ঢাকা শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

অবৈধ বালু উত্তোলনের প্রতিবাদে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ, তীব্র যানজট


অবৈধ বালু উত্তোলনের প্রতিবাদে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ, তীব্র যানজট

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে মেঘনা নদী থেকে ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের প্রতিবাদে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করে স্থানীয় বাসিন্দারা বিক্ষোভ করেছেন। এতে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকায় আশুগঞ্জ টোলপ্লাজা থেকে চান্দুরা পর্যন্ত দীর্ঘ ১০ কিলোমিটার এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। দূরপাল্লার যাত্রীসহ স্থানীয়দের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১টা পর্যন্ত আশুগঞ্জ উপজেলার বাহাদুরপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন বাহাদুরপুর, দুর্গাপুর ও তাজপুর এলাকার বাসিন্দারা। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে মেঘনা নদীর ওই এলাকায় ড্রেজার বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এর ফলে নদীর তীরবর্তী এলাকায় ভাঙনসহ পরিবেশের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনের কাছে তারা বারবার দাবি জানিয়ে আসলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, গত বৃহস্পতিবার অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে বাহাদুরপুর, দুর্গাপুর ও তাজপুর গ্রামের বাসিন্দারা মানববন্ধন করেন। সেখানে আশুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জামাল হোসেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) কাজী রবিউস সারোয়ার এবং আশুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা একেএম সফিকুল আলম চৌধুরী উপস্থিত থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে আন্দোলনকারীদের দাবি, গত শুক্রবার রাতে মানববন্ধনে অংশ নেওয়া কয়েকজনের ওপর হামলা ও হুমকির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে তারা মহাসড়ক অবরোধ করেন। ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও অভিযুক্তদের গ্রেফতার না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন বিক্ষোভকারীরা। অবরোধের কারণে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। আটকায় পড়ে দূরপাল্লার অসংখ্য যাত্রীবাহী বাস, পরিবহনের ট্রাক এবং ব্যক্তিগত যানবাহন। এতে নারী, শিশু ও অসুস্থ রোগীসহ যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। আশুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা একেএম সফিকুল আলম চৌধুরী বলেন, ‘মানববন্ধনে অংশ নেওয়া লোকজনের সঙ্গে কথা বলে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছি।’ পরে দুপুর সাড়ে ১টার দিকে প্রশাসন, পুলিশ এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য নাদিয়া পাঠান ঘটনাস্থলে পৌঁছে বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। এরপর বিক্ষোভকারীরা মহাসড়ক থেকে অবরোধ তুলে নিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কেউ যদি আমাদের গালি দেয়, প্রতিবাদ করব কিন্তু হামলা করব না : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:০০ পি.এম


কেউ যদি আমাদের গালি দেয়, প্রতিবাদ করব কিন্তু হামলা করব না : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সাম্প্রতিক উত্তেজনা ও উসকানির বিষয়ে আলোচনা করতে গিয়ে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, কেউ গালি দিলে সেই গালির জবাব দিতে হবে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে। প্রতিবাদ করার সময় বুঝে শুনে পরদিন করা যাবে, তবে হামলা করা যাবে না। যদি হামলার রাজনীতি অব্যাহত থাকে, তাহলে তা পুরোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতির পুনরাবৃত্তি হবে।

শনিবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদা দল ও ইউট্যাব আয়োজিত ‘জুলাই অভ্যুত্থানে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এটি উল্লেখ করেছেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বর্তমানে কিছু জায়গায় এমন পরিস্থিতি তৈরি করার চেষ্টা হচ্ছে, যাতে শিক্ষার্থী বা রাজনৈতিক কর্মীরা উত্তেজিত হয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে পড়েন। তিনি এই ধরনের ‘ফাঁদে’ পা না দিতে শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, গণতান্ত্রিক চর্চার অংশ হিসেবে মতপ্রকাশ, সমালোচনা ও প্রতিবাদের সুযোগ থাকার গুরুত্ব রয়েছে। তবে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে আক্রমণ করা বা সহিংসতার সঙ্গে জড়ানো যাবে না। সহনশীলতা ও গণতান্ত্রিক আচণের মাধ্যমে নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়া প্রয়োজন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দিল্লিতে অবস্থান করে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে যে বক্তব্য ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছেন, তার দায় ভারত এড়াতে পারে না।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ-ভারত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চাইলে তা পারস্পরিক মর্যাদা, সম্মান ও সার্বভৌম সমতার ভিত্তিতে এগিয়ে নিতে হবে। হাসিনাকে ভারতে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানোর সুযোগ দেওয়া এবং বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক দুটো বিষয় একসাথে চলতে পারে না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রদর্শনীতে মুজিব থাকলেও শহীদ জিয়া না থাকার কারণ জানালেন জামায়াত আমির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:০৫ পি.এম


প্রদর্শনীতে মুজিব থাকলেও শহীদ জিয়া না থাকার কারণ জানালেন জামায়াত আমির

জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত ‘জুলাই এখনো শেষ হয়নি’ শীর্ষক প্রদর্শনীতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ থাকা সত্ত্বেও স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমানের ভূমিকার উল্লেখ না থাকায় প্রশ্ন উঠেছে। জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এর ব্যাখ্যায় বলেছেন, ‘প্রদর্শনীতে মূলত কর্তৃত্ববাদী ও ফ্যাসিবাদী শাসনের ধারাবাহিকতা এবং এর বিরুদ্ধে মানুষের আন্দোলনের ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে। জিয়াউর রহমানকে কর্তৃত্ববাদী শাসক হিসেবে বিবেচনা না করায় তার ভাষণ বা ভূমিকা প্রদর্শনীতে রাখা হয়নি।’

শনিবার রাজধানীতে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে আয়োজিত প্রদর্শনী পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জামায়াত আমির এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, ‘ইতিহাসে যার যে কল্যাণকর অবদান রয়েছে, তা স্বীকার করে তার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা উচিত। প্রদর্শনীতে ইতিহাসকে নির্মোহ ও বাস্তবভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।’

জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা প্রদর্শনীতে না থাকার বিষয়টি জানতে চাইলে জামায়াত আমির বলেন, ‘জিয়াউর রহমানকে আমরা স্বৈরাচারী বা কর্তৃত্ববাদী শাসক হিসেবে বিবেচনা করি না।’ তিনি উল্লেখ করেন, ‘উনি অটোক্রেট শাসক ছিলেন না। প্রদর্শনীতে যাদের কর্তৃত্ববাদী ও আগ্রাসী হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে, মূলত তাদেরই তুলে ধরা হয়েছে।’ মানুষের মুক্তি ও ন্যায্যতার জন্য যারা ভূমিকা রেখেছেন, তাদের অবদানও প্রদর্শনীর বিভিন্ন অংশে তুলে ধরা হয়েছে বলে জানান তিনি।

জামায়াতের এই প্রদর্শনীতে জুলাই আন্দোলনের পটভূমি, বিভিন্ন সময়ের মানুষের অধিকার আদায় আন্দোলন এবং আন্দোলনে হতাহত ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কথা তুলে ধরা হয়েছে বলে জানান ডা. শফিকুর রহমান।

জুলাই আন্দোলনের বিভিন্ন ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীদের ওপর হামলার ঘটনার পর আন্দোলনে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বাড়তে থাকে। পরদিন ১৬ জুলাই রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদের মৃত্যুর পর আন্দোলন আরও বিস্তৃত হয়। এরপর দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘাত ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।’

৩ আগস্টের পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, ‘ওই সময় সেনাবাহিনীর সাধারণ সদস্যদের একটি অংশ জনগণের ওপর গুলি চালাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। ৩ ও ৪ আগস্ট ব্যাপক হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয় এবং ইন্টারনেট বন্ধ করে লাশ গুমের ঘটনাও ঘটানো হয়েছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে যে আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছিল, তা এখনো পূরণ হয়নি। জনগণের অধিকার নিশ্চিত হওয়ার দিনই প্রকৃত অর্থে জুলাইয়ের সমাপ্তি হবে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে সংস্কার ও বিচার দাবি শহীদ পরিবারের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:০৮ পি.এম


জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে সংস্কার ও বিচার দাবি শহীদ পরিবারের

জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্যরা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন, রাষ্ট্র ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন এবং আন্দোলনে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করার দাবির কথা জানিয়েছেন। তারা একইসঙ্গে দেশের মানুষের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি মেধাবী তরুণদের যোগ্যতা কাজে লাগানোর পরিবেশ তৈরির জন্য আহ্বান জানান।

রাজনৈতিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে এই বিষয়গুলো তুলে ধরেন বক্তারা।

শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে গণঅভ্যুত্থান-২০২৪-এর দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাদা দল ও ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইউট্যাব) আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব দাবি জানান শহীদ পরিবারের সদস্যরা।

‘ফ্যাসিবাদী সরকার পতনে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় শহীদ আবু সাঈদের বড় ভাই আবু হোসেন, শহীদ ওয়াসিমের বাবা শফিউল আলম এবং শহীদ মীর মুগ্ধর ভাই মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ বক্তব্য রাখেন। তাদের বক্তব্যে তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মত্যাগের লক্ষ্য, প্রত্যাশিত রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে নানা দাবি ও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

শহীদ আবু সাঈদের বড় ভাই আবু হোসেন বলেন, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই তাঁর ভাইকে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে কোটা সংস্কার আন্দোলন গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয় এবং ছাত্র-জনতা রাজপথে নেমে স্বৈরাচারী সরকারের পতন ঘটায়।

তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৬৯ সালের গণআন্দোলনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শামসুজ্জোহা যেভাবে শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানেও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দ্বারা শিক্ষার্থীদের পাশে থেকে সাহস, সহযোগিতা ও উদ্দীপনা দেওয়া হয়। এই ভূমিকা স্বৈরাচারী সরকারের পতন ঘটাতে গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

আবু হোসেন আরও বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানকে তুলনা করা যাবে না। তবে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের উদ্দেশ্য ছিল ১৯৭১ সালে অর্জিত স্বাধীনতাকে পুনরুদ্ধার ও সুরক্ষিত করা।

সম্প্রতি জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে কিছু ব্যঙ্গ-বিদ্রূপের ঘটনায় হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, এই ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে প্রত্যাশিত প্রতিবাদ দেখা যায়নি। তিনি সরকারের কাছে আহ্বান জানান যে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে অবমাননা বা ব্যঙ্গ-বিদ্রূপের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

তিনি আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে মানুষের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। সাধারণ মানুষ যেন আগের সময়ের তুলনায় বর্তমান সরকারের আমলে ভালো থাকার কথা বলতে পারে—তবেই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মত্যাগ পূর্ণতা পাবে।

শহীদ ওয়াসিমের বাবা শফিউল আলম বলেন, “আমাদের ছেলে-মেয়ে কিছু প্রত্যাশা, আশা ও আকাঙ্ক্ষা নিয়ে রাস্তায় নেমেছিল। সেই আকাঙ্ক্ষা যেন কোনোভাবে বিভ্রান্ত না হয় এবং ব্যবসা-বাণিজ্য কিংবা অন্য কোনো স্বার্থের কারণে নষ্ট না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।”

তিনি উল্লেখ করেন, মেধার জন্যই শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নেমেছিল। দেশের প্রতিটি মেধাবী ছেলে-মেয়ে যেন তাদের মেধা ও যোগ্যতা কাজে লাগাতে পারে, সেই ব্যবস্থা করতে হবে।

শহীদদের হত্যার বিচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর খুব বেশি সময় পার হয়নি। সরকারকে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে এবং সহযোগিতা করতে হবে। সরকারের কোনো ভুল-ত্রুটি থাকলে তা সংশোধনের সুযোগ দেওয়ারও আহ্বান জানান।

রাজনৈতিক বিশ্লেষণের অংশ হিসেবে শহীদ মীর মুগ্ধর ভাই মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ বলেন, শহীদদের আকাঙ্ক্ষাকে মূলত তিনটি বিষয়ে ভাগ করা যায়। এগুলো হলো—ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্র কাঠামোর পরিবর্তন, রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন এবং জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার।

তিনি আলোচনা করেন, যদি কোনো একজন তরুণ সংসদ সদস্য পুরো একটি প্রজন্মের হয়ে কথা বলেন, তাহলে প্রশ্ন ওঠে—কোন জাতীয় সম্মেলন বা গণভোটের মাধ্যমে তাকে পুরো প্রজন্মের প্রতিনিধিত্বের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে? আলোচনা, সমালোচনা ও সংশোধনের সুযোগ থাকলেও একটি প্রজন্মের কথা বলে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান চাপিয়ে দেওয়া আরেক ধরনের ফ্যাসিবাদের লক্ষণ।

স্নিগ্ধ বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তনের প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু বিভিন্ন এলাকায় সিনিয়র রাজনীতিবিদদের বক্তব্য প্রত্যাশিত রাজনৈতিক সংস্কৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এমন রাজনৈতিক সংস্কৃতি ফ্যাসিবাদী সরকারের সময় দেখা গেছে। জুলাইয়ের ছাত্র-জনতা এমন রাজনৈতিক সংস্কৃতি চায়নি।

তিনি আরও বলেন, শহীদদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের দায়িত্ব শুধু সরকার বা সরকারি দলের নয়, বরং বিরোধী দলসহ দেশের সব নাগরিকের সম্মিলিত দায়িত্ব।

“শহীদরা আমাদের ওপর থেকে দেখছেন”—এই বিষয়ে সবার দায়িত্বশীল আচরণের ওপর বলা হয়েছে।

জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রসঙ্গে আলোচনা করতে গিয়ে স্নিগ্ধ শহীদ আনাসকে গুলি করা পুলিশ সদস্যের তিন বছরের সাজা এবং সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনের পাঁচ বছরের সাজা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন। এ বিষয়ে সকলকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, “দেশকে বদলাতে হলে প্রথমে নিজেকে বদলাতে হবে। যদি আমরা নিজেদের পরিবর্তন না করি, তাহলে দেশকে পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।”

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামও উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাদা দলের আহ্বায়ক এবং ইউট্যাবের মহাসচিব অধ্যাপক মো. মোরশেদ হাসান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জুলাই শহীদদের কবরের টাকা মেরে খেয়েছে: প্রতিমন্ত্রী ইশরাক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:০৮ পি.এম


জুলাই শহীদদের কবরের টাকা মেরে খেয়েছে: প্রতিমন্ত্রী ইশরাক

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন মন্তব্য করেছেন, অন্তর্বর্তী সরকার জুলাই শহীদদের কবর পাকা করার জন্য দুই লাখ টাকা বরাদ্দ করেছিলেন। তবে তিনি বলেন, তারা সেই টাকাও মেরে ফেলেছে। এই আলোচনা তিনি বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত একটি আলোচনা সভায় ব্যক্ত করেন। ইশরাক হোসেন জানিয়েছেন, অন্তর্বর্তী সরকার পরিকল্পিতভাবে জুলাই গণঅভ্যুত্থান অধিদপ্তর গঠন করেনি, ফলে বিএনপি সরকার আসার পর এই অধিদপ্তর গঠন করতে কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে। তিনি বলেন, দলীয় পরিচয়ের কারণে অনেক জুলাই যোদ্ধাকে গেজেটভুক্ত করা হয়নি। আমরা তাদেরকে গেজেটভুক্ত করার উদ্দেশ্যে কাজ করছি। প্রতিমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, তিনি গিয়েছিলেন সেখানে এবং দেখেছেন কবরের কোনো চিহ্নও নেই। বরং তারা কবরের টাকা মেরে ফেলেছে। তাদের কাছে এমন অনেক তথ্য রয়েছে যে, যা প্রকাশ করলে তারা মুখ লুকানোর মতো স্থান পাবে না। তিনি যোগ করেছেন, বিএনপির বিরুদ্ধে দেশের বিরুদ্ধে অবস্থানের কোনো ইতিহাস নেই এবং বিরোধী দলের ইতিহাস কলঙ্কিত বলেই তারা সেটি মুছে ফেলতে চায়। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ সেই ইতিহাস কখনো ভুলবে না। তিনি উল্লেখ করেছেন, ৫ আগস্ট অনুষ্ঠান বানচাল করতে একজন সংসদ সদস্যের নেতৃত্বে মব চালানো হয়। দ্বিমত থাকলে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে সভ্যভাবে প্রতিবাদ জানানো উচিত ছিল। যেকোনো অজুহাতে বিশৃঙ্খলা ও অশান্তি সৃষ্টির পরিকল্পনা ছিল। তাদের এই আচরণে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের সামনে আমাদের সম্মানহানি হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৯
মাগরিব ০৫:২৬
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%