ঢাকা সোমবার, ০২ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৭ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২১শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ০২ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৭ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

নেতানিয়াহুর সরকার উৎখাতের ঘোষণা: ট্রাম্পের হামলার ইঙ্গিত


নেতানিয়াহুর সরকার উৎখাতের ঘোষণা: ট্রাম্পের হামলার ইঙ্গিত

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মুজতবা খামেনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যদি নতুন করে হামলা চালায়, তাহলে তাৎক্ষণিক ও শক্তিশালী জবাব দেওয়া হবে, ভৌগোলিক কোনো সীমারেখা না মেনেই। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রেক্ষিতে মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের যুদ্ধ শুরুর আশঙ্কা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে নতুন করে হামলা চালানোর সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

শনিবার, ইরানের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকে এ সতর্কবার্তা দেন মুজতবা খামেনি। তার বক্তব্য উদ্ধৃত করে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘যেকোনো মাত্রা বা ধরনের হুমকির জবাব তাৎক্ষণিক, কার্যকর ও ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতাহীন হতে হবে।’

বৈঠকে সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান মেজর জেনারেল আলী আবদুল্লাহি, সেনাপ্রধান আমির হাতামি এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) প্রধান আহমদ ওয়াহিদি উপস্থিত ছিলেন। মুজতবা খামেনি সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব গ্রহণের পর সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার প্রথম প্রকাশ্যে আসা বৈঠক এটি। গত মার্চে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তিনি জনসমক্ষে দেখা যাননি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলায় তার বাবা ও তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

আরও পড়ুন: হিমালয়ে বড় প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের শঙ্কা, ঝুঁকিতে ৩ লাখের বেশি মানুষ

বৈঠকে মুজতবা খামেনি সামরিক কর্মকর্তাদের ইরানের লক্ষ্যবস্তুর তালিকা হালনাগাদ করার নির্দেশ দেন। তালিকায় ‘আমেরিকান-জায়নবাদী শত্রুর সব ধরনের দৃশ্যমান ও অদৃশ্য সম্পদ’ অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলেন তিনি। পারস্য উপসাগরের উপকূল, হরমুজ প্রণালি, ওমান উপসাগর এবং ইরানের সীমান্ত এলাকায় সামরিক বাহিনীকে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি বজায় রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে বলে পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডন জানিয়েছে।

ট্রাম্পের নতুন হামলার ইঙ্গিত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার ইরানের বিরুদ্ধে আবারও সামরিক অভিযান চালানোর সম্ভাবনার কথা বলেছেন। তার বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে, আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

শনিবার ফ্লোরিডায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সামরিক সক্ষমতার বড় অংশ ধ্বংস করে দিয়েছে। তিনি বলেন, দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচিও কার্যত ধ্বংস হয়েছে। তবে এখনো এক বা দুটি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো বাকি রয়েছে।

আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে আগাম ভোট দিয়েছেন ৫ কোটি ৪৫ লাখ মানুষ

ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা তাদের পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস করেছি। এখনো এক বা দুটি স্থাপনার বিষয়টি বাকি আছে। তবে ১০ মিনিটের মধ্যেই আমরা সেগুলো সামাল দিতে পারি।’ এ সময় তিনি ইরানের সন্দেহভাজন ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনা ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’-এর কথাও উল্লেখ করেন। ট্রাম্প বলেন, ‘আপনারা পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনের কথা ভাবতে পারেন। ওই স্থাপনাও সামাল দিতে হবে। আমরা খুব দ্রুতই এসব করতে পারি।’

তবে ইরান সরকার ওই স্থাপনায় কোনো পারমাণবিক কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। এর আগে ট্রাম্প সরাসরি কিছু না বললেও ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ আবার শুরু করার বিষয়টি বিবেচনা করছেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। শনিবার তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা ভালোভাবে এগোচ্ছে, যদিও দেশটির ওপর পুরোপুরি আস্থা রাখা যায় না।

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছেন। সম্প্রতি এক বক্তব্যে তিনি ইরানের সরকার উৎখাতের জন্য ‘ঐতিহাসিক ও একবারই পাওয়া যায় এমন সুযোগ’ তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন।

গত ২২ অক্টোবর ইসরাইলি সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের এক অনুষ্ঠানে নেতানিয়াহু বলেন, ইরানের বর্তমান সরকারকে চূড়ান্তভাবে উৎখাত করা ছাড়া দেশটি থেকে হুমকি দূর করার আর কোনো পথ নেই। তার অভিযোগ, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি তার বাবার পথ অনুসরণ করে আবারও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছেন।

আরও পড়ুন: মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিমান হামলায় ১৫ বেসামরিক নাগরিক নিহত, আহত ৩২

এর আগে ১৪ অক্টোবর নেতানিয়াহু বলেছিলেন, ইসরাইলের নির্বাচনের আগে ইরানে আগাম হামলা চালানোর পক্ষে তিনি নন। তবে ইরান বা তাদের মিত্ররা ইসরাইলে হামলা চালালে কঠোর জবাব দেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছিলেন তিনি।

ইসরাইলে গত মঙ্গলবার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক জোট পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। ফলে নতুন সরকার গঠনের বিষয়টি এখনো অনিশ্চিত।

যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য নতুন হামলার আশঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ ও আঞ্চলিক মিত্রকে সতর্ক করেছে ওয়াশিংটন। দেশগুলোকে শুধু হামলার প্রস্তুতি নয়, ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা আঘাত মোকাবিলার ব্যবস্থাও নিতে বলা হয়েছে।

দুই কূটনীতিকের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, মার্কিন কর্মকর্তা ও প্রতিরক্ষা বিভাগের প্রতিনিধিরা মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশকে জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে আবারও সামরিক অভিযান শুরু হতে পারে। তবে নতুন হামলার বিষয়ে ট্রাম্প এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি।

আরও পড়ুন: ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মার্কিন ইতিহাসে নতুন রেকর্ড গড়ার সম্ভাবনা

কূটনীতিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন করে অভিযান শুরু হলে তা কয়েক দিন স্থায়ী হতে পারে বলে মিত্র দেশগুলোকে জানানো হয়েছে। ইরান এবং দেশটির আঞ্চলিক মিত্রগোষ্ঠীগুলো পাল্টা হামলা চালালে সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ইরানের জবাবের লক্ষ্যবস্তু হতে পারে জ্বালানি স্থাপনা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। এ কারণে এসব স্থাপনার নিরাপত্তা জোরদার করতে আঞ্চলিক দেশগুলোকে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

এদিকে, পেন্টাগন গত মাসের শেষ দিকে প্রায় ৯ হাজার সেনাসদস্য নিয়ে বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস থিওডর রুজভেল্ট এবং মেরিন সেনা বহনকারী কয়েকটি উভচর যুদ্ধজাহাজ সান দিয়েগো থেকে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে পাঠিয়েছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি আরো বাড়তে পারে।

তবে নির্বাচনের পর কত দ্রুত মার্কিন বাহিনী নতুন অভিযান শুরু করতে পারবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। হোয়াইট হাউস ও মার্কিন কর্মকর্তারা এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন: রিমার্ক আন্তর্জাতিক ই-কমার্সে শক্ত অবস্থান গড়ছে, বিশ্ববাজারে যাচ্ছে হাজারো পণ্য

ইরানে নতুন করে হামলার বিষয়ে ট্রাম্প এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি বলে জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। শনিবার আটলান্টায় জি-২০ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

রুবিও বলেন, ‘প্রয়োজন হলে আমরা সামরিক লক্ষ্য অর্জন করতে পারি। এ বিষয়ে আজ আপনাদের জানানোর মতো কোনো ঘোষণা আমার কাছে নেই। আর আমরা বিষয়টিকে হালকাভাবে নিচ্ছি না।’

তবে কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোলা রাখার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কূটনৈতিক সমাধান সম্ভব হলে আমরা তাতে আগ্রহী থাকব।’

রুবিওর বক্তব্যে একদিকে সামরিক পদক্ষেপের প্রস্তুতি, অন্যদিকে আলোচনার সুযোগ রাখার অবস্থান—দুটিই উঠে এসেছে।

আরও পড়ুন: চবিতে ২০ জানুয়ারি শুরু হচ্ছে আন্তর্জাতিক প্রতীকী জাতিসংঘ সম্মেলন ‘সিইউমান ২০২৭’

কাতারের মধ্যস্থতায় আলোচনা, সরাসরি বৈঠকে রাজি নয় তেহরান

নতুন করে যুদ্ধ শুরু হওয়া ঠেকাতে কূটনৈতিক তৎপরতাও চলছে। কাতারের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। শুক্রবার তেহরানে কাতারি প্রতিনিধিদের সঙ্গে ১২ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে আলোচনা করেন ইরানের কর্মকর্তারা। এরপর শনিবার ইরানি আলোচকেরা কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে দোহায় বৈঠক করেন।

আলোচনার সঙ্গে ওয়াশিংটনের যোগাযোগও রয়েছে বলে এ প্রক্রিয়া সম্পর্কে অবগত এক সূত্র জানিয়েছে।

এদিকে, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা মোহসেন রেজাইয়ের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। ট্রাম্পের নির্দেশে পাঠানো ওই চিঠির উদ্দেশ্য ছিল আলোচনা পুনরায় শুরু করা এবং নতুন করে মার্কিন হামলা এড়ানোর পথ তৈরি করা বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, চিঠিটি তেহরানের উচ্চপর্যায়ে পর্যালোচনা করা হয়েছে। তবে আপাতত মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকের কোনো পরিকল্পনা নেই।

সাক্ষাৎকারে আরাগচি বলেন, ‘আমেরিকান পক্ষের সংলাপ শুরু এবং আরো বিস্তৃত সমঝোতার উদ্যোগকে আমরা ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছি।’ তবে যুক্তরাষ্ট্র যদি এই চিঠির মাধ্যমে ইরানের অভ্যন্তরে বিভেদ তৈরির চেষ্টা করে, তাহলে সেটি হবে তাদের আগের ভুলগুলোর সঙ্গে যুক্ত হওয়া আরেকটি ভুল।

তিনি আরো বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমেরিকানদের সঙ্গে বৈঠকের কোনো প্রয়োজন আমরা দেখছি না। আমাদের শর্তগুলো স্পষ্ট এবং মধ্যস্থতাকারীরা সেগুলো নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।’

কাতার ও পাকিস্তান বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে মধ্যস্থতা করছে। তবে এখন পর্যন্ত স্থায়ী কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।

হরমুজ প্রণালি নিয়ে পাল্টাপাল্টি শর্ত

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনার অন্যতম বড় বাধা হয়ে রয়েছে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও নৌ চলাচল। বিশ্বে ব্যবহৃত মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সাধারণত এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরান সেখানে জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বেড়েছে।

কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা এর আগে ইরানের কাছে আস্থা তৈরির জন্য সাত দিনের একটি পরিকল্পনা দিয়েছিল। তবে তেহরান সেটিকে অপর্যাপ্ত বলে মনে করেছে।

অন্যদিকে, ইরান গত সেপ্টেম্বর থেকে নিজেদের সাত দিনের একটি প্রস্তাব দিয়ে আসছে। এতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার আগে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের বন্দর অবরোধ তুলে নেওয়া, জব্দ করা সম্পদ অবমুক্ত করা এবং ইরানের সমর্থিত একটি নৌপথ ব্যবস্থাকে স্বীকৃতি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আগেই এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন।

আরাগচি জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে ইরানের প্রস্তাব বাস্তবায়নের সময়সীমা পাঁচ দিন থেকে কমিয়ে দুই দিন করার বিষয়ে কাতারের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। ইরানের অন্য শর্তের মধ্যে রয়েছে, ইসলামাবাদ সমঝোতার পর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনা উপস্থিতি কমানো, ইরানের তেল রপ্তানির ক্ষেত্রে ছাড় পুনর্বহাল এবং কাতারসহ বিভিন্ন দেশে আটকে থাকা ইরানের সব অর্থ ছাড় করা।

ওমানের সঙ্গে আলোচিত হরমুজ প্রণালির নৌ চলাচলের পথগুলোর স্বীকৃতিও দাবি করেছে তেহরান। আরাগচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় বলেছেন, ইরানের সামনে আর কোনো ‘লাল রেখা’ নেই এবং দেশটি আত্মসমর্পণ করবে না।

ইরানের সামরিক মুখপাত্র মোহাম্মদ আকারামিনিয়া শনিবার সতর্ক করে বলেছেন, নতুন করে সংঘাত শুরু হলে যুদ্ধের পরিধি আরো বিস্তৃত হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি বলেন, ‘যুদ্ধের আগুন নিঃসন্দেহে আরো বিস্তৃত ভৌগোলিক এলাকায় ছড়িয়ে পড়বে।’

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচিও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ইরানের জনগণের ক্ষতি করার সাহস দেখালে দেশটির শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী ‘ভূমিকম্পসম আঘাত’ হানবে।

এদিকে, বাহরাইনে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সম্মেলন মানামা ডায়ালগে মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাত্তি নতুন করে যুদ্ধ শুরুর আশঙ্কায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘দ্বিতীয় দফার যুদ্ধ আরও বিপজ্জনক ও ধ্বংসাত্মক হবে এবং তাতে কোনো সমাধান আসবে না। অতীত থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে।’

একই সম্মেলনে সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী ওয়ালিদ আলখেরেইজি বলেন, সামরিক উত্তেজনা ঠেকানো এবং সংকটের অবসানে আঞ্চলিক পর্যায়ে প্রচেষ্টা চলছে।

যুদ্ধের আশঙ্কার পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে সামুদ্রিক উত্তেজনাও অব্যাহত রয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, শনিবার সকালে ‘মার্কিন শত্রুর’ একটি হামলায় মাছ ধরার নৌযান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর নিখোঁজ হয়ে যাওয়া কেশম দ্বীপের দুই জেলেকে খুঁজে পাওয়া গেছে। এর আগে প্রাদেশিক এক কর্মকর্তার বরাতে জানানো হয়েছিল, ওই ঘটনায় আরও দুই জেলে আহত হয়েছেন।

অন্যদিকে, ইরানের নৌবাহিনী জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির পূর্বদিকে নিষিদ্ধ এলাকায় নৌমাইনে আঘাত লেগে একটি তেলবাহী ট্যাংকারে আগুন ধরে যায়। এর আগে শুক্রবার ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী জানিয়েছিল, কয়েকটি অনির্দিষ্ট ঘটনা বা মাইনে আঘাতের কারণে তিনটি তেলবাহী ট্যাংকারের চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।

এর আগে হরমুজ প্রণালির তলদেশ দিয়ে যাওয়া যোগাযোগের তার কেটে দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখার হুঁশিয়ারি দিয়েছিল ইরান।

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও চাপ তৈরি করেছে। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল সীমিত হওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের অর্থনীতির প্রায় সব খাতে।

মার্কিন কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচন ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। জ্বালানির বাড়তি দাম ও যুদ্ধের ব্যয় নিয়ে সাধারণ মানুষের অসন্তোষ রিপাবলিকান প্রার্থীদের জন্য চাপ তৈরি করেছে বলে এপি জানিয়েছে। পেন্টাগনের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে মার্কিন করদাতাদের ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৭ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারে।

অন্যদিকে, নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা ভালো ফল করলে কংগ্রেসে ট্রাম্পের নীতিগত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ক্ষমতা কিছুটা সীমিত হতে পারে। ফলে যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

তেহরানের এক গৃহিণী ফরিবা বলেন, ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার পর থেকে সাধারণ ইরানিরা দীর্ঘদিন ধরে অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। তবে রাজধানীর আরেক বাসিন্দা, চল্লিশোর্ধ্ব বিক্রয়কর্মী ইব্রাহিম বলেন, ‘আমরা আরেকটি যুদ্ধকে ভয় পাই না। আমরা তো ৪৮ বছর ধরেই যুদ্ধের মধ্যে আছি।’

সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘিরে সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা, ইসরাইলের সরকার গঠনের অনিশ্চয়তা এবং হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধ—সবকিছু মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। কূটনৈতিক আলোচনা চললেও দুই পক্ষের অবস্থানের ব্যবধান এখনো স্পষ্ট।

সূত্র: এএফপি, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি), ডন, রয়টার্স, আলজাজিরা ও ওয়াশিংটন পোস্ট

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ব্র্যাক ব্যাংক দেশে প্রথম ওমনিচ্যানেল ব্যাংকিং সেবা চালু করলো

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:২২ পি.এম


ব্র্যাক ব্যাংক দেশে প্রথম ওমনিচ্যানেল ব্যাংকিং সেবা চালু করলো

বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ওমনিচ্যানেল ব্যাংকিং সেবা চালু করেছে ব্র্যাক ব্যাংক। এই সেবার মাধ্যমে গ্রাহকরা ব্যাংকের শাখা, কল সেন্টার, এজেন্ট ব্যাংকিং, মোবাইল অ্যাপ ও ওয়েবসাইটের যেকোনো একটি মাধ্যমে ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু করে অন্য মাধ্যমে তা সম্পন্ন করার সুযোগ পাবেন। ফলে একই তথ্য বারবার প্রদান করা কিংবা নতুন করে পুরো প্রক্রিয়া শুরু করার প্রয়োজন হবে না। ব্যাংকটির দাবি, এতে গ্রাহকদের জন্য ব্যাংকিং সেবা হবে আরও সহজ, দ্রুত, নিরবচ্ছিন্ন ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক।

রোববার (১ নভেম্বর) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে এক অনুষ্ঠানে এই সেবার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। ব্র্যাক ব্যাংকের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে নতুন এই উদ্যোগকে ব্যাংকটির ডিজিটাল রূপান্তরের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

নতুন ব্যবস্থায় ব্যাংকের বিভিন্ন সেবা চ্যানেলকে একটি সমন্বিত ইকোসিস্টেমের আওতায় আনা হয়েছে। ফলে কোনো গ্রাহক ওয়েবসাইটে অ্যাকাউন্ট খোলার আবেদন শুরু করলে পরবর্তী সময়ে শাখা বা কল সেন্টারের মাধ্যমে তা সম্পন্ন করতে পারবেন। একইভাবে ঋণ কিংবা ক্রেডিট কার্ডের আবেদনও এক চ্যানেলে শুরু করে অন্য চ্যানেলে চালিয়ে নেয়া যাবে। কোনো কারণে আবেদন মাঝপথে বন্ধ হয়ে গেলেও যেখানে কাজ শেষ হয়েছিল, সেখান থেকেই আবার শুরু করা সম্ভব হবে।

অনুষ্ঠানে ব্র্যাক ব্যাংকের চেয়ারম্যান মেহেরিয়ার এস হাসান বলেন, "ওমনিচ্যানেল ব্যাংকিং শুধু প্রযুক্তিগত পরিবর্তন নয়, বরং গ্রাহককেন্দ্রিক আর্থিক সেবার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ রূপান্তর। ডিজিটাল সুবিধা ও মানবিক সেবার সমন্বয়ে গ্রাহকের প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যাংকিং অভিজ্ঞতা তৈরি করাই এ উদ্যোগের লক্ষ্য।"

ব্র্যাক ব্যাংক জানিয়েছে, গ্রাহকদের তথ্য বিভিন্ন চ্যানেলে সমন্বিতভাবে সংরক্ষিত থাকবে। ফলে চ্যানেল পরিবর্তন করলেও একই তথ্য বারবার দিতে হবে না। পাশাপাশি ব্যাংকের কর্মকর্তারা গ্রাহকের আগের যোগাযোগ ও লেনদেনের প্রাসঙ্গিক তথ্য জানতে পারবেন। এর ভিত্তিতে গ্রাহকের প্রয়োজন ও পছন্দ অনুযায়ী ব্যক্তিকেন্দ্রিক সেবা এবং বিশেষ অফার দেয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

এ সুবিধা শুধু নতুন অ্যাকাউন্ট খোলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। অ্যাকাউন্ট খোলা, ঋণ, ক্রেডিট কার্ডসহ বিভিন্ন ব্যাংকিং পণ্য ও সেবার ক্ষেত্রেও এটি ব্যবহার করা যাবে। বিদ্যমান গ্রাহকদের পাশাপাশি নতুন গ্রাহকরাও এ অভিজ্ঞতার আওতায় আসবেন। এমনকি যারা এখনো ব্র্যাক ব্যাংকের গ্রাহক নন, তারাও অ্যাকাউন্ট, ঋণ কিংবা ক্রেডিট কার্ডের জন্য আবেদন শুরু ও সম্পন্ন করতে পারবেন।

ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তারেক রেফাত উল্লাহ খান বলেন, "আধুনিক প্রযুক্তি, ডেটা অ্যানালিটিকস ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক সহায়তার সমন্বয়ে গ্রাহকদের জন্য সমন্বিত ব্যাংকিং অভিজ্ঞতা তৈরি করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে ব্যাংকিং সেবাকে আরও সহজ, দ্রুত ও সুবিধাজনক করার পাশাপাশি গ্রাহকদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হবে।"

ব্যাংকিং খাতে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়লেও বিভিন্ন মাধ্যমে সেবা নিতে গিয়ে গ্রাহকদের তথ্য পুনরায় দেয়া, একই কাজের জন্য একাধিকবার যোগাযোগ এবং আবেদনপ্রক্রিয়ার জটিলতা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। ব্র্যাক ব্যাংকের নতুন এই উদ্যোগ এসব সীমাবদ্ধতা কতটা কমাতে পারে, তা নির্ভর করবে সেবার বাস্তবায়ন, তথ্যের নিরাপত্তা এবং সব চ্যানেলে সমান মানের সেবা নিশ্চিত করার ওপর।

ব্যাংকটির চারটি প্রধান সেবা মাধ্যমের আওতায় রয়েছে ৩১২টি শাখা ও উপশাখা, ১ হাজার ১০০-এর বেশি এজেন্ট আউটলেট, কল সেন্টার এবং দুটি ডিজিটাল চ্যানেল-মোবাইল অ্যাপ ও ওয়েবসাইট। এসব চ্যানেলের যেকোনোটি ব্যবহার করেই গ্রাহকরা ওমনিচ্যানেল ব্যাংকিংয়ের সুবিধা নিতে পারবেন। এমনকি স্মার্টফোন ব্যবহার না করেও শাখা বা কল সেন্টারের মাধ্যমে এ সেবা পাওয়া যাবে।

এ সেবা ব্যবহারের জন্য আলাদা কোনো ওমনিচ্যানেল চার্জ দিতে হবে না বলে জানিয়েছে ব্যাংকটি। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকিং পণ্য বা সেবার প্রচলিত ফি ও চার্জ বহাল থাকবে। গ্রাহকদের সহায়তায় ২৪ ঘণ্টা, সপ্তাহে সাত দিন (২৪/৭) ডেডিকেটেড সাপোর্টের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এআই চ্যাটবটের ভুল তথ্যে উদ্বেগ, অপপ্রচারের ঝুঁকি বৃদ্ধি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:২৩ পি.এম


মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এআই চ্যাটবটের ভুল তথ্যে উদ্বেগ, অপপ্রচারের ঝুঁকি বৃদ্ধি

ঢাকা, ১ নভেম্বর, ২০২৬ : যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-চালিত চ্যাটবটের দ্বারা প্রদত্ত ভুল এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য নিয়ে উদ্বেগ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

গবেষকদের মতে, ভোটারদের ভুল তথ্য প্রদান, প্রার্থীদের পরিচয় গুলিয়ে ফেলা এবং রাশিয়ার অপপ্রচারমূলক বক্তব্য পুনরায় ছড়িয়ে দেওয়ার মতো ঘটনা নির্বাচনী তথ্যব্যবস্থায় বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচন হবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম ফেডারেল নির্বাচন।

লাখ লাখ ভোটার রাজনৈতিক তথ্য জানার জন্য এআই প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করছেন।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, নির্বাচনের পূর্বে রাজনৈতিক তথ্যের পরিবেশ তৈরি করতে এআই চ্যাটবট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

তবে, ষড়যন্ত্রতত্ত্বের অসত্যতা তুলে ধরা কিংবা ভোটারদের নির্বাচনী বিষয়ে সচেতন করতেও এসব চ্যাটবট সহায়তা করতে পারে। কিন্তু একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, চ্যাটবটগুলো প্রায়ই ইন্টারনেটের উন্মুক্ত উৎস থেকে অবিশ্বস্ত তথ্য সংগ্রহ করে। এর ফলে জনসাধারণের আস্থা কমে যাচ্ছে এবং নির্বাচনী অপতথ্যে আক্রান্ত ইন্টারনেট আরও দূষিত হচ্ছে।

এআই মডেলগুলোর কার্যকারিতা ও নির্ভরযোগ্যতা মূল্যায়নকারী প্রতিষ্ঠান ফোরাম এআইয়ের সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, নির্বাচনসংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তরে চ্যাটবটগুলোর প্রায় ৪০ শতাংশে অন্তত একটি তথ্যগত ভুল রয়েছে।

গবেষণায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, প্রার্থীদের সম্পর্কে প্রশ্নের তুলনায় ভোট দেওয়ার নিয়মকানুন ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে প্রশ্নের উত্তরে চ্যাটবটগুলো বেশি ভুল তথ্য দিয়েছে।

উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, গুগলের জেমিনি ৩.৬ ফ্ল্যাশকে পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যে ভোট দেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে সেটি ডাকযোগে ভোট দেওয়ার ব্যালট চাওয়ার শেষ সময় হিসেবে ৩ নভেম্বরের কথা জানায়। অথচ প্রকৃত সময়সীমা ছিল এর এক সপ্তাহ আগে।

গবেষণায় বলা হয়েছে, যদি কোনো ভোটার চ্যাটবটের দেওয়া তথ্য অনুসরণ করে, তাহলে তিনি সময়মতো ব্যালট চাওয়ার সুযোগ হারাতে পারেন এবং শেষ পর্যন্ত ভোট দিতে ব্যর্থ হতে পারেন।

ফোরাম এআই জানিয়েছে, চ্যাটবটগুলো শত শতবার প্রার্থী, নির্বাচনী কর্মকর্তা ও পর্যবেক্ষকদের নামে এমন বক্তব্য প্রচার করেছে, যা তাঁরা কখনো বলেননি।

এছাড়া উত্তরের ক্ষেত্রে রেডিটের বিভিন্ন আলোচনার মতো নিম্নমানের ও অবিশ্বস্ত তথ্যসূত্রের ওপরও নির্ভর করেছে তারা।

গুগল এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ভোটাররা যাতে নির্ভরযোগ্য তথ্য পান, সে বিষয়ে তারা কাজ করছে। নির্বাচনী বিষয়সংক্রান্ত এআই সেবাগুলোতে কঠোর মান নিয়ন্ত্রণ ও নীতিমালা অনুসরণ করা হয় বলেও দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

গবেষকদের আরেকটি বড় উদ্বেগের বিষয় হলো, বিদেশি অপপ্রচার চালানো গোষ্ঠীগুলো এআই চ্যাটবটকে প্রভাবিত করতে পারে। এর ফলে ব্যাপকভাবে মিথ্যা প্রমাণিত হওয়া তথ্যও চ্যাটবটের উত্তরে উঠে আসছে।

অক্টোবরের শেষ দিকে এএফপির ফ্যাক্ট-চেকাররা একটি ভিডিও ক্লিপের সত্যতা যাচাই করে সেটিকে ভুয়া বলে শনাক্ত করেন। ভিডিওটি সম্ভবত এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে পরিবর্তন করা হয়েছিল। এতে এমনভাবে দেখানো হয়, যেন টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের সিনেট প্রার্থী জেমস তালারিকোর এক সাবেক শিক্ষার্থী তার বিরুদ্ধে যৌন অসদাচরণের অভিযোগ তুলেছেন।

তবে অভিযোগটির পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ঘটনাটির সঙ্গে রাশিয়ার অপপ্রচারমূলক প্রচারণার মিল রয়েছে বলে ধারণা করা হয়।

এদিকে, ভুয়া তথ্য পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা নিউজগার্ড বিষয়টি নিয়ে গুগলের এআই ওভারভিউকে প্রশ্ন করলে সেটিও ওই অভিযোগ পুনরায় তুলে ধরে।

একইভাবে গুগলের জেমিনি ও মাইক্রোসফটের কোপাইলট— এই দুটি জনপ্রিয় এআই টুলও একই প্রশ্নের উত্তরে মিথ্যা অভিযোগটি পুনরাবৃত্তি করে।

নিউজগার্ডের ১০টি এআই টুলের ওপর পরিচালিত পৃথক এক গবেষণায় বলা হয়েছে, বিদেশি অপপ্রচারকারী গোষ্ঠী ও অন্যান্য অসাধু পক্ষের ছড়ানো মিথ্যা তথ্যের ফাঁদে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে এআই চ্যাটবট ব্যবহারকারীদের।

মাইক্রোসফট বলেছে, ঘটনাটি দ্রুত পরিবর্তনশীল ছিল এবং প্রাথমিক পর্যায়ে নির্ভরযোগ্য তথ্যের ঘাটতি ছিল। এ কারণে প্রথম দিকে কোপাইলটের উত্তরে বিভ্রান্তিকর তথ্য উঠে এসেছিল। পরবর্তী সময়ে নতুন তথ্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কোপাইলট হালনাগাদ প্রেক্ষাপট তুলে ধরে এবং অভিযোগটিকে বানোয়াট হিসেবে শনাক্ত করে।

সব উদ্বেগের মাঝেও এআই চ্যাটবটের সম্ভাব্য ইতিবাচক ভূমিকা দেখছেন গবেষকেরা।

লন্ডনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক ডায়ালগের মতে, ৩ নভেম্বরের নির্বাচনই যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম নির্বাচন, যেখানে বড় সব প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্ল্যাটফর্মে এআই টুল সরাসরি যুক্ত রয়েছে।

অরাজনৈতিক ও নিরপেক্ষ গবেষণা সংস্থা ন্যাশনাল কনফারেন্স অন সিটিজেনশিপের সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, প্রতি পাঁচজন মার্কিন নাগরিকের মধ্যে দুজন প্রার্থী, ব্যালটের প্রস্তাবসহ নির্বাচনী বিভিন্ন তথ্য জানতে এআই টুল ব্যবহার করেছেন।

তবে ভোট দেওয়ার সময়, স্থান ও পদ্ধতির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এআইয়ের দেওয়া তথ্যের ওপর মাত্র ৪০ শতাংশ মানুষের আস্থা রয়েছে।

অন্যদিকে, প্রার্থীদের বিষয়ে এআই নিরপেক্ষ তথ্য দেয় কি না— সে ব্যাপারে ৬০ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, তাদের আস্থা খুবই কম অথবা একেবারেই নেই।

তবে এআই চ্যাটবটের ভূমিকা পুরোপুরি নেতিবাচক নয় বলে মনে করছে যুক্তরাষ্ট্রের নির্দলীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠান ব্রেনান সেন্টার ফর জাস্টিস।

প্রতিষ্ঠানটির এক গবেষণায় দেখা গেছে, ভোটিং মেশিনে কারচুপি করা হয়েছে— এ ধরনের বহুল প্রচলিত নির্বাচনী ষড়যন্ত্রতত্ত্বের বিষয়ে বারবার প্রশ্ন ও চ্যালেঞ্জ করা হলেও, জনপ্রিয় এআই চ্যাটবটগুলো সাধারণত এসব দাবির পক্ষে অবস্থান নেয়নি।

প্রতিষ্ঠানটির মতে, এ গবেষণা থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, নির্বাচনী অপতথ্য ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণা মোকাবিলায় এআই চ্যাটবট গঠনমূলক ভূমিকা রাখতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পিটিশনকারী মারা গেলেও গ্রিন কার্ডের আবেদন চালানোর শর্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:২৪ পি.এম


পিটিশনকারী মারা গেলেও গ্রিন কার্ডের আবেদন চালানোর শর্ত

যুক্তরাষ্ট্রে যদি কোনো পরিবারের সদস্যের জন্য গ্রিন কার্ডের আবেদন করা হয় এবং পিটিশনকারী মারা যায়, তাহলে সাধারণত অনুমোদনের ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি হয় এবং সেই পিটিশনটি বাতিলও হতে পারে। তবে মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা ইউএসসিআইএসের নিয়ম অনুযায়ী, তিনটি বিশেষ পরিস্থিতিতে গ্রিন কার্ডের আবেদন অব্যাহত রাখার সুযোগ রয়েছে।

পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ডের আবেদনের জন্য সাধারণত মার্কিন নাগরিক ফর্ম আই-১৩০ জমা দেন। এই আবেদনকে ফ্যামিলি পিটিশন বলা হয়। এর মাধ্যমে পিটিশনকারী এবং বিদেশি স্বজনের মধ্যে যোগ্য পারিবারিক সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা যাচাই করা হয়। তবে আই-১৩০ পিটিশন জমা দেওয়ার মাধ্যমে গ্রিন কার্ডের নিশ্চয়তা পাওয়া যায় না। ভিসার প্রাপ্যতা, আর্থিক স্পনসরশিপ, অভিবাসনসংক্রান্ত যোগ্যতা এবং অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হয়। পিটিশনকারীর মৃত্যু ঘটলে নতুন আইনি জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে।

গ্রিন কার্ডের আবেদন চালিয়ে নেওয়ার জন্য যে তিনটি বিশেষ সুযোগ রয়েছে, তার প্রথমটি হলো মার্কিন নাগরিকের বিধবা বা বিপত্নীকদের জন্য। যদি কোনো মার্কিন নাগরিক তার বিদেশি স্বামী বা স্ত্রীর জন্য আই-১৩০ পিটিশন জমা দিয়ে মারা যান, তাহলে কিছু নির্দিষ্ট শর্ত পূরণের মাধ্যমে সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে আই-৩৬০ বিধবা বা বিপত্নীক পিটিশনে রূপান্তরিত হয়। পিটিশনটি মৃত্যুর সময় মুলতবি ছিল বা আগেই অনুমোদিত হয়েছিল, উভয় ক্ষেত্রেই এই নিয়ম কার্যকর হতে পারে। ফলে পিটিশনকারী স্বামী বা স্ত্রীর মৃত্যু ঘটলেও নতুন করে পুরো পরিবারভিত্তিক আবেদন শুরু করার প্রয়োজন হয় না।

তবে আই-৩৬০-এর সুবিধা পাওয়ার জন্য বৈবাহিক সম্পর্কের বৈধতা এবং অন্যান্য যোগ্যতার শর্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণভাবে মৃত ব্যক্তিকে মৃত্যুর সময় মার্কিন নাগরিক হতে হবে, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে আইনগত বিচ্ছেদ থাকা যাবে না এবং জীবিত সঙ্গীর পুনর্বিবাহের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ প্রযোজ্য হবে। মৃত মার্কিন নাগরিক স্বামী বা স্ত্রী যদি আগে আই-১৩০ পিটিশন জমা না দিয়ে থাকেন, তাহলে যোগ্য বিধবা বা বিপত্নীক সাধারণত মৃত্যুর দুই বছরের মধ্যে নিজে আই-৩৬০ জমা দিতে পারেন। তবে এই সুবিধা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সব গ্রিন কার্ডধারী পিটিশনকারীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

দ্বিতীয় সুযোগটি যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও জাতীয়তা আইনের ২০৪(এল) ধারার আওতায়। এই বিধান অনুযায়ী, নির্দিষ্ট পরিবারভিত্তিক পিটিশনের সুবিধাভোগী পিটিশনকারীর মৃত্যুর সময় যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করে থাকলে এবং মৃত্যুর পরও যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে চাইলে আবেদন এগিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করতে পারেন। আই-১৩০ পিটিশন মৃত্যুর সময় মুলতবি থাকলেও এ আবেদন চালিয়ে নেওয়া সম্ভব। একইভাবে আগেই অনুমোদিত পিটিশন থাকলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিস্থিতি অনুযায়ী ধারাটি ব্যবহার করা যেতে পারে।

এ ক্ষেত্রে আবেদনকারীর যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের যথার্থ তথ্য প্রদান করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুধুমাত্র মৃত্যুর সময় যুক্তরাষ্ট্রে সাময়িকভাবে উপস্থিত থাকলেই হবে না, সেখানে নিয়মিত বসবাস করতে হবে। ইউএসসিআইএস আবেদনকারীর প্রকৃত বসবাসের পরিস্থিতি বিবেচনা করতে পারে। পাশাপাশি মূল আবেদনকারীর মৃত্যু, পারিবারিক সম্পর্ক এবং আবেদনসংক্রান্ত নথি জমা দিতে হয়। কিছু ক্ষেত্রে প্রধান সুবিধাভোগীর পরিবর্তে তাঁর যোগ্য পরিবারের অন্য সদস্যও ২০৪(এল) ধারার সুরক্ষার আওতায় আসতে পারেন।

২০৪(এল) ধারার আওতায় আবেদন চালিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করলেই অনুমোদন নিশ্চিত হয় না। ইউএসসিআইএসকে সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীর যোগ্যতা যাচাই করতে হয়। আইনের বিধান অনুযায়ী, অনুমোদন জনস্বার্থের পরিপন্থী হওয়ার বিশেষ কারণ থাকলে সংস্থা আবেদন প্রত্যাখ্যান করতে পারে। আবার পিটিশন অনুমোদনের পরও গ্রিন কার্ড পাওয়ার জন্য অন্যান্য প্রযোজ্য শর্ত পূরণ করতে হবে। ফলে এই ধারাটি মৃত পিটিশনকারীর কারণে তৈরি হওয়া নির্দিষ্ট বাধা দূর করার সুযোগ দেয়, কিন্তু অন্যান্য অভিবাসনসংক্রান্ত যোগ্যতার বিকল্প নয়।

তৃতীয় সুযোগটি হলো মানবিক কারণে পিটিশন পুনর্বহাল বা হিউম্যানিটারিয়ান রিইনস্টেটমেন্ট। যদি কোনো পরিবারের সদস্য বিদেশি স্বজনের জন্য আই-১৩০ পিটিশন জমা দিয়ে সেটি অনুমোদিত হয় এবং পিটিশনকারি মারা যান, তখন এ সুবিধার জন্য আবেদন করা সম্ভব। সাধারণ নিয়মে পিটিশনকারীর মৃত্যুর কারণে অনুমোদিত পিটিশন বাতিল হয়ে যায়, তবে মানবিক বিবেচনায় ইউএসসিআইএস সেটির অনুমোদন পুনর্বহাল করতে পারে।

তবে হিউম্যানিটারিয়ান রিইনস্টেটমেন্ট সবার জন্য স্বয়ংক্রিয় অধিকার নয়। ইউএসসিআইএস প্রতিটি আবেদন পৃথকভাবে বিবেচনা করে। আবেদনকারীর পারিবারিক পরিস্থিতি, যুক্তরাষ্ট্রে থাকা স্বজনদের সঙ্গে সম্পর্ক, আবেদনের বিলম্বের প্রভাব এবং অন্যান্য মানবিক বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হতে পারে। বিশেষ করে মৃত্যুর আগে পিটিশনটি অনুমোদিত হওয়া গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। পিটিশন মুলতবি থাকা অবস্থায় পিটিশনকারীর মৃত্যু ঘটলে সাধারণভাবে শুধুমাত্র মানবিক পুনর্বহালের এই পথ ব্যবহার করা যায় না।

মানবিক পুনর্বহালের ক্ষেত্রে সুবিধাভোগী ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে বসবাস করলেও আবেদন করার সুযোগ থাকতে পারে। এখানেই এটি ২০৪(এল) ধারার সুরক্ষা থেকে আলাদা। উদাহরণস্বরূপ, যদি একজন মার্কিন নাগরিক বাংলাদেশে থাকা ভাই বা বোনের জন্য আই-১৩০ পিটিশন জমা দেন এবং পিটিশনটি অনুমোদিত হয়, কিন্তু ভিসার অপেক্ষায় থাকার সময় ওই মার্কিন নাগরিক মারা যান, তাহলে এমন পরিস্থিতিতে যোগ্য সুবিধাভোগী মানবিক কারণে পিটিশন পুনর্বহালের আবেদন করতে পারেন। তবে আবেদন অনুমোদিত হবে কি না, তা ইউএসসিআইএস সিদ্ধান্ত নেবে।

এই দুটি প্রক্রিয়ায় আর্থিক স্পনসরশিপের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ডের অনেক আবেদনে আই-৮৬৪ অ্যাফিডেভিট অব সাপোর্ট প্রয়োজন হয়। মূল পিটিশনকারী মারা গেলে তাঁর পরিবর্তে নির্দিষ্ট যোগ্যতাসম্পন্ন বিকল্প আর্থিক স্পনসর প্রয়োজন হতে পারে। সাধারণভাবে বিকল্প স্পনসরকে মার্কিন নাগরিক, মার্কিন ন্যাশনাল অথবা গ্রিন কার্ডধারী হতে হবে এবং আইন অনুযায়ী নির্ধারিত পারিবারিক সম্পর্ক ও আর্থিক যোগ্যতা পূরণ করতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরান: এবার কোনো সীমারেখা মানবে না, কঠোর জবাবের হুমকি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:২৪ পি.এম


ইরান: এবার কোনো সীমারেখা মানবে না, কঠোর জবাবের হুমকি

ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে যে কোনো হুমকি আসলে, আগের চেয়ে আরও কঠোর ও তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানানো হবে বলে সতর্কতা দিয়েছেন দেশটির পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিটির চেয়ারম্যান ইব্রাহিম আজিজি। তিনি জানান, এ ক্ষেত্রে ইরান কোনো সীমারেখা মানবে না।

রোববার (১ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্টে তিনি এই মন্তব্য করেন।

ইব্রাহিম আজিজি উল্লেখ করেন, সর্বোচ্চ নেতার নির্দেশ চূড়ান্ত এবং বাধ্যতামূলক। তিনি বলেন, "যেকোনো হুমকির জবাব আগের চেয়ে আরও কঠোরভাবে এবং তাৎক্ষণিক দেওয়া হবে।" এ ক্ষেত্রে ভৌগোলিক অবস্থান কিংবা লক্ষ্যবস্তুর দিকে কোনো সীমাবদ্ধতা থাকবে না।

আজিজি আরও জানান, ইরানের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী যেকোনো হুমকি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। তিনি বলেন, দেশের বিচক্ষণ ও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ সর্বোচ্চ নেতার নির্দেশ চূড়ান্ত এবং এ বিষয়ে কোনো আলোচনা হবে না।

তিনি আরও বলেন, "যেকোনো হুমকির বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ও আরও কঠোর জবাব দেওয়া হবে।" এ ক্ষেত্রে কোনো সীমাবদ্ধতা থাকবে না এবং সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকাও উন্মুক্ত থাকবে।

এর আগে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হিব্রু ভাষায় দেওয়া এক পোস্টে আজিজি সতর্কতা দিয়েছিলেন যে, ইরানের নিরাপত্তা ও জাতীয় স্বার্থের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হলে, এক ঘণ্টারও কম সময়ে অধিকৃত ভূখণ্ডকে বসবাসের অনুপযোগী করে দেওয়া হবে। সূত্র: মেহের

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২১শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৮
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৩
মাগরিব ০৫:১৯
ইশা ০৬:৩১
সূর্যোদয় : ০৬:০৫ সূর্যাস্ত : ০৫:১৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%