ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কানসাটের আমের হাটে প্রতিদিন বিক্রি হচ্ছে ১৮ কোটি টাকার আম


কানসাটের আমের হাটে প্রতিদিন বিক্রি হচ্ছে ১৮ কোটি টাকার আম

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার কানসাট আম বাজারে প্রতিদিন গড়ে সাড়ে চার থেকে পাঁচ হাজার টন আমের কেনাবেচা হচ্ছে। যার বাজারমূল্য প্রায় ১৫ থেকে ১৮ কোটি টাকা হয়ে থাকে। এখনকার দৃশ্য হলো সারি সারি ভ্যান গাড়িতে রাখা বাঁশের ঝুড়িভর্তি সুমিষ্ট ও সুস্বাদু বিভিন্ন জাতের আম। ভরা মৌসুমে বর্তমানে উৎসবমুখর পরিবেশে চলছে এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম এই আমের হাটে বেচাকেনা।

কৃষি বিভাগ ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের তথ্যমতে, কানসাট আম বাজারে প্রতিদিন লেনদেন প্রায় ১৮ কোটি টাকা। সরেজমিনে কানসাট আমের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, যে ভোর থেকেই উপজেলার বিভিন্ন বাগান থেকে চাষিরা ভ্যান গাড়িতে করে আম নিয়ে বাজারে জড়ো হতে শুরু করেন। বাজারের ভেতরে ও মূল সড়কের দুই পাশে সারি সারি ভ্যান গাড়িতে আম সাজিয়ে চলে দরদাম। কেবল শিবগঞ্জ বা চাঁপাইনবাবগঞ্জ নয়, আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকেও কৃষকরা গাছের আম এখানে বিক্রি করতে আসেন। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পাইকার ও আড়তদাররা আম কিনতে ভিড় জমান এই হাটে।

হাটের বিশাল পরিধির কথা উল্লেখ করে কানসাট আম বাজারের ইজারাদার আলমগীর জুয়েল বলেন, এই আম বাজার থেকে প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৪৫০ ট্রাকেরও বেশি আম লোড করা হয়। কারবারিরা এসব আম কিনে দেশের বিভিন্ন জেলার বাজারে সরবরাহ করেন। প্রতিদিন এই বাজারে গড়ে ১৮ থেকে ২০ কোটি টাকার আম বেচাকেনা হচ্ছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. ইয়াছিন আলী বলেন, আম সংগ্রহের ভরা মৌসুম চলছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের পাঁচ উপজেলাতেই আম চাষ হয় এবং এখানে চার-পাঁচটা বড় হাট রয়েছে। এর মধ্যে শিবগঞ্জের কানসাট আম বাজার সারা বাংলাদেশের মধ্যে বিখ্যাত হয়ে উঠেছে। কানসাট বাজারে প্রতিদিন গড়ে সাড়ে চার হাজার থেকে পাঁচ হাজার টন আম কেনাবেচা হচ্ছে। যার দৈনিক বাজারমূল্য প্রায় ১৮ থেকে ২০ কোটি টাকা।

আরও পড়ুন: শেরপুরে বাস-সিএনজির সংঘর্ষে জুয়েল মিয়া নিহত, আহত ৪

তিনি উল্লেখ করেন, আম মৌসুমকে কেন্দ্র করে এই বাজারে প্রতিদিন প্রায় ১৫ থেকে ১৬ হাজার মানুষের সমাগম ঘটে, যা স্থানীয় বিপুল জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছে। সাধারণত, প্রতি বছর মে মাসের শেষ দিক থেকে শুরু করে জুলাই মাসের শেষ পর্যন্ত কানসাট বাজারে এভাবে প্রতিদিন উৎসবমুখর পরিবেশে আম কেনাবেচা চলে। চলতি বছরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় ৩৭ হাজার ৪৮৭ হেক্টর জমিতে আম চাষ করা হচ্ছে। আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪ লাখ ৫৭ হাজার ৯০০ টন। কোনো প্রকার প্রাকৃতিক দুর্যোগ না আসলে আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে এমনটি আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন ইরাকের প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:২৯ এম


যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন ইরাকের প্রধানমন্ত্রী

ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি দায়িত্ব গ্রহণের পরের প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে সোমবার যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন। সফরের সময় তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন বলে তথ্য দিয়েছেন দেশটির সরকারের এক মুখপাত্র।

এ বছরের ট্রাম্পের সমর্থনে ক্ষমতায় আসা আল-জাইদি এমন এক সময়ে দায়িত্ব নেন, যখন ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে বাগদাদের ওপর ওয়াশিংটনের চাপ বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে। এসব গোষ্ঠী আগের সময়ে ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থাপনায় একাধিক হামলা চালিয়েছে।

আল-জাইদির এক সপ্তাহের ওয়াশিংটন সফরের প্রধান লক্ষ্য হবে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ আকর্ষণ করা। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে তেল রপ্তানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ইরাক বর্তমানে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের জন্য জরুরি পদক্ষেপ নিতে চাইছে, যাতে উল্লেখযোগ্য রাজস্ব ক্ষতির মুখে পড়া অবস্থা থেকে রক্ষা পেতে পারে।

বাগদাদ থেকে এএফপি জানাচ্ছে, সরকারি মুখপাত্র হায়দার আল-আবুদি রোববার বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের আমন্ত্রণে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ওয়াশিংটনের উদ্দেশে রওনা হবেন।’ তবে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকটি ঠিক কবে অনুষ্ঠিত হবে, তা এখনও নিশ্চিত হয়নি।

আবুদি জানান, বৈঠকে মূলত অর্থনৈতিক সম্পর্ক ও বিনিয়োগ জোরদারের বিষয়টি গুরুত্ব পাবে। বিশেষ করে তেল ও বিদ্যুৎ খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা করার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, দেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা নিশ্চিত এবং অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে সক্ষম বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য রাষ্ট্রের হাতে অস্ত্রের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা অপরিহার্য।

আল-জাইদি ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে অস্ত্র সমর্পণে বাধ্য করার অঙ্গীকার করলেও তিনি প্রভাবশালী কয়েকটি গোষ্ঠীর বিরোধিতার মুখে পড়েছেন। তেলসমৃদ্ধ ইরাক দীর্ঘদিন ধরেই তার দুই গুরুত্বপূর্ণ মিত্র প্রতিবেশী ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করছে।

দশকের পর দশক যুদ্ধ এবং অস্থিরতার পর দেশটি পুনর্গঠনের চেষ্টা চালিয়ে গেলেও দুর্বল অবকাঠামো, ভঙ্গুর জনসেবা, অব্যবস্থাপনা এবং ব্যাপক দুর্নীতি এখনও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইরাক তেল খাতে কয়েকটি মার্কিন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একাধিক চুক্তি করেছে। ওয়াশিংটন সফরে আল-জাইদি আরও কয়েকটি চুক্তি সই করবেন বলে আশা করা হচ্ছে, যার মধ্যে রয়েছে একটি তহবিল গঠনের পরিকল্পনা, যেখানে বিদ্যুৎ সরবরাহ বৃদ্ধির বিনিময়ে ইরাক প্রতিদিন পাঁচ লাখ ব্যারেল তেল জমা দেবে।

আল-জাইদি সরকারের প্রতি সমর্থনের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইরাকের তেল রাজস্বের নগদ অর্থ পাঠানো শুরু করেছে। ২০০৩ সাল থেকে নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে এ অর্থ ব্যবস্থাপনা করে আসছে। এর আগে, ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে নিরস্ত্র করার জন্য বাগদাদের ওপর চাপ বাড়ানোর অংশ হিসেবে চলতি বছরের শুরুতে ওয়াশিংটন ওই অর্থ পাঠানো সাময়িকভাবে স্থগিত করেছিল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
ওয়াশিংটন পোস্টের বিশ্লেষণ

কুয়েতে ইরানি ড্রোন হামলা ও মার্কিন জেনারেলদের পলায়ন: একটি সেনাদলের ক্ষোভ ও গোপন তদন্তের নেপথ্য কাহিনী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:৩৪ এম


কুয়েতে ইরানি ড্রোন হামলা ও মার্কিন জেনারেলদের পলায়ন: একটি সেনাদলের ক্ষোভ ও গোপন তদন্তের নেপথ্য কাহিনী

কুয়েতে মার্কিন সেনাদলের অপারেশন সেন্টারে একটি ইরানি আত্মঘাতী ড্রোন আঘাত হানার ঘটনার পর ঘটে যাওয়া। ভেতরে থাকা সৈন্যদের সুরক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত এক মার্কিন আর্মি জেনারেল মেঝে থেকে উঠে দাঁড়ান। নিজের প্রটেক্টিভ ভেস্ট এবং হেলমেটটি টেনে নিয়ে পাশে থাকা এক সৈন্যকে চিৎকার করে নির্দেশ দেন- ‘এখান থেকে পালাও!’

দিনটি ছিল মার্চের ১ তারিখ। এ ঘটনা ঘটে যখন ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ শুরু হওয়ার মাত্র একদিন পর।

কুয়েতের শুয়াইবা বন্দরে অবস্থিত ওই ভবনের ঠিক মাঝখানে ড্রোনটি আঘাত হানে। এর প্রচণ্ড বিস্ফোরণে ভেতরে থাকা সৈন্যরা দেয়ালে গিয়ে আছড়ে পড়েন এবং মুহূর্তের মধ্যে ভবনটিতে ভয়াবহ আগুন ধরে যায়—সেদিনের হামলায় বেঁচে ফেরা সৈন্যরা সেই নারকীয় অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়েছেন।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ক্লিন্ট বার্নস যখন জরুরি বহির্গমন পথ দিয়ে প্রাণভয়ে পাশে থাকা একটি সুরক্ষিত বাঙ্কারের দিকে দৌড়াচ্ছিলেন, তখনো তার অধীনস্থ ডজন ডজন নারী ও পুরুষ সেনা জ্বলন্ত ভবনের ভেতরে আটকা ছিলেন।

জেনারেলের নির্দেশে পালিয়ে যাওয়ার কথা বলা সৈন্যটি পরে জানান, ‘আমাদের ওই ভবন ছেড়ে ওভাবে পালিয়ে আসা উচিত হয়নি।’

বাঙ্কারের ইস্পাতের দরজা খোলার পর যখন তিনি পুনরায় ভেতরে আটকে পড়াদের সাহায্য করতে যেতে চেয়েছিলেন, তখন জেনারেল বার্নস তাকে কড়া ভাষায় সেখানে স্থির থাকার নির্দেশ দেন। কাঁপানো গলায় সেই সৈন্যটি বলেন, ‘আমি তো আর চোখের সামনে ওভাবে মানুষ মরতে দেখতে পারি না।’

এরপর অন্য এক অফিসারের উৎসাহে ছুটে গিয়ে ওই সৈন্যটি অপারেশন সেন্টারে ফিরে যান এবং ঘন ধোঁয়ার মধ্যে জীবিত কাউকে খুঁজে বের করার চেষ্টা শুরু করেন। কিন্তু সেই জেনারেল আর ফিরে আসেননি।

ড্রোন হামলার পর জেনারেল বার্নসের এই পলায়ন এবং সিদ্ধান্তহীনতা শুয়াইবা বন্দরে মোতায়েন সৈন্যদের মনে তাদের নেতৃত্বের প্রতি তীব্র ক্ষোভ ও তিক্ততা সৃষ্টির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা যখন এই ঘটনার অভ্যন্তরীণ তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন তৈরি করছেন, ঠিক তখনই ১৭ জন প্রত্যক্ষদর্শী ও সেনাসদস্য এই বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশ করেন।

ইউএস আর্মির ১০৩তম সাসটেইনমেন্ট কমান্ডের ৬ জন সৈন্য এই হামলায় নিহত হন এবং আরও বেশ কয়েকজন সৈন্য গুরুতর আহত হন। ইরানের সঙ্গে চলমান এই যুদ্ধে মার্কিন সেনাদের জন্য এটি ছিল অন্যতম বড় ও ব্যয়বহুল ক্ষয়ক্ষতি, যা তৎকালীন ট্রাম্প প্রশাসনের যুদ্ধনীতির বিরুদ্ধে মার্কিন জনগণের ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে দেয়। একইসাথে, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সৈন্যদের পাঠানোর আগে তাদের সুরক্ষার জন্য যথেষ্ট ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল কিনা—তা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে।

নিরাপত্তার স্বার্থে এবং সামরিক বাহিনীর তদন্তের গোপনীয়তা রক্ষার উদ্দেশ্যে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেঁচে থাকা সৈন্য ও তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কথা বলেছেন।

শত্রুর মুখে সৈন্যদের ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ

শুয়াইবা বন্দরের এই ঘটনা সৈন্যদের মনে এক গভীর অপরাধবোধ ও বিশ্বাসঘাতকতা সৃষ্টি করেছে। অনেকেই ভাবছেন তারা নিহত সহকর্মীদের বাঁচাতে আরও কিছু করতে পারতেন কিনা।

আবার আহত সৈন্যরা অভিযোগ করেছেন, মার্কিন সামরিক চিকিৎসা ব্যবস্থা তাদের চরম অবহেলা করেছে।

বড় ক্ষোভের তীর জেনারেল বার্নস এবং তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মেজর জেনারেল জন হিনসনের বিরুদ্ধে। সৈন্যদের অভিযোগ, উভয়েই জানতেন যে শুয়াইবা বন্দরটি ইরানের সম্ভাব্য হামলার তালিকায় রয়েছে। এমনকি, ইন্টেলিজেন্সের স্পষ্ট সতর্কবার্তা এবং ড্রোন প্রতিরক্ষা সম্পর্কিত ঘাঁটির দুর্বলতা অভ্যন্তরীণ রিপোর্টে উল্লেখ থাকা সত্ত্বেও জেনারেলরা জোর করে সৈন্যদের সেখানে পাঠান।

এর পূর্বেও ২০২৪ সালে জর্ডানে অপর্যাপ্ত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কারণে ইরানি প্রক্সিদের ড্রোন হামলায় ৩ মার্কিন সেনা নিহতের ঘটনা ঘটেছিল, তবে শুয়াইবা বন্দরে সেই ভুল থেকে কোনো শিক্ষা নেওয়া হয়নি। সেখানকার আকাশ থেকে নজরদারি এড়ানোর বা ড্রোন হামলা ঠেকানোর মতো কোনো ধরনের উপরের ছাউনি বা শেড ছিল না।

এমনকি ডিসেম্বরে ট্রাম্প প্রশাসন যখন মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক শক্তি বাড়াচ্ছিল, তখন এই দুই জেনারেলকে পরিষ্কার জানানো হয়েছিল যে, ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে খতম করা হলে তারা শুধু মার্কিন সামরিক ঘাঁটি নয়, বরং যেকোনো মার্কিন স্থাপনায় হামলা চালাবে।

এক সৈন্য জেনারেল বার্নসকে যুদ্ধে যাওয়ার আগে বলেছেন, ‘আমাদের পরিকল্পনা বদলানো দরকার, এটা অত্যন্ত বিপজ্জনক।’ কিন্তু সেই কথায় কান দেওয়া হয়নি।

তীব্র যুদ্ধ শুরুর আগের দিনগুলোতে সৈন্যরা নিজেদের উদ্যোগে ঘাঁটির লাউডস্পিকার চালিত সতর্কসংকেত ব্যবস্থা চালু করেন। তবে তারা যখন ট্রাক-মাউন্টেড ড্রোন ডিফেন্স সিস্টেম ‘ঈগলস’ চেয়েছিলেন, তখন সেন্ট্রাল কমান্ড সম্পদের স্বল্পতা তুলে ধরে তা প্রত্যাখ্যান করে। এমনকি সৈন্যরা সেখানে অস্ত্র ছাড়াই অবস্থান করছিলেন; তাদের সব স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র আরিফজান ঘাঁটির আর্মস রুমে রেখে আসা হয়েছিল।

হামলার সেই ভয়াবহ মুহূর্ত

২৮ ফেব্রুয়ারি রাত ১টা ১৫ মিনিটে মার্কিন ও ইসরাইলি বাহিনী যৌথভাবে ইরানের ওপর ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে। প্রথম ২৪ ঘণ্টায় ইরানের ১,০০০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়। এতে ইরানও পাল্টা ড্রোন ও মিসাইল ছোড়ে।

১ মার্চ ভোর সাড়ে ৪টায় শুয়াইবা বন্দরে শেষবারের মতো সতর্কসংকেত বাজানো হয়। সৈন্যরা দীর্ঘ চার ঘণ্টা বাঙ্কারে কাটানোর পর ক্লান্ত হয়ে পড়েন এবং কাজের তাগিদে অনেকেই ‘অল ক্লিয়ার’ বা বিপদমুক্ত ঘোষণার আগেই মূল ভবনে ফিরে আসেন। সকাল ৯টা নাগাদ আনুষ্ঠানিকভাবে ‘অল ক্লিয়ার’ ঘোষণা দেওয়া হয় (যদিও পরবর্তীতে আর্মি তদন্তে এই ঘোষণার কোনো লিখিত লগ পাওয়া যায়নি)।

এর ঠিক ৩০ মিনিট পর, সকাল সাড়ে ৯টায় একটি একক ইরানি ‘শাহেদ’ আত্মঘাতী ড্রোন সোজা এসে ভবনের কেন্দ্রে আঘাত করে।

বাইরে থাকা দুই সৈন্য জানান, তারা এক ধরনের শোঁ শোঁ শব্দ শুনতে পান এবং তাঁরা তাকিয়ে দেখেন ড্রোনটি প্রায় খাড়াভাবে ভবনের ওপর আছড়ে পড়েছে। চোখের পলকে পুরো ভবনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং লোহা, কাচ ও প্লাস্টিকের টুকরো এসে ঘরের ভেতরে থাকা সৈন্যদের শরীরকে ঝাঁঝরা করে দেয়।

বিস্ফোরণের ধাক্কায় হুলুস্থুল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। মাথায় স্প্লিন্টার বিদ্ধ হওয়ার সত্ত্বেও মেজর স্টিফেন রামসবটম ধোঁয়ার মধ্যে একের পর এক নিহত ও আহত সৈন্যদের টেনে বের করতে থাকেন। তিনি বলেন, ‘আমি সেখানে কোনো জেনারেলকে দেখিনি। পরে শুনলাম জেনারেল হিনসনের মুখ দিয়ে প্রচুর রক্ত পড়ছিল এবং তারা বাঙ্কারের পাশে বসে ছিলেন।’

ইউএস আর্মি সেন্ট্রাল কমান্ড তবে দাবি করেছে যে, জেনারেলরা আহত হয়েও মাঠপর্যায়ে সৈন্যদের সরিয়ে নেওয়ার কাজে সরাসরি সহায়তা করেছিলেন।

এই হামলায় মেজর কোডি এ. খোর্ক (৩৫), চিফ ওয়ারেন্ট অফিসার রবার্ট এম. মারজান (৫৪), মাস্টার সার্জেন্ট নোয়া এল. টিটজেন্স (৪২), মাস্টার সার্জেন্ট নিকোল এম. আমোর (৩৯), সার্জেন্ট ডিক্লান জে. কোডি (২০) এবং মেজর জেফরি আর. ওব্রায়েন (৪৫) নিহত হন।

চিকিৎসার নামে চরম অবহেলা এবং ‘নিজেদের তদন্ত নিজেদের’ করার চেষ্টা

আহত সৈন্যরা কুয়েতের স্থানীয় হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা পেয়ে জার্মানির মার্কিন সামরিক বাহিনীর বিখ্যাত ‘ল্যান্ডস্টুল রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টার’-এ পৌঁছান। তারা ভেবেছিলেন সেখানে উন্নত চিকিৎসা পাবেন। কিন্তু জার্মানিতে পৌঁছানোর পর চিকিৎসকরা তাদের জানান, ফ্লাইটের মেনিফেস্টে বা ক্যাজুয়ালটি ডেটাবেজে তাদের নাম ‘গুরুতর আহত’ বা ‘মেডিকেল ইভাকুই’ হিসেবে নথিভুক্তই করা হয়নি! ফলে হাসপাতালটি তাদের ভর্তি করতে অস্বীকার করে এবং কেবল বহির্বিভাগের রোগী হিসেবে ব্যান্ডেজ বেঁধে ব্যারাকে পাঠিয়ে দেয়।

সেন্ট্রাল কমান্ড তবে এই দাবি অস্বীকার করে বলেছে, থিয়েটারেই তাদের ক্ষতের শ্রেণিবিন্যাস করা হয়েছিল এবং তারা নিয়মিত চিকিৎসা পেয়েছেন।

এদিকে, এই ট্র্যাজেডির তদন্তের জন্য জেনারেল হিনসন প্রথমে অধীনস্থ এক মাঝারি পদের কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেন, যা সৈন্যদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষের সৃষ্টি করে। সৈন্যরা মনে করেছিলেন, নেতৃত্ব নিজেদের দোষ ঢাকতেই এই ‘নিজেদের লোক দিয়ে তদন্ত’ করাচ্ছেন।

পরবর্তীতে ব্যাপক সমালোচনার মুখে এই তদন্তভার আর্মি সেন্ট্রাল কমান্ডের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের হাতে ন্যস্ত করা হয়।

তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন অনুমোদন করেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল প্যাট্রিক ফ্রাঙ্ক (যিনি বর্তমানে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জেনারেল)। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে, এই তদন্ত প্রতিবেদনে হামলার জন্য কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা বা কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থার সুপারিশ করা হয়নি। এটি কবে নাগাদ জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে, তাও স্পষ্ট নয়।

জার্মানিতে এক সপ্তাহ কাটানোর পর আহত ও বেঁচে যাওয়া সৈন্যরা যখন আমেরিকার উদ্দেশ্যে বিমানে উঠছিলেন, তখন তাদের ব্যাগেজ ওজন করার সময় দেখা যায় ব্যাগের সংখ্যা অনেক বেশি। এক সৈন্য অশ্রুভেজা চোখে বলেন, ‘আমরা আমাদের সেইসব ভাইদের জিনিসপত্রও বয়ে নিয়ে যাচ্ছিলাম, যারা আর কোনোদিন আমাদের সঙ্গে ফিরে যাবে না।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

টাকার বিনিময়ে ননস্টপ সুবর্ণ এক্সপ্রেস থেকে মাঝপথে যাত্রী নামানোর অভিযোগ, আহত ১

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ শরীফ উদ্দিন (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি

সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:৪৪ এম


টাকার বিনিময়ে ননস্টপ সুবর্ণ এক্সপ্রেস থেকে মাঝপথে যাত্রী নামানোর অভিযোগ, আহত ১

ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী ননস্টপ সুবর্ণ এক্সপ্রেসে অর্থের বিনিময়ে যাত্রী বহন এবং পরে মাঝপথে চলন্ত ট্রেন থেকে নামিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিচে নামার সময় একজন যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, রোববার (১২ জুলাই) সন্ধ্যা প্রায় ৭টা ৫ মিনিটে ট্রেনটি আখাউড়া রেলওয়ে জংশনের তিতাস সেতু এলাকায় পৌঁছালে জরুরি চেইন (এসিপি) টেনে ট্রেনের গতি কমানো হয়। এরপর গার্ড ব্রেকের দিক থেকে তিনজন যাত্রীকে নিচে নামিয়ে দেওয়া হয়। এ সময় একজন পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, জনপ্রতি ৪০০ টাকা করে মোট ১,২০০ টাকার বিনিময়ে ওই তিনজনকে ট্রেনে তোলা হয়েছিল এবং নির্ধারিত স্টেশন ছাড়াই মাঝপথে নামিয়ে দেওয়া হয়।
তবে টাকার বিনিময়ে যাত্রী বহন ও নামিয়ে দেওয়ার অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা কিংবা ট্রেন কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

থাইল্যান্ডে মিলল ১৫ কোটি বছর আগের ডাইনোসরের জীবাশ্ম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:৪৯ এম


থাইল্যান্ডে মিলল ১৫ কোটি বছর আগের ডাইনোসরের জীবাশ্ম

থাইল্যান্ডের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে কালাসিন প্রদেশে একটি নতুন প্রজাতির ডাইনোসরের জীবাশ্ম আবিষ্কার করেছেন দেশটির জীবাশ্মবিদরা। এই উদ্ভিদভোজী ডাইনোসরের নাম উরাগাসরাস কালাসিনেনসিস (Uragasaurus kalasinensis), যা প্রায় ১৫ কোটি বছর আগে জুরাসিক যুগে পৃথিবীতে বিচরণ করত বলে বিজ্ঞানীদের ধারণা।

গবেষকদের বিশ্লেষণের ভিত্তিতে, ডাইনোসরটির দৈর্ঘ্য প্রায় ২০ মিটার বা ৬৬ ফুট ছিল, যা একটি ক্রিকেট পিচের সমান। এর সবচেয়ে বিশেষ বৈশিষ্ট্য ছিল অস্বাভাবিকভাবে লম্বা ঘাড়।

২০০৮ সালে ফু নোই এলাকায় স্থানীয় একটি ব্যক্তি জীবাশ্মটি খুঁজে পাওয়ার পর অনুসন্ধানের শুরু হয়। পরে সেখানে ডাইনোসরের দাঁত, হাড় এবং বিপুল পরিমাণে জীবাশ্ম উদ্ধার করা হয়। একটি কশেরুকার বিশেষ গঠন বিশ্লেষণ করে নতুন প্রজাতিটির অস্তিত্ব নিশ্চিত করেন গবেষকরা।

সিটি স্ক্যানে দেখা গেছে, এটি দীর্ঘ ঘাড়বিশিষ্ট ম্যামেনচিসোরিডি পরিবারের সদস্য। উল্লেখযোগ্যভাবে, এ পরিবারের জীবাশ্ম এতদিন মূলত চীনে পাওয়া গেলেও থাইল্যান্ডে এটিই প্রথম।

গবেষকদের দাবি অনুযায়ী, ডাইনোসরটির হাড়ের গঠন বিশ্বের অন্য কোনো পরিচিত ডাইনোসরের সঙ্গে মেলে না। এ অনন্য বৈশিষ্ট্যে ভিত্তি করেই এটিকে নতুন প্রজাতি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া, গত মে মাসেও থাইল্যান্ডে আরেকটি দীর্ঘ ঘাড়ের তৃণভোজী ডাইনোসর নাগাটাইটান-এর জীবাশ্ম আবিষ্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। ওই ডাইনোসরটি ২৭ মিটার দীর্ঘ ও প্রায় ২৭ টন ওজনের হওয়ায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত সবচেয়ে বড় ডাইনোসর হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সূত্র: বিবিসি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%