০৫:২১ এম
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় নলদি ইউনিয়নে ব্রাহ্মণীনগর গ্রামে মাদক ব্যবসার অভিযোগ তুলে 'মব সৃষ্টি করে' বাড়িঘরে হামলা চালানোর এবং ভাঙচুর করার ঘটনা ঘটেছে। রবিবার (২১ জুন) সন্ধ্যায় ব্রাহ্মণী ডাঙ্গা গ্রামে এই হামলা ঘটে।
এই ঘটনার ফলে যিনি ভুক্তভোগী, সে তার পরিবারের পক্ষ থেকে সোমবার (২২ জুন) দুপুরে লোহাগড়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযুক্তদের মধ্যে সামাদ শেখসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ থেকে জানা যায়, ব্রাহ্মণীনগর গ্রামের বাসিন্দা সবুজ সিকদারের কাছে কয়েকদিন আগে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে অভিযুক্তরা। যদি চাঁদার টাকা প্রদান না করা হয়, তাহলে গ্রামে বসবাস করার সুযোগ থাকবে না বলে তাকে ভয় দেখানো হয়। রবিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সবুজের বাড়িতে হামলা চালায়।
এই ঘটনার সময় সবুজ বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন না। বাড়িতে তার বাবা, বোন, ভাই এবং ভগ্নিপতি উপস্থিত ছিলেন। তারা পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করার সময় কথা বলেছেন। একপর্যায়ে, তাঁর বাবার ওপর মারধর করা হয় এবং বাড়িঘর ও দোকানে ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়। অভিযুক্তরা নগদ ৮৫ হাজার টাকা এবং দোকানে ছিল ১৭ হাজার ৫০০ টাকা, প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকার স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায়। এছাড়াও, মুদি দোকানের মালামাল নষ্ট করা হয় এবং একটি মোটরসাইকেলও ভাঙচুর করা হয়।
আরও পড়ুন: নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য স্বজনদের দীর্ঘ অপেক্ষা
স্থানীয় লোকজন জানাচ্ছেন, পূর্ব শত্রুতার কারণে একটি দলের লোক এসে বাড়িঘরে হামলা চালায়। যখন তাদের জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তারা জানান, মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার কারণে হামলাটি ঘটানো হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মন্নু মোল্যা জানিয়েছেন, ২০ থেকে ২৫ জনের একটি গোষ্ঠী হঠাৎ করে এসে ভাঙচুর শুরু করে। তাদের হামলার কারণ জানতে চাইলে তারা বলেছেন, মাদক ব্যবসার কারণে এসব হচ্ছে। তিনি নিজের বয়স ৬৫ দাবি করে বলেন, এখানে কোন মাদক ব্যবসা হয় না। পাশে মসজিদ রয়েছে এবং এখানে সবসময় গ্রামবাসী থাকে, তাই কেউ এসব অভিযোগের পক্ষে বলতে পারে না। স্থানীয় কোন্দলের সূত্রে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলে হামলা চালানো হয়েছে।
অভিযুক্ত সামাদ শেখ জানাচ্ছেন, তারা গাজার ব্যবসা করে। তার জামাই মোটরসাইকেলে গাঁজা নিয়ে আসেন এবং তারা তা বিক্রি করে। তিনি জানান, ওই বাড়ি থেকে একজন গাঁজা কিনে নিয়ে যাচ্ছিলেন। স্থানীয়রা তাকে ধরে জিজ্ঞাসা করলে তিনি সবুজদের নাম বলেন। এরপর স্থানীয় বাসিন্দাসহ কয়েক গ্রামের লোক একত্রিত হয়ে হামলা চালায়। সামাদ দাবি করেন, হামলার ঘটনায় তিনি জড়িত ছিলেন না এবং চাঁদা দাবির অভিযোগ মিথ্যা।
এ বিষয়ে লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুর রহমান বলেন, এই ঘটনায় আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি।
আরও পড়ুন: মুন্সীগঞ্জ ডিসি অফিসে সোলার প্যানেলে উৎপাদন হবে ৮০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন