ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ইরানের ‘খেইবার শেকান’ এখন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন আতঙ্ক


ইরানের ‘খেইবার শেকান’ এখন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন আতঙ্ক

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত যখন ক্রমশ দীর্ঘ হচ্ছে, তখন এই পরিস্থিতিতে নতুন নতুন সামরিক প্রযুক্তি ও অস্ত্রের সক্ষমতা সামনে আসছে। এ প্রেক্ষাপটে ইরানের তৈরি ‘খেইবার শেকান’ ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে মার্কিন সামরিক মহলে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের প্রকাশিত দাবির ভিত্তিতে, এই ক্ষেপণাস্ত্রটির কৌশলগত সক্ষমতার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম এশিয়ায় মোতায়েন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য এটি যথেষ্ট বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।

সম্প্রতি, মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’র প্রতিবেদনে একজন মার্কিন সামরিক কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, ইরান মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলার কৌশলে পরিবর্তন করেছে। এর মধ্যে খেইবার শেকানসহ বিভিন্ন ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছে তেহরান। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার হিসাবে, এই ক্ষেপণাস্ত্রটি লক্ষ্যবস্তুর কাছাকাছি গমন করার সময় গতিপথ পরিবর্তন করার সক্ষমতা রাখে, যা প্রচলিত ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলিকে প্রতিহত করার ক্ষেত্রে একটি নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে উঠছে।

কী এই খেইবার শেকান?

আরও পড়ুন: বাংলাদেশ-জাপান চুক্তি: ২০২৭ সালের এপ্রিল থেকে শুরু হবে পাঁচ বছর মেয়াদি কর্মসংস্থান চুক্তি

ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) ক্ষেপণাস্ত্র বহরে ২০২২ সালে খেইবার শেকান যুক্ত হয়েছিল। এটি কঠিন জ্বালানিচালিত স্বল্প থেকে মধ্যপাল্লার ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। বিভিন্ন পশ্চিমা ও প্রতিরক্ষা সূত্র অনুযায়ী, এর পাল্লা প্রায় ১ হাজার ৪০০ কিলোমিটার বা তারও বেশি হতে পারে।

এই ক্ষেপণাস্ত্রটির নামের সঙ্গে ইসলামের ইতিহাসের একটি প্রসঙ্গ রয়েছে। ‘খেইবার’ নামটি সৌদি আরবের ঐতিহাসিক খাইবর অঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত। ইরানের ভাষ্যমতে, নামটি ঐতিহাসিক সামরিক বিজয়ের প্রতীক হিসেবে ভূমিকা পালন করে।

খেইবার শেকানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো এর কঠিন জ্বালানি প্রযুক্তি। তরল জ্বালানিচালিত ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় এই ধরনের অস্ত্র দ্রুত উৎক্ষেপণ করা সম্ভব এবং দীর্ঘ সময় ধরেও প্রস্তুত অবস্থায় রাখা অনেক বেশি সহজ। এ কারণে যুদ্ধক্ষেত্রে এগুলোকে মোতায়েন ও দ্রুত অবস্থান পরিবর্তন করার সুবিধা রয়েছে।

কেন মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষার জন্য এটি একটি চ্যালেঞ্জ?

আরও পড়ুন: হাসনাত আবদুল্লাহর অভিযোগ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যর্থতার শিকার প্রতিমন্ত্রী ইশরাক

ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সাধারণত একটি নির্দিষ্ট গতিপথ অনুসরণ করে লক্ষ্যবস্তুর দিকে এগোয়। এজন্য প্যাট্রিয়ট বা থাডের মতো আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রাডারের মাধ্যমে ক্ষেপণাস্ত্রের গতিপথ শনাক্ত করে সেটিকে এ সময়ে ধ্বংস করার চেষ্টা করতে পারে।

কিন্তু কিছু আধুনিক ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শেষ পর্যায়ে গিয়ে গতিপথ পরিবর্তন বা কৌশলগত ম্যানুভার করতে সক্ষম। খেইবার শেকানের ক্ষেত্রেও এমন একটি সক্ষমতা রয়েছে বলে দাবি করেছেন ইরানি কর্মকর্তারা এবং কিছু প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক।

মার্কিন সামরিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ইরান কখনো কখনো ড্রোনের পাশাপাশি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে হামলা চালায়। এতে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উপর একসাথে একাধিক লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত এবং প্রতিহত করার চাপ সৃষ্টি হয়।

কঠিন জ্বালানির সুবিধা

আরও পড়ুন: সীতাকুণ্ডে ইয়াবা কারবারিদের ধরে টাকা নিয়ে ছেড়ে দেয় পুলিশ, থানার ক্যাশিয়ার নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন

খেইবার শেকানের কঠিন জ্বালানি প্রযুক্তি ইরানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সুবিধা তৈরি করেছে। তরল জ্বালানি ব্যবহারকারী ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের জন্য জ্বালানি ভরার প্রয়োজন হয়, যা প্রস্তুতির সময় বৃদ্ধি করে এবং সরঞ্জাম ও জনবলের প্রয়োজনও বেশি হয়।

অন্যদিকে, কঠিন জ্বালানিচালিত ক্ষেপণাস্ত্র তুলনামূলক দ্রুত উৎক্ষেপণ করা সম্ভব। একইসাথে এগুলো মোবাইল লঞ্চারের মাধ্যমে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তর করাও সহজ। ফলে শত্রুপক্ষের গোয়েন্দা নজরদারি এড়িয়ে অবস্থান পরিবর্তন করার সুযোগ বাড়ে।

খরচের লড়াইও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতে শুধুমাত্র সামরিক সক্ষমতার দিক দিয়ে নয়, অর্থনৈতিক হিসাবও একটি বড় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের দাম অনেক বেশি হতে পারে।

আরও পড়ুন: ইশরাকের পদত্যাগের পর স্ত্রীর রহস্যময় পোস্ট

প্যাট্রিয়ট ও থাডের মতো ব্যবস্থার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র অত্যন্ত ব্যয়বহুল। ফলে অপেক্ষাকৃত কম খরচের আক্রমণাত্মক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে অত্যন্ত ব্যয়বহুল প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করতে হলে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে বড় আর্থিক চাপ সৃষ্টি হতে পারে।

চীনা প্রযুক্তি নিয়ে মার্কিন উদ্বেগ

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় চীনা প্রযুক্তি বা স্যাটেলাইটভিত্তিক নেভিগেশন ব্যবস্থার ব্যবহার নিয়ে পশ্চিমা মহলে আলোচনা রয়েছে। তবে ইরানের খেইবার শেকান ক্ষেপণাস্ত্রের নির্ভুলতা সরাসরি চীনের বেইদু ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল—এমন দাবির বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য সীমিত।

একইভাবে ইরানকে চীন থেকে বিপুল পরিমাণ সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ এবং পাকিস্তানের ভূখণ্ড ব্যবহার করে এসব অস্ত্র ইরানে পৌঁছানোর যে দাবি বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে, সেগুলোর অনেকটিই স্বাধীনভাবে নিশ্চিত নয়।

আরও পড়ুন: শাহজালাল বিমানবন্দরে প্রবাসীদের জন্য ২০০ ট্রলি প্রদান

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে নতুন সমীকরণ

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা নিয়ে মার্কিন উদ্বেগের পেছনে অতিরিক্ত একটি কারণ হলো দেশটির দীর্ঘদিনের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি। ড্রোন, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সমন্বিত ব্যবহার ইরানের হামলার কৌশলকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র দেশগুলোতে প্যাট্রিয়ট, থাডসহ বিভিন্ন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করেছে। কিন্তু প্রতিটি হামলা প্রতিহত করতে ব্যয়বহুল ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করতে হলে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে মজুদ ও অর্থ—দুই দিক থেকেই চাপ বাড়তে পারে।

এই প্রেক্ষাপটে, খেইবার শেকান শুধু একটি ক্ষেপণাস্ত্র নয়, বরং ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতে আক্রমণ ও প্রতিরক্ষার ব্যয়ের হিসাব পরিবর্তন করার একটি গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র হিসেবেও অবহিত হচ্ছে। তথ্যসূত্র: দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর সফরের আগে সৈয়দপুরে ময়লার স্তূপ বালু দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

খেলাধুলায় এবার মেধাই হবে মূল্যায়নের প্রধান ভিত্তি: কৃষিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:২৩ পি.এম


খেলাধুলায় এবার মেধাই হবে মূল্যায়নের প্রধান ভিত্তি: কৃষিমন্ত্রী

কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ জানিয়েছেন, খেলাধুলাকে কখনোই রাজনৈতিক বা দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করা হবে না। তিনি আরও বলেছেন, বিগত সরকারের সময় খেলাধুলাকে দলীয়করণ করার ঘটনা ঘটলে বর্তমানে সরকার সেই পথে হাঁটবে না; ক্রীড়াঙ্গনে কেবল মেধার সঠিক মূল্যায়ন করা হবে।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাতে কুমিল্লা জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে অনু্ষ্ঠিত জাতীয় ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হওয়া কুমিল্লা জেলা দলকে দেয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যের সময় তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে তিনি কুমিল্লায় একটি আধুনিক ‘স্পোর্টস ভিলেজ’ নির্মাণের ঘোষণাও করেন।

মন্ত্রী আমিন উর রশীদ প্রধান অতিথির বক্তৃতায় বলেন, ‘খেলাধুলা সব দল ও মতের ঊর্ধ্বে। অতীতে খেলাধুলাকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। বর্তমান সরকার খেলাধুলাকে কোনোভাবেই দলীয়করণ করবে না। বরং মেধাবী খেলোয়াড় তৈরিতে সব ধরনের সহায়তা দেয়া হবে।’

জাতীয় ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় কুমিল্লা জেলা দল চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘এই অর্জন পুরো কুমিল্লাবাসীর জন্য গর্বের। খেলোয়াড়দের জন্য যদি আরও উন্নত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা যায়, তাহলে তারা ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের জন্য সুনাম বয়ে আনবে।’

মন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন স্কুল-কলেজের খেলার মাঠগুলোর বেহাল অবস্থার কথা তুলে ধরে, জেলা স্টেডিয়ামের বাইরেও অনেক বড় বড় মাঠ রয়েছে। তবে যথাযথ পরিচর্যার অভাবে সেগুলো ব্যবহারের উপযোগী থাকছে না। এসব মাঠের উন্নয়ন ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণে সংশ্লিষ্ট সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ মোল্লা টিপুর সভাপতিত্বে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রোজি আক্তার, এ কে এম কামরুজ্জামান, মো. কবির খান, কুমিল্লা জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব এমদাদুল হক এমদু এবং কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য বদরুল হুদা জেনু।

অনুষ্ঠানে জাতীয় ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় বিজয়ী কুমিল্লা জেলা দলের খেলোয়াড়, কোচ ও কলাকুশলীদের সংবর্ধনা দেয়া হয়। এ ছাড়া ফুটবল, ক্রিকেট, হকি, ভলিবল ও কারাতেসহ বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের খেলোয়াড়, কোচ, ক্রীড়া সংগঠক ও অভিভাবকরা সংবর্ধনায় অংশ নেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভূমিকম্পে গৃহহীনদের সহায়তায় বিশেষ বাড়ি ভাড়া আইন আনল ভেনেজুয়েলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:২৫ পি.এম


ভূমিকম্পে গৃহহীনদের সহায়তায় বিশেষ বাড়ি ভাড়া আইন আনল ভেনেজুয়েলা

গত মাসের ভয়ঙ্কর ভূমিকম্পের কারণে হাজার হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়ার পর, দেশটিতে বাড়ি ভাড়া সহজতর করার লক্ষ্যে একটি নতুন আবাসন আইন শুক্রবার সর্বসম্মতিভাবে অনুমোদন করেছে ভেনেজুয়েলার আইনসভা।

গত ২৪ জুন উপকূলীয় রাজ্য লা গুয়াইরায় পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এই ভূমিকম্পে ৫ হাজার ৫০০ জনেরও বেশি মানুষ মৃত্যুবরণ করেন এবং শত শত ভবন ধসে পড়ে। বর্তমানে ওই এলাকায় ২৩ হাজার ৮০০ জনের বেশি মানুষ গৃহহীন অবস্থায় জীবন যাপন করছেন।

এই খবরটি বার্তা সংস্থা এএফপি’র মাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে।

নতুন আইনটি সাবেক বামপন্থি চাভিস্তা প্রশাসনের আমলে প্রণীত বাড়ি ভাড়া সংক্রান্ত বিধিনিষেধগুলো বাতিল করছে।

জাতীয় পরিষদের প্রধান হোর্হে রদ্রিগেজ বলেন, ‘মানুষ যাতে নিজেদের বাড়ি ভাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ভয় অনুভব না করেন, তা নিশ্চিত করাই এই আইনের লক্ষ্য।’

তিনি এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, অতিরিক্ত কঠোর ও পশ্চাৎমুখী বিধিনিষেধের কারণে ভেনেজুয়েলায় বর্তমানে প্রায় ২ লাখ বাড়ি ভাড়া দেওয়া হচ্ছে না।

আইনপ্রণেতা আমেরিকা পেরেজ বলেন, ‘হাজার হাজার পরিবার তাদের বাসস্থান থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এই আইন সরাসরি সেই প্রয়োজন পূরণের উদ্যোগ নিয়েছে।’

এখন আইনটি কার্যকর করার জন্য অন্তর্বর্তী নেতা ডেলসি রদ্রিগেজের অনুমোদন প্রয়োজন।

তিনি বছরের শেষ নাগাদ ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ৪ হাজার বাড়ি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সরকার আশা করছে, ২০২৭ সালের মধ্যে এই সংখ্যা ১০ হাজারেরও বেশি হবে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশনিক ৫ মাত্রার ওই ভূমিকম্পে ১৯০টি ভবন সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে এবং আরও ৮৫৬টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ভেনেজুয়েলার কর্তৃপক্ষ বৃহস্পতিবার লা গুয়াইরায় ক্ষতিগ্রস্ত ভবন ভাঙার কাজ শুরু করেছে। সেনাবাহিনী এলাকা ঘিরে রাখার পর বিস্ফোরক ব্যবহার করে কয়েকটি ভবন ধ্বংস করা হয়।

ভবন ধ্বংসের পর শুক্রবার উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষের সন্ধানে আবারও অভিযান শুরু করেন।

যদিও সরকার কতজন মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন, সে সংখ্যা প্রকাশ করেনি। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, নিখোঁজের সংখ্যা ১০ হাজার পর্যন্ত হতে পারে।

গত জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার পর থেকে ওয়াশিংটনের তীব্র চাপের মধ্যে দেশটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন ডেলসি রদ্রিগেজ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আধুনিক জীবনধারায় মাতৃদুগ্ধ বঞ্চিত হচ্ছে অনেক শিশু: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:২৮ পি.এম


আধুনিক জীবনধারায় মাতৃদুগ্ধ বঞ্চিত হচ্ছে অনেক শিশু: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, ‘আধুনিক জীবনযাত্রার প্রভাবে অনেক নবজাতক প্রয়োজনীয় মাতৃদুগ্ধ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুস্বাস্থ্য ও স্বাভাবিক মানসিক বিকাশের জন্য উদ্বেগজনক।’

শনিবার (১ আগস্ট) রাজধানীর ন্যাশনাল বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান আয়োজিত বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘অতীতে পরিবারে শিশুর লালন-পালন এবং মাতৃদুগ্ধ পান নিশ্চিত করার বিষয়ে যে সচেতনতা ও গুরুত্ব ছিল, আধুনিক জীবনযাত্রার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সেই চর্চা অনেক ক্ষেত্রে কমে এসেছে। জন্মের পরপর নবজাতককে মায়ের কাছ থেকে আলাদা করে রাখা, কর্মব্যস্ততা এবং পরিবর্তিত জীবনধারার কারণে অনেক মা শিশুকে প্রয়োজনীয় সময় মাতৃদুগ্ধ পান করাতে পারছেন না।’

তিনি বলেন, আমরা আধুনিক হয়ে যাওয়ার কারণে বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে নবজাতকের জন্মের প্রথম এক ঘণ্টার মধ্যেই শাঁলদুধ পান নিশ্চিত করার বিকল্প নেই।’

মন্ত্রী বলেন, ‘মায়ের দুধ শিশুর সর্বোত্তম ও প্রাকৃতিক খাদ্য। এটি শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, শারীরিক বৃদ্ধি এবং মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পাশাপাশি মায়ের স্নেহ, স্পর্শ ও মাতৃদুগ্ধ শিশুর সুস্থ মানসিক বিকাশের অন্যতম ভিত্তি। পরিবারে অশান্তি, অবহেলা কিংবা শিশুকে দীর্ঘ সময় মায়ের কাছ থেকে দূরে রাখার নেতিবাচক প্রভাব শিশুর আচরণ ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও পড়ে।’

তিনি বলেন, ‘অপুষ্টির কারণে অনেক শিশু সংক্রমণের ঝুঁকিতে বেশি রয়েছে। মাতৃদুগ্ধ পান নিশ্চিত করা গেলে শিশুর রোগ প্রতিরোধক্ষমতা আরো শক্তিশালী হবে এবং সংক্রামক রোগ মোকাবেলায় সক্ষমতা বাড়বে। অতিরিক্ত ফাস্ট ফুড গ্রহণ, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং সুষম খাদ্যের অভাব নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে শিশুর খাদ্য হিসেবে মায়ের দুধের পরিবর্তে বাজারজাত বিকল্প খাদ্যের ওপর অতিনির্ভরশীলতা কমাতে হবে।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ পালনের মধ্যে সচেতনতা কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। সারা বছর জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। এ লক্ষ্যে জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান, সিভিল সার্জন, জেলা প্রশাসন এবং স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেন তিনি। দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। সুস্থ, সক্ষম ও মানবিক প্রজন্ম গড়ে তুলতে মাতৃদুগ্ধ পান নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই।’

স্বাস্থ্য পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীর সভাপতিত্বে এ সময় প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জিয়াউদ্দিন হায়দার, পরিবার পরিকল্পনার মহাপরিচালক ডা. জিন্নাত রেহানা, জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ ইউনূস আলী উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জামিনে বেরিয়েই বেপরোয়া ফয়সাল: বরিশালে হোটেলকেন্দ্রিক দেহ ব্যবসা ফের জমজমাট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

​নিজস্ব প্রতিবেদক বরিশাল

শনিবার, ১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:৩০ পি.এম


জামিনে বেরিয়েই বেপরোয়া ফয়সাল: বরিশালে হোটেলকেন্দ্রিক দেহ ব্যবসা ফের জমজমাট

বরিশাল নগরীর বিউটি রোড এলাকার ‘হোটেল নছিবে’ এক যুবকের রহস্যজনক মৃত্যুর মামলার অন্যতম আসামি মো. ফয়সাল জামিনে বের হয়েই পুনরায় অসামাজিক ও দেহ ব্যবসা শুরু করেছেন। গত মে মাসে সংঘটিত ওই ঘটনার পর দীর্ঘ দিন আত্মগোপনে থাকা ফয়সাল সম্প্রতি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পান। তবে কারামুক্তির পরদিনই তিনি পুরনো অসাধু ব্যবসায় নেমে পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

গত ১০ মে রাতে বিউটি রোডের হোটেল নছিবের একটি কক্ষে এক যুবক বিষাক্ত যৌন উত্তেজক (জিনসিন) সিরাপ সেবন করে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং পরবর্তীতে ওই যুবক মৃত্যুবরণ করেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, হোটেল পরিচালক ফয়সাল নিজে গোপনে খদ্দেরদের কাছে এসব নিষিদ্ধ ক্ষতিকর সিরাপ বিক্রি করতেন। ওই ঘটনার পর থেকেই পুরো বিষয়টি নিয়ে হত্যা ও রহস্যের সৃষ্টি হয় এবং ফয়সাল আত্মগোপনে চলে যান।

দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর ফয়সাল বরিশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করেন। বিজ্ঞ বিচারক জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে পুলিশের আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত তার দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। রিমান্ড শেষে তিনি জামিনে মুক্তি পান।

অভিযোগ উঠেছে, জেল থেকে বের হওয়ার পরপরই ফয়সাল বিউটি রোড ও পোট রোড এলাকায় তার মালিকানাধীন ও পরিচালিত হোটেলগুলোতে পুনরায় দেহ ব্যবসা শুরু করেছেন।

এদিকে, গত রাতে পোট রোড লঞ্চঘাট এলাকার হোটেল স্বাগতম’-এ মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল অভিযান চালায়। সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ খদ্দের এবং দেহ ব্যবসার সাথে জড়িত নারীদের আটক করে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে সচেতন মহলে প্রশ্ন উঠেছে, ফয়সালের পরিচালিত ‘হোটেল পপুলার’ ও ‘হোটেল নছিব’-এ কেন ডিবি অভিযান পরিচালনা করেনি? যদিও বিশ্বস্ত সূত্র নিশ্চিত করেছে, গতকাল ফয়সাল পুরোদমে তার হোটেলগুলোতে অসামাজিক কাজ পরিচালনা করেছেন।

 

এই বিষয়ে হোটেল পপুলারের মালিক ফয়সালের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ক্ষোভের সাথে জানান

জেল থেকে বের হয়েছি, ব্যবসা করে তো খেতে হবে। প্রশাসন ম্যানেজ করে হোক কিংবা গোপনে হোক, কাজ চালাতে হবে।


একটি হত্যা মামলার রানিং আসামি হয়েও জামিনে বের হয়েই কেন এ কাজে নামলেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বেপরোয়া সুরে বলেন:

আমরা সব হোটেল মালিকরা একসাথে বসে বৈঠক করেছি। প্রশাসনের সাথে যেকোনো মুহূর্তে যোগাযোগ করব এবং আশা করি আগের মতো ব্যবসা পরিচালনায় কোনো সমস্যা হবে না। শুধু আপনারা সাংবাদিকরা আমাদের পাশে থাকবেন, আপনাদের মাসোহারা বা মাসিক খরচ নিয়মিত পৌঁছে যাবে।


সংবাদ মাধ্যম ‘তালাশ বিডি’র পক্ষ থেকে ডিবি পুলিশের অভিযান পরিচালনাকারী এক কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি অসাধু চক্রের সাথে কোনো ধরনের আঁতাতের অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি জানান।

আমাদের ডিবি প্রধান এসব বিষয়ে কোনো ধরনের আপস করবেন না। অসামাজিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ডিবির এই সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত থাকবে। ফয়সালকে যেকোনো মুহূর্তে পুনরায় গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে।


নগরবাসীর দাবি,এসব সমাজের নিকৃষ্ট ব্যক্তিদেরকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করে কোন রকম ছাড় না দিয়ে দ্রুত ফয়সালসহ হোটেলকেন্দ্রিক অসামাজিক ব্যবসার সাথে জড়িত পুরো চক্রকে আইনের আওতায় এনে নগরীকে অপরাধমুক্ত করা হোক।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫১
মাগরিব ০৫:২৮
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%