০৩:৫২ পি.এম
ইরানের পক্ষ নেওয়ার কারণে ইউরোপের ন্যাটোভুক্ত দেশ স্পেনের সঙ্গে সকল ধরণের বাণিজ্যিক সম্পর্ক বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পাশাপাশি, তিনি ন্যাটোর অন্য জোটসঙ্গীদেরও এই দেশটির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন।
বুধবার (৮ জুলাই) ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্সের একটি প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।
এদিন, তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, তিনি তার অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টকে নির্দেশ দিয়েছেন, স্পেনের সঙ্গে সকল বাণিজ্যিক সম্পর্ক তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করতে।
আরও পড়ুন: পাকিস্তান-আফগান সীমান্তে তালেবানের হামলায় ১ নিহত, ৫ আহত
সম্মেলনে ন্যাটোর সেক্রেটারি জেনারেল মার্ক রুটকে ট্রাম্প বলেন, ন্যাটোর মধ্যে একটি ‘ভয়ানক অংশীদার’ হচ্ছে স্পেন। তারা ন্যাটোর জিডিপির ৫% নতুন প্রতিরক্ষা ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রায় রাজি হয়নি। এমনকি, ইরান যুদ্ধের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের আকাশসীমা এবং ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি দেশটির সমাজতান্ত্রিক নেতৃত্ব। স্পেন কোনো কিছুতেই রাজি হয় না এবং আপনার তাদের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক রাখা উচিত নয়।
এ সময়, মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টকে উদ্দেশ্য করে ট্রাম্প বলেন, আমি স্পেনের সঙ্গে কোনো বাণিজ্য করতে চাই না, ঠিক আছে? এবিষয়ে অবিলম্বে সিদ্ধান্ত নিন, তাদের সঙ্গে কথাও বলবেন না। তারা অযোগ্য। তারা খারাপ লোক। আমি তাদের সঙ্গে কোনো ব্যবসা করতে চাই না।
স্পেনে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি রয়েছে— রোটা নৌঘাঁটি এবং মোরোন বিমান ঘাঁটি। এপ্রিল মাসে একজন মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, পেন্টাগনের একটি অভ্যন্তরীণ ইমেইলে ন্যাটো মিত্রদের শাস্তি দেওয়ার নানা বিকল্পের রূপরেখা দেওয়া হয়েছে, যাদের সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বাস যে তারা ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানকে সমর্থন করতে ব্যর্থ হয়েছে। এর মধ্যে জোট থেকে স্পেনকে স্থগিত করার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
গত মার্চে, ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রকে নিজেদের ভূখণ্ডে থাকা যৌথ সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি স্পেন। এমনকি, মার্কিন যুদ্ধবিমানের জন্য আকাশসীমাও বন্ধ করে দিয়েছিল দেশটি। এই ঘটনার জেরেই ট্রাম্প এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
আরও পড়ুন: রিজভী: বিদ্যুৎখাতে লুটপাটের জন্য ইনডেমনিটি দিয়েছিল আওয়ামী সরকার
শীর্ষ সম্মেলনে ইরানের সঙ্গে করা সমঝোতা চুক্তি নিয়েও বক্তব্য রাখেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘আমার ধারণা, ইরানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারকটি শেষ হয়ে গেছে।’
এদিকে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, সবশেষ দফার হামলায় ইরানের সুনির্দিষ্টভাবে ৮০টি স্থাপনায় আঘাত হানা হয়েছে। এতে ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল নেটওয়ার্ক, উপকূলীয় রাডার স্থাপনা এবং জাহাজ-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতাকে নিশানা করা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য করিডোরে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর হামলা চালানোর ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতা হ্রাসের লক্ষ্যে প্রণালির ভেতরে ও আশপাশে অবস্থানরত ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) ৬০টিরও বেশি ছোট নৌকায়ও হামলা চালানো হয়েছে।
সেন্টকম জানিয়েছে, মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালি অতিক্রমকারী তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর ইরানের হামলার জবাবে এ হামলা চালানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: দুর্লভ ডাইনোসর ‘জোডি’ ৪৭.৩ মিলিয়ন ডলারে বিক্রি, বিজ্ঞানীদের অসন্তোষ
ইতোমধ্যে, মার্কিন এই হামলার জবাব দিতে শুরু করেছে ইরান। তাদের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের দুই দেশে মার্কিন বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে বড় আকারের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, দেশটির নৌ ও বিমান বাহিনী ৮৫টি লক্ষ্যবস্তুতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় গুরুত্বপূর্ণ সব মার্কিন সামরিক স্থাপনাকে নিশানা করা হয়েছে।
পাল্টাপাল্টি এসব হামলার ফলে আবারও অস্থির হয়ে উঠেছে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি; নতুন করে বেজে উঠেছে যুদ্ধের দামামা।
আরও পড়ুন: মার্কিন নির্বাচনে নাগরিকত্ব ছাড়াই ভোট দেওয়ার অভিযোগে বাংলাদেশি যুবকের বিরুদ্ধে মামলা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন