১২:৫৬ পি.এম
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন শুল্ক নীতিতে আংশিক ছাড় দেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার একদিন আগে বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার কিনেছিলেন। এই তথ্য সম্প্রতি প্রকাশিত তার ২০২৫ সালের বার্ষিক আর্থিক তথ্য থেকে এসেছে।
সিএনবিসির বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, ২০২৫ সালের ৮ এপ্রিল ট্রাম্প একদিনেই ৩২৭টি শেয়ার কিনেছেন। এ দিন, এটি ছিল তার সবচেয়ে ব্যস্ত শেয়ার কেনার একটি দিন। কিনা শেয়ারগুলোর মধ্যে বড় অংশই ছিল প্রযুক্তি সংস্থার।
এর আগে, ২ এপ্রিল ট্রাম্প ব্যাপক আমদানি শুল্ক আরোপের পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেন, যেটিকে তিনি ‘লিবারেশন ডে’ নামে অভিহিত করেছিলেন। ঘোষণার পরপরই যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে চারদিনের মধ্যে বড় দরপতন ঘটে। এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক ১২ শতাংশের বেশি কমে গিয়ে বেয়ার মার্কেটের তুলনায় চলে আসে।
আরও পড়ুন: কক্সবাজারে নলকূপ খননের স্থান থেকে গ্যাসের আগুন, বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে
এই পরিস্থিতিতে ৮ এপ্রিল ট্রাম্প প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার কিনেন। পরের দিন ৯ এপ্রিল, নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোস্যালে তিনি লেখেন, ‘এখন শেয়ার কেনার দারুণ সময়।’
সেই দিনের মধ্যেই তিনি পূর্বে ঘোষিত কিছু শুল্ক থেকে সরে আসার কথা ঘোষণা করেন। এর ফলস্বরূপ, বাজারে বড় উত্থান ঘটে। ওইদিন এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক ৯ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে যায়, যা ইতিহাসের অন্যতম বড় এক দিনের উত্থান হিসেবে গণ্য হয়।
আর্থিক তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, ট্রাম্প অ্যাপল, এনভিডিয়া, মাইক্রোসফট, অ্যামাজন ও অ্যালফাবেটের প্রত্যেকটির শেয়ারে ১ লাখ থেকে ২ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেছিলেন। শুল্ক নীতিতে পরিবর্তনের ঘোষণার পর এসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। উদাহরণস্বরূপ, অ্যাপলের শেয়ার একদিনেই ১৫ শতাংশের বেশি এবং এনভিডিয়ার শেয়ার ১৯ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়।
এ বিষয়ে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি বলেন, ট্রাম্পের সব বিনিয়োগ স্বাধীন তৃতীয়পক্ষের আর্থিক প্রতিষ্ঠান দ্বারা পরিচালিত। ফলে তার ব্যক্তিগতভাবে লেনদেন পরিচালনার কোনো সুযোগ নেই। সাংবাদিকদের ট্রাম্পও বলেছিলেন, তার অর্থ পরিচালনার দায়িত্ব বাইরের তহবিল ব্যবস্থাপকদের উপর।
আরও পড়ুন: কুমিল্লায় রাজস্ব কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যা মামলায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট
তবে, ট্রাম্পের এই শেয়ার কেনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনলাইন ফোরাম রেডিটের ওয়ালস্ট্রিটবেটস-এ অনেক ব্যবহারকারী প্রশ্ন তোলেন, বাজারে বড় নীতিগত পরিবর্তনের আগে এ ধরনের বিনিয়োগ স্বাভাবিক কি না। কেউ কেউ বিষয়টিকে সম্ভাব্য বাজার প্রভাব বা ইনসাইডার ট্রেডিংয়ের আশঙ্কা হিসেবে তুলনা করেছেন। তবে, এ বিষয়ে কোনো অনিয়মের প্রমাণ এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন