১২:৩০ পি.এম
বরিশাল নগরীর বিউটি রোড এলাকার ‘হোটেল নছিবে’ এক যুবকের রহস্যজনক মৃত্যুর মামলার অন্যতম আসামি মো. ফয়সাল জামিনে বের হয়েই পুনরায় অসামাজিক ও দেহ ব্যবসা শুরু করেছেন। গত মে মাসে সংঘটিত ওই ঘটনার পর দীর্ঘ দিন আত্মগোপনে থাকা ফয়সাল সম্প্রতি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পান। তবে কারামুক্তির পরদিনই তিনি পুরনো অসাধু ব্যবসায় নেমে পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
গত ১০ মে রাতে বিউটি রোডের হোটেল নছিবের একটি কক্ষে এক যুবক বিষাক্ত যৌন উত্তেজক (জিনসিন) সিরাপ সেবন করে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং পরবর্তীতে ওই যুবক মৃত্যুবরণ করেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, হোটেল পরিচালক ফয়সাল নিজে গোপনে খদ্দেরদের কাছে এসব নিষিদ্ধ ক্ষতিকর সিরাপ বিক্রি করতেন। ওই ঘটনার পর থেকেই পুরো বিষয়টি নিয়ে হত্যা ও রহস্যের সৃষ্টি হয় এবং ফয়সাল আত্মগোপনে চলে যান।
আরও পড়ুন: চরফ্যাশনে মা ইলিশ পাচারের বড় চেষ্টা ৫ লাখ টাকার বরফসহ ২টি কাভার্ড ভ্যান ও ফিশিং বোট আটক
দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর ফয়সাল বরিশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করেন। বিজ্ঞ বিচারক জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে পুলিশের আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত তার দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। রিমান্ড শেষে তিনি জামিনে মুক্তি পান।
অভিযোগ উঠেছে, জেল থেকে বের হওয়ার পরপরই ফয়সাল বিউটি রোড ও পোট রোড এলাকায় তার মালিকানাধীন ও পরিচালিত হোটেলগুলোতে পুনরায় দেহ ব্যবসা শুরু করেছেন।
আরও পড়ুন: দিরাইয়ে প্রবাসীর কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, সৎ ভাই-বোনসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা
এদিকে, গত রাতে পোট রোড লঞ্চঘাট এলাকার হোটেল স্বাগতম’-এ মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল অভিযান চালায়। সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ খদ্দের এবং দেহ ব্যবসার সাথে জড়িত নারীদের আটক করে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে সচেতন মহলে প্রশ্ন উঠেছে, ফয়সালের পরিচালিত ‘হোটেল পপুলার’ ও ‘হোটেল নছিব’-এ কেন ডিবি অভিযান পরিচালনা করেনি? যদিও বিশ্বস্ত সূত্র নিশ্চিত করেছে, গতকাল ফয়সাল পুরোদমে তার হোটেলগুলোতে অসামাজিক কাজ পরিচালনা করেছেন।
এই বিষয়ে হোটেল পপুলারের মালিক ফয়সালের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ক্ষোভের সাথে জানান
জেল থেকে বের হয়েছি, ব্যবসা করে তো খেতে হবে। প্রশাসন ম্যানেজ করে হোক কিংবা গোপনে হোক, কাজ চালাতে হবে।
আরও পড়ুন: দীঘিনালার পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়া
একটি হত্যা মামলার রানিং আসামি হয়েও জামিনে বের হয়েই কেন এ কাজে নামলেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বেপরোয়া সুরে বলেন:
আমরা সব হোটেল মালিকরা একসাথে বসে বৈঠক করেছি। প্রশাসনের সাথে যেকোনো মুহূর্তে যোগাযোগ করব এবং আশা করি আগের মতো ব্যবসা পরিচালনায় কোনো সমস্যা হবে না। শুধু আপনারা সাংবাদিকরা আমাদের পাশে থাকবেন, আপনাদের মাসোহারা বা মাসিক খরচ নিয়মিত পৌঁছে যাবে।
সংবাদ মাধ্যম ‘তালাশ বিডি’র পক্ষ থেকে ডিবি পুলিশের অভিযান পরিচালনাকারী এক কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি অসাধু চক্রের সাথে কোনো ধরনের আঁতাতের অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি জানান।
আমাদের ডিবি প্রধান এসব বিষয়ে কোনো ধরনের আপস করবেন না। অসামাজিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ডিবির এই সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত থাকবে। ফয়সালকে যেকোনো মুহূর্তে পুনরায় গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে।
আরও পড়ুন: রাজশাহীতে পৃথক অভিযানে নারীসহ ১০ মাদক কারবারি গ্রেফতার
নগরবাসীর দাবি,এসব সমাজের নিকৃষ্ট ব্যক্তিদেরকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করে কোন রকম ছাড় না দিয়ে দ্রুত ফয়সালসহ হোটেলকেন্দ্রিক অসামাজিক ব্যবসার সাথে জড়িত পুরো চক্রকে আইনের আওতায় এনে নগরীকে অপরাধমুক্ত করা হোক।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন