০৮:৪৬ পি.এম
কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার দুটি সীমান্তের শূন্যরেখায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) এর পুশইনের শিকার ৫ যুবক গত ৭ দিন ধরে আটক রয়েছে। ঝড়-বৃষ্টি ও তীব্র রোদ মাথায় নিয়ে তারা সামান্য প্লাস্টিকের ছাউনির নিচে নিদারুণ কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। এদিকে গতকাল শুক্রবার বিকেলে উপজেলার দাঁতভাঙা সীমান্তে বিএসএফ নতুন করে আবারও পুশইনের চেষ্টা চালায়। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কঠোর নজরদারি ও বাধায় সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।বর্তমানে গয়টাপাড়া সীমান্তে ২ জন এবং ইজলামারী বন্দুরচর সীমান্তে ৩ জন যুবক চরম মানবিক বিপর্যয়ের মধ্যে খোলা আকাশের নিচে রয়েছেন। তাদের জন্য নেই কোনো প্রয়োজনীয় খাবারের ব্যবস্থা, গোসলের পানি কিংবা ন্যূনতম স্যানিটেশনের সুবিধা। এই ৫ জনকে ঘিরে বর্তমানে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি ও বিএসএফ নিজ নিজ অবস্থানে কঠোর ও অনড় রয়েছে।ঘটনার সূত্রপাত গত রবিবার সকালে, যখন গয়টাপাড়া সীমান্ত দিয়ে দুই শিশু ও তাদের বাবা-মাসহ ৬ জন এবং ইজলামারীর বন্দুরচর সীমান্ত দিয়ে ৩ জনসহ মোট ৯ জনকে পুশইনের চেষ্টা চালায় বিএসএফ। বিষয়টি টের পেয়ে বিজিবি ও স্থানীয় এলাকাবাসী তাৎক্ষণিক বাধা দিলে তাদের আশ্রয় হয় সীমান্তের শূন্যরেখার ভারতীয় অংশে। পরে গত বুধবার ভোরে গয়টাপাড়া সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে ২ শিশু এবং তাদের বাবা-মাকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হলেও বাকি ৫ যুবক এখনো সেখানেই আটকে আছেন।স্থানীয় বাসিন্দারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, দুদেশের উচ্চপর্যায়ের আলোচনার মাধ্যমে সীমান্তের শূন্যরেখায় মানবেতর জীবনযাপন করা এই ব্যক্তিদের দ্রুত সরিয়ে নেওয়া উচিত।জামালপুর ৩৫-বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমান জানান, সীমান্তের এই পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমাধানের জন্য উচ্চপর্যায়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া, গতকাল শুক্রবার বিকেলে দাঁতভাঙা সীমান্তে বিএসএফের আরও এক দফা পুশইনের চেষ্টা বিজিবির তৎপরতায় ব্যর্থ করে দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন