মোঃ লোকমান হোসেন, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি
০৫:৪৬ পি.এম
পাহাড়ি অঞ্চলের বেকার যুবকদের দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা জোনের উদ্যোগে তিন সপ্তাহব্যাপী কারিগরি প্রশিক্ষণ কর্মশালা শুরু হয়েছে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) দীঘিনালা উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকার পাঁচ ইউনিয়নের ৩৬ জন বেকার যুবককে নিয়ে এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। প্রশিক্ষণে ‘মেকানিক্যাল অ্যান্ড রিপেয়ার’ এবং ‘ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড মোবাইল রিপেয়ার’—এই দুটি বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধন করেন খাগড়াছড়ি রিজিয়নের দীঘিনালা জোনের উপ-অধিনায়ক মেজর শিহাবুন সাকিব রুশাদ, পিএসসি।
আয়োজকরা জানান, দুর্গম পাহাড়ি এলাকার অনেক তরুণ বিভিন্ন কারণে কর্মসংস্থানের সুযোগ থেকে পিছিয়ে রয়েছেন। তাদের কারিগরি দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে নিজ উদ্যোগে কাজের সুযোগ তৈরি করাই এ প্রশিক্ষণের মূল উদ্দেশ্য। প্রশিক্ষণ শেষে অর্জিত দক্ষতা কাজে লাগিয়ে তারা স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন সেবা দেওয়ার পাশাপাশি আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে podrán।
প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য যাতায়াত খরচ ও প্রশিক্ষণে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সরঞ্জাম বিনামূল্যে সরবরাহ করছে দীঘিনালা জোন। এতে দুর্গম এলাকা থেকে আসা প্রশিক্ষণার্থীদের অংশগ্রহণ আরও সহজ হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পাহাড়ি অঞ্চলের তরুণদের শুধু চাকরির ওপর নির্ভরশীল না রেখে কারিগরি দক্ষতায় দক্ষ করে তুলতে এ ধরনের উদ্যোগ কার্যকর ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি প্রশিক্ষিত যুবকদের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন কারিগরি সেবা সহজলভ্য হওয়ারও সুযোগ তৈরি হবে।
প্রশিক্ষণার্থীরা বলেন, নিজেদের হাতে কাজ শেখার এমন সুযোগ তাদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। প্রশিক্ষণ শেষে অর্জিত দক্ষতা কাজে লাগিয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার প্রত্যাশা করছেন তারা।
দীঘিনালা জোনের এ উদ্যোগকে স্থানীয়রা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, পাহাড়ের বেকার যুবকদের কর্মমুখী প্রশিক্ষণ দেওয়া হলে একদিকে যেমন কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে, অন্যদিকে তরুণদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলাও সম্ভব হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সালমান এফ রহমানের জামিন আদালত মঞ্জুর করেছেন সিইও নির্যাতন মামলায়।
তিস্তা সোলার ও বেক্সিমকো গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জন্য ঋণ এবং বিনিয়োগ সুবিধা দিতে রাজি না হওয়ায় বাংলাদেশ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফাইন্যান্স ফান্ড লিমিটেডের (বিআইএফএফএল) সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এস এম ফরমানুল ইসলামকে মারধর, প্রাণনাশের হুমকি ও জোর করে পদত্যাগে বাধ্য করার অভিযোগে করা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত।
সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলমের আদালত ৫০০ টাকার মুচলেকায় তার জামিন মঞ্জুর করেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. সজিবুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আইনজীবী সজিবুল ইসলাম বলেন, মামলাটির অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। অধিকাংশ ধারাই জামিনযোগ্য হওয়ায় আদালত সালমান এফ রহমানের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেছেন।
২০২৪ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি করেন বিআইএফএফএলের সাবেক সিইও এস এম ফরমানুল ইসলাম।
পরে মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ২০২৫ সালের ৬ ডিসেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয় পিবিআই। প্রতিবেদনে আব্দুর রউফ তালুকদারসহ ছয়জনকে অভিযুক্ত করা হয়।
অভিযুক্তদের মধ্যে আব্দুর রউফ তালুকদার, এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম, সালমান এফ রহমান, মো. মনিরুল ইসলাম খান ও খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম জামিনে রয়েছেন।
অপর আসামি সাজ্জাদ হোসেন পলাতক।
গত ১৭ আগস্ট পিবিআইয়ের দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদন আমলে নিয়ে সালমান এফ রহমানকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন আদালত।
মামলায় সালমান এফ রহমান ছাড়াও সাবেক অর্থসচিব ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার, এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিমসহ মোট ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, বিআইএফএফএলের সিইও থাকাকালে এস এম ফরমানুল ইসলামের ওপর সালমান এফ রহমানের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের জন্য বিপুল অঙ্কের ঋণ এবং বিনিয়োগ সুবিধা দেওয়ার চাপ দেওয়া হয়। তার মালিকানাধীন তিস্তা সোলার প্রকল্পের জন্য প্রায় ১৮৫ মিলিয়ন ডলার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা ঋণ দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছিল।
তবে প্রাতিষ্ঠানিক নীতিমালা ও প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে ওই ঋণ দিতে রাজি হননি তৎকালীন সিইও ফরমানুল ইসলাম।
অভিযোগে আরো বলা হয়, সালমান এফ রহমানের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের জন্য ২০০ কোটি টাকার জিরো-কুপন বন্ডে বিনিয়োগের আগাম নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এ ছাড়া বেক্সিমকো গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জন্য জামানত ছাড়াই শত কোটি টাকার ঋণ সুবিধা দেওয়ার চাপ দেওয়া হয়। তবে ঋণ তথ্য ব্যুরোর (সিআইবি) প্রতিবেদনে খেলাপি ঋণসহ বিভিন্ন জটিলতা থাকায় তাতে সম্মতি দেননি বিআইএফএফএলের তৎকালীন সিইও।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৮ জুলাই বিআইএফএফএলের ৮০তম বোর্ড সভা চলাকালে চাহিদামতো ঋণ এবং বিনিয়োগ সুবিধা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় ফরমানুল ইসলামের ওপর আসামিরা চড়াও হন। একপর্যায়ে তার জামার কলার ধরে টানাহেঁচড়া ও চড়-থাপ্পড় মারা হয়। তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে জোর করে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর নেওয়া হয়।
এ ছাড়া তার অফিসিয়াল মুঠোফোনের সিম বন্ধ করে দেওয়া, ই-মেইল ব্যবহারে বাধা, ব্যক্তিগত ব্যবহারের গাড়ির চাবি কেড়ে নেওয়া এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার ভয় দেখানোর অভিযোগও করা হয়েছে।
মামলায় জালিয়াতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, মারধর, চাঁদা দাবি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ থাকায় তদন্তের দায়িত্ব পায় পিবিআই। আদালত তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করার পর আসামিদের বিরুদ্ধে সমন জারি করেন। আসামিরা আদালতে হাজির না হওয়ায় পরে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। পরবর্তীতে ৩ নম্বর আসামি মনিরুল ইসলাম খান ও ৫ নম্বর আসামি খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তাদের জামিন দেন আদালত।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পিরোজপুরের প্রথম শ্রেণির মঠবাড়িয়া পৌরসভায় ৫৩ কোটি টাকা ব্যয়ে সম্পন্ন পানি সরবরাহ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কয়েক বছর পরও কাঙ্ক্ষিত সুফল মিলছে না। পৌরবাসী অনিয়মিত পানি সরবরাহ, বিভিন্ন স্থানে পাইপ ফেটে যাওয়া এবং দুর্গন্ধ ও কর্দমাক্ত পানি সরবরাহের অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এর ফলে বিপুল অর্থ ব্যয়ে বাস্তবায়িত প্রকল্পটির কাজের মান ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, পৌরবাসীর সুপেয় পানির সংকট নিরসনে সি.টি.ই.আই.পি প্রকল্পের আওতায় ৫৩ কোটি ৯ লাখ ৯৫ হাজার ৮৬ টাকা অর্থায়নে পানি সরবরাহ প্রকল্পের অবকাঠামো নির্মাণ কাজ করা হয়। এই প্রকল্পের কাজটি পান গোপালগঞ্জের সিনোকোনোস্ট-এমটি অ্যান্ড এসএস কনসোর্টিয়াম নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান করেছে। পৌর শহরে ৫৪ কিলোমিটার পানির পাইপ লাইন স্থাপন করা হয়েছে। পাইপ লাইনের মাধ্যমে বাসা-বাড়িতে সুপেয় পানি সরবরাহ করার লক্ষ্য ছিল।
ভুক্তভোগীরা জানান, ২০১৪ সালে কাজের শুরু থেকেই ঠিকাদারের লোকজন মঠবাড়িয়া পৌরসভার অফিসের অসাধু কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশে প্রকল্পের অবকাঠামো কাজে খুবই নিম্নমানের পাইপ, লোহা, পাথর, সিমেন্ট ব্যবহার করেছে। পাম্প হাউজ এবং বেজ ঢালাইসহ আনুষঙ্গিক নির্মাণ কাজের আওতায় ওই সময়ে অভিযোগ উঠলেও পৌর কর্তৃপক্ষ কোনো গুরুত্ব দেয়নি বরং বিভিন্নভাবে হুমকি করা হয়েছে।
পৌর বাসিন্দাদের অভিযোগ, এই পানি প্রকল্পের কাজ শেষ হতে না হতেই বিভিন্ন স্থানে পাইপ ফেটে যাচ্ছে এবং অনিয়মিত পানি সরবরাহ ও দুর্গন্ধসহ কর্দমাক্ত পানি পাওয়া যাচ্ছে। এই পানি পান করা তো দূরের কথা, দৈনন্দিন কাজেও ব্যবহারের জন্য প্রায় অনুপযোগী হয়ে পড়ছে।
পৌর শহরের ২ নং ওয়ার্ডের গৃহিণী মাহমুদা আক্তার জানান, সময় মতো পানি না পাওয়ার কারণে তাদের বাসা-বাড়ির কাজ করতে সমস্যা হচ্ছে। পানির জন্য অপেক্ষা করতে হয়, কখন পানি আসবে। ইতোমধ্যে বাচ্চাকে নিয়ে স্কুলে গেলে ফিরে এসে আর পানি পাওয়া যায় না। তারা খুব সমস্যার মধ্যে আছেন।
নিউমার্কেট এলাকার বাসিন্দা মো: মাহিম আকন বলেন, পৌরসভার পানি প্রকল্পের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ খাতের বরাদ্দ আত্মসাৎ করে নাগরিকদের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা একটি চরম অন্যায় এবং নিন্দনীয় অপরাধ। দুর্নীতির কারণে পৌরসভায় বসবাসরত সাধারণ মানুষের ভোগান্তি সত্যিই পীড়াদায়ক।
পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মোঃ হাফিজুর রহমান কাওসার বলেন, প্রকল্পটি প্রায় পাঁচ বছর আগে শেষ হয়েছে এবং তিনি এখানে নতুন জয়েন করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, বিভিন্ন জায়গা থেকে খবর আসছে যে পানি লাইনের পাইপ ফেটে যাচ্ছে। তারা চেষ্টা করছেন নিম্নমানের পাইপগুলো মেরামত করার। তিনি উল্লেখ করেন লো ভোল্টেজের কারণে সঠিক সময় পানি উত্তোলন করা সম্ভব হচ্ছে না, এজন্য পৌরবাসী ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
এ ব্যাপারে পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা অমল কৃষ্ণ সাহা বলেন, বিদ্যুৎ সমস্যার কারণে গ্রাহকরা সময় মতো পানি পাচ্ছেন না। পূর্বে নিম্নমানের কাজ হওয়ার কারণে বিভিন্ন সময় পাইপগুলো ফেটে যাচ্ছে, সেগুলো সংস্কার করতে হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
অস্ত্র ও তাজা কার্তুজ উদ্ধারের ঘটনায় রাজধানীর সূত্রাপুর থানায় করা মামলায় ব্যারিস্টার মো. জাকি উল্লাহ বাহারসহ চার আসামিকে দুই দিনের রিমান্ডে নেওয়ার জন্য আদালত মঞ্জুর করেছেন।
সোমবার (২৪ আগস্ট) বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমানের আদালতে শুনানি শেষে এ আদেশ প্রদান করা হয়।
রিমান্ডে নেওয়া অন্য তিন আসামি হলেন মো. আনোয়ারুল হক (৬২), জাকির হোসেন লিটন (৪৮) এবং হিরু বড়ুয়া বাবু (৩৬)।
এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সূত্রাপুর থানার উপপরিদর্শক মো. রাসেল মোল্লা চার আসামিকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত প্রত্যেকের জন্য দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। এ তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক আবু সাঈদ।
রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশের মাধ্যমে একটি সাদা রঙের পাজেরো গাড়িতে করে অস্ত্র ও গুলি ঘটনাস্থলে নিয়ে আসেন। মামলা থেকে পলাতক আসামিদের চিহ্নিত করা, তাদের গ্রেপ্তার করা, অস্ত্রের উৎস এবং ঘটনার মূল রহস্য উদ্ঘাটনের উদ্দেশ্যে তারা জিজ্ঞাসাবাদে প্রয়োজনীয়।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১৯ আগস্ট বিকেলে সূত্রাপুর থানার নর্থব্রুক হল রোডের নাজিম উদ্দিন বারো ভূঁইয়া মার্কেটের ভূঁইয়া মোটরস নামের একটি দোকানে অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় তুরাগ থানার একটি মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ব্যারিস্টার মো. জাকি উল্লাহ বাহারসহ ৮ থেকে ৯ জন সেখানে প্রবেশ করেন।
তাদের মধ্যে দুজনের হাতে দুটি শপিং ব্যাগ ছিল। পুলিশ সদস্যরা ব্যাগ দুটিতে কী আছে তা জানতে চাইলে তারা ব্যাগ রেখে দ্রুত দোকান থেকে বের হয়ে যান। পরে পুলিশ ব্যাগ দুটি তল্লাশি করে দুটি দেশীয় তৈরি পাইপগান এবং দুটি ১২ বোরের তাজা কার্তুজ উদ্ধার করে।
এছাড়া ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংবলিত ৬৪ জিবির একটি এইচপি ইউএসবি পেনড্রাইভ এবং গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের ব্যবহৃত তিনটি মুঠোফোনও জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, নাজিম উদ্দিন বারো ভূঁইয়া মার্কেটের ভূঁইয়া মোটরসের মালিক হাফিজ উল্লাহ ভূঁইয়ার মার্কেট ও দোকানের মালামাল আত্মসাৎ করে লাভবান হওয়ার উদ্দেশ্যে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা দীর্ঘ সময় ধরে ষড়যন্ত্র করে আসছিলেন।
এ ঘটনায় অভিযোগ করা হয়েছে যে, হাফিজ উল্লাহ ভূঁইয়াকে মিথ্যা অস্ত্র মামলায় ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে তার দোকানে অস্ত্র ও গুলি রাখা হয়েছিল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পটুয়াখালীর কলাপাড়া পৌর শহরকে একটি পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশ বান্ধব শহর গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে গনমাধ্যম এবং স্টেক হোলডারদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছে ক্লিন কলাপাড়া গ্রীন কলাপাড়া নামে একটি সংগঠন। সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টায় কলাপাড়া পৌরসভা ও আলভিনা কর্পোরেশনের উদ্যোগে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় গ্রীন কলাপাড়া ক্লিন কলাপাড়ার সমন্বয়ক মুশফিকুর রহমান লিটু বিশ্বাসের সঞ্চালনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কলাপাড়া পৌর প্রশাসক মো. আরিফুজ্জামান এর সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাজী হুমায়ুন শিকদার, কলাপাড়া প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি শামসুল আলম, মেজবাহউদ্দিন মাননু, সাধারণ সম্পাদক অমল মুখার্জী, মিলন কর্মকার রাজু, স্থপতি মো. ইয়াকুব খান, বিআরডিবির চেয়ারম্যান মো. ফোরকান তালুকদার, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন রংধনুর সাধারণ সম্পাদক বিশ্বাস রাশেদ মোশারফ কল্লোল এবং আমরা কলাপাড়াবাসীর সাবেক সভাপতি নাজমুস সাকিব। এই সময় বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, গনমাধ্যম এবং গণমান্য ব্যক্তিবর্গরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বক্তারা শহরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন এবং সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে সভায় জানানো হয়। এ সময় গ্রীন কলাপাড়া ও ক্লিন কলাপাড়ার সদস্যরা ৬ মাসের মধ্যে বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণের প্রকল্প গ্রহণের বিষয়ে অবহিত করেন।
উল্লেখ্য, পরিচ্ছন্ন কলাপাড়া গড়ার প্রত্যয়ে ক্লিন কলাপাড়া, গ্রীন কলাপাড়া নামের সংগঠনটি দীর্ঘ ৪ মাস ধরে পৌরসভার বর্জ্য সংগ্রহ করছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ