রবেশ করতে দেয়, তবে সেই ব্যর্থতা সরকারেরই। তিনি মন্তব্য করেন, এমন ব্যর্থতার দায়ে সংশ্লিষ্টদের পদত্যাগ করা উচিত।
আরও পড়ুন: হত্যাকাণ্ডের বিচার না হলে ফ্যাসিবাদের পুনরাবৃত্তি হবে: জামায়াত
আওয়ামী লীগকে ক্ষমা করার বিষয়ে ছড়ানো বিভ্রান্তির ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘গত ১২ আগস্টের এক সংবাদ সম্মেলনে আমি বলেছিলাম—ব্যক্তিগতভাবে আমরা কারও ওপর প্রতিশোধ নেব না; তবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা পরিবার যদি আইনের আশ্রয় নেয়, আমরা তাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করব। অথচ একটি নির্দিষ্ট চ্যানেল আমার বক্তব্য বিকৃত করে ফটোকার্ড ছড়িয়ে দেয় যে জামায়াত আমির আওয়ামী লীগকে ক্ষমা করে দিয়েছেন।’
তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘আমার ওই ২২ মিনিটের গোটা বক্তব্যে একবারের জন্যও ‘আওয়ামী লীগ’ শব্দটি উচ্চারণ করিনি। আজও আমি চ্যালেঞ্জ করে বলছি, কোনো গণমাধ্যম যদি দেখাতে পারে যে আমি আওয়ামী লীগ শব্দ উচ্চারণ করে তাদের ক্ষমা করার কথা বলেছি, তবে আমি নিজে ক্ষমা চাইব।’
অন্যদিকে, অন্যান্য রাজনৈতিক দলের দিকে ইঙ্গিত করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীদের ডিও লেটার দিয়ে পদ-পদবি ও পুনর্বাসনের সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে। অথচ দোষ চাপানো হচ্ছে জামায়াতের ওপর। একে তিনি ‘ঠাকুরঘরে কে রে, আমি কলা খাই না’ প্রবাদের সঙ্গে তুলনা করেন।
আরও পড়ুন: এনআইডি সার্ভারের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করেছে নির্বাচন কমিশন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন