রবিবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৬:৩৩ পি.এম
চাঁপাইনবাবগঞ্জের মহানন্দা নদীতে ডুবে দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু ঘটেছে। রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরের দিকে সদর উপজেলার গোবরাতলা ইউনিয়নের দিয়াড় ধাইনগর ঘাটে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত শিক্ষার্থীরা হলেন—গোবরাতলা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মহিপুর ভাটোপাড়া গ্রামের আব্দুর রহিমের ছেলে সামিউল ইসলাম সান (১৮) এবং একই গ্রামের আব্দুস সোবহানের ছেলে সাব্বির রহমান (১৮)। সামিউল নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজের উচ্চমাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন, আর সাব্বির মহিপুর কলেজের উচ্চমাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, রবিবার দুপুর দেড়টার দিকে একই গ্রামের চার বন্ধু দিয়াড় ধাইনগর ঘাটে মহানন্দা নদীতে গোসল করতে যান। এ সময় দুই বন্ধু সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও সামিউল ও সাব্বির সাঁতার না জানার কারণে পানিতে ডুবে যান। ঘটনাটি জানতে পেরে স্থানীয়রা দ্রুত নদীতে উদ্ধার কাজ শুরু করেন। পরে তাঁদের মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
গোবরাতলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম টিপু ও ইউপি সদস্য ইউসুফ আলী জানান, গ্রামের মাঠে ফুটবল খেলার পর চার বন্ধু একসঙ্গে নদীতে গোসল করতে নেমেছিলেন। দুজন তীরে উঠতে পারলেও অপর দুজন ডুবে যান। তাঁদের উদ্ধারে থাকা বন্ধুরা চেষ্টা করেও সফল হননি। পরে স্থানীয়রা এসে তাঁদের উদ্ধার করেন।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একরামুল হোসাইন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, নৌ পুলিশ এই ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে।
নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক জীবন চন্দ্র জানিয়েছেন, পুলিশ দুই শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বগুড়ায় জজ পদায়ন সংক্রান্ত সরকারি আদেশ অমান্য করার অভিযোগ উঠেছে এক পাবলিক প্রসিকিউটরের (পিপি) বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় আদালতপাড়ায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
সরকারি প্রজ্ঞাপনের নির্দেশনা অনুযায়ী, নিয়োগপ্রাপ্ত বিচারকের দায়িত্ব গ্রহণে বাধা সৃষ্টি এবং আদালত বর্জনের কর্মসূচি নিয়ে আইনজীবীদের মধ্যে বিরোধ, তর্ক-বিতর্ক ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটেছে। এর ফলে আদালতের স্বাভাবিক বিচারিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় বিচারপ্রার্থীরা ভোগান্তিতে পড়ছেন।
গত ১৭ সেপ্টেম্বর জারি হওয়া সরকারি আদেশ (জিও) অনুযায়ী, নিয়োগপ্রাপ্ত জেলা জজের দায়িত্ব গ্রহণে বাধা সৃষ্টি এবং সেই আদেশের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামার ঘটনায় বগুড়া বারের পাবলিক প্রসিকিউটর এডভোকেট আব্দুল বাছেদসহ তাদের অনুসারী আইনজীবীদের বিরুদ্ধে সরকারি সিদ্ধান্ত অমান্য ও আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তুলেছেন অ্যাডভোকেট আব্দুল ওহাব।
অ্যাডভোকেট আব্দুল ওহাবের দাবি, সরকারি প্রজ্ঞাপন বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি করে আদালতের কার্যক্রম ব্যাহত করা কোনভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। তিনি বলেন, "এ ধরনের কর্মকাণ্ডের ফলে বিচারপ্রার্থীদের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।"
রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নিজ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ তুলে ধরেন। তিনি জানান, বগুড়ায় তিন মাসেরও বেশি সময় জেলা ও দায়রা জজের পদ শূন্য ছিল। ভারপ্রাপ্ত জেলা জজের মাধ্যমে বিচারিক কার্যক্রম পরিচালিত হলেও এতে বিচারপ্রার্থীদের প্রত্যাশিত সেবা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। দীর্ঘদিনের এ সংকট নিরসনে সরকার সরকারি আদেশের মাধ্যমে একজন জেলা জজ নিয়োগ দেয়। কিন্তু নিয়োগের পর নতুন জটিলতা তৈরি হয়েছে।
আব্দুল ওহাবের অভিযোগ, জেলা জজ নিয়োগের সরকারি আদেশ জারির পর বগুড়া বার সমিতির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও দুজন সদস্য সংবাদ সম্মেলন করে আদালত বর্জনের ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, "বার সমিতির নির্বাহী কমিটি কিংবা সাধারণ সভায় যথাযথ সিদ্ধান্ত গ্রহণ না করে এ ধরনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়ে থাকলে তা সমিতির সাংগঠনিক বিধিবিধানের পরিপন্থী।" একই সঙ্গে সরকারি আদেশ বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি করা হলে তা প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত অমান্যের শামিল।
তিনি আরো অভিযোগ করেন, পিপিসহ তাদের অনুসারী আইনজীবীরা নতুন জেলা জজের দায়িত্ব গ্রহণে বাধা সৃষ্টি করছেন। যদিও সংশ্লিষ্ট পক্ষ এ ধরনের বাধা দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করছে বলে তিনি শুনেছেন। সরকারি আদেশের পক্ষে অবস্থান নেওয়া আইনজীবীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্যও চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আব্দুল ওহাব বলেন, "সরকারি প্রজ্ঞাপন বা আদেশের বিরুদ্ধে আপত্তি থাকলে তা আইনসম্মত ও প্রাতিষ্ঠানিক পদ্ধতিতে উত্থাপন করা যেতে পারে। কিন্তু সেই অজুহাতে সরকারি আদেশের বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি কিংবা আদালতের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত করা গ্রহণযোগ্য নয়।" তার মতে, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বিচারব্যবস্থার স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘ্নিত হওয়ার পাশাপাশি বিচারপ্রার্থীদের অধিকারও ক্ষুণ্ন হচ্ছে।
তিনি উল্লেখ করেন, আইনজীবীরা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও বিচারপ্রার্থীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার কাজে নিয়োজিত। তাই তাদের কাছ থেকেই আইন ও বিধিবিধানের প্রতি সর্বোচ্চ শ্রদ্ধাশীল আচরণ প্রত্যাশিত। বিশেষ করে জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা উচিত। অথচ বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের কর্মকাণ্ডে দায়িত্বশীলতার ঘাটতি দেখা যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আদালতের অচলাবস্থা নিরসনে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে আব্দুল ওহাব বলেন, "বগুড়ার আদালতের ঐতিহ্য ও সুনাম রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।" সরকারি আদেশ বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি এবং আদালতের কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার অভিযোগের বিষয়টি গণমাধ্যমে তুলে ধরার জন্যও সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
একই সঙ্গে বগুড়া বার সমিতির উন্নয়নে সরকারি সহযোগিতা কাজে লাগিয়ে একটি সমৃদ্ধ, আধুনিক ও ঐতিহ্যবাহী বার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আইনজীবীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
তবে সরকারি আদেশ অমান্য, নতুন জেলা জজের দায়িত্ব গ্রহণে বাধা সৃষ্টি এবং আদালত বর্জনের কর্মসূচির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বগুড়া আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর এডভোকেট আব্দুল বাছেদ। তিনি বলেন, "আদালত সচল রাখতে আমি দু-পক্ষের মধ্যে সমন্বয় করার চেষ্টা করছি। আদালত বর্জনের পুরো সিদ্ধান্ত নিয়ে বগুড়া বার সমিতি।"
বগুড়া বার সমিতির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম জানান, পদায়নকৃত জেলা ও দায়রা জজকে ফ্যাসিবাদের দোসর বলে আইনজীবীরা আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, "৫ আগষ্ট পরবর্তী আন্দোলনের মুখে তিনি বগুড়া থেকে যেতে বাধ্য হয়েছেন। বগুড়া থেকে তাকে না সরানো পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। এটাই বার সমিতির সিদ্ধান্ত।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকার চারপাশের নদী দূষণমুক্ত করার পাশাপাশি নগরীর খালগুলো পুনরুদ্ধার, সংস্কার ও সৌন্দর্যবর্ধনে কাজ করছে সরকার। সরকারের এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) আওতাধীন খালগুলোর দুই পাশে প্রয়োজন অনুযায়ী রিটেইনিং ওয়াল ও ওয়াকওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর নন্দীপাড়া এলাকার জিরানী খাল পরিদর্শনকালে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এসব কথা জানান। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব এবং ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।
মীর শাহে আলম বলেন, ডিএসসিসির ২৬টি এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ২৯টি খালের দুই পাশে প্রয়োজন অনুযায়ী রিটেইনিং ওয়াল ও ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হবে। এর ফলে খালের পরিবেশ ও সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাবে এবং অবৈধ দখল ঠেকানো সম্ভব হবে। পাশাপাশি নগরবাসীর জন্য হাঁটা ও বিনোদনের সুযোগ তৈরি হবে।
তিনি আরও বলেন, ঢাকা মহানগরীর পয়োবর্জ্য সুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের মাধ্যমে শোধন করে নদীতে ফেলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য গঠিত কমিটি ইতিমধ্যে মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করেছে।
প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, সরকার একদিনে দেশকে সিঙ্গাপুর বা অস্ট্রেলিয়া বানিয়ে দেওয়ার মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিতে চায় না। বরং বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে ধাপে ধাপে পরিচ্ছন্ন, সুন্দর, নিরাপদ ও বাসযোগ্য ঢাকা গড়ে তুলতে চায় সরকার।
তিনি বলেন, নদী-খাল রক্ষা ও পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার কাজ শুধু সরকারের পক্ষ থেকে সম্ভব নয়। এ কাজে ঢাকাবাসীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে। সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নীতিগত, কারিগরি ও প্রশাসনিক সহযোগিতার আশ্বাসও দেন তিনি।
পরিদর্শনকালে ডিএসসিসির প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেন, ডিএসসিসির নতুন যুক্ত হওয়া এলাকাগুলোতে বিদ্যুৎ, ড্রেনেজ ও অবকাঠামোগত সুবিধা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার পর্যাপ্ত বরাদ্দ দিয়েছে। তবে সুপরিকল্পিত মাস্টারপ্ল্যানের আওতায় এসব এলাকার সামগ্রিক উন্নয়নে আরও বরাদ্দ প্রয়োজন।
৩ দশমিক ৯০ কিলোমিটার দীর্ঘ ও ৪ থেকে ২৫ মিটার প্রস্থের জিরানী খালটি ‘ডিএসসিসির কালুনগর, মান্ডা, জিরানী ও শ্যামপুর খাল পুনরুদ্ধার, সংস্কার ও নান্দনিক পরিবেশ সৃষ্টি (১ম সংশোধিত)’ প্রকল্পের আওতায় সংস্কার করা হচ্ছে।
৮৯৮ কোটি ৬১ লাখ ৩০ হাজার টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি ২০২২ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদে বাস্তবায়িত হচ্ছে। এর ৭০ শতাংশ অর্থ দিচ্ছে সরকার এবং ৩০ শতাংশ দিচ্ছে ডিএসসিসি। স্থানীয় সরকার বিভাগের উদ্যোগে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে ডিএসসিসি।
২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত প্রকল্পটির সার্বিক অগ্রগতি ২১ দশমিক ৮৪ শতাংশ। এর মধ্যে মান্ডা খালের কাজের অগ্রগতি ৭ দশমিক ৮৩ শতাংশ, জিরানী খালের ৫ দশমিক ৬০ শতাংশ, কালুনগর খালের ৬ দশমিক ৩৬ শতাংশ এবং শ্যামপুর খালের ২ দশমিক ৫ শতাংশ।
প্রকল্পের আওতায় চারটি খালের প্রায় ২০ দশমিক ৫৯ কিলোমিটার পুনঃখনন ও স্লাজ অপসারণ, সীমানা নির্ধারণ এবং স্লোপ প্রটেকশনের কাজ করা হবে। এ ছাড়া ৩২ দশমিক ৫৬ কিলোমিটার রিটেইনিং ওয়াল, ৩৮ দশমিক ৬ কিলোমিটার সুরক্ষা বেষ্টনী এবং ৩২ দশমিক ৪৪ কিলোমিটার ওয়াকওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
খালগুলোর পাড়ে ল্যান্ডস্কেপিং ও সবুজায়নের পাশাপাশি পরিবেশদূষণ রোধে আটটি ইটিপি নির্মাণ করা হবে। সিএস রেকর্ড অনুযায়ী ১৪৯টি এবং পানি আইন-২০১৩ অনুযায়ী ১ হাজার ৫৯০টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের পরিকল্পনাও রয়েছে।
প্রকল্প বাস্তবায়নে খালের সীমানা নির্ধারণ ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের জটিলতা, অচল কালভার্ট অপসারণ, সঠিক পয়োনিষ্কাশনব্যবস্থার অভাব এবং প্রয়োজনীয় জমির সীমিত প্রাপ্যতাকে প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. এ কে এম শাহাবুদ্দিনসহ বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও ডিএসসিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দাম্পত্য জীবনের পবিত্রতা রক্ষায় ইসলাম অনেক সুনির্দিষ্ট ও সতর্কতামূলক নির্দেশনা প্রদান করেছে। কখনও কখনও মানুষ আবেগ বা রাগের বশে এমন কিছু শর্ত আরোপ করে, যা পরবর্তীতে বড় ধরনের জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। এর মধ্যে একটি বিষয় হলো নির্দিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা। বর্তমান ডিজিটাল যুগে যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে মেসেঞ্জার বা চ্যাট ব্যবহৃত হচ্ছে। এই মাধ্যমেই যদি এমন কোনো শর্তের মুখোমুখি হতে হয়, তাহলে শরিয়তের বিধান কী হবে—এটি জানা অত্যন্ত জরুরি। নিচে মূল মাসআলাটি সহজ ও প্রাঞ্জল ভাষায় উপস্থাপন করা হলো।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
এক ব্যক্তি প্রায় এক বছর আগে তার স্ত্রীকে শর্ত দিয়েছিলেন যে, ‘রহমান নামের কোনো লোকের সাথে কথা বললে তুমি তালাক।’ এরপর কয়েক মাস আগে ওই ব্যক্তি তার স্ত্রীকে মেসেঞ্জারে লিখিত সালাম দেন এবং স্ত্রীও এর লিখিত উত্তর দেন। এখন প্রশ্ন হলো—এভাবে মেসেঞ্জারে লিখিত সালাম আদান-প্রদানের কারণে কি তালাক পতিত হয়েছে?
শরিয়তের বিধান ও সমাধান
আলোচ্য বিবরণ অনুযায়ী, মেসেঞ্জারে লিখিতভাবে সালামের জবাব দেওয়ার কারণে স্ত্রীর ওপর কোনো তালাক পতিত হয়নি। এর মূল কারণ হলো, ইসলামি ফিকহের পরিভাষা ও সাধারণ সামাজিক রীতিনীতি (উরফ) অনুযায়ী, লিখে যোগাযোগ করা বা মেসেজ পাঠানো সরাসরি মুখে কথা বলার অন্তর্ভুক্ত নয়। তাই কেবল লিখিতভাবে সালামের উত্তর দেওয়ার কারণে শপথ ভঙ্গ হয় না।
তবে এর একটি ব্যতিক্রমী দিকও রয়েছে। স্বামী যখন স্ত্রীকে “কথা বললে তালাক” শর্তটি দিয়েছিলেন, তখন যদি তার স্পষ্ট নিয়ত বা উদ্দেশ্য থাকে যে—মুখে কথা বলা ছাড়াও লিখে বা মেসেজে যোগাযোগ করাকেও এই নিষেধাজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত করা হলো, তবে সে ক্ষেত্রে তালাক পতিত হওয়ার বিধান প্রযোজ্য হবে। নিয়তের ওপর ভিত্তি করে শরিয়তের হুকুম পরিবর্তন হতে পারে।
কুরআন ও হাদিসের আলোকে দলিল ও রেফারেন্স ইসলামি শরিয়তে শপথ ও কথার সংজ্ঞায় মৌখিক উচ্চারণকে প্রধান্য দেওয়া হয়েছে। ফিকহ ও হাদিসের কিতাবে বিষয়টি অত্যন্ত স্পষ্ট করে বলা হয়েছে—
وَلَوْ قَالَ: وَاَللَّهِ لَا أُكَلِّمُ فُلَانًا بِهَذَا الْأَمْرِ فَهَذَا عَلَى الْكَلَامِ بِعَيْنِهِ لَا يَحْنَثُ بِكِتَابٍ وَلَا رَسُولٍ
কেউ যদি বলে, ‘আল্লাহর কসম, আমি অমুকের সাথে এ বিষয়ে কথা বলব না, তবে তা কেবল সরাসরি মুখের কথার ওপরই প্রযোজ্য হবে। এটি লেখা বা কোনো দূতের মাধ্যমে বার্তা পাঠানোর দ্বারা শপথ ভঙ্গ (হানাস) হবে না। (বদায়িউস সানাই, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ৮৮)
(الْكَلَامُ) وَالتَّحْدِيثُ (لَا يَكُونُ إلَّا بِاللِّسَانِ) فَلَا يَحْنَثُ بِإِشَارَةٍ وَكِتَابَةٍ كَمَا فِي النُّتَفِ
‘কথা বলা এবং কোনো বিষয়ে কথোপকথন কেবল জিহ্বা বা মুখ দিয়েই হয়ে থাকে। তাই ইশারা বা লেখার মাধ্যমে কথা বলার শপথ ভঙ্গ হয় না, যেমনটি ‘আন-নুতাফ’ গ্রন্থে উল্লেখ রয়েছে। (রদ্দুল মুহতার তথা ফাতাওয়া শামী খণ্ড ৫, পৃষ্ঠা ৫৯৬)
পরিশেষে বলা যায়, বর্তমান প্রযুক্তির যুগে যোগাযোগের নানা মাধ্যম তৈরি হলেও শরিয়তের মৌলিক নীতিগুলো অপরিবর্তিত রয়েছে। মুখে কথা বলার নিষেধাজ্ঞার ক্ষেত্রে কেবল চ্যাট বা মেসেজে লিখিত বার্তা আদান-প্রদান দ্বারা সাধারণত তালাক কার্যকর হয় না, যদি না স্বামীর অন্তরে সুনির্দিষ্টভাবে লেখার বিষয়টিও উদ্দেশ্য হিসেবে থাকে। তাই অহেতুক সন্দেহ বা সংশয়ে না ভুগে শরয়ি বিধান মেনে চলা উচিত এবং দাম্পত্য জীবনে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সতর্কতার মাধ্যমেই শান্তি বজায় রাখা শ্রেয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কিশোরগঞ্জের হাওর এখন আর বর্ষার জলরাশির বিস্ময় নয়, বরং এটি ধীরে ধীরে মানুষের অবকাশ, প্রকৃতির সান্নিধ্য এবং ভ্রমণপিপাসার এক অনন্য ঠিকানা হয়ে উঠছে। বর্ষার বিস্তীর্ণ জলরাশি, দূরে ভেসে থাকা গ্রাম, খোলা আকাশ এবং পানির বুক চিরে ছুটে চলা নৌকা; সব মিলিয়ে হাওরের সৌন্দর্য দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পর্যটকদের আকর্ষণ করছে।
হাওরে পর্যটকদের সংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশ হাওরকেন্দ্রিক পর্যটনকে আরও নিরাপদ, সহজ এবং তথ্যসমৃদ্ধ করতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। জেলার প্রধান কয়েকটি প্রবেশপথে পর্যটক ছাউনি স্থাপন করা হয়েছে। এসব ছাউনিতে বিশ্রামের ব্যবস্থা, হাওরের মানচিত্র, নৌকার তথ্য, ট্রলার মাঝিদের ফোন নম্বর, নৌকা ভাড়ার তালিকা, হোটেল-রেস্তোরাঁ ও রিসোর্টের তথ্য রাখা হয়েছে। জরুরি ফোন নম্বর, পুলিশের কন্ট্রোলরুমের যোগাযোগ এবং প্রাথমিক চিকিৎসার সরঞ্জামও সেখানে রয়েছে।
জেলা পুলিশের উদ্যোগে এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের পরিকল্পনায় হাওরকেন্দ্রিক পর্যটনকে আরও নিরাপদ ও পর্যটকবান্ধব করে তুলতে এসব উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
কিশোরগঞ্জের হাওরে কিছু ডাকাতির ঘটনার পর পর্যটকদের নিরাপত্তা বিশেষ গুরুত্ব পায়। ট্রলার মালিক ও মাঝিদের বিকেল ৫টার পর নৌকা না চালানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে কয়েকজন ডাকাত সরদারকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে রাত ৮টা পর্যন্ত হাওরে নৌকা চলাচল করছে।
বর্ষার পানি এখনো পুরোপুরি নামেনি। ফলে নিকলীর বেড়িবাঁধ, করিমগঞ্জের বালিখোলা এবং চামড়া নৌবন্দর হয়ে প্রতিদিনই পর্যটকেরা প্রবেশ করছেন হাওরের জলভূমিতে। পরিবার, বন্ধু কিংবা বিভিন্ন দল নিয়ে নৌকায় ভেসে তাঁরা ঘুরছেন ইটনা, মিঠামইন এবং অষ্টগ্রামের বিস্তীর্ণ জলাভূমি।
ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম অল-ওয়েদার সড়ক, মিঠামইনের দিল্লির আখড়া, অষ্টগ্রামের কুতুব শাহী মসজিদসহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানও পর্যটকদের আগ্রহের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। করিমগঞ্জের গুনধর ইউনিয়নের খয়রতের মোড়ও ইতোমধ্যে পর্যটকদের কাছে পরিচিত একটি ভ্রমণকেন্দ্র হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে।
কিশোরগঞ্জের হাওরে প্রবেশের কয়েকটি প্রধান পথ রয়েছে। এর মধ্যে নিকলীর বেড়িবাঁধ, করিমগঞ্জের বালিখোলা এবং চামড়া নৌবন্দর অন্যতম। এসব স্থান থেকেই নৌকা নিয়ে পর্যটকেরা হাওরের গভীরে প্রবেশ করেন।
নিকলীর বেড়িবাঁধের মাঝামাঝি স্থানে জেলা পুলিশের উদ্যোগে নির্মাণ করা হয়েছে একটি পর্যটক ছাউনি। সেখানে পর্যটকদের বিশ্রামের ব্যবস্থা রয়েছে। ছাউনির পাশেই রয়েছে পুলিশের কন্ট্রোলরুম।
বালিখোলা ফেরিঘাট এবং চামড়া নৌবন্দরেও একই ধরনের পর্যটক ছাউনি স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিটি ছাউনির প্রবেশপথে ছোট তোরণে লেখা; ‘মাদক ছাড়ি, ভ্রমণ করি’।
ছাউনিগুলোতে রাখা হয়েছে হাওরের মানচিত্র। কোন স্থান থেকে কোন এলাকায় কীভাবে যাওয়া যায়, তার দিকনির্দেশও দেওয়া হয়েছে সেখানে। রয়েছে ট্রলার মাঝিদের ফোন নম্বর এবং নৌকা ভাড়ার তালিকা।
শুধু নৌযাত্রার তথ্য নয়, পর্যটকদের থাকার এবং খাবারের ব্যবস্থার তথ্যও পাওয়া যাচ্ছে এসব ছাউনিতে। হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট এবং রেস্তোরাঁর ফোন নম্বর রাখা হয়েছে। কোথায় রাত কাটাতে আনুমানিক কত খরচ হতে পারে কিংবা রেস্তোরাঁয় খাবারের স্বাভাবিক মূল্য কত; এসব তথ্যও দেওয়া হচ্ছে। ফলে হাওরে যাওয়ার আগেই ভ্রমণ ব্যয় সম্পর্কে একটি ধারণা নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন পর্যটকেরা।
নিকলী কিংবা বালিখোলা থেকে নৌকা নিয়ে হাওরে ঢুকে পর্যটকেরা ছুটছেন নানা গন্তব্যে। ইটনা, মিঠামইন এবং অষ্টগ্রাম এখন হাওরভ্রমণের অন্যতম আকর্ষণ।
বিশেষ করে বর্ষায় ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম অল-ওয়েদার সড়ক যেন পানির বিশাল ক্যানভাসে আঁকা এক দীর্ঘ রেখা। সড়কের দুই পাশে থইথই পানি, দূরে জেগে থাকা গ্রাম, মাথার ওপর বিস্তীর্ণ আকাশ; প্রকৃতির এই অপরূপ বিন্যাস দেখতে নৌকায় যেমন ছুটছেন পর্যটকেরা, তেমনি সড়কপথেও ঘুরে দেখছেন অনেকে।
মিঠামইনের দিল্লির আখড়া এবং অষ্টগ্রামের কুতুব শাহী মসজিদেও তাঁদের পদচারণা বাড়ছে। কেউ দেখছেন হাওরের গ্রামীণ জীবন, কেউ মুগ্ধ হচ্ছেন জলমগ্ন প্রকৃতির সৌন্দর্যে। আবার কেউ নৌকার ছাদে বসে উপভোগ করছেন দিগন্তজোড়া জল এবং আকাশের মিতালি।
পর্যটক ছাউনিতে নৌকা, আবাসন এবং খাবারের তথ্য থাকায় ভ্রমণের আগে কোথায় যাবেন, কীভাবে যাবেন এবং সম্ভাব্য খরচ কত হতে পারে; এসব বিষয়ে আগেভাগেই ধারণা নিতে পারছেন পর্যটকেরা।
ভ্রমণের আনন্দের পাশাপাশি পর্যটকের নিরাপত্তাকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পর্যটক ছাউনিতে রাখা হয়েছে প্রাথমিক চিকিৎসার কিট। কোনো পর্যটক অসুস্থ হয়ে পড়লে কিংবা দুর্ঘটনার শিকার হলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রাথমিক সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। এ ছাড়া নৌ পুলিশ এবং পর্যটন পুলিশের ফোন নম্বরও রাখা হয়েছে। হাওরে চলাচলের সময় কোনো ধরনের সমস্যায় পড়লে পর্যটকেরা এসব নম্বরে যোগাযোগ করতে পারবেন।
চলতি বছরের শুরুতে হাওরে কয়েকটি ডাকাতির ঘটনা ঘটে। বিষয়টি জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভাতেও উঠে আসে। পরে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। পুলিশের অভিযানে কয়েকজন ডাকাত সরদার গ্রেপ্তার হওয়ার পর হাওরে নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে বলে হাওরবাসী জানিয়েছেন।
হাওরের পর্যটনকে কেবল বর্ষার কয়েকটি মাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চান না পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। পর্যটনকে সারা বছরের একটি কার্যক্রমে পরিণত করার পরিকল্পনাও রয়েছে তাঁর। এর অংশ হিসেবে কিশোরগঞ্জ জেলা শহরসহ হাওরের বিভিন্ন উপজেলার হোটেল এবং রিসোর্টে শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিদিন একটি করে কক্ষ বরাদ্দ রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে শিক্ষার্থীরা কিশোরগঞ্জে এসে হাওর ঘুরে দেখার সুযোগ পান; এমন একটি পরিবেশ তৈরিই এর উদ্দেশ্য। পাশাপাশি স্থানীয় তরুণদের প্রশিক্ষণ দিয়ে পর্যটন গাইড হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে। এতে পর্যটকেরা শুধু চোখের দেখায় হাওরকে জানবেন না, স্থানীয় গাইডের কাছ থেকে হাওরের ইতিহাস, ঐতিহ্য, প্রকৃতি, জীবনযাত্রা এবং দর্শনীয় স্থান সম্পর্কে জানার সুযোগ পাবেন।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান লেখালেখির সঙ্গেও যুক্ত। ‘রহমান শেলী’ নামে তিনি লেখেন। কবিতা এবং সাহিত্যের পাশাপাশি প্রকৃতির প্রতি তাঁর রয়েছে বিশেষ আগ্রহ।
হাওরের পর্যটন নিয়ে তাঁর ভাবনাও তাই কেবল বর্ষার জলরাশিতে সীমাবদ্ধ নয়। বর্ষা শেষ হয়ে পানি নেমে গেলেও হাওরের সৌন্দর্যকে পর্যটকদের সামনে তুলে ধরতে চায় জেলা পুলিশ।
শুকনো মৌসুমে দিগন্তজোড়া হাওরের বিভিন্ন স্থানে জেলা পুলিশের উদ্যোগে অস্থায়ী তাবু স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে বর্ষায় নৌকায় হাওর দেখার পাশাপাশি শুষ্ক মৌসুমে হাওরের বিস্তীর্ণ প্রান্তর, মাঠ, গ্রাম এবং প্রকৃতির অন্য রূপও উপভোগ করার সুযোগ তৈরি হবে।
স্থানীয় তরুণদের প্রশিক্ষণ দিয়ে পর্যটন গাইড তৈরির উদ্যোগও এই পরিকল্পনার অংশ। এর মাধ্যমে স্থানীয় তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির পাশাপাশি পর্যটকদের জন্য আরও সংগঠিত সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন হাওর সংশ্লিষ্টরা।
জেলা পুলিশের দাবি, এসব উদ্যোগের ফলে চলতি বছর কিশোরগঞ্জের হাওরে আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ পর্যটকের সমাগম হয়েছে।
কিশোরগঞ্জের হাওরে নৌকায় ভ্রমণের সবচেয়ে আকর্ষণীয় সময় বর্ষা। সাধারণত বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ থেকে হাওরে পানি বাড়তে শুরু করে। আশ্বিন-কার্তিক পর্যন্ত বিস্তীর্ণ হাওর থাকে পানিতে পূর্ণ। এরপর ধীরে ধীরে পানি নামতে শুরু করে।
সেপ্টেম্বরের শেষ প্রান্তে এসে হাওরের পানিও নামতে শুরু করেছে। ফলে নৌকায় ভেসে হাওরের বিস্তীর্ণ জলরাশি দেখার সুযোগ আর খুব বেশি দিন থাকবে না। পানি কমে গেলে স্বাভাবিকভাবেই কমে আসবে নৌকাভিত্তিক পর্যটনের পরিসর।
তবে বর্ষার জল সরে গেলেও হাওরের সৌন্দর্য যেন পর্যটকের চোখের আড়াল না হয়; এমনই পরিকল্পনা কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশের। পানির হাওরের পাশাপাশি শুকনো মৌসুমের হাওরের ভিন্ন রূপও পর্যটকদের সামনে তুলে ধরতে চায় তারা।
কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা, মিঠামইন এবং অষ্টগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান বলেন, বর্ষায় হাওরে পানি আসার শুরুতে কয়েকটি ডাকাতির ঘটনায় তিনি উদ্বিগ্ন হয়েছিলেন। তিনি বিষয়টি পুলিশ সুপারকে জানান। পুলিশ সুপার গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে ডাকাতদের গ্রেপ্তার করেন। বর্তমানে কিশোরগঞ্জের হাওর পর্যটকদের জন্য নিরাপদ বলে তিনি মনে করেন।
কিশোরগঞ্জ-৬ (ভৈরব-কুলিয়ারচর) আসনের সংসদ সদস্য এবং সরকারের বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম বলেন, হাওরের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি পর্যটকদের সুবিধার জন্য পুলিশ সুপারের নেওয়া উদ্যোগ প্রশংসনীয়। তিনি আরও কাজ করবেন বলে আশা করেন। কোনো পর্যটক কিশোরগঞ্জে এসে যেন খারাপ অভিজ্ঞতা নিয়ে ফিরে না যান, সে জন্য পুলিশ সুপারের উদ্যোগকে আরও উৎসাহিত করা প্রয়োজন।
কিশোরগঞ্জ জেলার আইনশৃঙ্খলা ও উন্নয়নের দায়িত্বে থাকা তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, হাওরের পর্যটন প্রসারে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের পরিকল্পনার কথা জেনে তাঁরও হাওর পর্যটনের প্রতি আলাদা আগ্রহ তৈরি হয়েছে। সবাই সম্মিলিতভাবে কাজ করলে কিশোরগঞ্জের হাওর একসময় শুধু বাংলাদেশের নয়, বিশ্বের অন্যতম পর্যটন এলাকায় পরিণত হতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ