০২:৫৪ পি.এম
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ আগামী ১৪ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ‘তারুণ্য, স্টার্টআপ ও সম্ভাবনার বাংলাদেশ’- শীর্ষক একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে যাচ্ছে।
এ অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য হলো তরুণদের উদ্ভাবনী চিন্তাকে বাস্তব উদ্যোগে রূপ দেওয়া, প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থান সৃষ্টি, গবেষণা ও উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করা এবং জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তোলা।
মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ দেশে একটি শক্তিশালী, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই স্টার্টআপ এবং উদ্যোক্তা ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে, প্রাথমিক আইডিয়া থেকে শুরু করে উদ্যোক্তা উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ, মেন্টরিং, অনুদান, অর্থায়ন, বিনিয়োগ সংযোগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণ- এই বিষয়ে একজন উদ্যোক্তার পুরো যাত্রাপথে প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিভাগটি সমন্বিত বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
আরও পড়ুন: বিদ্যুৎখাতে লুটপাটের জন্য ইনডেমনিটি দিয়েছিল আওয়ামী সরকার: রিজভী
এই ধারাবাহিক উদ্যোগকে আরও গতিশীল করার জন্য, সরকারি সহায়তা কার্যক্রমগুলোকে একীভূতভাবে উপস্থাপন করা হবে এবং দেশের তরুণ, শিক্ষার্থী, গবেষক, উদ্ভাবক, নারী উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী ও শিল্পখাতের অংশীজনদের মধ্যে কার্যকর সংযোগ স্থাপনের উদ্দেশ্যে এ বিশেষ আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে।
অনুষ্ঠানে একটি স্টার্টআপের সম্পূর্ণ যাত্রাপথ- আইডিয়া থেকে প্রোটোটাইপ, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, বিনিয়োগ, স্কেল-আপ ও বৈশ্বিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ- সবকিছু সমন্বিতভাবে তুলে ধরা হবে।
এ অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে উদ্বোধন করা হবে ‘জাতীয় স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তা প্ল্যাটফর্ম’। এই প্ল্যাটফর্ম উদ্যোক্তাদের জন্য জাতীয় ডিজিটাল লঞ্চপ্যাড হিসেবে কাজ করবে।
এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে উদ্যোক্তারা সরকারি সহায়তা কর্মসূচি, আবেদন প্রক্রিয়া, প্রশিক্ষণ, মেন্টরিং, বিনিয়োগের সুযোগ, অংশীদার প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সেবা সম্পর্কে একটি একক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম থেকেই তথ্য ও সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।
আরও পড়ুন: চুয়েটের শিক্ষা কার্যক্রম ৩৬ দিন পর আংশিক শুরু, আন্দোলন অব্যাহত
এর ফলে উদ্যোক্তা উন্নয়ন কার্যক্রমে সমন্বয় বৃদ্ধি পাবে, সেবাপ্রাপ্তি সহজ হবে এবং একটি কার্যকর জাতীয় স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম গড়ে উঠবে।
নতুন প্রজন্মের উদ্যোক্তা উন্নয়নের মাধ্যমে তরুণ ও নারীর উদ্ভাবনী শক্তিকে অর্থনৈতিক অগ্রগতির মূলধারায় যুক্ত করা এখন একটি জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে বর্তমান বাংলাদেশ সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার ২০২৬-এ স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তা উন্নয়নকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ইতোমধ্যেই সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তাদের জন্য ৫০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ ফান্ড গঠন করা হয়েছে, যা উদ্ভাবনী উদ্যোগের অর্থায়ন ও বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
‘তারুণ্য, স্টার্টআপ ও সম্ভাবনার বাংলাদেশ’ শুধুমাত্র একটি অনুষ্ঠান নয়; এটি দেশের উদ্ভাবনী সম্ভাবনা, উদ্যোক্তাবান্ধব সরকারি সহায়তা, বিনিয়োগের সুযোগ ও উদ্যোক্তা উন্নয়নের জাতীয় অঙ্গীকারকে একই মঞ্চে তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।
আরও পড়ুন: সরকারকে সেলিম উদ্দিনের আহ্বান, গণরায়ের বিরুদ্ধে না গিয়ে জনগণের পক্ষে দাঁড়ান
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ দেশের তরুণদের উদ্ভাবনের সাহস নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে এবং দাবি করেছে যে আজকের একটি উদ্ভাবনী আইডিয়াই আগামী দিনের বিশ্বমানের বাংলাদেশী প্রতিষ্ঠানের ভিত্তি হতে পারে। উদ্যোক্তাদেরকে তাদের আইডিয়া ও উদ্যোগকে সফলতার পথে এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ সরকারের সমন্বিত ‘জাতীয় স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তা প্ল্যাটফর্ম’ ব্যবহার করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন