১২:৫৬ পি.এম
ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ বলেছেন, হরমুজ প্রণালী আর কখনও যুদ্ধের আগের অবস্থায় ফিরে যাবে না এবং এটি আন্তর্জাতিক আইনের আলোকে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রশাসনিক তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে। মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত প্রথম দফার আলোচনার পর গালিবাফ এ মন্তব্য করেছেন।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
আরও পড়ুন: ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকছে পাকিস্তান : তালেবান
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের অবসান ঘটাতে সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত প্রথম দফার আলোচনার পর সোমবার ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালী খোলা রাখার জন্য একটি সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থা চালুর বিষয়ে সম্মত হয়েছে। একই সঙ্গে লেবাননে চলমান সংঘর্ষ বন্ধের উদ্যোগ নিয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়েছে বলে মধ্যস্থতাকারীরা জানিয়েছেন।
আলোচনা শেষে দেশে ফিরে গালিবাফ বলেন, ‘হরমুজ প্রণালী আর কখনও যুদ্ধের আগের অবস্থায় ফিরে যাবে না। আন্তর্জাতিক আইনের আলোকে এর প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের হাতেই থাকবে।’ ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থা আইআরএনের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
গালিবাফের টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, সুইজারল্যান্ডের বিলাসবহুল বুর্গেনস্টক রিসোর্টে অনুষ্ঠিত আলোচনা থেকে ‘গুরুত্বপূর্ণ ও ইতিবাচক অর্জন’ এসেছে।
তিনি বলেন, ‘আমার মতে এই সফর ফলপ্রসূ হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী সংক্রান্ত আলোচনা, লেবানন ইস্যু, ইরানি তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিষয় এবং স্থগিত বা জব্দকৃত অর্থ মুক্ত বা ছাড় করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে।’
আরও পড়ুন: সৌদিতে আটকে পড়া ৪০ ওমরাহ পালনকারী দেশে ফিরলেন
আলোচনার পর সোমবার ইরানের তেলের ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর আগে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানান, তেহরান জাতিসংঘের পারমাণবিক পরিদর্শকদের আবারও ইরানে প্রবেশের অনুমতি দিতে রাজি হয়েছে।
চুক্তির অংশ হিসেবে তেহরান ওয়াশিংটনের কাছ থেকে কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সুবিধা পাবে। পাশাপাশি বিদেশে আটকে থাকা বা জব্দকৃত ইরানি সম্পদের একটি অংশও ছাড় করা হবে।
গালিবাফ বলেন, ‘তবে আমরা মনে করি, এটি কেবল শুরু। সামনে আরও প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।’
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, সুইজারল্যান্ড সফর শেষে গালিবাফ ওমানেও যান। ওমান হচ্ছে হরমুজ প্রণালীর অংশীদার উপকূলীয় দেশগুলোর একটি।
আরও পড়ুন: বিএনপি সরকার ও প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ফেসবুকে নারীর কুরুচিপূর্ণ পোস্ট, অতঃপর আটক সাথী আক্তার
যুদ্ধ শুরুর পর ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছিল। পরে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আলোচনা শুরু করার সমঝোতার পর গত সপ্তাহে এটি পুনরায় খুলে দেওয়া হয়।
তবে শনিবার লেবাননে ইসরাইলি হামলার জবাবে ইরান আবারও প্রণালীটি বন্ধ করার ঘোষণা দেয়।
এরপর উভয় দেশ বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতে এবং ভুল বোঝাবুঝি বা অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা এড়াতে একটি সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থা চালুর বিষয়ে একমত হয়েছে বলে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীরা জানিয়েছেন।
এদিকে জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের আলোচনার সমঝোতার পর সোমবার হরমুজ প্রণালীতে নৌযান চলাচল আগের তুলনায় আরও দ্রুত গতিতে অব্যাহত ছিল।
আরও পড়ুন: ১০ মাস নির্বাসনের পর ভেনেজুয়েলায় ফিরলেন নোবেলজয়ী মাচাদো
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন