ঢাকা শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মঙ্গলবার দোহায় ইরানের সাথে বৈঠক হবে, দাবি ট্রাম্পের


মঙ্গলবার দোহায় ইরানের সাথে বৈঠক হবে, দাবি ট্রাম্পের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, মঙ্গলবার কাতারের রাজধানী দোহায় ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

তিনি স্থানীয় সময় সোমবার ভোরে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে একটি পোস্টে উল্লেখ করেন, “ইরান একটি বৈঠকের অনুরোধ করেছে। এটি মঙ্গলবার দোহায় অনুষ্ঠিত হবে।”

ট্রাম্পের এই বক্তব্য এমন একটি সময় সামনে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি হামলার পর উত্তেজনা কমানোর প্রচেষ্টা চলছে। দুই দেশের মধ্যে সংঘাত বন্ধের জন্য এবং একটি সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়নের জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

আরও পড়ুন: উত্তরাখণ্ডে হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, পাইলটসহ ৬ যাত্রী onboard

তবে ইরানের প্রধান আলোচক কাজেম গারিবাবাদি এর আগেই সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, চলতি সপ্তাহে কোনো কারিগরি পর্যায়ের কর্মী বৈঠকের সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়নি।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রবিবার সিএনএনকে বলেছেন, সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনা ও পাল্টাপাল্টি হামলার পরও সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) নিয়ে কারিগরি আলোচনা পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে চলছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনার পেছনে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, সামরিক হামলা এবং পারমাণবিক ও কূটনৈতিক বিষয়গুলো রয়েছে। এর আগে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের পর মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা শুরু হয় এবং আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, দোহায় সম্ভাব্য এই বৈঠক সফল হলে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমানোর ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে। তবে উভয় পক্ষের মধ্যে আস্থার সংকট এবং চুক্তির শর্ত নিয়ে মতপার্থক্য এখনও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়েছে।

আরও পড়ুন: আ.লীগ জামায়াতের ৫ নেতাকে ফাঁসির দাবি, বিএনপির অফিস বন্ধ হয়নি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বৈশ্বিক অপরাধ মোকাবিলায় সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়তে চায় পুলিশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৯শে জুন, ২০২৬ ইং

০৬:৪৭ পি.এম


বৈশ্বিক অপরাধ মোকাবিলায় সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়তে চায় পুলিশ

বাংলাদেশ পুলিশ বৈশ্বিক অপরাধের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় একটি সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে আগ্রহী। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং অপরাধ দমনের কাজে কূটনৈতিক নিরাপত্তা সহযোগিতা বৃদ্ধি, কার্যকর তথ্য বিনিময় এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা জোরদারের লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশ পুলিশ প্রথমবারের মতো সোমবার (২৯ জুন) সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে 'ডিপ্লোম্যাটিক সিকিউরিটি কোঅপারেশন, ইনফরমেশন শেয়ারিং অ্যান্ড ক্যাপাসিটি বিল্ডিং অব বাংলাদেশ পুলিশ' শীর্ষক সমন্বয় সভার আয়োজন করে।

সভাটির সভাপতিত্ব করেন ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির। সভায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী এবং পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম।

ঢাকায় অবস্থানরত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতগণ, দূতাবাসের নিরাপত্তা কর্মকর্তাগণসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং বাংলাদেশ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ এই সভায় অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই বাংলাদেশের পুলিশ কার্যক্রমের উপর একটি ভিডিও চিত্র প্রদর্শন করা হয়। অনুষ্ঠানটিতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের অতিরিক্ত ডিআইজি বেলাল উদ্দিন।

মূল প্রবন্ধে উল্লেখ করা হয়, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে অপরাধের ধারণা অনেক বেশি বিস্তৃত ও জটিল হয়ে উঠছে। সহিংস উগ্রবাদ ও সঙ্ঘবদ্ধ অপরাধ আজ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে। সাইবার অপরাধ ও ডিজিটাল জালিয়াতি এই পরিস্থিতির সাথে যুক্ত হয়েছে। সন্ত্রাসী কার্যক্রমে অর্থায়ন, মানব পাচার, অনলাইন জুয়া ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর অপরাধ, ডিপফেক, ভুলতথ্য এবং অপতথ্য আজ আর কোন একক দেশের সমস্যা নয়, বরং এটি একটি বৈশ্বিক সমস্যা।

আধুনিক পুলিশিংয়ের বাস্তবতা হচ্ছে, বর্তমানে সংগঠিত অপরাধের একটি বড় অংশ আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটের সাথে জড়িত। অপরাধ তদন্তের মধ্যে একাধিক বিচার ব্যবস্থা, বিদেশী নাগরিক, সীমান্তপারের লেনদেন এবং জটিল আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক জড়িত থাকে। তাই এসব অপরাধ মোকাবেলায় একটি শক্তিশালী কূটনীতিক অংশীদারিত্ব অপরিহার্য হয়ে উঠেছে; মূল প্রবন্ধে এই বিষয়টি উল্লিখিত হয়।

বাংলাদেশ পুলিশ ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক সমন্বয়ে একটি প্রশস্ত কাঠামো গড়ে তুলেছে। পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের ওভারসিজ অ্যাফেয়ার্স শাখা, এনসিবি ও ইউএন অপারেশন শাখা, ডিএমপি, এসবি, সিআইডি, পিবিআই এবং এটিইউয়ের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক তদন্তে নিয়মিত গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা প্রদানের কাজ চলছে।

বাংলাদেশ পুলিশ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক উভয় ক্ষেত্রে অসাধারণ পেশাদারিত্ব প্রদর্শন করতে সক্ষম হয়েছে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রম, আঞ্চলিক নিরাপত্তা উদ্যোগ, আন্তর্জাতিক তদন্ত এবং কূটনৈতিক সম্পৃক্ততায় বাংলাদেশ পুলিশের অনন্য অবদান বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি অর্জন করেছে। বাংলাদেশ পুলিশ অপরাধ দমনে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর, কার্যকর তথ্য বিনিময় এবং অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মুঃ নজরুল ইসলাম কূটনৈতিক নিরাপত্তা জোরদার এবং বিশ্বের নিরাপত্তা বৃদ্ধি করতে বিভিন্ন দেশের সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। পররাষ্ট্র সচিব উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ পুলিশের ডিপ্লোম্যাটিক সিকিউরিটি ডিভিশন কূটনীতিকদের নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। তিনি বিভিন্ন দেশের দূতাবাসের নিরাপত্তা প্রদানের জন্য একটি বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের ওপর গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি, তিনি বাংলাদেশ পুলিশের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে অতিথিদের নিরাপত্তা বিষয়ে সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানান।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে এক দেশের সাথে অন্য দেশের সমন্বয়, তথ্য বিনিময় ছাড়া নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তিনি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ পুলিশের বিদেশে দায়িত্ব পালন করার বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, সাইবার ক্রাইম, ফাইনান্সিয়াল ক্রাইম, ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমসহ বৈশ্বিক অপরাধ মোকাবেলায় বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সহযোগিতা গড়ে তোলার কাজ করছে পুলিশ।

আইজিপির বক্তব্যে তিনি বলেন, বাংলাদেশ পুলিশ কেবল অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নয়, বরং বৈশ্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। ১৯৮৯ সালে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের অংশগ্রহণ বাংলাদেশ পুলিশের আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রতি অঙ্গীকার প্রকাশ করে। বর্তমান বিশ্বে কার্যকর পুলিশিং নির্ভর করছে ফলপ্রসূ সহযোগিতা এবং কূটনৈতিক পর্যায়ে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সাথে সহযোগিতা এবং সমন্বয়ের ওপর। তিনি সকল দূতাবাস এবং বিদেশি সংস্থাকে বাংলাদেশ পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনাল ও সেবাদানকারী ইউনিটগুলোর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করার জন্য এ আয়োজনকে উল্লেখ করেন। এটি কার্যকর যোগাযোগ, দ্রুত সমন্বয় এবং উন্নত অপারেশনাল সহায়তা নিশ্চিত করবে।

তিনি কার্যকরভাবে তথ্য বিনিময়, সুসমন্বয় এবং নতুন সুযোগ সৃষ্টি করার লক্ষ্যে একসাথে কাজ করার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান। সভায় মূল প্রবন্ধের ওপর উন্মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষ থেকে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের ডিআইজি মোঃ কামরুল আহসান, ডিআইজি তাপতুন নাসরীন এবং জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এর অতিরিক্ত ডিআইজি মহিউল ইসলাম উপস্থিত অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিদেশি কূটনীতিকগণ বাংলাদেশ পুলিশের এই ধরনের উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তারা বাংলাদেশ পুলিশের সাথে যৌথভাবে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। সভায় মানি লন্ডারিং, ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম, সাইবার ক্রাইম, মানব পাচার ইত্যাদি অপরাধ মোকাবেলা এবং তথ্য বিনিময়ের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পুলিশ বিভিন্ন দেশের সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করবে বলে সুপারিশ করা হয়।

সবশেষে অতিরিক্ত আইজি (প্রশাসন) এ কে এম আওলাদ হোসেন উপস্থিত সকলের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত দুই বিজ্ঞানীকে সংবর্ধনা দিল গাকৃবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৯শে জুন, ২০২৬ ইং

০৬:৪৮ পি.এম


স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত দুই বিজ্ঞানীকে সংবর্ধনা দিল গাকৃবি

 

দেশের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও গবেষণায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত দুই কৃতী বিজ্ঞানীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়(গাকৃবি) কর্তৃক। সোমবার(২৯ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন অডিটোরিয়ামে আয়োজন করা হয়েছিল এই অনুষ্ঠানের, যেখানে তাদের সংবর্ধনা ও সম্মাননা প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেছেন গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান। অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. আবদুল্লাহ্ মৃধা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের(বিপিএসসি) সাবেক ও প্রথম নারী চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. জেড. এন. তাহমিদা বেগম।

এছাড়া অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো. সফিউল ইসলাম আফ্রাদ, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, পরিচালক, প্রক্টর, শিক্ষক, কর্মকর্তা এবং দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অতিথিরাও উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে উপাচার্য পুরস্কারপ্রাপ্ত বিজ্ঞানী প্রফেসর ড. জহুরুল করিম এবং প্রফেসর ড. এম. এ. রহিমকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।

পরে তাদের হাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সম্মাননা স্মারক ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়। এরপর রেজিস্ট্রার দুই গুণী ব্যক্তিত্বের বর্ণাঢ্য কর্মজীবন, গবেষণা ও জাতীয় অবদানের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি তুলে ধরেন। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ‘গবেষণা ও প্রশিক্ষণে’ স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রফেসর ড. এম. এ. রহিম তার দীর্ঘ গবেষণা ও শিক্ষকতা জীবনের নানা অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন।

তিনি গবেষণায় নিষ্ঠা, ধৈর্য ও নতুন প্রজন্মের বিজ্ঞানীদের দায়িত্ববোধের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। অন্যদিকে ‘বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে’ স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমি অব সায়েন্স (বিএএস) এর প্রেসিডেন্ট প্রফেসর ড. জেড. জীবনে নিয়মের প্রতি নিবেদনকে গুরুত্ব দেন।

তিনি বলেন, “বিশ্বজুড়ে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন গবেষণা, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন হচ্ছে।” এসব জ্ঞান ও প্রযুক্তিকে দেশের বাস্তবতার সমন্বয়ে গবেষণায় কাজে লাগানোর আহ্বান জানান। বাংলাদেশকে গবেষণায় আরো এগিয়ে নিতে তরুণ গবেষকদের আন্তর্জাতিক মানের জ্ঞানচর্চা ও উদ্ভাবনী চিন্তার প্রতি মনোযোগী হওয়ার জন্য তিনি আহ্বান জানান।

সমাপনী বক্তব্যে উপাচার্য প্রফেসর ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “আপনাদের পদচারণায় গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় আজ গর্বিত ও সম্মানিত।” দেশের জন্য আপনাদের যে অনন্য অবদান, তা বাংলাদেশের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

প্রসঙ্গত, প্রফেসর ড. জেড. এ. করিম বাংলাদেশের জলবায়ু পরিবর্তন গবেষণার অন্যতম পথিকৃৎ। ধানক্ষেতের মাটিতে ফেরিহাইড্রাইট খনিজ শনাক্ত, দেশের প্রথম খরা তীব্রতা মানচিত্র প্রণয়ন এবং উত্তরাঞ্চলের মঙ্গা সমস্যার কার্যকর সমাধানে তার গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

তার গবেষণার ভিত্তিতে স্বল্পমেয়াদি ধানের জাত উদ্ভাবিত হয়েছে এবং দেশের লবণাক্ততার মানচিত্র ও শ্রেণিবিন্যাস প্রণয়ন সম্ভব হয়েছে। এসব অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি এর আগে আন্তর্জাতিক পদক লাভ করেন। অন্যদিকে, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রফেসর ড. এম. এ. রহিম বাংলাদেশের ফল গবেষণার এক উজ্জ্বল নাম।

তার নেতৃত্বে ১২৮টি নতুন ফলের জাত উদ্ভাবিত হয়েছে, যার মধ্যে 'বিইউ কুল' বিশেষভাবে জনপ্রিয় হতে দেখা যায়। তিনি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিইউ জার্মপ্লাজম সেন্টার এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। এই কেন্দ্রটি বর্তমানে দেশের ফল, ঔষধি উদ্ভিদ ও কৃষি-বনায়নের বৃহত্তম সংগ্রহশালা এবং বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম জার্মপ্লাজম সংগ্রহকেন্দ্র হিসেবে স্বীকৃত।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মির্জা আব্বাসের শারীরিক অবস্থার উন্নতি, দ্রুত দেশে ফেরার আশাবাদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৯শে জুন, ২০২৬ ইং

০৬:৫০ পি.এম


মির্জা আব্বাসের শারীরিক অবস্থার উন্নতি, দ্রুত দেশে ফেরার আশাবাদ

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাসের শারীরিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি এসেছে। সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে তিনি অতি শীঘ্রই দেশে আসবেন বলে জানিয়েছে তার একান্ত সচিব মিজানুর রহমান সোহেল।

মিজানুর রহমান সোহেল জানিয়েছেন, মির্জা আব্বাস গুরুতর অসুস্থতা থেকে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন। বর্তমানে তিনি প্রিন্স কোর্ট মেডিক্যাল সেন্টারে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং বিএনপির এই নেতার শারীরিক অবস্থার ধারাবাহিক উন্নতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আল্লাহর অশেষ রহমত ও সবার দোয়ায় তিনি এখন অনেকটাই সুস্থ হয়ে উঠেছেন এবং দ্রুত দেশে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ব্যাংক রেজল্যুশন আইনে নতুন পরিবর্তনের ঘোষণা দিল সরকার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ২৯শে জুন, ২০২৬ ইং

০৬:৫০ পি.এম


ব্যাংক রেজল্যুশন আইনে নতুন পরিবর্তনের ঘোষণা দিল সরকার

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ব্যাংক রেজল্যুশন আইনে বড় একটি পরিবর্তন আনার ঘোষণা দিয়েছেন। তার ঘোষণার অনুযায়ী, বিতর্কিত ১৮(ক) ধারা বাতিল করার পদক্ষেপ নেওয়া হবে আইনটি থেকে।

সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে, ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটের ওপর তিনি সমাপনী বক্তব্যে এ ঘোষণা দিয়েছেন। এই সময় তিনি একীভূত পাঁচ ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার পথনকশা সম্পর্কে আলোচনা করেন।

অর্থমন্ত্রী জানান, অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে ব্যাংক রেজল্যুশন আইন, ২০২৬–এর বিতর্কিত ১৮(ক) ধারা বিলোপ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেছেন, সরকারের বার্তা স্পষ্ট—যারা জনগণের সম্পদ লুট করেছে তাদের জন্য কোনো ছাড় থাকবে না। পাশাপাশি, আমানতকারীদের অর্থের সুরক্ষাও নিশ্চিত করা হবে।

গত ১০ এপ্রিল, অন্তর্বর্তী সরকারের তৈরি ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশটি আইনে পরিণত করে বিএনপি সরকার। আইনের সংসদে পাসের আগে ১৮(ক) নামে একটি নতুন ধারা যুক্ত করা হয়।

এই ধারা অনুযায়ী, ব্যাংক রেজোল্যুশনের আওতায় যাওয়ার আগে যারা এর শেয়ার ধারক ছিলেন, তারা পরে আবার সেই ব্যাংকের শেয়ার, সম্পদ ও দায় নেওয়ার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকে আবেদন করতে পারবেন। বাংলাদেশ ব্যাংক চাইলে অন্য কোন উপযুক্ত ব্যক্তিকে এ সুযোগ দিতে পারবে।

ব্যাংক রেজল্যুশন আইনে নতুন ধারাটি যুক্ত হওয়ার পরেই বিতর্ক শুরু হয়। সংসদে বিরোধী দলগুলোর পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয় যে, এস আলমসহ বিতর্কিত ব্যবসায়ীদের হাতে ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে দিতেই এই ধারা যুক্ত করা হয়েছে।

এদিকে, একীভূত পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের আমানতকারীদের সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী জানান, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ব্যক্তিগত আমানতকারীরা চলতি ও সঞ্চয়ী হিসাব থেকে সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা তুলতে পারবেন। অবশিষ্ট অর্থ ধাপে ধাপে ফেরত দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ক্যানসার ও কিডনি ডায়ালাইসিস রোগী, হজ সঞ্চয়কারী এবং ডিপিএস গ্রাহকদের জন্য বিশেষ মানবিক সুবিধার কথাও বলা হয়েছে।

অতিরিক্ত, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে অর্থবিলে একগুচ্ছ সংশোধনী আনার ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। এর মধ্যে জিরো কুপন বন্ডের আয় করমুক্ত করার প্রস্তাব, শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির জন্য করছাড়ের ব্যবস্থা, এবং ব্যাংকিং চ্যানেলে সব লেনদেন সম্পন্ন করা কোম্পানিকে অতিরিক্ত কর সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। লভ্যাংশের ওপর করহার কমানোর বিষয়টিও উত্থাপিত হয়েছে। পাশাপাশি, মিউচুয়াল ফান্ডে কর রেয়াতের জন্য পাঁচ লাখ টাকার বিনিয়োগসীমা তুলে দেওয়ার প্রস্তাবের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

সমাপনী বক্তব্যে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, গত মে মাস পর্যন্ত ১১টি অগ্রাধিকার মামলায় দেশের ভেতর ও বিদেশে প্রায় ৭২ হাজার ৩৪৩ কোটি টাকার সম্পদ জব্দ করা হয়েছে। পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার লক্ষ্যে ১৩টি দেশে ২৩টি ‘মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্ট’ পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে বড় ঋণগ্রহীতা ছয়টি গ্রুপের বিরুদ্ধে প্রথম ধাপে দেওয়ানি কার্যক্রম শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, সরকার ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতির দিকে এগোচ্ছেন। আগামী অর্থবছরে ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ গ্রহণ কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে, যা ছয় হাজার কোটি টাকা। পাশাপাশি, পরিচালন ব্যয় কমিয়ে উন্নয়ন ব্যয়ের অংশ বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে।

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করতে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, ৬০টি পণ্যের উৎপত্তিতে কর কমানো, ব্যবসা সহজ করতে ডিরেগুলেশন, সরবরাহব্যবস্থার উন্নয়ন এবং বাজারে কারসাজির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া অব্যাহত থাকবে। তার ভাষায়, সরকার মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে লড়াইকে শুধুমাত্র অর্থনৈতিক কর্মসূচি হিসেবে নয়, বরং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের সামাজিক দায়িত্ব হিসেবে বিবেচনা করছে।

এছাড়া, বাজেট বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জের কথাও উল্লেখ করেছেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, একটি বাজেটের সফলতা তার ঘোষণার মাধ্যমে নয়, বরং বাস্তবায়নের মধ্যে নিহিত। তাই, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, জবাবদিহি এবং বাস্তবায়ন দক্ষতা বৃদ্ধি করতে সরকারের বিশেষ গুরুত্ব থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৪
মাগরিব ০৫:২১
ইশা ০৬:৩৩
সূর্যোদয় : ০৬:০৩ সূর্যাস্ত : ০৫:২১
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%