ঢাকা সোমবার, ০২ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৭ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২১শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ০২ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৭ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

মেসির একমাত্র ভোট পেয়ে বিস্মিত মাজা, সম্মানিত মনে করছেন


মেসির একমাত্র ভোট পেয়ে বিস্মিত মাজা, সম্মানিত মনে করছেন

কোপা ট্রফির ভোটের ফল প্রকাশের পর বায়ার লেভারকুসেনের তরুণ মিডফিল্ডার ইব্রাহিম মাজা আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছেন। বর্ষসেরা তরুণ ফুটবলারের স্বীকৃতির জন্য তাকে ভোট দিয়েছেন একমাত্র লিওনেল মেসি। আর্জেন্টাইন মহাতারকার কাছ থেকে এমন একটি স্বীকৃতি পেয়ে মাজা রীতিমতো বিস্মিত হয়েছেন।

কোপা ট্রফির ভোট প্রদান করেন সাবেক ব্যালন ডি’অর জয়ীরা। এবারের ভোটে অধিকাংশ সাবেক তারকার পছন্দের তালিকায় ছিলেন লামিন ইয়ামাল ও পাউ কুবারসি। মেসিও তাদের ভোট দিয়েছেন। তবে এই দুজনের পর তৃতীয় পছন্দ হিসেবে মাজার নাম রেখেছেন আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী মেসি। ফলে পুরো ভোটের তালিকায় মাজার একমাত্র ভোটদাতা মেসি।

জার্মান সংবাদমাধ্যম কিকারকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মেসির কাছ থেকে পাওয়া স্বীকৃতির অনুভূতি ব্যক্ত করেছেন আলজেরিয়ান এই ফুটবলার। তিনি জানিয়েছেন, প্রথমে বিষয়টি নিয়ে না ভেবে ম্যাচে মনোযোগ ধরে রাখতে চেয়েছিলেন। তবে ফল প্রকাশের পর ফোনে একের পর এক বার্তা আসতে শুরু করে।

আরও পড়ুন: আয়ারল্যান্ডকে হারিয়ে নামিবিয়া ওয়ানডে সিরিজে ইতিহাস গড়ল

মাজা বলেন, ‘আমি প্রথমে ম্যাচের দিকে মনোযোগ দিতে চেয়েছিলাম এবং বিষয়টি মন থেকে সরিয়ে রাখার চেষ্টা করছিলাম। এরপর অনেক বার্তা আসতে শুরু করে। ম্যাচ শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করছিলাম, খবরটি সত্যি নাকি মিথ্যা জানার জন্য। মেসির কাছ থেকে এমন কিছু আশা করিনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি নিজেকে বিচলিত হতে না দেওয়ার চেষ্টা করছিলাম। কিন্তু কিছু বার্তা আসতে শুরু করে। এই স্বীকৃতি পাওয়া এবং মেসির মতো একজন খেলোয়াড়ের দ্বারা নির্বাচিত হওয়া আমার জন্য বিরাট সম্মানের।’

বিশ্বকাপে মেসি ও মাজা মুখোমুখি হয়েছিলেন। গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে আলজেরিয়ার হয়ে ৮২ মিনিট খেলেন মাজা। অন্যদিকে ৮০তম মিনিটে মাঠ ছাড়েন মেসি। ম্যাচটিতে আলজেরিয়া ৩-০ গোলে হেরে যায়। পরে জর্ডানকে হারিয়ে এবং অস্ট্রিয়ার সঙ্গে ড্র করে শেষ ৩২-এ জায়গা করে নেয় দলটি। তবে নকআউট পর্বে সুইজারল্যান্ডের কাছে হেরে বিদায় নিতে হয় তাদের।

বিশ্বকাপে চার ম্যাচেই আলজেরিয়ার শুরুর একাদশে ছিলেন মাজা। গোল কিংবা অ্যাসিস্ট করতে না পারলেও ক্লাব ফুটবলে দারুণ ছন্দে রয়েছেন ২০ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার। লেভারকুসেনে নতুন কোচ কার্লেস মার্তিনেজের অধীনে নিয়মিত খেলার সুযোগ পাচ্ছেন তিনি। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১১ ম্যাচে করেছেন তিন গোল, সঙ্গে রয়েছে তিনটি অ্যাসিস্ট।

আরও পড়ুন: আফগান লিগের ড্রাফটে ব্রিটিশ পরিচয়ে নাম দিলেন আমির, আইপিএলে নিবন্ধন করবেন কি?

২০২৫ সালের গ্রীষ্মে বুন্দেসলিগার ক্লাব লেভারকুসেনের সঙ্গে ২০৩০ সাল পর্যন্ত চুক্তি করেন মাজা। ক্লাবের হয়ে পারফরম্যান্সের পাশাপাশি এবার ফুটবল বিশ্বের অন্যতম সেরা তারকা মেসির স্বীকৃতিও যোগ হলো তার অর্জনের তালিকায়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদানে সচেতনতা বাড়াতে হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আহ্বান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:১২ পি.এম


রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদানে সচেতনতা বাড়াতে হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আহ্বান

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন রক্তের অভাবে মানুষের মৃত্যু রোধে পর্যাপ্ত রক্তের মজুত নিশ্চিত করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি মরণোত্তর চক্ষুদান কার্যক্রমকে জোরদার করার পাশাপাশি কর্নিয়া সংগ্রহে দেশকে স্বাবলম্বী করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

জাতীয় স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদান দিবস-২০২৬ উপলক্ষে সোমবার (২ নভেম্বর) বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের লেকচার হলে আয়োজিত আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন উল্লেখ করেন, রক্তদান কর্মসূচির গতি বাড়ানোর জন্য শুধুমাত্র সেমিনার আয়োজন যথেষ্ট নয়। সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করা প্রয়োজন। চিকিৎসকদের পাশাপাশি সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে রক্তদানের গুরুত্ব তুলে ধরতে হবে।

তিনি আরও বলেন, মানুষকে বোঝাতে হবে যে, রক্তদান করলে দাতার শারীরিক ক্ষতি হয় না। বরং এক ব্যাগ রক্ত একজন মানুষের জীবন বাঁচাতে সক্ষম।

মন্ত্রী ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও রক্তদানকে মহৎ কাজ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, "একজন মানুষের জীবন বাঁচানো অনেক বড় দান।" রক্তদানের মাধ্যমে অন্যের জীবন রক্ষা করা পরকালের জন্যও সওয়াবের কাজ। তাই এ বিষয়ে মানুষের মধ্যে ইতিবাচক ধারণা তৈরি করতে হবে।

থ্যালাসেমিয়া নিয়ে তিনি বলেন, স্বামী-স্ত্রী দুজনই থ্যালাসেমিয়ার বাহক হলে তাদের সন্তানের এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিয়মিত রক্তের প্রয়োজন হয়, যা রোগী ও পরিবারের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ভোগান্তির কারণ। বিয়ের আগে বর-কনের থ্যালাসেমিয়া বাহক কি না, তা পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন।

সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন আরও বলেন, থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়ানো গেলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এ রোগের ঝুঁকি থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি রক্তের চাহিদা ও সংকট কমাতেও ভূমিকা রাখবে।

এ সময় রক্তের পর্যাপ্ত মজুত নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় প্রচার-প্রচারণা ও কর্মসূচি গ্রহণের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সন্ধানীর কার্যক্রম এগিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, রক্ত সংগ্রহের জন্য যেসব প্রকল্প ও উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন, মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সাধ্যমতো সহযোগিতা করা হবে।

তিনি দায়িত্বে থাকা পর্যন্ত সন্ধানীর পাশে থাকার প্রতিশ্রুতিও দেন।

স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন বলেন, সন্ধানী মূলত মেডিকেল ও ডেন্টাল শিক্ষার্থীদের সংগঠন। রক্ত ও কর্নিয়া সংগ্রহের জাতীয় কর্মসূচি চালুর মাধ্যমে সংগঠনটি শিক্ষার্থীদের সাংগঠনিক সক্ষমতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার পরিচয় দিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, রক্ত সংগ্রহের কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হলেও কর্নিয়া সংগ্রহের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখনও পিছিয়ে রয়েছে। দেশের বিপুল জনসংখ্যার তুলনায় কর্নিয়া সংগ্রহের সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।

ডা. নাজমুল হোসেন বলেন, ভবিষ্যতে রক্ত কিংবা কর্নিয়ার জন্য যেন অন্য কোনো দেশের ওপর নির্ভর করতে না হয়, সে লক্ষ্যে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।

বিএমইউ ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী বলেন, ২ নভেম্বরকে জাতীয় স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদান দিবস হিসেবে ঘোষণার অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করা।

তিনি বলেন, রক্তদানের বিষয়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতা ও আগ্রহ বাড়লেও মরণোত্তর চক্ষুদানের ক্ষেত্রে এখনও কাঙ্ক্ষিত সচেতনতা তৈরি হয়নি।

তিনি আরও বলেন, ধর্মীয় ও সামাজিক নানা ভুল ধারণা ও কুসংস্কারের কারণে অনেকে মরণোত্তর চক্ষুদানে আগ্রহী হন না। এ বিষয়ে গ্রামগঞ্জের মানুষ, বিভিন্ন পেশাজীবী ও সমাজের সব স্তরের মানুষের মধ্যে সচেতনতা ছড়িয়ে দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন অর রশীদ, মহাসচিব ডা. মো. জাহিদুল ইসলাম শাকিল, সন্ধানী জাতীয় চক্ষুদান সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. ফজলুল হক কাশেম, মহাসচিব ও উদযাপন উপকমিটির সদস্যসচিব অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মনির হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

দিবসটি উপলক্ষে সকাল ৯টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। পরে র‌্যালিটি বিএমইউর সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের নিচতলার চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। এতে অংশগ্রহণকারীরা রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদানে উদ্বুদ্ধ করতে বিভিন্ন স্লোগানসংবলিত প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার বহন করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হাইকোর্ট মাদ্রাসার গভর্নিং বডি বাতিলের প্রজ্ঞাপন স্থগিত করেছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:১৩ পি.এম


হাইকোর্ট মাদ্রাসার গভর্নিং বডি বাতিলের প্রজ্ঞাপন স্থগিত করেছে

হাইকোর্ট দেশের ফাজিল ও কামিল মাদ্রাসার গভর্নিং বডি বাতিল করে ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনের কার্যকারিতা স্থগিত করেছেন। একই সঙ্গে আদালত ওই প্রজ্ঞাপনটি কেন অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে চার সপ্তাহের রুল জারি করেছেন।

সোমবার বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রাজী এবং বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ প্রদান করেন। এদিন আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট পারভেজ হোসেন। পরে সুপ্রিম কোর্টের অ্যানেক্স ভবনের সামনে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি জানান, ভোলা জেলার চরফ্যাশন কারামতিয়া কামিল মাদ্রাসার সভাপতির দায়ের করা এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই আদেশটি প্রদান করা হয়েছে। উল্লেখ্য, রিটটি উল্লেখিত হাইকোর্ট বেঞ্চে কার্যতালিকায় ৩৬ নম্বর আইটেম হিসেবে অন্তর্ভুক্ত ছিল। গত ১৯শে অক্টোবর ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে দেশের সব ফাজিল ও কামিল মাদ্রাসার গভর্নিং বডি একযোগে বাতিল করা হয়।

অ্যাডভোকেট পারভেজ হোসেন আদালতে যুক্তি তুলে ধরেন যে, মাদ্রাসাগুলোর গভর্নিং বডি গঠন ও বাতিলের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া ও বিধিবিধান রয়েছে। তিনি বলেন, "কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা গভর্নিং বডি আইনের ব্যত্যয় ঘটালে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ), নোটিশ প্রদান ও যথাযথ তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়ার এখতিয়ার কর্তৃপক্ষের রয়েছে।" তবে, বর্তমানে দেশে কোনো জরুরি অবস্থা বিদ্যমান না থাকা সত্ত্বেও, কোনো প্রতিষ্ঠানকে নোটিশ বা তদন্ত না করে হঠাৎ এক চিঠিতে সারা দেশের গভর্নিং বডিগুলো ঢালাওভাবে বাতিল করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ আইনপরিপন্থী।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট-পরবর্তী পরিস্থিতিতে একটি ভিন্ন প্রেক্ষাপট ও জরুরি পরিস্থিতির কারণে ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ড তৎকালীন কমিটিগুলো বাতিল করতে বাধ্য হয়েছিল। তবে বর্তমান স্বাভাবিক ও গণতান্ত্রিক পরিবেশে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে নেয়া এই সিদ্ধান্ত উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বিদ্বেষমূলক।

শুনানি শেষে আদালত ১৯শে অক্টোবরের প্রজ্ঞাপনটির কার্যকারিতা স্থগিত করেন এবং তা চূড়ান্তভাবে কেন অকার্যকর ও বাতিল করা হবে না, তা জানতে চেয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রতি ৪ সপ্তাহের রুল জারি করেন।

গত ১৯শে অক্টোবর সারা দেশের ফাজিল-কামিল মাদরাসার গভর্নিং বডির কমিটি বাতিল করে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় (ইআবি) কর্তৃপক্ষ। ইআবির রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. এ. কে. মুহা. নুরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

ওই অফিস আদেশে বলা হয়, গত ১৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত ৪৩তম সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ইআবির অধীনে পরিচালিত ফাজিল ও কামিল মাদ্রাসাগুলোর গভর্নিং বডি কমিটি বাতিল করা হলো।

আদেশে আরো বলা হয়, অ্যাডহক কমিটি গঠনের লক্ষ্যে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় তৃতীয় সংবিধি-২০২৩ (খ) এর ধারা (১) খ (১), (৩) মোতাবেক সভাপতি হিসেবে জেলা সদরে অবস্থিত মাদরাসায় সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক ও জেলা সদরের বাইরে অবস্থিত মাদরাসার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এবং বিদ্যোৎসাহী সদস্য হিসেবে জেলা পর্যায়ে জেলা শিক্ষা অফিসার ও উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে মনোনয়ন প্রদান করা হলো।

মাদরাসাগুলোর দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিধি অনুযায়ী নির্ধারিত ফরমে অ্যাডহক কমিটি অনুমোদনের প্রস্তাব প্রেরণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুড়িগ্রামে মাদরাসা সুপার ও পিয়নকে আটকে বেতন দাবিতে সহকর্মীদের বিক্ষোভ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:১৩ পি.এম


কুড়িগ্রামে মাদরাসা সুপার ও পিয়নকে আটকে বেতন দাবিতে সহকর্মীদের বিক্ষোভ

কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী কামাত আঙ্গারীয়া দাখিল মাদরাসার সুপার ও অফিস সহকারীকে অফিস কক্ষে তালাবদ্ধ করে রেখেছে সহকর্মীরা, বেতন ভাতার দাবিতে। এ সময় তালাবদ্ধ অফিস কক্ষের সামনে বারান্দায় বসে বেতনের দাবিতে তারা বিক্ষোভ করেন।

সোমবার সকাল দশটায়, অন্যান্য শিক্ষক ও কর্মচারীরা মাদরাসা সুপার সাইদুর রহমান ও অফিস সহকারী শফিয়ার রহমানকে তালাবদ্ধ করে রাখেন।

বিক্ষোভকারী শিক্ষকদের মতে, এমপিও ভুক্ত মাদরাসাটির সুপার সাইদুর রহমান ও অফিস সহকারী শফিয়ার রহমানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে দ্বন্দ্ব চলছিল। এই দ্বন্দ্বের ফলস্বরূপ, সুপার মাদরাসার সব শিক্ষক ও কর্মচারীর বেতন ভাতা ৬ মাস ধরে বন্ধ রেখেছেন।

সহকারী শিক্ষক ইমরুল কায়েস জানান, দীর্ঘদিন ধরে মাদরাসার সুপার ও অফিস সহকারীর মধ্যে নিয়োগ সংক্রান্ত সমস্যা চলছে। এর প্রেক্ষিতে, সুপার সবার বেতন বন্ধ রেখেছেন। তারা ৬ মাস ধরে বেতন ভাতা পাচ্ছেন না। মাদরাসাটি এমপিও ভুক্ত। সুপার তাদের বেতন আটকিয়ে অমানবিক কাজ করেছেন। আজ তারা তাদের দুজনকেই আটক করেছেন। সমস্যা সমাধান না হওয়া পর্যন্ত তাদেরকে মুক্তি দেওয়া হবে না।

অন্য সহকারী শিক্ষক রত্না পারভিন জানান, বেতন ভাতা ছাড়া তাদের পরিবার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ দিতে পারছেন না। বাধ্য হয়ে সুপার ও অফিস সহকারীকে অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ করছেন তারা।

সহকারী মৌলভী শিক্ষক আমিনুল ইসলাম বলেন, বেতন ভাতা না দেওয়া পর্যন্ত তাদেরকে অবরুদ্ধ করে রাখা হবে। বেতন ভাতা প্রদান করলে তারা পাঠদানে ফিরবেন।

অবরুদ্ধ সুপার সাইদুর রহমান অভিযোগ করেন, অফিস সহকারী শফিয়ার রহমানের উপর দোষ চাপিয়ে বলেন, "আমি বেতন আটকাই নাই। বেতনের সব কাগজপত্র প্রস্তুত করেছিলাম, সেগুলো অফিস সহকারী শফিয়ার রহমান ছিনিয়ে নিয়ে গেছে।"

অফিস সহকারী শফিয়ার রহমান এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, "শিক্ষকদের সঙ্গে সমন্বয় করে আমি বেতন দেব, এতে আমার আপত্তি থাকার কথা নয়। উনি সব মিথ্যা কথা বলছেন।"

ভুরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমৃত দেব নাথ বলেন, কামাত আঙ্গারীয়া দাখিল মাদরাসার সুপার ও অফিস সহকারীকে অবরুদ্ধ হওয়ার খবর পেয়ে বিষয়টি সুরাহা করতে মাদরাসার সভাপতিকে অবগত করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিদেশি প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতা কমাতে বাংলাদেশকে নিজস্ব এআই প্রযুক্তির সক্ষমতা অর্জন জরুরি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:১৪ পি.এম


বিদেশি প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতা কমাতে বাংলাদেশকে নিজস্ব এআই প্রযুক্তির সক্ষমতা অর্জন জরুরি

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) বিশ্বে অর্থনীতি, শিল্প ও ব্যবসার চিত্র দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। যে দেশগুলো নিজস্ব প্রযুক্তি তৈরি করতে সক্ষম, তারা বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশেও এআই ব্যবহারের প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে, বিদেশি প্রযুক্তি ব্যবহার করে কি এই প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা সম্ভব? সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধুমাত্র প্রযুক্তির ব্যবহারকারী হয়ে থাকলে চলবে না, বরং বাংলাদেশকে নিজস্ব এআই তৈরি, গবেষণা, দক্ষ জনবল ও প্রযুক্তিগত অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং নতুন শিল্প গড়ে তোলার সম্ভাবনাও তৈরি হচ্ছে। তবে, এই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা অর্জন করা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় শুধু বিদেশি প্রযুক্তি ব্যবহার করে এগিয়ে থাকা সম্ভব নয়। দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও প্রযুক্তিগত স্বাধীনতা অর্জন করতে হলে নিজস্ব এআই অবকাঠামো, বাংলা ভাষার লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল (এলএলএম), গবেষণা, দক্ষ মানবসম্পদ এবং দেশীয় উদ্ভাবন গড়ে তুলতে হবে। এ লক্ষ্যে আগামী ১২ মাসের মধ্যে বাংলাদেশের নিজস্ব সার্বভৌম এআই অবকাঠামো চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে এআইকে কেন্দ্র করে নতুন বিনিয়োগ, প্রযুক্তি উদ্যোক্তা তৈরি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সম্ভাবনাও তৈরি হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ জানিয়েছেন, আগামী বছরের মধ্যে বাংলাদেশে সার্বভৌম এআই অবকাঠামো চালু করা হবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় কম্পিউটিং চিপ ও মেমোরি মডিউল সংগ্রহের ব্যবস্থা নিশ্চিত হয়েছে। এই অবকাঠামো বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, স্টার্টআপ, বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে। এর মাধ্যমে দেশীয় প্রযুক্তিবিদরা বাংলা ভাষার নিজস্ব এলএলএম তৈরি এবং নতুন এআইভিত্তিক সেবা উদ্ভাবনের সুযোগ পাবেন। বর্তমানে এআইয়ের ব্যবহার বাড়লেও উন্নত মডেল তৈরি ও পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় কম্পিউটিং অবকাঠামো, উচ্চক্ষমতার জিপিইউ, বিপুল তথ্যভাণ্ডার এবং গবেষণার সুযোগ সীমিত। ফলে বিদেশি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের তৈরি মডেল ও ক্লাউড সেবার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। নিজস্ব অবকাঠামো তৈরি হলে এ নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি স্থানীয় উদ্যোক্তাদের নতুন পণ্য ও সেবা তৈরির সুযোগ বাড়বে।

উপদেষ্টার ভাষ্য অনুযায়ী, শুরুতেই বিশাল কোনো এআই কেন্দ্র নির্মাণের পরিবর্তে ছোট ও মডিউলার অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। বেসরকারি খাতের চাহিদা বাড়লে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোও সেখানে নিজস্ব প্রযুক্তিগত সক্ষমতা যুক্ত করতে পারবে। উন্নতমানের জিপিইউ সংগ্রহের জন্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনা চলছে।

এদিকে এআই ও সেমিকন্ডাক্টর খাতকে কেন্দ্র করে বিনিয়োগের নতুন সম্ভাবনা দেখছে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)। বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন (আশিক চৌধুরী) প্রযুক্তিনির্ভর শিল্প, উচ্চমূল্য সংযোজন এবং উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। বিশেষ করে সেমিকন্ডাক্টর খাতে বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, এ খাতে বিপুল বিনিয়োগের সুযোগ থাকলেও তৈরি পোশাকশিল্পের মতো ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে না; বরং প্রযুক্তিগত দক্ষতা, উচ্চমূল্যের উৎপাদন ও নতুন বাজার তৈরির সম্ভাবনা বেশি। এখানে বিনিয়োগের বিষয়টি শুধু এআই সফটওয়্যার তৈরিতে সীমাবদ্ধ নয়। ডেটা সেন্টার, ক্লাউড কম্পিউটিং, সেমিকন্ডাক্টর, চিপ ডিজাইন, সাইবার নিরাপত্তা, সফটওয়্যার উন্নয়ন এবং এআইভিত্তিক শিল্পসেবা সব ক্ষেত্রেই নতুন বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে।

তবে এসব খাতে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের পাশাপাশি স্থানীয় প্রতিষ্ঠান ও উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইকোনমিক রিসার্চের (সিএসইআর) চেয়ারম্যান ও ল্যাবএইড হাসপাতাল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাকিফ শামীমের মতে, বাংলাদেশকে এখন প্রযুক্তি ব্যবহারের পর্যায় থেকে নিজস্ব প্রযুক্তি তৈরির সক্ষমতা অর্জনের দিকে যেতে হবে। বিদেশি প্রতিষ্ঠানের তৈরি সফটওয়্যার, ক্লাউড সেবা কিংবা এআই মডেল ব্যবহার করে তাৎক্ষণিক সুবিধা পাওয়া সম্ভব। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক মূল্য তৈরি করতে হলে নিজস্ব গবেষণা, দক্ষ মানবসম্পদ, স্থানীয় তথ্যভাণ্ডার, প্রযুক্তি উন্নয়নের অবকাঠামো এবং উদ্ভাবনী উদ্যোগ প্রয়োজন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের কৃষি, জলবায়ু, জনসংখ্যার ঘনত্ব, ভাষা ও শিল্পের সামঞ্জস্যতা উন্নত দেশগুলোর চেয়ে আলাদা। ফলে বিদেশে তৈরি প্রযুক্তি সরাসরি ব্যবহার করে দেশের সব সমস্যার কার্যকর সমাধান পাওয়া সম্ভব নয়। আকস্মিক বন্যার পূর্বাভাস, কৃষকের জন্য আবহাওয়াভিত্তিক পরামর্শ, নগর পরিবহনের যানজট নিয়ন্ত্রণ, পোশাকশিল্পের উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বাংলা ভাষায় নির্ভুল ডিজিটাল সেবা নিশ্চিতকরণে স্থানীয় তথ্য ও বাস্তবতার ভিত্তিতে এআই তৈরি করতে হবে। তার মতে, গুরুত্ব দিতে হবে বাংলা ভাষাভিত্তিক এআই উন্নয়নে। শুধু প্রমিত বাংলা নয়, আঞ্চলিক ভাষা, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটও বুঝতে সক্ষম প্রযুক্তি তৈরি করা প্রয়োজন। এ জন্য মানসম্মত বাংলা ডিজিটাল তথ্যভাণ্ডার, ভাষা প্রক্রিয়াকরণে গবেষণা এবং নিজস্ব এআই মডেল উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ জরুরি।

সাকিফ শামীমের বিশ্লেষণে আরও উঠে এসেছে, বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও শিল্প খাতের মধ্যে কার্যকর সহযোগিতা ছাড়া এ সক্ষমতা তৈরি হবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাকে শিল্পের বাস্তব সমস্যার সমাধানে কাজে লাগাতে যৌথ গবেষণা, প্রযুক্তি স্থানান্তর, গবেষণায় অর্থায়ন এবং মেধাস্বত্ব সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে এআই, ডেটা সায়েন্স, মেশিন লার্নিং, রোবটিক্স ও সাইবার নিরাপত্তায় প্র‍্যাক্টিক্যাল লার্নিং বাড়াতে হবে। বিদ্যমান কর্মীদেরও নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর জন্য পুনঃদক্ষতা অর্জনের সুযোগ দিতে হবে। সাকিফ শামীমের মতে, বাংলাদেশের ডিজিটাল অগ্রযাত্রার পরবর্তী ধাপ হওয়া উচিত প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি প্রযুক্তি তৈরির সক্ষমতা অর্জন। বিদেশি প্রযুক্তি গ্রহণের প্রয়োজন থাকবে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের জন্য নিজস্ব জ্ঞান, গবেষণা ও উদ্ভাবনের ভিত্তি তৈরি করতে হবে। এআই খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা শুধু প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ব্যাংকিং, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি, শিক্ষা, তৈরি পোশাক, পরিবহণ ও সরবরাহব্যবস্থায় এআইয়ের ব্যবহার বাড়লে উৎপাদনশীলতা এবং সেবার মান বাড়বে। পাশাপাশি দেশীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের জন্য নতুন বাজার তৈরি হবে।

এ বক্তব্যের সঙ্গে এআই খাতের বিনিয়োগের বিষয়টি বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক। কারণ, শুধু বিদেশি প্রযুক্তি কিনে ব্যবহার করলে অর্থনীতিতে সীমিত সুফল পাওয়া যাবে। কিন্তু বিদেশি বিনিয়োগের সঙ্গে প্রযুক্তি স্থানান্তর, স্থানীয় প্রকৌশলী তৈরি, গবেষণা এবং দেশীয় প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতা তৈরি হবে।

সাকিফ শামীমের নেতৃত্বে ল্যাবএইড এআইভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা প্রযুক্তি উন্নয়নে কাজ করছে। প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোগে চিকিৎসাবিষয়ক তথ্য বিশ্লেষণ এবং চিকিৎসকদের দ্বিতীয় মতামত প্রদানে সহায়ক নিজস্ব এআই মডেল তৈরির কাজ হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চিকিৎসাবিষয়ক ২০০ থেকে ৩০০ কোটি ডেটাসেট ব্যবহার করে নিজস্ব লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল তৈরি করার উদ্যোগ ১০০০ এর উপর কর্মী ও ৪ টি প্রতিষ্ঠান কাজ করে যাচ্ছে। এ ধরনের উদ্যোগ দেখায়, স্থানীয় সমস্যাকে কেন্দ্র করে দেশীয় প্রতিষ্ঠানও এআই প্রযুক্তি উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে।

এআই নিয়ে সিএসইআর এর বিশ্লেষণ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এখন আর ভবিষ্যতের কোনো প্রযুক্তি নয়। এটি বিশ্ব অর্থনীতি, উৎপাদনব্যবস্থা, বাণিজ্য, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি এবং রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের কাঠামো পরিবর্তন করছে। যে দেশগুলো এই প্রযুক্তির গবেষণা, উন্নয়ন ও প্রয়োগে এগিয়ে যাচ্ছে, তারা নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনা তৈরি করছে। অন্যদিকে যেসব দেশ প্রযুক্তির ব্যবহারকারী হিসেবেই সীমাবদ্ধ থাকছে, তাদের জন্য দীর্ঘমেয়াদে নির্ভরশীলতার ঝুঁকি বাড়ছে। বাংলাদেশের সামনে এখন মূল প্রশ্নটি তাই এআই প্রযুক্তি গ্রহণ করা হবে কি না, তা নয়; বরং এই প্রযুক্তির বৈশ্বিক পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজস্ব সক্ষমতা কতটা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

বিশ্বের উন্নত অর্থনীতিগুলো এআইকে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, নতুন শিল্প গড়ে তোলা এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকার কৌশলগত উপাদান হিসেবে বিবেচনা করছে। শিল্পকারখানায় স্বয়ংক্রিয় উৎপাদন, কৃষিতে আবহাওয়া ও মাটির তথ্য বিশ্লেষণ, স্বাস্থ্যসেবায় রোগ শনাক্তকরণ, আর্থিক খাতে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং সরকারি সেবায় সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে এআইয়ের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। ফলে প্রযুক্তিটি আর কোনো নির্দিষ্ট শিল্পের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটি সামগ্রিক অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও প্রতিযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্ধারক হয়ে উঠছে।

বাংলাদেশেও এআই ব্যবহারের ক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে। ব্যাংকিং, টেলিযোগাযোগ, ই-কমার্স, স্বাস্থ্যসেবা, পোশাকশিল্প এবং বিভিন্ন ডিজিটাল সেবায় প্রযুক্তিটির প্রয়োগ বাড়ছে। তবে প্রযুক্তি ব্যবহার এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা অর্জন এক বিষয় নয়। বিদেশি প্রতিষ্ঠানের তৈরি সফটওয়্যার, ক্লাউড সেবা কিংবা এআই মডেল ব্যবহার করে তাৎক্ষণিক সুবিধা পাওয়া সম্ভব। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক মূল্য তৈরি করতে হলে প্রয়োজন নিজস্ব গবেষণা, দক্ষ মানবসম্পদ, স্থানীয় তথ্যভাণ্ডার, প্রযুক্তি উন্নয়নের অবকাঠামো এবং উদ্ভাবনী উদ্যোগ। এই জায়গাতেই বাংলাদেশের প্রস্তুতি নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে।

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সম্ভাবনার একটি ক্ষেত্র হলো স্থানীয় বাস্তবতার উপযোগী এআই প্রযুক্তি তৈরি। আমাদের কৃষি, জলবায়ু, জনসংখ্যার ঘনত্ব, ভাষা, শিল্পের ধরন এবং ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য অনেক ক্ষেত্রে উন্নত দেশগুলোর বাস্তবতা থেকে আলাদা। ফলে অন্য দেশের জন্য তৈরি প্রযুক্তি ব্যবহার করলেই দেশের সব সমস্যার কার্যকর সমাধান পাওয়া যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। হাওর অঞ্চলের আকস্মিক বন্যার পূর্বাভাস, কৃষকের জন্য ফসল ও আবহাওয়াভিত্তিক পরামর্শ, নগর পরিবহনের যানজট ব্যবস্থাপনা, তৈরি পোশাকশিল্পের উৎপাদন দক্ষতা বৃদ্ধি কিংবা বাংলা ভাষায় নির্ভুল ডিজিটাল সেবা নিশ্চিত করতে স্থানীয় তথ্য ও বাস্তবতার ভিত্তিতে প্রযুক্তি তৈরি করা জরুরি।

এ ক্ষেত্রে বাংলা ভাষাভিত্তিক এআই উন্নয়নের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাওয়ার দাবি রাখে। দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষের জন্য ডিজিটাল সেবা সহজলভ্য করতে হলে প্রযুক্তিকে বাংলা ভাষা, স্থানীয় উচ্চারণ, আঞ্চলিক ভাষার বৈচিত্র্য এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট বুঝতে সক্ষম হতে হবে। ভাষাগত সক্ষমতা না থাকলে এআইয়ের সুবিধা সমাজের একটি সীমিত অংশের মধ্যে আটকে থাকার আশঙ্কা থাকে। তাই বাংলা ভাষার মানসম্মত ডিজিটাল তথ্যভাণ্ডার তৈরি, ভাষা প্রক্রিয়াকরণে গবেষণা এবং স্থানীয় এআই মডেল উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ প্রয়োজন।

এই সক্ষমতা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং শিল্প খাতের মধ্যে কার্যকর সহযোগিতা অপরিহার্য। বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রকৌশল, গণিত, পরিসংখ্যান ও কম্পিউটার বিজ্ঞানে দক্ষ শিক্ষার্থী তৈরি হচ্ছে। কিন্তু শিক্ষার সঙ্গে শিল্পের বাস্তব সমস্যা সমাধানের সংযোগ আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। গবেষণাগারে তৈরি জ্ঞান যেন বাস্তব পণ্য, সেবা ও উৎপাদনব্যবস্থায় কাজে লাগে, সে জন্য বিশ্ববিদ্যালয় ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের যৌথ গবেষণা, উদ্ভাবনী প্রকল্প এবং প্রযুক্তি স্থানান্তরের ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে গবেষণায় অর্থায়ন, মেধাস্বত্ব সুরক্ষা এবং নতুন উদ্যোগের জন্য প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি।

মানবসম্পদ উন্নয়নেও দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন প্রয়োজন। বাংলাদেশের তরুণেরা আন্তর্জাতিক বাজারে সফটওয়্যার উন্নয়ন, তথ্যপ্রযুক্তি সেবা এবং আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। তবে বৈশ্বিক এআই অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি অবস্থান তৈরি করতে হলে কোড লেখা বা প্রযুক্তিগত সেবা দেওয়ার দক্ষতার পাশাপাশি সমস্যা চিহ্নিত করা, গবেষণা করা এবং নতুন সমাধান উদ্ভাবনের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। এ জন্য শিক্ষাব্যবস্থায় এআই, ডেটা সায়েন্স, মেশিন লার্নিং, রোবোটিকস ও সাইবার নিরাপত্তার মতো বিষয়ে ব্যবহারিক শিক্ষা এবং গবেষণার সুযোগ বাড়ানো দরকার। পাশাপাশি বিদ্যমান কর্মীদের নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার জন্য পুনঃদক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করতে হবে।

এখানে বেসরকারি খাতের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। এআইকে কেবল বিদেশি প্রযুক্তি কেনার মাধ্যম হিসেবে দেখলে দেশীয় উদ্ভাবনের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়বে। বরং শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রমে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। ব্যাংক, হাসপাতাল, কৃষি, উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থার নিজস্ব সমস্যাগুলোকে কেন্দ্র করে দেশীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। এতে একদিকে প্রতিষ্ঠানের উৎপাদনশীলতা বাড়বে, অন্যদিকে স্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বাজার তৈরি হবে। প্রযুক্তি খাতে উদ্যোক্তা তৈরির পাশাপাশি তাদের উদ্ভাবিত পণ্য ও সেবাকে আন্তর্জাতিক বাজারে নেওয়ার সক্ষমতাও গড়ে তুলতে হবে।

তবে এআই সক্ষমতা অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও নিরাপত্তার বিষয়টি উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। উন্নত কম্পিউটিং সুবিধা, নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ, উচ্চগতির ইন্টারনেট, মানসম্মত ডেটা সেন্টার এবং দক্ষ প্রযুক্তিবিদ ছাড়া বড় পরিসরে এআই গবেষণা ও উন্নয়ন সম্ভব নয়। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা, তথ্য ব্যবহারের নীতিমালা, সাইবার নিরাপত্তা এবং প্রযুক্তির জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। এআই ব্যবস্থায় ব্যবহৃত তথ্য কোথায় সংরক্ষিত হচ্ছে, কারা তা নিয়ন্ত্রণ করছে এবং কীভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে, এসব প্রশ্ন অর্থনৈতিক ও জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গেও যুক্ত। তাই প্রযুক্তিগত অগ্রগতির পাশাপাশি তথ্যের নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনায় প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা তৈরি করা প্রয়োজন।

বাংলাদেশের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ রয়েছে আন্তর্জাতিক বাজারে। এশিয়া ও আফ্রিকার অনেক উন্নয়নশীল দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতার সঙ্গে বাংলাদেশের বেশ কিছু মিল রয়েছে। কৃষি, স্বাস্থ্য, ক্ষুদ্র ব্যবসা, শিক্ষা ও নগর ব্যবস্থাপনার মতো ক্ষেত্রে এসব দেশের সমস্যার ধরনও অনেক ক্ষেত্রে কাছাকাছি। বাংলাদেশ যদি নিজস্ব বাস্তবতার ভিত্তিতে কার্যকর ও সাশ্রয়ী এআই পণ্য তৈরি করতে পারে, তবে সেগুলো দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের পাশাপাশি অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের বাজারেও সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি করতে পারে। এতে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের রপ্তানি আয় বাড়ার পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান ও বৈদেশিক বিনিয়োগের সম্ভাবনাও তৈরি হবে।

এআইয়ের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা তাই বাংলাদেশের জন্য একদিকে চ্যালেঞ্জ, অন্যদিকে নতুন শিল্প ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা তৈরির সুযোগ। এই সুযোগ কাজে লাগাতে হলে বিচ্ছিন্ন কিছু উদ্যোগের পরিবর্তে একটি সমন্বিত জাতীয় কৌশল প্রয়োজন। শিক্ষা ও গবেষণা, শিল্প খাতের বিনিয়োগ, প্রযুক্তিগত অবকাঠামো, তথ্যের নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের বিষয়গুলোকে একই নীতিকাঠামোর আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি খাতের দায়িত্ব ও অগ্রাধিকার স্পষ্ট করতে হবে, যাতে বিনিয়োগের কার্যকারিতা মূল্যায়ন করা যায় এবং গবেষণার ফলাফল বাস্তব অর্থনীতিতে কাজে লাগে।

বাংলাদেশের ডিজিটাল অগ্রযাত্রার পরবর্তী ধাপ হওয়া উচিত প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি প্রযুক্তি তৈরির সক্ষমতা অর্জন। বিদেশি প্রযুক্তি গ্রহণের প্রয়োজন থাকবে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের জন্য নিজস্ব জ্ঞান, গবেষণা ও উদ্ভাবনের ভিত্তি তৈরি করাও সমান জরুরি। এআইয়ের বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান নির্ধারিত হবে আমরা কত দ্রুত প্রযুক্তি ব্যবহার করছি, তার পাশাপাশি কতটা নিজস্ব সমাধান তৈরি করতে পারছি, কতটা দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলছি এবং বৈশ্বিক বাজারে কতটা প্রতিযোগিতামূলক হতে পারছি, তার ওপর। এখনই কার্যকর পরিকল্পনা ও বিনিয়োগ নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশ প্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মেলানোর পাশাপাশি সেই পরিবর্তনের অংশীদারও হতে পারবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২১শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৮
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৩
মাগরিব ০৫:১৯
ইশা ০৬:৩১
সূর্যোদয় : ০৬:০৫ সূর্যাস্ত : ০৫:১৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%