মোঃ সজিব হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার, পাবনা
বৃহস্পতিবার, ৫ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং
১২:০৩ পি.এম
পাবনা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে রোগীর কেবিনে সন্দেহজনকভাবে প্রবেশের অভিযোগে মিঠন মুল্লিক (পরিচিত নাম মিঠন) নামে এক যুবককে আটক করেছেন হাসপাতালের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যরা।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ভোর আনুমানিক ৫টার দিকে হাসপাতালের একটি রোগীর কেবিনে প্রবেশ করলে তাকে হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে তাকে আনসার সদস্যদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এ সময় তিনি হাসপাতালে আসার সুনির্দিষ্ট কারণ জানাতে পারেননি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, আটক যুবকের সঙ্গে কথা বলে তার হাসপাতালে আসার উদ্দেশ্য সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে তার দেহ তল্লাশি করে চুরির কোনো মালামাল পাওয়া যায়নি। ফলে চুরির অভিযোগের বিষয়টি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও আনসার সদস্যরা জানান, ভোরবেলা রোগী ও স্বজনদের অধিকাংশ ঘুমিয়ে থাকেন। এ সুযোগে মাঝেমধ্যে চুরির ঘটনা ঘটে। এ সময় সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের আটক করার ঘটনাও ঘটে। তাই হাসপাতালের নিরাপত্তায় তারা সতর্ক অবস্থানে থাকেন।
আটক মিঠন মুল্লিক পাবনা সদর উপজেলার লস্করপুর গ্রামের আলম মুল্লিকের ছেলে।
এ ঘটনায় হাসপাতাল এলাকায় রোগী ও স্বজনদের মধ্যে সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
২৪ ঘণ্টায় ১ কেজি ৫০০ গ্রাম গাঁজা ও ৫১ পিস ইয়াবা উদ্ধার, গ্রেপ্তারি পরোয়ানাসহ বিভিন্ন মামলায় আটক ৩০ জন
বরিশাল মহানগরীর সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, মাদকদ্রব্য উদ্ধার এবং অপরাধ দমনে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ (বিএমপি)। গত ২৪ ঘণ্টায় মহানগর পুলিশের চারটি থানা ও গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) পৃথক অভিযানে গাঁজা ও ইয়াবাসহ বিভিন্ন অপরাধে মোট ৩০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিএমপি মিডিয়া সেলের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, গত ৪ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় চার থানা ও গোয়েন্দা পুলিশের বিশেষ আভিযানিক দল পৃথকভাবে অভিযান পরিচালনা করে।
পুলিশের অভিযানে ১ কেজি ৫০০ গ্রাম গাঁজা এবং ৫১ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এ সময় মাদকদ্রব্য উদ্ধারসংক্রান্ত ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বিএমপির তথ্য অনুযায়ী, অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত সাতজন, নিয়মিত মামলায় চারজন এবং অন্যান্য আইনে ছয়জন রয়েছেন। এ ছাড়া বরিশাল মহানগর অধ্যাদেশে আরও ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে গত ২৪ ঘণ্টার বিশেষ অভিযানে বিভিন্ন অভিযোগ ও মামলায় মোট ৩০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে মহানগর পুলিশ।
বরিশাল মহানগরীতে মাদকদ্রব্যের বিস্তার রোধ এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের এ ধরনের অভিযান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে গাঁজা ও ইয়াবার মতো মাদকদ্রব্য উদ্ধার এবং মাদকসংক্রান্ত ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার মাধ্যমে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের তৎপরতা অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
এদিকে মাদকসংক্রান্ত কোনো তথ্য থাকলে তা পুলিশকে জানানোর জন্য নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বিএমপি। তথ্য প্রদানকারীর পরিচয় গোপন রাখার আশ্বাস দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, মাদকসংক্রান্ত তথ্য দিতে নিচের নম্বরগুলোতে যোগাযোগ করা যাবে।
মাদকসংক্রান্ত তথ্য প্রদানের হটলাইন:
- ০১৩২০-০৬৪০০০
- ০১৩২০-০৬৪০৪৪
বরিশাল মহানগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, মাদক নির্মূল এবং অপরাধ দমনে পুলিশের পাশাপাশি নগরবাসীর সচেতনতা ও সহযোগিতাও গুরুত্বপূর্ণ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে হামলা, চিকিৎসাধীন রোগীকে মারধর, কর্তব্যরত আনসার সদস্যকে লাঞ্ছিত এবং সরকারি চিকিৎসা সরঞ্জাম ভাঙচুরের অভিযোগে দায়ের করা মামলাকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দায়ের করা এ মামলায় একপক্ষের লোকজনকে আসামি করার অভিযোগ তুলে হয়রানির দাবি করেছেন বিবাদীপক্ষের কয়েকজন। তাঁদের দাবি, মামলায় নাম থাকা কয়েকজন ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, উপস্থিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বক্তব্য ও ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করেই আসামিদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন থাকায় প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে।
এ ঘটনায় দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. দেবাশীষ রায় বাদী হয়ে ২৭ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে দিরাই থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করেন। এতে সাকিতপুর গ্রামের জাকারিয়া (৪১), মাহিম (২৮), হারুন (৩২), মোজাহিদ (৩২), আশরাফুল (৩০), সোহেল (৩৭), মোজাম্মিল (২২) ও মোস্তাকিম (২০)সহ অজ্ঞাতনামা আরও ৬-৭ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ অক্টোবর বিকেল আনুমানিক ৩টা ৫৫ মিনিটে দিরাই থানার সাকিতপুর গ্রামে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত কয়েকজন দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসেন। তাঁদের মধ্যে জাহাঙ্গীর আলম (৪০), জিবু মিয়া (২৭) ও রাফি সর্দার (১৮) ছিলেন।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়, আহত জিবু মিয়ার চিকিৎসা চলাকালে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা সংঘবদ্ধ হয়ে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে প্রবেশের চেষ্টা করেন। এ সময় কর্তব্যরত আনসার সদস্য সৌরভ দাস বাধা দিলে তাঁকে ধাক্কা ও কিল-ঘুষি মেরে সরকারি দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া হয়। পরে জরুরি বিভাগে প্রবেশ করে চিকিৎসাধীন জিবু মিয়া ও তাঁর সঙ্গে থাকা লোকজনকে মারধর করা হয়।
এ ছাড়া জরুরি বিভাগে চিৎকার-চেঁচামেচি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে চিকিৎসাসেবায় বাধা দেওয়ার পাশাপাশি সরকারি চিকিৎসা সরঞ্জাম টানাহেঁচড়া করে মেঝেতে ফেলে ভাঙচুরের অভিযোগ আনা হয়েছে। এজাহারে একটি ইসিজি মেশিন, একটি সাকশন মেশিন, একটি ওজন মাপার যন্ত্র, দুটি রোগীর শয্যা ও একটি পানির কল ভাঙচুরের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এতে সরকারি সম্পদের আনুমানিক ১ লাখ ৭২ হাজার ১৫০ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
মামলার সাক্ষী হিসেবে হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. ওয়াসিম আকরাম, ডিএমএফ বেলায়েত হোসেন চৌধুরী সোহাগ, ওয়ার্ডবয় মো. দেলোয়ার হোসেন, ক্লিনার বিধান দেবনাথ ও আনসার সদস্য সৌরভ দাসের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এজাহারে আরও বলা হয়, সিসিটিভি ফুটেজ ও স্থানীয়দের মোবাইল ফোনে ধারণ করা ভিডিও পর্যালোচনা করে অভিযুক্তদের পরিচয় সংগ্রহের কাজে ব্যস্ত থাকায় অভিযোগ দায়েরে বিলম্ব হয়েছে।
অন্যদিকে বিবাদীপক্ষের কয়েকজনের দাবি, হাসপাতালের ঘটনার পর উভয় পক্ষের সংঘর্ষে হাসপাতালের মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি নিয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে দায়ের করা মামলায় শুধু একপক্ষের লোকজনকে আসামি করা হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, প্রকৃত ঘটনা যাচাই না করেই কয়েকজনকে মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
মামলার ১ নম্বর আসামি জাকারিয়া সর্দার বলেন, “ঘটনার দিন ও সময়ে আমি দিরাইতেই ছিলাম। আমাকে অযথা হয়রানি করার জন্য আসামি করা হয়েছে।”
আরেক আসামি মাহিম সর্দার বলেন, “ঘটনার সঙ্গে আমি সম্পৃক্ত ছিলাম না। ঘটনার দিন হাসপাতালের মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়ে থানায় জিডি করা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে মামলায় একপক্ষের লোকজনকেই আসামি করা হয়েছে।”
আসামি সুহেল সর্দারের দাবি, মামলাটি ক্ষতিপূরণের উদ্দেশ্যে নয়, বরং একটি গোষ্ঠীর স্বার্থ হাসিল ও হয়রানির উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। তিনি মামলাটিকে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে সুষ্ঠু তদন্তের আহ্বান জানান।
অন্য আসামি মোস্তাকিম মিয়া বলেন, “হাসপাতালের ঘটনার ভিডিও ফুটেজ থাকা সত্ত্বেও এ ধরনের একপক্ষীয় মামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।”
মামলার সাক্ষী হাসপাতালের ক্লিনার বিধান দেবনাথ বলেন, “ঘটনার শুরু থেকেই আমি উপস্থিত ছিলাম। হঠাৎ কয়েকজন জরুরি বিভাগে প্রবেশ করে একজনকে মারধর শুরু করেন। তখন দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। এ সময় হাসপাতালের বিভিন্ন জিনিসপত্র ভেঙে যায়। আমি কারও নাম জানি না, তবে সামনে দেখলে চিনতে পারব।”
তিনি আরও বলেন, মামলায় উল্লেখিত ১ নম্বর সাক্ষী ডা. ওয়াসিম আকরাম ঘটনার সময় জরুরি বিভাগে ছিলেন না। পরে চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে তিনি সেখানে আসেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শ্রীজীব বলেন, “মামলাটি এখনো তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তে যদি কোনো ব্যক্তির ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে তাঁকে মামলা থেকে বাদ দেওয়া হবে। আর তদন্তে নতুন কারও সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাঁর নামও অন্তর্ভুক্ত করা হবে।”
দিরাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, “মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। কেউ অপরাধী হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর কেউ অপরাধী না হলে তদন্তের ভিত্তিতে তাঁকে মামলা থেকে বাদ দেওয়া হবে।”
মামলার বাদী ডা. দেবাশীষ রায় বলেন, “মামলার আসামিদের বিষয়ে আমি কিছু জানি না। এ বিষয়ে আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ জানেন। ঘটনার সময় কারা উপস্থিত ছিলেন, তা আমি নিজে জানি না। উপস্থিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বক্তব্য ও ভিডিও দেখে আসামি দেওয়া হয়েছে। এমপি, মন্ত্রী ও আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কথায় আমি মামলা দায়ের করেছি। আসামি কারা, তাঁদের আমি চিনি না।”
এ বিষয়ে সুনামগঞ্জের সিভিল সার্জন বলেন, “দিরাইয়ের ঘটনার কথা শোনার পর আমি জিডি করার জন্য বলেছিলাম। পরবর্তী সময়ে মামলার কথাও বলেছি। তবে কাদের আসামি করা হয়েছে, সে বিষয়ে আমি জানি না। কাউকে অযথা আসামি করা হয়েছে কি না, সেটিও আমার জানা নেই। এ বিষয়ে দিরাই হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা বলতে পারবেন। আমি খোঁজ নিয়ে বিষয়টি দেখব।”
একদিকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে হামলা, চিকিৎসাসেবায় বাধা ও সরকারি সম্পদ ভাঙচুরের অভিযোগ, অন্যদিকে মামলায় নির্দিষ্ট কয়েকজনকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আসামি করার পাল্টা দাবি—দুই পক্ষের বক্তব্যে ঘটনাটি নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে মোবাইল ফোনে ধারণ করা ভিডিও, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং ঘটনার সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অবস্থান যাচাই করা এখন গুরুত্বপূর্ণ।
সংশ্লিষ্টদের মতে, হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগের সুষ্ঠু বিচার যেমন জরুরি, তেমনি নিরপরাধ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন, সেটিও নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তাই সব পক্ষের বক্তব্য, ভিডিও ফুটেজ ও নির্ভরযোগ্য তথ্য-প্রমাণ যাচাই করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করার দাবি জানিয়েছেন বিবাদীপক্ষের লোকজন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৫ নভেম্বর ২০২৬ : দক্ষিণ কোরিয়া, হরমুজ প্রণালিকে খোলা রাখতে সহায়তা করার উদ্দেশ্যে সামরিক মিশনের অংশ হিসেবে প্রণালির নিকটবর্তী জলসীমায় একটি বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয়করণ দল এবং সামুদ্রিক টহল বিমান পাঠানোর পরিকল্পনা করেছে। বৃহস্পতিবার, দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ তথ্য প্রকাশ করেছে।
বার্তা সংস্থা এএফপি সিউল থেকে জানায়, মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে যে, সরকার চোংহে জলদস্যুবিরোধী নৌ ইউনিটের অভিযানিক এলাকা সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বর্তমানে, ইউনিটটি প্রণালির নিকটে ওমানের দক্ষিণের জলসীমায় কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দিনাজপুর, ৫ নভেম্বর, ২০২৬ : দিনাজপুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে আজ শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হলে রিডিং রুমের উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. এনামউল্ল্যা।
বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায়, হাবিপ্রবি’র জনসংযোগ বিভাগের পরিচালক মো. খাদেমুল ইসলাম এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গণমাধ্যমকে এই তথ্য জানান।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, গতকাল বুধবার রাত ১০টায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. এনামউল্যা বিশ্ববিদ্যালয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হলে রিডিং রুমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নওশের ওয়ান এবং ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. মাসুদুল হাসান খান উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপাচার্য বলেন, "শিক্ষার সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে শিক্ষার্থীদের জন্য আজ এই রিডিং রুমের উদ্বোধন করতে পেরে আমি আনন্দিত হয়েছি। আশা করি, এই হলের শিক্ষার্থীরা আজ থেকে অধ্যয়নের বিশেষ সুবিধা পাবে।" তিনি আরও বলেন, "বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও শিক্ষার্থীদের আবাসিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে আমরা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সার্বক্ষণিক সকল ধরনের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।"
তিনি উল্লেখ করেন, "সুন্দর পরিবেশে প্রত্যেকে যাতে পড়াশোনা করতে পারে তার জন্য পারস্পরিক বন্ধুত্বপূর্ণ ও সৌহাদ্যপূর্ণ সম্পর্ক প্রত্যেকে শিক্ষার মনোভাব নিয়ে গড়ে তুলতে হবে।"
তিনি আরও বলেন, "এখানে কোনো বিভেদ ও বৈষম্য করা যাবে না। সর্বোপরি রিডিং রুমের পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা বজায় রেখে আসবাবপত্রসহ সকল সম্পদের রক্ষণাবেক্ষণ ও যত্ন নেয়ার ক্ষেত্রে তোমাদেরকে সজাগ থাকার জন্য আমি আহ্বান জানাচ্ছি।"
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হলের হল সুপার অধ্যাপক ড. মো. আদনান আল বাচ্চু, বিজয় ২৪ হলের হল সুপার অধ্যাপক ড. আবুল কালাম, ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক ড. এস এম এমদাদুল হাসান এবং কেন্দ্রীয় গবেষণাগারের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. মহিদুল হাসান প্রমুখ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ