ঢাকা শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে সংস্কার ও বিচার দাবি শহীদ পরিবারের


জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে সংস্কার ও বিচার দাবি শহীদ পরিবারের

জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্যরা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন, রাষ্ট্র ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন এবং আন্দোলনে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করার দাবির কথা জানিয়েছেন। তারা একইসঙ্গে দেশের মানুষের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি মেধাবী তরুণদের যোগ্যতা কাজে লাগানোর পরিবেশ তৈরির জন্য আহ্বান জানান।

রাজনৈতিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে এই বিষয়গুলো তুলে ধরেন বক্তারা।

শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে গণঅভ্যুত্থান-২০২৪-এর দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাদা দল ও ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইউট্যাব) আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব দাবি জানান শহীদ পরিবারের সদস্যরা।

আরও পড়ুন: আইজিপি: দৃঢ় মনোবল নিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে পুলিশ

‘ফ্যাসিবাদী সরকার পতনে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় শহীদ আবু সাঈদের বড় ভাই আবু হোসেন, শহীদ ওয়াসিমের বাবা শফিউল আলম এবং শহীদ মীর মুগ্ধর ভাই মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ বক্তব্য রাখেন। তাদের বক্তব্যে তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মত্যাগের লক্ষ্য, প্রত্যাশিত রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে নানা দাবি ও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

শহীদ আবু সাঈদের বড় ভাই আবু হোসেন বলেন, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই তাঁর ভাইকে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে কোটা সংস্কার আন্দোলন গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয় এবং ছাত্র-জনতা রাজপথে নেমে স্বৈরাচারী সরকারের পতন ঘটায়।

তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৬৯ সালের গণআন্দোলনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শামসুজ্জোহা যেভাবে শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানেও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দ্বারা শিক্ষার্থীদের পাশে থেকে সাহস, সহযোগিতা ও উদ্দীপনা দেওয়া হয়। এই ভূমিকা স্বৈরাচারী সরকারের পতন ঘটাতে গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

আবু হোসেন আরও বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানকে তুলনা করা যাবে না। তবে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের উদ্দেশ্য ছিল ১৯৭১ সালে অর্জিত স্বাধীনতাকে পুনরুদ্ধার ও সুরক্ষিত করা।

আরও পড়ুন: ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান রুহুল কবির রিজভীর

সম্প্রতি জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে কিছু ব্যঙ্গ-বিদ্রূপের ঘটনায় হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, এই ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে প্রত্যাশিত প্রতিবাদ দেখা যায়নি। তিনি সরকারের কাছে আহ্বান জানান যে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে অবমাননা বা ব্যঙ্গ-বিদ্রূপের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

তিনি আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে মানুষের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। সাধারণ মানুষ যেন আগের সময়ের তুলনায় বর্তমান সরকারের আমলে ভালো থাকার কথা বলতে পারে—তবেই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মত্যাগ পূর্ণতা পাবে।

শহীদ ওয়াসিমের বাবা শফিউল আলম বলেন, “আমাদের ছেলে-মেয়ে কিছু প্রত্যাশা, আশা ও আকাঙ্ক্ষা নিয়ে রাস্তায় নেমেছিল। সেই আকাঙ্ক্ষা যেন কোনোভাবে বিভ্রান্ত না হয় এবং ব্যবসা-বাণিজ্য কিংবা অন্য কোনো স্বার্থের কারণে নষ্ট না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।”

তিনি উল্লেখ করেন, মেধার জন্যই শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নেমেছিল। দেশের প্রতিটি মেধাবী ছেলে-মেয়ে যেন তাদের মেধা ও যোগ্যতা কাজে লাগাতে পারে, সেই ব্যবস্থা করতে হবে।

আরও পড়ুন: সংবিধান সংস্কারে লক্ষ্য অর্জনই প্রধান: ড. আসিফ নজরুল

শহীদদের হত্যার বিচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর খুব বেশি সময় পার হয়নি। সরকারকে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে এবং সহযোগিতা করতে হবে। সরকারের কোনো ভুল-ত্রুটি থাকলে তা সংশোধনের সুযোগ দেওয়ারও আহ্বান জানান।

রাজনৈতিক বিশ্লেষণের অংশ হিসেবে শহীদ মীর মুগ্ধর ভাই মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ বলেন, শহীদদের আকাঙ্ক্ষাকে মূলত তিনটি বিষয়ে ভাগ করা যায়। এগুলো হলো—ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্র কাঠামোর পরিবর্তন, রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন এবং জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার।

তিনি আলোচনা করেন, যদি কোনো একজন তরুণ সংসদ সদস্য পুরো একটি প্রজন্মের হয়ে কথা বলেন, তাহলে প্রশ্ন ওঠে—কোন জাতীয় সম্মেলন বা গণভোটের মাধ্যমে তাকে পুরো প্রজন্মের প্রতিনিধিত্বের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে? আলোচনা, সমালোচনা ও সংশোধনের সুযোগ থাকলেও একটি প্রজন্মের কথা বলে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান চাপিয়ে দেওয়া আরেক ধরনের ফ্যাসিবাদের লক্ষণ।

স্নিগ্ধ বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তনের প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু বিভিন্ন এলাকায় সিনিয়র রাজনীতিবিদদের বক্তব্য প্রত্যাশিত রাজনৈতিক সংস্কৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এমন রাজনৈতিক সংস্কৃতি ফ্যাসিবাদী সরকারের সময় দেখা গেছে। জুলাইয়ের ছাত্র-জনতা এমন রাজনৈতিক সংস্কৃতি চায়নি।

আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্র যেকোনো সময় ইরানে হামলা চালাতে পারে: রাষ্ট্রদূত টম বারাক

তিনি আরও বলেন, শহীদদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের দায়িত্ব শুধু সরকার বা সরকারি দলের নয়, বরং বিরোধী দলসহ দেশের সব নাগরিকের সম্মিলিত দায়িত্ব।

“শহীদরা আমাদের ওপর থেকে দেখছেন”—এই বিষয়ে সবার দায়িত্বশীল আচরণের ওপর বলা হয়েছে।

জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রসঙ্গে আলোচনা করতে গিয়ে স্নিগ্ধ শহীদ আনাসকে গুলি করা পুলিশ সদস্যের তিন বছরের সাজা এবং সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনের পাঁচ বছরের সাজা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন। এ বিষয়ে সকলকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, “দেশকে বদলাতে হলে প্রথমে নিজেকে বদলাতে হবে। যদি আমরা নিজেদের পরিবর্তন না করি, তাহলে দেশকে পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।”

আরও পড়ুন: রাষ্ট্রদূতকে ডেকে পাঠানোর সিদ্ধান্ত জানালেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামও উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাদা দলের আহ্বায়ক এবং ইউট্যাবের মহাসচিব অধ্যাপক মো. মোরশেদ হাসান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জুলাই শহীদদের কবরের টাকা মেরে খেয়েছে: প্রতিমন্ত্রী ইশরাক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:০৮ পি.এম


জুলাই শহীদদের কবরের টাকা মেরে খেয়েছে: প্রতিমন্ত্রী ইশরাক

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন মন্তব্য করেছেন, অন্তর্বর্তী সরকার জুলাই শহীদদের কবর পাকা করার জন্য দুই লাখ টাকা বরাদ্দ করেছিলেন। তবে তিনি বলেন, তারা সেই টাকাও মেরে ফেলেছে। এই আলোচনা তিনি বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত একটি আলোচনা সভায় ব্যক্ত করেন। ইশরাক হোসেন জানিয়েছেন, অন্তর্বর্তী সরকার পরিকল্পিতভাবে জুলাই গণঅভ্যুত্থান অধিদপ্তর গঠন করেনি, ফলে বিএনপি সরকার আসার পর এই অধিদপ্তর গঠন করতে কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে। তিনি বলেন, দলীয় পরিচয়ের কারণে অনেক জুলাই যোদ্ধাকে গেজেটভুক্ত করা হয়নি। আমরা তাদেরকে গেজেটভুক্ত করার উদ্দেশ্যে কাজ করছি। প্রতিমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, তিনি গিয়েছিলেন সেখানে এবং দেখেছেন কবরের কোনো চিহ্নও নেই। বরং তারা কবরের টাকা মেরে ফেলেছে। তাদের কাছে এমন অনেক তথ্য রয়েছে যে, যা প্রকাশ করলে তারা মুখ লুকানোর মতো স্থান পাবে না। তিনি যোগ করেছেন, বিএনপির বিরুদ্ধে দেশের বিরুদ্ধে অবস্থানের কোনো ইতিহাস নেই এবং বিরোধী দলের ইতিহাস কলঙ্কিত বলেই তারা সেটি মুছে ফেলতে চায়। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ সেই ইতিহাস কখনো ভুলবে না। তিনি উল্লেখ করেছেন, ৫ আগস্ট অনুষ্ঠান বানচাল করতে একজন সংসদ সদস্যের নেতৃত্বে মব চালানো হয়। দ্বিমত থাকলে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে সভ্যভাবে প্রতিবাদ জানানো উচিত ছিল। যেকোনো অজুহাতে বিশৃঙ্খলা ও অশান্তি সৃষ্টির পরিকল্পনা ছিল। তাদের এই আচরণে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের সামনে আমাদের সম্মানহানি হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অফ কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ পরিচালনা পর্ষদের উদ্যোগে, মাননীয় সংসদ সদস্যদের সাথে মতবিনিময় সভা,

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ নাজির খান নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি তালাশ বিডি,

শনিবার, ৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:০৯ পি.এম


নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অফ কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ পরিচালনা পর্ষদের উদ্যোগে, মাননীয় সংসদ সদস্যদের সাথে মতবিনিময় সভা,

২০২৬ খ্রিস্টাব্দের ৮ই আগস্ট, শনিবার, নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অফ কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি পরিচালনা পর্ষদের উদ্যোগে নারায়ণগঞ্জের মাননীয় সংসদ সদস্যবৃন্দের সাথে এনসিসি আই পরিচালনা পর্ষদের সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উক্ত সভাটি পরিচালনা করেন নারায়ণগঞ্জ জেলার ১ আসনের বিএনপির মাননীয় সংসদ সদস্য দিপু ভূঁইয়া। আমন্ত্রিত মেহমান হিসাবে সভায় উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জের ৫ আসনের, চাইর বারের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এডভোকেট আবুল কালাম, নারায়ণগঞ্জের ৩ আসনের বিএনপি'র সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম, নারায়ণগঞ্জের ৪ আসনের এনসিপি, সংসদ সদস্য আল-আমিন, এবং বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সমাজসেবক, সাবেক পরিচালক মাসুদুজ্জামান মাসুদ।

নারায়ণ চেম্বার্স অফ কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল পরিচালক, জনাব হানিফ সরদার, বিএনপি'র সাবেক নেতা রিয়াজ, চেম্বার অফ কমার্সের ইন্ডাস্ট্রিজের সাবেক পরিচালক, ৫ আসনের সংসদ সদস্যের রাজনৈতিক সচিব আবু কাওসার আশা সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উক্ত মত বিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন।

নারায়ণগঞ্জ এই প্রথম চারটি আসনের সংসদ সদস্য একত্রে নারায়ণগঞ্জ শহরের ব্যবসার অগ্রগতির লক্ষ্যে একসাথে কাজ করার অঙ্গীকার প্রদান করেন এবং নারায়ণগঞ্জ ৫ আসনের চার বারের সংসদ সদস্য আবুল কালাম মহোদয় বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জেআইসিতে আটক তারেক রহমানকেও নির্যাতন করা হয়েছিল: চিফ প্রসিকিউটর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:১০ পি.এম


জেআইসিতে আটক তারেক রহমানকেও নির্যাতন করা হয়েছিল: চিফ প্রসিকিউটর

এক এগারোর সময়ে ডিজিএফআইয়ের জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেন্টারে (জেআইসি) সেলে আটক হয়ে নির্যাতন করা হয়েছিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকেও।

শনিবার (০৮ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তিন বিচারকসহ আইনজীবীদের নিয়ে গোপন বন্দিশালাটি পরিদর্শনের পর একথা জানান আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

তিনি বলেন, এক-এগারোর সময় তারেক রহমানকে জেআইসির একটি কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এরপর তার ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছিল। ট্রাইব্যুনালে দেওয়া সাক্ষীদের বর্ণনা ও আমাদের তদন্তে এ সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া গেছে।

জানালাবিহীন মাত্র কয়েক ফুটের অন্ধকার ঘরে আটকে রেখে নির্যাতন করা হতো। দেয়ালে দেয়ালে লেখা ছিল সেই আর্তনাদ আর হাহাকার। চব্বিশের ৫ আগস্টের পর সংস্কার করে নষ্ট করা হয় বেশিরভাগ আলামত, বলেও তিনি জানান।

মতভিন্নতা থাকলেই আওয়ামী লীগ সরকারের নির্দেশে বন্দিশালায় গুম-নির্যাতনের নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, জড়িত সকলকে বিচারের আওতায় আনা হবে।

ডিজিএফআইয়ের গোপন বন্দিশালা জেআইসি সেলে এমন নির্যাতনের অভিযোগ। শনিবার সকালে বন্দিশালাটি পরিদর্শনে আসেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তিনজন বিচারক, প্রসিকিউশন টিম ও আসামিপক্ষের আইনজীবীরা।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, বিচারের একটি অংশ হিসেবে আয়নাঘর হিসেবে পরিচিত জেআইসিতে আমাদের এই পরিদর্শন। এখানে মানুষকে ধরে এনে বন্দি রেখে অত্যাচার ও নির্যাতন চালানো হতো। সেই নির্মম চিত্র আজ এই পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে কিছুটা অনুভব করা গেছে।

২৬টি সেলে শ্রেণি ভেদে রাখা হতো বন্দিদের। চব্বিশের ৫ আগস্টের পর সংস্কার করে নষ্ট করা হয় বেশিরভাগ আলামত। বিচারকরা সশরীরে পরিদর্শন করায় ন্যায়বিচারে সহায়ক হবে বলেও মনে করেন তিনি।

যদিও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের দাবি, আদালতে বন্দিদের সাক্ষ্যের সঙ্গে মিল খুঁজে পাননি তারা।

এর আগে র‍্যাবের একটি টর্চার সেল পরিদর্শন করেন ট্রাইব্যুনালের বিচারপতিরা। শিগগিরই র‍্যাব-২ ও ডিবির টর্চার সেল পরিদর্শন করবেন তারা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তরুণদের সমস্যা সমাধানে নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করতে হবে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:১১ পি.এম


তরুণদের সমস্যা সমাধানে নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করতে হবে

 

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, এমপি বলেছেন, বর্তমানে রোবোটিক্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং উদীয়মান প্রযুক্তিতে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত জরুরি। তরুণদের কেবল প্রযুক্তি ব্যবহারকারী হিসেবে নয়, বরং প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও সমস্যা সমাধানের নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করতে হবে।

প্রযুক্তিপ্রেমী তরুণদের মেধা বিকাশ, উদ্ভাবনী প্রতিভার বৃদ্ধি এবং রোবোটিক্স ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তিতে তরুণদের আগ্রহ বৃদ্ধির লক্ষ্যে গাজীপুরের কালিয়াকৈর হাই-টেক পার্কে অনুষ্ঠিত হয়েছে জাতীয় রোবোটিক্স উৎসব ‘রোবোফিউশন ১.০’। শনিবার (৮ আগস্ট) ইউনিভার্সিটি অব ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি, বাংলাদেশ (ইউএফটিবি)-এর রোবোটিক্স ক্লাবের আয়োজনে দিনব্যাপী এ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।

মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, ‘আজকের এই আয়োজন প্রমাণ করে বাংলাদেশের তরুণরা প্রযুক্তির ক্ষেত্রে অনেক দূর এগিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা রাখে। তাদের উদ্ভাবনী চিন্তা, মেধা ও পরিশ্রমকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশকে একটি জ্ঞানভিত্তিক ও প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতিতে রূপান্তর করা সম্ভব।’

তিনি আরো বলেন, ‘সরকার তরুণদের প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবন ও গবেষণাকে উৎসাহিত করতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। রোবোটিক্সের মতো প্রযুক্তি শুধু প্রতিযোগিতার বিষয় নয়; এর সঙ্গে ভবিষ্যতের শিল্প, স্বাস্থ্য, কৃষি, শিক্ষা, পরিবহনসহ বিভিন্ন খাতের উন্নয়ন জড়িত। তাই শিক্ষার্থীদের এখন থেকেই গবেষণা, উদ্ভাবন ও বাস্তব সমস্যার সমাধানে নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে।’

উৎসবে সারা দেশ থেকে সাড়ে ৫ শতাধিক শিক্ষার্থী ও তরুণ উদ্ভাবক অংশগ্রহণ করেন। দিনব্যাপী আয়োজিত প্রতিযোগিতায় মোট ১৬৬টি নিবন্ধিত দল বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। বেলা ১১টায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে উৎসবের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইউনিভার্সিটি অব ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি, বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মোক্তার আলী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ মজিবুর রহমান, এমপি, সংরক্ষিত নারী আসন-১৬-এর সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি, এমপি এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব মোঃ মামুনুর রশীদ ভূঁইয়া।

এ ছাড়া সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আইআইটি-এর অধ্যাপক ও ইউএফটিবির প্রাক্তন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবু ইউসুফ, গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ নূরুল করিম ভূঁইয়া, ইএটিএল ইনোভেশন হাব লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ মুবিন খান এবং ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি-এর অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এইচকিউ) মোহাম্মদ ইউসুফ আলী। দিনব্যাপী উৎসবে প্রতিযোগিতার পাশাপাশি তরুণদের প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন আয়োজন করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৫
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৫
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%