শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৪:৩৮ পি.এম
বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন পঞ্চগড় রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শন করেছেন। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকালে তিনি ঢাকা থেকে রেলযোগে পঞ্চগড় স্টেশনে পৌঁছান। পরবর্তীতে তিনি স্টেশনের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।
এ সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মহাপরিচালক উল্লেখ করেন, “১৮টি কোচ আনা হয়েছে। পঞ্চগড় থেকে আমরা আপাতত একটা নতুন ট্রেন চালু করব। এরপরে আমাদের টোটাল ২০০টি কোচ আসবে। সেগুলো দিয়ে আমরা কিছু নতুন ট্রেন ও কিছু রিপ্লেসমেন্টের পরিকল্পনা করেছি। পর্যায়ক্রমে কোচগুলো আসতে থাকবে এবং পর্যায়ক্রমে আমরা এগুলো চালু করব।”
তিনি আরও বলেন, “পঞ্চগড় থেকে কক্সবাজার রেললাইনের কাজ আসলে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা। আমাদের সব লাইন ব্রডগেজে কনভার্ট হয় নাই। ব্রডগেজ কনভার্ট হওয়ার পরেই আমরা চিন্তা করব যে, পঞ্চগড় থেকে কক্সবাজার রেললাইনের যৌক্তিকতা আছে কিনা। সেখানে দেখতে হবে যে এইরকম প্যাসেঞ্জার পাওয়া যাবে কিনা, সেটাও দেখার বিষয় আছে। পঞ্চগড় থেকে বাংলাবান্ধা রেললাইন সম্প্রসারণের ব্যাপারে একটা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল; কিন্তু যেহেতু বাংলাবান্ধার পরে ইন্ডিয়ার সাথে কোনো কানেক্টিভিটি নাই, সেজন্য এটা দিয়ে যে খুব বেনিফিট পাওয়া যাবে— এমন মনে হয় নাই। সেটা শুধুমাত্র আমাদের অভ্যন্তরীণ চাহিদা হয়তো পূরণ করবে, কিন্তু যে উদ্দেশ্য ছিল— রিজিওনাল কানেক্টিভিটি, সেটা কিন্তু হবে না যদি বর্ডারের ওইপাশে কোনো রেললাইন এখানে এসে সংযুক্ত না হয়। তাহলে সরাসরি কিন্তু সংযুক্ত হবে না। সেজন্য ওই দিকটা বিবেচনা করে দুই দেশ যদি এগ্রি করে, তখনই সম্ভব। আদারওয়াইজ খুব একটা এখানে বেনিফিট হবে না, তাই আপাতত এটা স্থগিত রাখা হয়েছে। কখনো যদি দুই দেশ একমত হয়, তখন এটা করা হবে।”
মহাপরিচালক আরও যোগ করেন, “আমরা দেখতে আসছি যে এখানে লোডিং-আনলোডিং যে ফ্যাসিলিটি আছে, সেটা ঠিক আছে কিনা এবং কী কী চাহিদা আছে। যদি চাহিদা বেশি থাকে, তাহলে আমরা রেললাইন এক্সটেনশন করব। চাহিদা থাকলে ও জায়গা থাকলে আমরা একটু বড় করে দিতে পারি, যাতে আরও বেশি কোচ ঢোকানো যায়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফিলিস্তিনপন্থি সুইডিশ শিক্ষাবিদকে যুক্তরাজ্যে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। ব্রিটিশ সরকারের মতে, তার উপস্থিতি ‘জনস্বার্থের অনুকূল বলে বিবেচিত নয়’ বলে জানানো হয়েছে।
আলজাজিরা একটি ই-মেইল পেয়েছে, যেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, বুধবার যুক্তরাজ্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সুইডিশ নাগরিক আন্দ্রেয়াস মালমের ‘ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরাইজেশন’ (ইটিএ) বাতিল করেছে।
মালমের লন্ডনে ব্রিটিশ সমাজতান্ত্রিক সাময়িকী ট্রিবিউন আয়োজিত একটি প্যানেল আলোচনায় অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। ওই আলোচনায় প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের সহপ্রতিষ্ঠাতা হুদা আম্মোরিও উপস্থিত থাকার কথা ছিল।
সুইডেনের লুন্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, জলবায়ু কর্মী ও লেখক আন্দ্রেয়াস মালম আল জাজিরাকে জানিয়েছেন, প্যানেল আলোচনায় অংশ নেওয়ার কারণে তার ইটিএ বাতিল করা হয়েছে বলে তার ধারণা। তিনি বলেন, কয়েক দশক ধরে নিয়মিত যুক্তরাজ্যে যাতায়াত করলেও এবার পূর্বাভাস ছাড়া তার অনুমতি বাতিল করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র দপ্তরের কাছে ব্যাখ্যা চাইলেও তিনি এখনো কোনো জবাব পাননি।
বাতিলের ইমেইলে তাকে নতুন করে ভিসার আবেদন করতে বলা হয়েছে। তবে যুক্তরাজ্যের সরকারি ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ ভিজিটর ভিসা পেতে প্রায় তিন সপ্তাহ সময় লাগে। ফলে নির্ধারিত আলোচনায় অংশ নেওয়া তার পক্ষে সম্ভব হবে না।
যুক্তরাজ্য সরকারের এ সিদ্ধান্তকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর আঘাত হিসেবে দেখছেন মালমের সমর্থকেরা। লেখিকা স্যালি রুনি তাকে একজন প্রভাবশালী বুদ্ধিজীবী হিসেবে উল্লেখ করে এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন।
এটি উল্লেখযোগ্য যে, গত বছর যুক্তরাজ্য সরকার প্যালেস্টাইন অ্যাকশনকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। এরপর সংগঠনটির প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন জানানোর অভিযোগে তিন হাজার ৮৫০ জনের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
মালমের মতে, এটি যুক্তরাজ্যে কর্তৃত্ববাদী প্রবণতার বিস্তারের একটি অংশ। তার ভাষায়, কোনো অপরাধ না করেও কেবল একটি আলোচনায় অংশ নেওয়ার পরিকল্পনার কারণে তাকে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে, যা ‘সম্পর্কের দায়ে অপরাধী সাব্যস্ত করার’ শামিল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ক্ষমতাচ্যুত ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাতের অভিযোগকে সম্পূর্ণ অবান্তর ও রাজনৈতিক অসততা উল্লেখ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি পাল্টা অভিযোগ তুলে বলেন, যে দল জামায়াতের শীর্ষ পাঁচ নেতাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়েছে এবং দীর্ঘ সময় কার্যালয় পর্যন্ত বন্ধ রেখেছে, তাদের সঙ্গে জামায়াত নয়, বরং গত ১৫ বছর আওয়ামী লীগের সঙ্গেই আঁতাত ও সমঝোতা করে রাজনীতি করেছে বিএনপি।
শুক্রবার বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জামায়াতের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ খণ্ডন করতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘আওয়ামী লীগ জামায়াতের শীর্ষ পাঁচজন নেতাকে ফাঁসি দিয়েছে, হাজার হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা ও গুম করেছে এবং দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে রেখেছিল। অন্যদিকে বিএনপির অফিস তো কখনো স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হয়নি। তারা পুলিশের অনুমতি নিয়ে মিটিং-মিছিল করেছে, আওয়ামী লীগের ছত্রচ্ছায়ায় দল পরিচালনা করেছে এবং শেষ পর্যন্ত এক সমঝোতার মাধ্যমেই রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেছে। এমন বাস্তবতায় কোনো সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষ কি বিশ্বাস করবে যে জামায়াত আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করবে?’
তিনি আরো অভিযোগ করেন, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন, গণভোট এবং প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক সংস্কারের মতো মৌলিক দাবিগুলো থেকে দেশবাসীর মনোযোগ অন্যদিকে সরিয়ে দিতেই জামায়াতের বিরুদ্ধে এ ধরনের বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ তুলছে বিএনপি।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি রাজশাহীর এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অভিযোগ করেন যে, ভারতে বসে আওয়ামী লীগের অর্থায়ন নেওয়া একটি দল দেশে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। পরবর্তীতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীও জামায়াতের ভূমিকার সমালোচনা করেন। সরকারের পক্ষ থেকে এমন অভিযোগ তোলার পরই জামায়াত এই কড়া জবাব দিল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬ : স্পিনার নাইম হাসান বাংলাদেশের দশম বোলার হিসেবে টেস্ট ক্রিকেটে ৫০ উইকেট শিকার করার কৃতিত্ব অর্জন করেছেন।
মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে চলমান ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে ১০ দশমিক ৫ ওভার বল করে ৩৩ রানে ৪ উইকেট দখল করেন নাইম। তিনি টেস্ট ক্যারিয়ারের ১৬তম ম্যাচে ৫০ উইকেট শিকারের মাইলফলক স্পর্শ করেন।
বাংলাদেশের স্পিনারদের মধ্যে সবচেয়ে কম ডেলিভারিতে ৫০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করে নাইম। এই কৃতিত্বের মাধ্যমে তিনি ভেঙে দেন আরেক স্পিনার মেহেদি হাসান মিরাজের পূর্ববর্তী রেকর্ড।
নাইমের ৫০ উইকেট শিকার করতে প্রয়োজন হয়েছে ২ হাজার ৮৫৬টি বল ডেলিভারি। এতদিন মিরাজ ১৩ টেস্টে ৩ হাজার ৫১২ বল ডেলিভারিতে ৫০ উইকেট নিয়ে রেকর্ডের মালিক ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সংসারের অভাব দূর করার উদ্দেশ্যে বাবা-মা তাদের একমাত্র ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়েছিলেন। তাদের স্বপ্ন ছিল যে, ছেলে উপার্জন করে পরিবারের সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনবে। তবে সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। জীবিকার তাগিদে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমানো রংপুরের পীরগঞ্জের ২৪ বছর বয়সী তরুণ মনিরুল ইসলাম শেষ পর্যন্ত দেশে ফিরলেন নিথর দেহ হয়ে।
একমাত্র সন্তানের লাশ বাড়িতে পৌঁছানোর পর থেকে চারপাশে শোকের মাতম শুরু হয়েছে। আজ শুক্রবার পারিবারিক কবরস্থানে তার মরদেহ দাফন করা হয়।
নিহত মনিরুল ইসলাম রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের কুমারগাড়ী (চন্দ্রকোনা) গ্রামের ইয়াসিন আলীর ছেলে। তিনি ছিলেন এক ছেলে ও দুই মেয়ের মধ্যে পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সন্তান।
পরিবারের সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের মার্চ মাসে আর্থিক সংকট দূর করতে ধারদেনা করে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমান মনিরুল। তার পাঠানো সামান্য টাকায় কোনোমতে চলছিল চার সদস্যের সংসার। কিন্তু গত ১৫ অক্টোবর হঠাৎ করে মালয়েশিয়া থেকে তার মৃত্যুর সংবাদ পান স্বজনরা।
কিভাবে এবং কী কারণে তার মৃত্যু হলো, সে বিষয়ে এখনো কোনো স্পষ্ট ধারণা বা সুনির্দিষ্ট তথ্য পায়নি পরিবার। পরিবারের সদস্যরা দাবি করছেন, মনিরুলের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন করে বিষয়টি যেন তদন্ত করা হয়।
একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে পাগলপ্রায় বাবা ইয়াসিন আলী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়েছিলাম সংসারটা একটু সাজাতে। আজ সে ফিরল লাশ হয়ে। এখন আমাদের কী হবে?’
ছেলের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর থেকে শোকে মুহ্যমান মা বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। বিলাপ করতে করতে তিনি বলেন, ‘যাদের সঙ্গে আমার ছেলে থাকত, তারা ফোন করে জানায়—রাতে ঘুমিয়েছিল, সকালে আর ওঠেনি। পরে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। কিন্তু কী কারণে আমার বুক খালি হলো, তা আমরা জানি না। এখন আমাকে ‘মা’ বলে ডাকবে কে?’
নিহতের চাচা আলতাফ হোসেন বলেন, ‘অনেক আশা নিয়ে ভাতিজাকে বিদেশে পাঠিয়েছিলাম। গত ১৫ অক্টোবর কিভাবে তার মৃত্যু হলো, আমরা তার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত কারণ জানতে চাই।’
শুক্রবার সকালে মনিরুলের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে তাকে একনজর দেখতে আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী ও স্থানীয় লোকজন ভিড় করেন। জুমার নামাজের পর জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়।
প্রতিভাধর এক তরুণের এমন আকস্মিক ও রহস্যজনক মৃত্যুতে পুরো এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। পরিবার ও স্বজনেরা এখন একটাই দাবি করছেন—সরকারের সংশ্লিষ্ট মাধ্যম দিয়ে যেন মনিরুলের মৃত্যুর সঠিক কারণ উদ্ঘাটিত হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ