ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

যাত্রাবাড়ীতে বৃদ্ধাকে নৃশংসভাবে হত্যা, তদন্তে যা বলছে পুলিশ


যাত্রাবাড়ীতে বৃদ্ধাকে নৃশংসভাবে হত্যা, তদন্তে যা বলছে পুলিশ

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকা, বিশেষ করে দনিয়া অঞ্চলে একটি বাসায় ঢুকে শাহিদা বেগম (৬৮) নামে একজন বৃদ্ধাকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে দুর্বৃত্তদের দ্বারা। এই হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশ জানিয়েছে, ওই বাসা থেকে নগদ টাকা এবং স্বর্ণালংকার লুট করা হয়েছে।

শনিবার (জুলাই) রাত সাড়ে ১০টার সময় খবর পেয়ে যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ দনিয়া রসুলপুরের একটি নির্মাণাধীন বাড়ির সাততলার বাসা থেকে ওই বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার করে। পরে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়।

নিহত শাহিদা বেগমের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া থানার সিদলাই গ্রামে অবস্থিত। তার স্বামীর নাম ছিলেন মৃত শফিকুল ইসলাম সরকার।

আরও পড়ুন: পিরোজপুরে লাশ দাফনে বাধা, নাহিদ ইসলামের নিন্দা ও ইনসাফের আহ্বান

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শাহিদা বেগম ওই বাসায় তার ছেলের বউ শারমিন আক্তারের সঙ্গে বসবাস করতেন। শারমিনের স্বামী, শাহিদার ছেলে বিল্লাল হোসেন মালয়েশিয়া প্রবাসী। পুত্রবধূ শারমিন একটি ডেন্টাল ক্লিনিকে চাকরি করে। শনিবার রাতে শারমিন কর্মস্থল থেকে ফিরে দেখেন, ঘরে সব জিনিসপত্র এলোমেলো অবস্থায় রয়েছে। কিছুসময় পর, তিনি ঘরের মেঝেতে শাশুড়িকে রক্তাক্ত ও মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন।

যাত্রাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম জানান, নিহত শাহিদা বেগমের গলার বাঁ পাশে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন প্রাপ্ত হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দুর্বৃত্তরা চুরি বা লুটপাটের উদ্দেশ্যে বাসায় ঢুকে ছিল। তবে যেহেতু ওই বৃদ্ধা তাদের চিনে ফেলায় অথবা বাধা দেয়ায়, তাই তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার গলার বাঁ পাশে আঘাত করেছে, যা মৃত্যু নিশ্চিত করেছে।

এসআই আরও জানান, লুণ্ঠিত মালামলের মধ্যে নিহত শাহিদা বেগমের গলার চেইন, কানের দুল এবং নগদ ৫ হাজার টাকা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে লুটপাটের বাইরে অন্য কোনো শত্রুতা বা কারণ আছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অপরাধীদের শনাক্ত করতে আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আরও পড়ুন: বিদেশি ঋণ শোধে চাপ বাড়ছে, সহায়তার অর্থছাড় কমেছে

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইউপি সচিব আবুল কালাম আজাদের দুর্নীতির: স্বল্প বেতনের চাকরিতে করে গড়েছেন অবৈধ সম্পদ, দুদকের তদন্ত জরুরী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:৫২ পি.এম


ইউপি সচিব আবুল কালাম আজাদের দুর্নীতির: স্বল্প বেতনের চাকরিতে করে গড়েছেন অবৈধ সম্পদ, দুদকের তদন্ত জরুরী

 ঢাকার সাভার উপজেলার আশুলিয়ার ধামসোনা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সচিব আবুল কালাম আজাদকে ঘিরে অনিয়ম,দুর্নীতি ক্ষমতার অপব্যবহার এবং জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে এলাকাজুড়ে তীব্র আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন নাগরিক সেবা ও সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠে দুর্নীতির সিন্ডিকেট,যার নেতৃত্বে রয়েছেন সংশ্লিষ্ট সচিব আবুল কালাম আজাদ।

অভিযোগ অনুযায়ী, বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন, ওয়ারিশ সনদ, নাগরিক সনদ এবং ট্রেড লাইসেন্সসহ বিভিন্ন সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে সরকারি নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয়। অনেক ভুক্তভোগীর দাবি, নির্ধারিত অর্থের অতিরিক্ত টাকা না দিলে আবেদন নিষ্পত্তিতে অযথা বিলম্ব করা হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে বিভিন্ন অজুহাতে ফাইল আটকে রাখা হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধাভোগীর তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত কিংবা ভাতা অনুমোদনের আশ্বাস দিয়েও অসহায় মানুষের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রকৃত সুবিধাভোগীরা যেমন হয়রানির শিকার হয়েছেন, তেমনি সরকারি সেবার প্রতি মানুষের আস্থাও ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে অভিযোগ করেন সচেতন নাগরিকরা।

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, ধামসোনা ইউনিয়নে যোগদানের আগে আবুল কালাম আজাদ তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়ন পরিষদে কর্মরত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, সেখানেও তিনি কর্মরত থাকাকালীন স্থানিক আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাদের ছত্রছায়ায় শক্তিশালী প্রভাববলয় গড়ে তুলেছিলেন এবং সেই প্রভাব কাজে লাগিয়ে দীর্ঘদিন বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তার করেছেন। বর্তমানে তিনি বনগাঁও ইউনিয়ন পরিষদে কর্মরত রয়েছেন।

সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠেছে তার সম্পদের উৎস নিয়ে। অভিযোগ অনুযায়ী, আশুলিয়ার কাটগড়া বাংলালিংক সড়ক এলাকায় তার নামে একটি বহুতল ভবন ও বাণিজ্যিক মার্কেট রয়েছে। এছাড়া সাভার ও আশুলিয়ার বিভিন্ন এলাকায় তার নামে কিংবা বেনামে জমি, প্লট ও আবাসিক সম্পদ থাকার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যাচ্ছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, একজন ইউনিয়ন পরিষদের সচিবের মাসিক বেতন প্রায় ২৪ হাজার ৫০০ টাকা। এই আয়ের সঙ্গে বিপুল সম্পদের সামঞ্জস্য কীভাবে সম্ভব—সে প্রশ্ন এখন জনমনে ঘুরপাক খাচ্ছে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারীর সম্পদ যদি তার বৈধ আয়ের উৎসের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে প্রতীয়মান হয়, তাহলে তা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আইনের আওতায় অনুসন্ধান করা জরুরি। অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড এবং অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার বিধান রয়েছে।
এ বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদের সচিব আবুল কালাম আজাদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো সঠিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এলাকাবাসী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও ভুক্তভোগীরা দাবি করেছেন, ইউপি সচিব আবুল কালাম আজাদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের উৎস অনুসন্ধানে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা করা হোক। তাদের বিশ্বাস, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হলে প্রশাসনের জবাবদিহিতা আরও শক্তিশালী হবে এবং জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণ, মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ১২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:৫২ পি.এম


কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণ, মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু

মালয়েশিয়ার সেলাঙ্গর রাজ্যের কাম্পুং তোক মুদার জালান জানাকুয়াসা এলাকায় একটি কারখানায় ভয়াবহ বয়লার বিস্ফোরণের একটি ঘটনা ঘটেছে। এই বিস্ফোরণে ৩০ বছর বয়সি এক বাংলাদেশি প্রবাসী শ্রমিকের শরীর পুরোপুরি ঝলসে গিয়ে তিনি ঘটনাস্থলে অত্যন্ত মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারিয়েছেন।

স্থানীয় সময় শনিবার (১১ জুলাই) এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। তবে কর্তৃপক্ষ এখনও ওই বাংলাদেশির পরিচয় সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু প্রকাশ করেনি।

সেলাঙ্গর ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ ডিপার্টমেন্টের (জেবিপিএম) অপারেশন সহকারী পরিচালক আশরুল রিজাল আসবার জানিয়েছেন, সকাল ৮টা ১৮ মিনিটে তারা দুর্ঘটনার খবর পান। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কাপার ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ স্টেশন (বিবিপি) থেকে সাত সদস্যের একটি উদ্ধারকারী দল অগ্নি নির্বাপক ও উদ্ধারকারী যানসহ (এফআরটি) দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়।

দমকল কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মারাত্মকভাবে দগ্ধ অবস্থায় এই বাংলাদেশি যুবককে উদ্ধার করেন। পরে মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের (কেকেএম) দায়িত্বরত চিকিৎসাকর্মীরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ কী তা জানার জন্য ফায়ার সার্ভিস এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘তারুণ্য, স্টার্টআপ ও সম্ভাবনার বাংলাদেশ’ শীর্ষক বিশেষ আয়োজন ১৪ জুলাই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:৫৪ পি.এম


‘তারুণ্য, স্টার্টআপ ও সম্ভাবনার বাংলাদেশ’ শীর্ষক বিশেষ আয়োজন ১৪ জুলাই

 তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ আগামী ১৪ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ‘তারুণ্য, স্টার্টআপ ও সম্ভাবনার বাংলাদেশ’- শীর্ষক একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে যাচ্ছে।

এ অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য হলো তরুণদের উদ্ভাবনী চিন্তাকে বাস্তব উদ্যোগে রূপ দেওয়া, প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থান সৃষ্টি, গবেষণা ও উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করা এবং জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তোলা।

মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ দেশে একটি শক্তিশালী, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই স্টার্টআপ এবং উদ্যোক্তা ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে, প্রাথমিক আইডিয়া থেকে শুরু করে উদ্যোক্তা উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ, মেন্টরিং, অনুদান, অর্থায়ন, বিনিয়োগ সংযোগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণ- এই বিষয়ে একজন উদ্যোক্তার পুরো যাত্রাপথে প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিভাগটি সমন্বিত বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।

এই ধারাবাহিক উদ্যোগকে আরও গতিশীল করার জন্য, সরকারি সহায়তা কার্যক্রমগুলোকে একীভূতভাবে উপস্থাপন করা হবে এবং দেশের তরুণ, শিক্ষার্থী, গবেষক, উদ্ভাবক, নারী উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী ও শিল্পখাতের অংশীজনদের মধ্যে কার্যকর সংযোগ স্থাপনের উদ্দেশ্যে এ বিশেষ আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে।

অনুষ্ঠানে একটি স্টার্টআপের সম্পূর্ণ যাত্রাপথ- আইডিয়া থেকে প্রোটোটাইপ, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, বিনিয়োগ, স্কেল-আপ ও বৈশ্বিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ- সবকিছু সমন্বিতভাবে তুলে ধরা হবে।

এ অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে উদ্বোধন করা হবে ‘জাতীয় স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তা প্ল্যাটফর্ম’। এই প্ল্যাটফর্ম উদ্যোক্তাদের জন্য জাতীয় ডিজিটাল লঞ্চপ্যাড হিসেবে কাজ করবে।

এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে উদ্যোক্তারা সরকারি সহায়তা কর্মসূচি, আবেদন প্রক্রিয়া, প্রশিক্ষণ, মেন্টরিং, বিনিয়োগের সুযোগ, অংশীদার প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সেবা সম্পর্কে একটি একক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম থেকেই তথ্য ও সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।

এর ফলে উদ্যোক্তা উন্নয়ন কার্যক্রমে সমন্বয় বৃদ্ধি পাবে, সেবাপ্রাপ্তি সহজ হবে এবং একটি কার্যকর জাতীয় স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম গড়ে উঠবে।

নতুন প্রজন্মের উদ্যোক্তা উন্নয়নের মাধ্যমে তরুণ ও নারীর উদ্ভাবনী শক্তিকে অর্থনৈতিক অগ্রগতির মূলধারায় যুক্ত করা এখন একটি জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে বর্তমান বাংলাদেশ সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার ২০২৬-এ স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তা উন্নয়নকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

ইতোমধ্যেই সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তাদের জন্য ৫০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ ফান্ড গঠন করা হয়েছে, যা উদ্ভাবনী উদ্যোগের অর্থায়ন ও বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

‘তারুণ্য, স্টার্টআপ ও সম্ভাবনার বাংলাদেশ’ শুধুমাত্র একটি অনুষ্ঠান নয়; এটি দেশের উদ্ভাবনী সম্ভাবনা, উদ্যোক্তাবান্ধব সরকারি সহায়তা, বিনিয়োগের সুযোগ ও উদ্যোক্তা উন্নয়নের জাতীয় অঙ্গীকারকে একই মঞ্চে তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ দেশের তরুণদের উদ্ভাবনের সাহস নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে এবং দাবি করেছে যে আজকের একটি উদ্ভাবনী আইডিয়াই আগামী দিনের বিশ্বমানের বাংলাদেশী প্রতিষ্ঠানের ভিত্তি হতে পারে। উদ্যোক্তাদেরকে তাদের আইডিয়া ও উদ্যোগকে সফলতার পথে এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ সরকারের সমন্বিত ‘জাতীয় স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তা প্ল্যাটফর্ম’ ব্যবহার করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কক্সবাজারে পাহাড়ধসে স্ত্রীর মৃত্যু, অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচলেন স্বামী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:৫৫ পি.এম


কক্সবাজারে পাহাড়ধসে স্ত্রীর মৃত্যু, অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচলেন স্বামী

রাতের খাবারের আয়োজন চলছিল স্বামী-স্ত্রীর। সেটিই কাল হলো তাদের জন্য। রান্নাঘরে ঢুকতেই ধসে পড়লো পাহাড়। পাহাড় ধসে স্বামী অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচলেও মাটিচাপায় প্রাণ গেল স্ত্রী রোজিনা বেগমের।

গতকাল শনিবার (১১ জুলাই) দিবাগত রাত সাড়ে ৯টার দিকে কক্সবাজার শহরের পূর্ব কলাতলী ঝরঝরি পাড়ায় স্থানীয় বাসিন্দা ও ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট প্রায় দেড় ঘণ্টার উদ্ধার অভিযানের পর তার মরদেহ উদ্ধার করে।

ফায়ার সার্ভিস জানায়, এই টানা বৃষ্টির ফলে জেলার পাহাড়গুলো এখন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বারবার সতর্ক করার পরও জীবিকার প্রয়োজনেই অনেকেই ঝুঁকিপূর্ণ বসতিতে ফিরে আসছেন, যা পাহাড় ধস ও প্রাণহানির আশঙ্কা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

রাতের খাবার একসঙ্গে খাওয়ার কথা ছিল আব্দুল মজিদ ও তার স্ত্রী রোজিনা বেগমের। খাবারের প্রস্তুতির জন্য যখন তারা পাহাড়ের পাশে রান্নাঘরে প্রবেশ করেন, তখন ভারী বৃষ্টির মাঝেই পাহাড় ধসে পড়ে। স্বামী সামান্য আহত হয়ে প্রাণে বাঁচলেও রোজিনা মাটিচাপায় নিহত হন। মুহূর্তেই আনন্দের অপেক্ষা পরিণত হয় স্বজনদের আহাজারিতে।

রোজিনা বেগম (৪০) এর স্বামী আব্দুল মজিদ বলেন, ‘আমি বারবার তাকে বলেছিলাম, পাহাড়ের পাশে রান্নাঘরে যেতে হবে না। আমি বলেছিলাম, বৃষ্টি বেশি, পাহাড় ধসে যেতে পারে। কিন্তু রান্না করতে রান্নাঘরে যেতেই মুহূর্তেই ধস নামে। আমি অল্পের জন্য বেঁচে গেলেও আমার স্ত্রী মাটিচাপা পড়ে মারা যায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘আগতেও আমি পাহাড়ের ওপরে থাকা বাড়ির লোকজনকে বলেছি যেন পানি না ফেলে এবং ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশগুলো কেটে ফেলে। কিন্তু কেউ কথা শোনেননি। ঘটনার সময় আমি ও আমার স্ত্রী পেছনের ঘরে, আর বাবা ও আমার ছোট মেয়ে সামনের ঘরে ছিলো।’

স্বজনরা জানান, টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টির কারণে পাহাড়টি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। তাদের অভিযোগ, পাহাড়ের ওপরে থাকা বাড়ির জন্য মাটি ভরাট করায় ধসের ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। বারবার সতর্ক করার পরও তা আমলে নেয়া হয়নি। পাহাড়ধসের পর চিৎকার করেও সময়মতো সহযোগিতা মেলেনি। আর সেই ধসেই প্রাণ হারান রোজিনা বেগম।

আব্দুল মজিদের ভাই আব্দুল গফুর বলেন, ‘আমরা ১৯৯১ সাল থেকে এখানে বসবাস করছি। এতদিন কখনও পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেনি। কিন্তু সম্প্রতি পাহাড়ের ওপরে বাড়ি নির্মাণের জন্য মাটি ভরাট করায় ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। আমরা বারবার সতর্ক করলেও কেউ ব্যবস্থা নেয়নি। অন্তত পাহাড় ঢেকে রাখার ব্যবস্থা করা হলে হয়তো ধস নামত না, আর আমার বোনকেও প্রাণ হারাতে হতো না।’

ফায়ার সার্ভিস জানায়, রোজিনা বেগম রান্নাঘরে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরই হঠাৎ পাহাড়ের ওপরের অংশ ধসে পড়ে। এতে তিনি মাটিচাপা পড়ে আটকা পড়েন। খবর পেয়ে দ্রুত উদ্ধার অভিযানে যোগ দেয় ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট। তাদের সহযোগিতা করেন স্থানীয়রা।

ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স কক্সবাজার কার্যালয়ের উপপরিচালক সৈয়দ মোরশেদ হোসাইন বলেন, ‘রাত ৯টা ৪৫ মিনিটের দিকে কলাতলীর ঝরঝরিপাড়ায় পাহাড় ধসে একজন নারী মাটিচাপা পড়েছেন- এমন খবর পাওয়ার পরই ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। কয়েক ঘণ্টার চেষ্টার পর তাকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।’

তিনি জানান, ‘টানা বৃষ্টির কারণে কক্সবাজারের পাহাড়গুলো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রতিনিয়ত পাহাড় ধসের আশঙ্কা থাকায় ফায়ার সার্ভিস নিয়মিত মাইকিং করে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে আহ্বান জানাচ্ছে। কিন্তু সতর্কবার্তা সত্ত্বেও অনেকেই বিভিন্ন প্রয়োজনে আবারও ঝুঁকিপূর্ণ বসতিতে ফিরে আসছেন, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।’

তিনি আরও জানান, প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, ওই নারী রান্নাঘরে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরেই হঠাৎ পাহাড়ের ওপরের অংশ ধসে পড়ে। এতে তিনি মাটিচাপা পড়ে আটকা পড়েন। খবর পেয়ে দ্রুত উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। টানা বৃষ্টির এই সময়ে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকায় অবস্থান না করার জন্য তিনি সবাইকে আবারও অনুরোধ জানান।

এদিকে ‎কক্সবাজারের পেকুয়ায় বন্যার পানিতে ডুবে ২১ মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ৯টার দিকে পেকুয়া সদর ইউনিয়ন মেহেরনামা ৮নং ওয়ার্ড বলিরপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

মারা যাওয়া শিশুর নাম মুশফিকুর রহিম। সে ওই এলাকার সৌদি (প্রবাসী) মো. নাছিরের পুত্র। তার মৃত্যুর বিষয়টি পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: মেহেদী হাসান নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পরিবারের সদস্যদের অগোচরে শিশুটি বন্যার পানিতে ডুবে যায়। অনেক খোঁজাখুজির পর স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে উদ্ধার করেন। এরপর পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২৩
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৩
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%