কবির হোসেন, আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
রবিবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৯:০১ পি.এম
ফরিদপুর শহরের ঐতিহ্যবাহী পুরাতন কালীবাড়ি মন্দিরে চুরির ঘটনায় কষ্টিপাথরের কালীমূর্তিসহ আলফাডাঙ্গার মা-ছেলেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় আসাদুজ্জামান সাদ্দাম (৩৮) ও তাঁর মা সাজেদা বেগম (৬৫)সহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ফরিদপুর জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজি গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
গ্রেপ্তার আসাদুজ্জামান সাদ্দাম আলফাডাঙ্গা পৌর এলাকার বুড়াইচ গ্রামের আকবার শেখের ছেলে। অপর গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন বোয়ালমারীর কান্দাকুল গ্রামের আল আমিন মোল্লা (২৪) ও আতিয়ার রহমান।
পুলিশ জানায়, গত ১৯ সেপ্টেম্বর রাতে পুরাতন কালীবাড়ি মন্দিরে চুরির ঘটনা ঘটে। পরদিন ২০ সেপ্টেম্বর কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়েরের পর তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তদন্তের সূত্র ধরে আলফাডাঙ্গার বুড়াইচ গ্রামে সাদ্দামের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়।
অভিযানে সাদ্দামের মা সাজেদা বেগমের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাড়ির রান্নাঘরের মাটির নিচ থেকে মন্দির থেকে চুরি যাওয়া স্বর্ণ ও রৌপ্যের অলংকার এবং ছয়টি পিতলের প্রতিমা উদ্ধার করা হয়।
পরে সাদ্দাম ও আল আমিনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বোয়ালমারীর রূপাপাত এলাকার একটি বাড়ির পেছনে মাটির নিচে লুকিয়ে রাখা প্রায় ২০ কেজি ওজনের কষ্টিপাথরের কালীমূর্তিটি উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, মূর্তিটির আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় এক কোটি টাকা। এছাড়া বোয়ালমারী বাজারের একটি জুয়েলারি দোকান থেকে গলানো অবস্থায় আট আনা স্বর্ণও উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, এর আগেও কষ্টিপাথরের মূর্তি উদ্ধারের ঘটনায় সাদ্দাম গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। চলতি বছরের ১৮ জানুয়ারি তাঁর আলফাডাঙ্গার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ১২৫ কেজি ওজনের একটি কষ্টিপাথরের মূর্তি উদ্ধার করে র্যাব। ওই ঘটনায় তাঁকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে জামিনে মুক্ত হয়ে আবারও একই ধরনের ঘটনায় গ্রেপ্তার হলেন তিনি।
আলফাডাঙ্গা থানা সূত্রে জানা গেছে, সাদ্দামের বিরুদ্ধে আলফাডাঙ্গাসহ দেশের বিভিন্ন থানায় হত্যা, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে অন্তত ১০টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে নওগাঁ-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ছলিম উদ্দিন তরফদার এবং তার স্ত্রী শামীমা আক্তার শিরিনের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন আদালত।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আজ ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক মো. শাহজাহান কবির এই আদেশ প্রদান করেন। দুদকের সহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়া এই আবেদনটি করেন।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আসামিরা দেশ ত্যাগ করে বিদেশে পালিয়ে যেতে পারেন বলে বিশ্বস্ত সূত্রে খবর পাওয়া গেছে। যদি তারা বিদেশে চলে যান, তবে মামলার গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ডপত্র সংগ্রহে সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি তদন্ত কার্যক্রমও বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
দুদক জানায়, মোহাম্মদ ছলিম উদ্দিন তরফদার ও তার স্ত্রী শামীমা আক্তার শিরিন পরস্পর যোগসাজশে ১ কোটি ৬৮ লাখ ৬৪ হাজার ৫৬০ টাকা মূল্যের জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করে ভোগদখলে রেখেছেন।
আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ছলিম উদ্দিন পাবলিক সার্ভেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে অসৎ উদ্দেশ্যে ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রভাব ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছেন।
এ ঘটনায় দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঢাকা-১-এ ২০২৫ সালের ১৬ জুলাই মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় দুদক আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারা এবং দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর ভাষানটেক থানা যুবলীগের সহসভাপতি শাহ আলম অনিককে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) ক্যান্টনমেন্ট এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
ডিবি সূত্র জানায়, শাহ আলম অনিকের ঘনিষ্ঠতা রয়েছে মিরপুরের শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত শাহাদাতের সঙ্গে। তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে যে, অনিক শাহাদাত ও ইব্রাহিমের হয়ে এজেন্ট হিসেবে কাজ করতেন। তার বিরুদ্ধে আন্ডারগ্রাউন্ড কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগের সত্যতা প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে ডিবি।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের প্রধান (অতিরিক্ত কমিশনার) শফিকুর রহমান অনিককে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা কিছু সময় আগে তাকে আটক করে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছি। তার বিরুদ্ধে অনেক ধরনের অভিযোগ রয়েছে। আমরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছি।’
শাহ আলম অনিকের বাবার নাম আবু সাঈদ। তার গ্রামের বাড়ি নরসিংদীতে। তিনি রাজধানীর মিরপুরের পর্বত সেনপাড়া এলাকায় বসবাস করতেন।
ডিবি সূত্রের দাবি, শনিবার রাতে ইসিবি চত্বরের কাছে নিউ গিনি কনডোমিনিয়াম সিটিতে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মোহাম্মদ মুক্তাদিরের ব্রাউনফিশ স্টুডিওতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় অনিক সরাসরি জড়িত ছিলেন। তবে এ ঘটনায় তার সম্পৃক্ততার বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন নিখিল ও মিরপুরের স্থানীয় সংসদ সদস্য ইলিয়াস মোল্লার ক্যাডার হিসেবে এলাকায় পরিচিত ছিলেন অনিক। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মিরপুর, ভাষানটেক, কাফরুল, পল্লবী ও ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডসহ একাধিক অভিযোগে মামলা রয়েছে বলেও সূত্র জানিয়েছে।
এ ছাড়া ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে অনিক সামনের সারিতে ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিদেশে অবস্থানরত আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ ছিল বলেও সূত্রের দাবি। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর নিষিদ্ধ দলের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা ও সংগঠিত করার সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠে।
সূত্রের ভাষ্য, মিরপুর, পল্লবী, ভাষানটেক ও কাফরুল এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ এবং বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনাতেও অনিক সরাসরি জড়িত ছিলেন। বিদেশ থেকে আসা বিভিন্ন নির্দেশনা দেশে বাস্তবায়নেও তিনি ভূমিকা রাখছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এর আগে শুক্রবার রাতে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হন কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিলের ছোট ভাই মোতাহার হোসেন খান সুফল। সূত্রের দাবি, সুফল ও অনিক একসঙ্গে ঢাকায় অস্থিরতা তৈরির বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাঙামাটি, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : ‘বিশ্ব পর্যটন দিবস’ উপলক্ষে রাঙামাটি জেলা পরিষদ প্রাঙ্গন থেকে শুরু হয়ে দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটক নগরী ও ‘মেঘের রাজ্য’ খ্যাত সাজেক ভ্যালি পর্যন্ত একটি বর্ণাঢ্য রোড শো ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।
আজ রোববার বিকেলে ‘কটেজ অ্যান্ড রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব সাজেক’-এর উদ্যোগে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়, যার উদ্দেশ্য ছিল পর্যটন শিল্পের বিকাশ ও পরিবেশগত সচেতনতা বৃদ্ধি।
এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান দীপন তালুকদার দীপু।
জেলা পরিষদের সদস্য এবং কটেজ অ্যান্ড রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব সাজেকের সভাপতি সুপর্ন দেব বর্মনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই পর্যটন দিবসের অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাঘাইহাট সেনা জোনের জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল তারেকুল ইমরান পিএসসি, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের সদস্য এ্যাডভোকেট মামুনুর রশীদ, জেলা পরিষদের সদস্য শ্বাশত চাকমা প্রমুখ।
পর্যটন দিবস উপলক্ষে রাঙামাটি জেলা পরিষদ প্রাঙ্গন থেকে সাজেক ভ্যালি পর্যন্ত বর্ণাঢ্য 'রোড শো' ছাড়াও পাহাড়ের প্রকৃতি ও সৌন্দর্য রক্ষায় সাজেকের পর্যটন এলাকায় বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও পাহাড়ে সবুজায়নের বৃক্ষরোপণের আয়োজন করা হয়েছে।
এছাড়া, পর্যটন দিবস উপলক্ষে পার্বত্য অঞ্চলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীসমূহের ঐতিহ্যবাহী কৃষ্টি ও সংস্কৃতি প্রদর্শনের জন্য স্থানীয় লুসাই, ত্রিপুরা এবং চাকমা জনগোষ্ঠীর যৌথ উদ্যোগে 'ট্রেডিশনাল ফুড কোর্ট' আয়োজন করা হয়। যেখানে আগত পর্যটক ও অতিথিদের জন্য পাহাড়ের বিলুপ্তপ্রায় ও ঐতিহ্যবাহী সুস্বাদু খাবারের বাহারী আয়োজন রাখা হয়েছে।
সাজেক কটেজ অ্যান্ড রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃস্থানীয় প্রতিনিধিরা জানান, পর্যটন দিবসকে কেন্দ্র করে পর্যটকদের বরণ করে নেওয়ার পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব ও টেকসই পর্যটন ব্যবস্থা গড়ে তোলাই তাদের মূল উদ্দেশ্য।
পর্যটন দিবস উপলক্ষ্যে পাহাড়ি রোদ-মেঘের খেলায় সাজেকজুড়ে এখন আনন্দ মুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ