রিয়াদ মাহমুদ সিকদার,কাউখালী প্রতিনিধি
০৩:৫০ পি.এম
পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলা শহরের অন্যতম ব্যস্ততম সড়ক এসবি সরকারি বালিকা বিদ্যালয় সড়ক ও কচুয়াকাটি খালের দুই পাশের সড়ক দীর্ঘদিন ধরে খানাখন্দে বেহাল হয়ে পড়েছে। এতে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার হাজারো মানুষ। দ্রুত সড়ক দুটি সংস্কার করা না হলে খালের সঙ্গে সড়ক বিলীন হয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কাউখালী এসবি সরকারি বালিকা বিদ্যালয় সড়কের কচুয়াকাটি খালের উত্তর পাড়ে স্কুল এলাকা থেকে বেইলি ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার এবং খালের দক্ষিণ পাশে উত্তর বাজার থেকে বেইলি ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার সড়কের বিভিন্ন অংশে অসংখ্য খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও সড়কের পিচ ও ইট উঠে গিয়ে মাটি বের হয়ে গেছে। বৃষ্টির পানি জমে এসব স্থানে কাদার সৃষ্টি হওয়ায় যানবাহন ও পথচারীদের চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিন এসব সড়ক দিয়ে রিকশা, অটোরিকশা, ইজিবাইকসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে চালকদের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। বিশেষ করে বৃষ্টির সময় খানাখন্দে পানি ও কাঁদা জমে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। এতে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দা নাজমুল হোসেন “এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ চলাচল করেন। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে বাজারের ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ সবাইকে এই রাস্তা ব্যবহার করতে হয়। দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার অবস্থা খারাপ হলেও স্থায়ী সংস্কারের উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। দ্রুত সংস্কার না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
আরেক বাসিন্দা ব্যবসায়ী সুজন হোসেন“খালের দুই পাশের রাস্তার অনেক জায়গায় পিচ ও ইট উঠে গেছে। বর্ষার সময় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। খালের পাড়ের কিছু অংশও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এখনই ব্যবস্থা না নিলে কোনো এক সময় রাস্তার অংশ খালের মধ্যে ধসে পড়তে পারে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ চলাচল করলেও দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। দ্রুত সংস্কার না হলে জনদুর্ভোগের পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য ও উপজেলা শহরের স্বাভাবিক যোগাযোগ ব্যবস্থাও ব্যাহত হতে পারে।
এ বিষয়ে কাউখালী উপজেলা প্রকৌশলী ইমতিয়াজ হোসাইন রাসেল বলেন, “সড়ক দুটির বর্তমান অবস্থা আমরা অবগত আছি। ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। জনগণের চলাচলের সুবিধার্থে দ্রুত সংস্কারের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
কাউখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন, “খালের দুই পাশের সড়কগুলো জনগুরুত্বপূর্ণ। সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে যাতে জনসাধারণকে দুর্ভোগে পড়তে না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এলাকাবাসীর দাবি, বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও অবনতির আগেই কচুয়াকাটি খালের উত্তর ও দক্ষিণ পাশের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দুটি দ্রুত সংস্কার করে মানুষের চলাচলের উপযোগী করা হোক। একই সঙ্গে খালের পাড় সংরক্ষণ করে সড়ক রক্ষায় স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তারা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পাকিস্তানিদের যন্ত্রণা চরমে পৌঁছেছে এবং এতে ব্রিটেনের অভিবাসন ব্যবস্থা নজিরবিহীন সংকটে পড়েছে। সরকারের নতুন তথ্য অনুসারে, পাকিস্তানি নাগরিকরা বৈধ ভিসার মাধ্যমে যুক্তরাজ্যে প্রবেশের পর আশ্রয়ের জন্য আবেদন করছে রেকর্ড পরিমাণে। এই আবেদনকারীদের মধ্যে স্টুডেন্ট, ওয়ার্ক এবং ভিজিটর ভিসাধারীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।
বৈধ ভিসাকে স্থায়ী বসবাসের ‘গোপন দরজা’ হিসেবে ব্যবহারের প্রবণতা ব্রিটিশ নীতিনির্ধারকদের মাঝে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বিশ্বের ১৭৫টি দেশকে পেছনে ফেলে পাকিস্তান এখন যুক্তরাজ্যে আশ্রয় প্রার্থীর সর্ববৃহৎ উৎস হয়ে উঠেছে। মোট আশ্রয় আবেদনের ১০টির মধ্যে একটি পাকিস্তানি নাগরিকের, যা ২০২২ সালের তুলনায় পাঁচগুণেরও বেশি। দীর্ঘদিন ধরে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দেওয়া নৌকা অভিবাসন ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু; কিন্তু নতুন তথ্য জানাচ্ছে— বিমানবন্দরের বৈধ প্রবেশপথ দিয়েই চলছে সবচেয়ে বড় অপব্যবহার।
এ প্রবণতার মূল কৌশল হচ্ছে ‘ভিসা সুইচিং’। পর্যটক, ছাত্র অথবা অস্থায়ী কর্মী হিসেবে ভিসা নিয়ে প্রবেশ করার পর হাজার হাজার মানুষ রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন জমা দিচ্ছে। সীমান্ত পার হওয়ার পর খুব অল্প কিছু দিনেই তারা শরণার্থী আবেদনের সুযোগ নিচ্ছে। গত বছর প্রায় ১০,০০০ পাকিস্তানি বৈধ কাগজপত্রের মাধ্যমে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করার পর তাদের মত পাল্টিয়ে আশ্রয় দাবি করেছেন। সবচেয়ে বড় অনিয়ম ঘটছে স্টুডেন্ট ভিসার ক্ষেত্রে। উচ্চশিক্ষার জন্য আসা ৫,৮৮৮ জন পাকিস্তানি ছাত্র পড়াশোনা সম্পন্ন না করেই আশ্রয়ের আবেদন করেছেন, যা ভারত ও বাংলাদেশের সম্মিলিত সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে গেছে। یہ ধারাটি এক পরিকল্পিত অপব্যবহারের পরিচায়ক— প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে প্রবেশ নিশ্চিত করা, পরে রাজনৈতিক বা ধর্মীয় অজুহাতে আশ্রয়ের আবেদন করা।
ওয়ার্ক ভিসা ও ভিজিটর ভিসার ক্ষেত্রেও পাকিস্তান দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে। ২০২৪ সালে মোট আশ্রয় আবেদনের ৩৭.৬ শতাংশই এসেছে সেই সব ব্যক্তির কাছ থেকে, যারা সাময়িক ভিসা ব্যবহারের মাধ্যমে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করেছিলেন। অফিস ফর ন্যাশনাল স্ট্যাটিসটিকসের সাবেক সিনিয়র কর্মকর্তা জেমি জেনকিন্স এই পরিসংখ্যানকে ‘পদ্ধতিগত ব্যর্থতা’ বলে মন্তব্য করেছেন।
তার মতে, যুক্তরাজ্যের উদার ভিসা নীতি এক প্রকার ফাঁকফোকর তৈরি করেছে যা নিষ্ঠুরভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। রাজনীতিবিদরা যখন ছোট নৌকায় স্লোগানে ব্যস্ত, তখন বৈধ প্রবেশপথে আশ্রয় ব্যবস্থার ভাঙন গভীর হচ্ছে বলে তিনি সতর্ক করেন। পরিস্থিতি ব্রিটিশ সমাজে নতুন বিতর্কের সূচনা করেছে। বিশেষত সেই অঞ্চলে উত্তেজনা বেশি, যেখানে অতীতে পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত পুরুষদের জড়িত থাকার অভিযোগে ‘গ্রুমিং গ্যাং’ কেলেঙ্কারি এখনও প্রভাব ফেলছে। অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশ সামাজিক আস্থা বাড়ানোর বদলে আরও কমিয়ে দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
শ্যাডো হোম সেক্রেটারি ক্রিস ফিলিপ বলেন, ব্রিটেনের সীমান্ত ব্যবস্থা প্রকাশ্যে অপব্যবহারের শিকার। তার দাবি, আশ্রয় প্রক্রিয়া কখনই ছাত্র বা পর্যটকদের জন্য বিকল্প প্রবেশের পথ হিসেবে তৈরি হয়নি। বিরোধী দল অবিলম্বে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছে। পাকিস্তানের অর্থনৈতিক মন্দা, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি দেশত্যাগের আগ্রহ বাড়ালেও সমালোচকদের মতে, দারিদ্র্য আশ্রয়ের বৈধ ভিত্তি নয়। নিপীড়ন ছাড়া অন্য কোন কারণকে শরণার্থী মর্যাদার যুক্তি হিসেবে গ্রহণ করা যায় না। হোম সেক্রেটারি শাবানা মাহমুদের নেতৃত্বে হোম অফিস ভিসা ব্যবস্থার অপব্যবহার রোধে নতুন কঠোর নীতি আনার পরিকল্পনা করছে। যারা ভিসা সুইচিংয়ে জড়াবে, তাদের স্থায়ী বসবাস পেতে ২০ বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে এবং প্রতি ৩০ মাসে তাদের স্ট্যাটাস পর্যালোচনা করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রুট ইতিমধ্যে ইংল্যান্ডের টেস্ট ইতিহাসের অন্যতম সেরা ব্যাটার হয়ে উঠেছেন। এখন তার সামনে সম্ভবত শচীন টেন্ডুলকারের ১৫ হাজার ৯২১ টেস্ট রানের রেকর্ড অতিক্রম করার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু অধিনায়কত্বের অতিরিক্ত দায়িত্ব তার এই যাত্রায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে বলেও উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে।
৩৫ বছরের এই রুট আগে প্রায় পাঁচ বছর ইংল্যান্ডের টেস্ট অধিনায়ক ছিলেন। সেই সময় নেতৃত্বের দায়িত্ব এটি তার জন্য মানসিকভাবে ক্লান্তি নিয়ে এসেছিল। এক সময় তিনি অধিনায়কত্বকে নিজের ক্যারিয়ারের জন্য বাধা হিসেবে আপাতভাবে মনে করেছিলেন।
তবে তিনি আবারও দলের প্রয়োজনের জন্য নেতৃত্বের দায়িত্ব গ্রহণে রাজি হয়েছেন। কিন্তু এই মেয়াদ কতদিন স্থায়ী হবে, সেই বিষয়ে অনিশ্চয়তা বিরাজমান। ইংল্যান্ড সম্ভবত ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপের অপেক্ষা করে হ্যারি ব্রুককে ভবিষ্যৎ অধিনায়ক হিসেবে প্রস্তুত করার পরিকল্পনা নিয়েছে, এমন সম্ভাবনাও আলোচনা হচ্ছে।
রুটের জন্য স্বস্তির একটি সুযোগ হতে পারেন নতুন প্রধান কোচ স্টিফেন ফ্লেমিং। নিউজিল্যান্ডের সাবেক টেস্ট অধিনায়ক ফ্লেমিং কৌশলগতভাবে দক্ষ এবং খেলোয়াড়দের ওপর চাপ কমিয়ে নিজ দায়িত্বের ওপর চাপ নিতে পরিচিত। মইন আলী উল্লেখ করেছেন যে, ফ্লেমিং খেলোয়াড়দের চাপ নিজের দিকে টেনে নিতে পারেন।
তবে পাকিস্তানের বিপক্ষে ১৯ আগস্ট হতে যাওয়া তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ফ্লেমিং উপস্থিত থাকবেন না। তার অনুপস্থিতিতে অন্তর্বর্তীকালীন কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন মার্কাস ট্রেসকোথিক। এর ফলে শুরুতেই রুটকে অতিরিক্ত দায়িত্ব নিতে হতে পারে।
এছাড়া ইংল্যান্ডের বোলিং আক্রমণের পুনর্গঠন প্রক্রিয়াও চলছে। স্টুয়ার্ট ব্রড, বেন স্টোকস এবং জেমস অ্যান্ডারসনের মতো অভিজ্ঞরা অবসর নেয়ার পর দলের বোলিং বিভাগ অভিজ্ঞতা হারিয়েছে। এর ফলে নতুন করে একটি দল তৈরি করার সময় রুটকে অধিনায়কত্বের দায়িত্ব নিতে হচ্ছে।
রুটের রানের বিষয়ে কখনই বড় প্রশ্ন ওঠেনি। বরং নেতৃত্বের অতিরিক্ত চাপ তার ব্যাটিংকে কতটা প্রভাবিত করে, সেটি সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। চাপমুক্ত থাকলে রুট আরও কিছু বছর শীর্ষ পর্যায়ে ব্যাটিং করতে পারবেন, এই বিশ্বাসও মার্টিন প্রকাশ করেছেন।
ইংল্যান্ড আবারও রুটকে অধিনায়কত্বে ফিরিয়ে এনে একটি ঝুঁকি নিয়েছে। সেই সিদ্ধান্ত কতটা সফল হবে, সেটি সময়ই বলবে। তবে ইংল্যান্ডের সবচেয়ে মূল্যবান ব্যাটারের ব্যাটিং যেন নেতৃত্বের চাপের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তা এখন তাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত একটি ম্যাচের স্মারক এবার নিলামে উঠতে যাচ্ছে। ১৯৮৬ বিশ্বকাপে দিয়াগো ম্যারাডোনার দুই ঐতিহাসিক গোল, ‘হ্যান্ড অব গড’ ও ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’ এর সাক্ষী সেই বলটির সম্ভাব্য মূল্য প্রায় ১২৫ কোটি টাকা হতে পারে।
১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড মুখোমুখি হয়েছিল। এই ম্যাচের সময় ম্যারাডোনা প্রথমে তার হাতে বিতর্কিত গোলটি করেন, যা পরে ‘হ্যান্ড অব গড’ হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠে। কিছু সময় পর, একক নৈপুণ্যের মাধ্যমে ইংল্যান্ডের একাধিক খেলোয়াড়কে কাটিয়ে তিনি অসাধারণ একটি গোল করেন, যা নির্বাচিত হয় ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’ হিসেবে। এই দুটি গোলেই ব্যবহার করা হয়েছিল একই বল।
চার দশকের কাছাকাছি সময় পরেও ঐতিহাসিক সেই বলটি সংরক্ষিত রয়েছে, তবে সময়ের সাথে সাথে এর চামড়া জীর্ণ হয়ে গেছে এবং এর ভেতরের বাতাসও কিছুটা বেরিয়ে গেছে। যদিও এটি মাঠে ব্যবহারের উপযোগী নয়, কিন্তু ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম মূল্যবান স্মারক হিসেবে এর গুরুত্ব এখন অনেক বেশি।
যুক্তরাষ্ট্রের একটি নিলাম প্রতিষ্ঠান, হেরিটেজ অকশনস আগামী ২১ আগস্ট বলটির নিলাম শুরু করবে। ২৩ আগস্ট বিজয়ী ক্রেতার নাম ঘোষণা করার কথা রয়েছে। নিলাম প্রতিষ্ঠানটির আশা, বলটির দাম অন্তত ১ কোটি মার্কিন ডলারে পৌঁছাতে পারে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১২৫ কোটি টাকা। তবে নিলামের প্রাথমিক ভিত্তিমূল্য ২৫ লাখ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।
হেরিটেজ অকশনসের ক্রীড়া বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট ড্যান ইমলার মনে করেন, এটি ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে স্মরণীয় বলগুলোর একটি। ঐতিহাসিক ম্যাচের গুরুত্ব, ম্যারাডোনার কিংবদন্তি এবং দুটি অবিস্মরণীয় গোল সব মিলিয়ে বলটির প্রতি সংগ্রাহকদের আগ্রহ ব্যাপক হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ম্যারাডোনার স্মারকের নিলামমূল্য অতীতেও বড় অঙ্কে পৌঁছেছে। ২০২২ সালে ওই ম্যাচে তার পরা আর্জেন্টিনার নীল-সাদা জার্সিটি ৯৩ লাখ মার্কিন ডলারে বিক্রি হয়েছিল। ইংল্যান্ডের সাবেক মিডফিল্ডার স্টিভ হজ ৩৬ বছর ধরে জার্সিটি নিজের কাছে রেখেছিলেন এবং পরে সেটি নিলামে তোলা হয়।
ঐতিহাসিক বলটির মালিকানার ইতিহাসও বেশ দীর্ঘ। ম্যাচের রেফারি তিউনিসিয়ার আলি বিন নাসের বহু বছর ধরে বলটি নিজের কাছে সংরক্ষণ করেছিলেন। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপ চলাকালে প্রথমবারের জন্য এটি নিলামে তোলা হলে একজন অজ্ঞাতপরিচয় ক্রেতা ২৩ লাখ ৭০ হাজার ডলারে এটি কিনে নেন। সে সময় এটিই ছিল সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হওয়া ফুটবল।
যদিও পরে সেই রেকর্ড ভেঙে যায়। ২০২৪ সালে জাপানি বেসবল তারকা শোহেই ওহতানির ব্যবহৃত একটি বেসবল ৪৩ লাখ ৯২ হাজার ডলারে বিক্রি হয়।
তবে এখন ম্যারাডোনার ঐতিহাসিক বলটির সম্ভাব্য মূল্য আগের সব ফুটবল স্মারকের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে যেতে পারে। ফুটবলের ইতিহাসে সবচেয়ে বিতর্কিত ও স্মরণীয় দুই গোলের সাথে সরাসরি জড়িয়ে থাকা এই বলের আসল মূল্য কত হবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে মেঘনা নদী থেকে ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের প্রতিবাদে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করে স্থানীয় বাসিন্দারা বিক্ষোভ করেছেন। এতে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকায় আশুগঞ্জ টোলপ্লাজা থেকে চান্দুরা পর্যন্ত দীর্ঘ ১০ কিলোমিটার এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। দূরপাল্লার যাত্রীসহ স্থানীয়দের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১টা পর্যন্ত আশুগঞ্জ উপজেলার বাহাদুরপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন বাহাদুরপুর, দুর্গাপুর ও তাজপুর এলাকার বাসিন্দারা। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে মেঘনা নদীর ওই এলাকায় ড্রেজার বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এর ফলে নদীর তীরবর্তী এলাকায় ভাঙনসহ পরিবেশের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনের কাছে তারা বারবার দাবি জানিয়ে আসলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, গত বৃহস্পতিবার অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে বাহাদুরপুর, দুর্গাপুর ও তাজপুর গ্রামের বাসিন্দারা মানববন্ধন করেন। সেখানে আশুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জামাল হোসেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) কাজী রবিউস সারোয়ার এবং আশুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা একেএম সফিকুল আলম চৌধুরী উপস্থিত থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে আন্দোলনকারীদের দাবি, গত শুক্রবার রাতে মানববন্ধনে অংশ নেওয়া কয়েকজনের ওপর হামলা ও হুমকির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে তারা মহাসড়ক অবরোধ করেন। ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও অভিযুক্তদের গ্রেফতার না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন বিক্ষোভকারীরা। অবরোধের কারণে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। আটকায় পড়ে দূরপাল্লার অসংখ্য যাত্রীবাহী বাস, পরিবহনের ট্রাক এবং ব্যক্তিগত যানবাহন। এতে নারী, শিশু ও অসুস্থ রোগীসহ যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। আশুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা একেএম সফিকুল আলম চৌধুরী বলেন, ‘মানববন্ধনে অংশ নেওয়া লোকজনের সঙ্গে কথা বলে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছি।’ পরে দুপুর সাড়ে ১টার দিকে প্রশাসন, পুলিশ এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য নাদিয়া পাঠান ঘটনাস্থলে পৌঁছে বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। এরপর বিক্ষোভকারীরা মহাসড়ক থেকে অবরোধ তুলে নিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ