প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পিরোজপুরের কাউখালীতে অবস্থিত দুইটি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের গুরুতর শিক্ষক সংকটের সমাধান এবং জরুরিভাবে প্রয়োজনীয় শিক্ষক নিয়োগের দাবিতে একটি মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকাল ১০টায় ছাত্র, অভিভাবক এবং সচেতন নাগরিকদের উদ্যোগে উপজেলার সরকারি কেজি ইউনিয়ন বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে ঘণ্টাব্যাপী এই কর্মসূচিটি পালন করা হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা উল্লেখ করেন, কাউখালী কেজি ইউনিয়ন সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রায় ৩৮০ জন শিক্ষার্থী রয়েছেন, কিন্তু তাদের জন্য শিক্ষক মাত্র ৪ জন। অপরদিকে, কাউখালী এস বি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রায় ৫০০ ছাত্রী রয়েছে, কিন্তু তাদের জন্য শিক্ষক রয়েছেন মাত্র ৭ জন। এছাড়া, দুইটি বিদ্যালয়ে দীর্ঘ সময় ধরে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে।
বক্তারা জানান, ইংরেজি, গণিত, ব্যবসায় শিক্ষা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের শিক্ষক না থাকায় শিক্ষার্থীরা মানসম্মত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সীমিত সংখ্যক শিক্ষকের দ্বারা কোনো রকমে শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে, যা শিক্ষার গুণগতমানকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
মানববন্ধনে বক্তৃতা করতে আসেন, অভিভাবক মোঃ আল আমিন খান, এনামুল হক, সচেতন নাগরিক রফিকুল ইসলাম, রাকিব তালুকদার, জাহিদুর রহমান ফিরোজ, প্রাক্তন শিক্ষার্থী নাঈম হোসেন এবং শিক্ষার্থী সুমন কর্মকারসহ আরও অনেকেই। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন।
কাউখালী কেজি ইউনিয়ন সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বিজন হালদার জানান, দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষক সংকটের কারণে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের স্বার্থে দ্রুত শূন্য পদগুলো পূরণ করা অত্যন্ত জরুরি।
কাউখালী এস বি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ আখতার হোসেন বলেন, বর্তমান জনবল নিয়ে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করা খুবই কঠিন হয়ে পড়েছে। বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক না থাকায় শিক্ষার্থীদের কাঙ্ক্ষিত শিক্ষা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এ জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপের প্রয়োজন।
এ বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, বরিশাল অঞ্চলের উপ-পরিচালক মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, কাউখালীর দুইটি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকটের বিষয়টি তাদের জানা আছে। শূন্য পদের তথ্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং শিক্ষক পদায়ন ও বদলির মাধ্যমে সংকট নিরসনের চেষ্টা চলছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, দ্রুত সময়ের মধ্যে সমস্যার সমাধান হবে।
সচেতন অভিভাবক রফিকুল ইসলাম বলেন, “শিক্ষক ছাড়া মানসম্মত শিক্ষা সম্ভব নয়। আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে অবিলম্বে দুইটি বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ দিতে হবে।”
অভিভাবক এনামুল হক সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে বলেন এবং শিক্ষাব্যবস্থাকে সংকটমুক্ত রাখতে অবিলম্বে শিক্ষক নিয়োগের দাবি করেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন